এখন আর ওসব বলে কী হবে! তারা তাদের জিনিস পেয়ে গেছে। আর… যাই হোক, আমরা তো বেঁচে আছি। এটাই আসল কথা।
হ্যাঁ, এটাই আসল কথা, বলে পিছন থেকে স্যামের কাঁধে হাত রাখলো রেমি।
তো, আলোচনার বিষয় পাল্টানোর জন্য বলল স্যাম, আপনি কি জামাইকাতেই থাকেন? নাকি ভ্রমণে এসেছেন?
ভ্রমণে এসেছি। আমার এক বন্ধু কফির চাষ করে এখানে। তার ওখানে যাওয়ার জন্যই এই জিপটা চালাই আমি। বর্ষার মৌসুমে এসব রাস্তায় কাদার পরিমাণ বেড়ে যায় অনেক।
যাত্রার বাকিটা সময় কফি চাষের জটিলতা নিয়েই বেশি কথা বলল ওরা। সাথে সাথে দ্বীপের মাছ ধরার উপযুক্ত জায়গাগুলো নিয়েও।
রেকর্ড ডিপার্টমেন্টের পার্কিং লটে পৌঁছেই প্রথমে আশেপাশের দিকে তাকালো স্যাম। এভেরির লোকেরা নেই দেখে নিশ্চিত হয়ে গাড়ি থেকে বেরিয়ে এলো ওরা। বেরিয়েই আবারো ধন্যবাদ জানালো জিপের ড্রাইভারকে। সাথে সাথে এটাও জানালো গ্যাস বা সমস্যার জন্য লোকটা কিছু চায় কিনা।
ওসবের দরকার নেই। নতুন অল্টারনেটরের জন্য এমনিতেও এদিকে আসা লাগতো আমার। অবশ্য একটা প্রশ্ন জানার আগ্রহ আছে আমার। আপনারা এখানে আসলে কী তথ্য জানার জন্য এসেছিলেন?
জাহাজের ঘোষণাপত্র দেখতে, স্যাম বলল, সতেরশো শতকের। আমরা যেটার জন্য এসেছিলাম ওটাই নেই এখানে।
ওহ, আচ্ছা, শুভকামনা তাহলে, বলে ইঞ্জিন চালু করে গাড়ি এগিয়ে যেতে শুরু করলো লোকটা। তারপর হঠাৎ করেই গাড়ি থামিয়ে জানালা দিয়ে মাথা বের করে বলল, জানি না এটা আপনাদের কাজে লাগবে কিনা। হঠাৎই মনে পড়লো আমার। পোর্ট রয়েলের ফোর্ট চার্লস মেরিটাইম মিউজিয়ামে খুঁজে দেখতে পারেন একবার। শুনেছি ওখানের সংগ্রহশালা নাকি বেশ সমৃদ্ধ।
তথ্যটার জন্য ধন্যবাদ আপনাকে, বলে আবারো ধন্যবাদ জানিয়ে লোকটা বিদায় জানালো ওরা। লোকটা চলে যেতেই মনে পড়লো যে কথা বলার ফাঁকে লোকটার নামই জিজ্ঞেস করা হয়নি তাদের।
পোর্ট রয়েল যাত্রাটা আগামীকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারবে। এই মুহূর্তে তাদের একটা লম্বা শাওয়ার, উষ্ণ খাবার এবং ভালো একটা ঘুমের দরকার। পুনরায় অনুসরিত না হওয়ার জন্য চালাকি করে গাড়ি চালালেও, হোটেল রুমে পৌঁছানো না পর্যন্ত পুরোপুরি স্বস্তি পাচ্ছে না স্যাম।
কপাল ভালো যে হোটেলের মিনি বারে আর্জেন্টাইন মারলটের একটা বোতল ছিলো। গ্লাসে ওয়াইন ঢেলে রেমির দিকে বাড়িয়ে দিলো স্যাম। তারপর নিজের গ্লাসটা উঁচিয়ে ধরে টোস্ট করলো, মরতে মরতে কোনো রকমে বেঁচে যাওয়া এবং আমাদের লিফট দেওয়া ঐ ড্রাইভারের প্রতি…
সাথে রেমিও তার গ্লাসের সাথে আলতো টোকা দিয়ে যোগ করলো, ..এবং আগামিকাল পোর্ট রয়েলে আমাদের কাঙিক্ষত অনুসন্ধানটার প্রতিও।
****
পোর্ট রয়াল। জেলেদের এক নিরিবিলি শহর। একসময় জায়গাটা পৃথিবীর সবচেয়ে কুখ্যাত শহর নামে পরিচিত ছিলো। স্প্যানিশদের হাতে গোড়াপত্তন হয়েছিলো শহরটার। ১৬৫৫ সালে ইংরেজদের হাতে ধরা পড়ার পর, এককালের সবচাইতে কুখ্যাত শহরটাই এখন পরিণত হয়েছে বর্তমান পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী ব্যবসায়িক কেন্দ্রগুলোর একটায়। এর পিছনে জলদস্যুদের সাথে সম্পৃক্ততার অবদানও আছে। অবশ্য ১৬৯২ সালের ভয়ঙ্কর ভূমিকম্প না ঘটলে হয়তো শহরটা আগের মতোই কুখ্যাত থাকতো। ভূমিকম্পের কারণে শহরের অর্ধেকটাই ডুবে গিয়েছিলো সমুদ্রের তলায়। গত তিন শতক ধরে এখনো সমুদ্রের পানি ও বালির নিচে ডুবে আছে শহরের অর্ধেকটা।
ভূমিকম্পের পর টিকে থাকা কাঠামোগুলোর মধ্যে ফোর্ট চার্লস একটা। যেটাকে এখন ম্যারিটাইম মিউজিয়াম হিসেবে ব্যবহার করায়। ফি দিয়ে ইটের দুর্গের ভিতরে ঢুকতেই উপকূলীয় বাতাসের ঝাঁপটা টের পেলো স্যাম ও রেমি। পেটালোহার গোলাগুলো এখনো সারিবদ্ধভাবে আটকে রয়েটু দেয়ালের প্রাচীরে। একসময় এগুলো দিয়েই শহরটাকে সুরক্ষা দেওয়া হতো। প্রশস্ত চতুরের ওপর দিয়ে পুরোনো নাবিকদের হাসপাতালের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে ওরা। ওখানেই গড়ে উঠেছে মিউজিয়ামটা।
ভিতরে দস্তার তৈরি বিশেষ বাক্সে প্রদর্শন করিয়ে রাখা হয়েছে জিনিসগুলো। প্রাত্যাহিক জীবনে ব্যবহৃত প্রায় সবকিছুই রাখা আছে। প্রদর্শনীতে। এগুলোর মাঝে চীনের জেড খোদাইকৃত অলঙ্কারও রয়েছে। এগুলোই পোর্ট রয়েলের ধন-সম্পদের প্রমাণ দিচ্ছে।
এটা দেখো, স্যাম, পকেট ওয়াচের একটা ছবির দিকে নির্দেশ করে বলল রেমি। এই ঘড়িটা পানি থেকে উদ্ধার করে আনা হয়েছিলো। ঘড়িতে সময় দেখাচ্ছে এগারোটা তেতাল্লিশ। ধারণা করা হয়, ঐ সময়টাতেই ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিলো শহরে, এবং ভূমিকম্পের পরপরই থেমে গিয়েছিলো ঘড়ির সময়।
চমৎকার আর্টিফ্যাক্ট। নিচে হয়তো এখনো এগুলোর অনেক কিছু পড়ে আছে।
আক্ষেপ এটাই যে জামাইকান সরকার আমাদেরকে এখানে ডাইভ দেওয়ার অনুমতি দিবে না।
একবারে বেশি কিছু করতে চেয়ো না, রেমি। এখন সাহায্য করার মতো কাউকে খুঁজে বের করা উচিৎ আমাদের।
সত্যি বলতে সাহায্যই খুঁজে নিলো তাদেরকে। দুই মহিলাকে রুমে ঢুকতে দেখলো ওরা। তাদের মধ্যে লম্বাজন তাদের দিকে এগিয়ে এসে বলল, শুভ সকাল। মেরিটাইম মিউজিয়ামে স্বাগতম।
শুভ সকাল, রেমি বলল। আমরা আশা করছি আপনারা হয়তো গবেষণার কাজে আমাদেরকে সাহায্য করতে পারবেন।
