আরো কয়েকদিন পর থেকে শুরু করতে হবে।
কথাটায় শুনে হাসার চেষ্টা করলো রেমি।
সাথে সাথেই পাক খেয়ে ঘুর গেলো স্যাম। তারপর দুই হাত দিয়ে রিভলভার ধরে বুলেট ছুঁড়ে দিলো ড্রাইভারের কপাল বরাবর।
.
২৭.
ধুপ! ধুপ!
আরো দুইবার গুলি করলো স্যাম। তবে এবার গুলিগুলো ডাকাতদের কারো গায়েই লাগেনি। কেন লাগেনি সেটা নিয়ে ভাবতে গিয়ে দেখলো যে তার পায়ের নিচের মাটি ক্ষয় পড়তে শুরু করেছে।
পিছিয়ে যেতে যেতে অসতর্কভাবে তারা পাহাড়ি রাস্তার বেশি কিনারের দিকে চলে গেছে। তাদের শরীর ভার নিতে পারেনি কর্দমাক্ত মাটির রাস্তাটা। ঝট করেই ব্যালেন্স হারিয়ে দুজনই পড়ে গেলো পাহাড়ের ধার দিয়ে।
স্যাম গিয়ে আছড়ে পড়েছে সবুজ ও বাদামি জালিকাময় জঙ্গলের পাতাবহরের মধ্যে। তবে তার পতন থেমে যায়নি এতে। পিঠ ঘেষে ঠিকই পিছলে পড়ছে সে।
পড়তে পড়তে রেমির হাতও একসময় ছুটে গেছে তার হাত থেকে। আরো কিছুটা পিছলে পড়ার পর পতন থামানোর জন্য গাছের ডাল আঁকড়ে ধরলো স্যাম। রেমিকে এখন আর দেখতে পাচ্ছে না। পাতার ঝোঁপের আড়ালে হারিয়ে গেছে রেমি।
ধুপ! ধুপ! ধুপ!
ফিরতিগুলির আওয়াজে ভয় পেয়ে চিৎকার করে উড়ে যেতে শুরু করেছে গাছের আড়ালে লুকিয়ে থাকা পাখিগুলো। শব্দ শুনে স্যাম ওপরের দিকে তাকাতেই দেখলো একটা গাছের গুঁড়ি গড়িয়ে আসছে তার দিকে। সরে গিয়ে পাশের দিকে আছড়ে যেতেই স্যাম দেখলো মাশরুমের একগুচ্ছ ঝাঁক তার পতন ঠেকিয়ে রেখেছে। দৃশ্যটায় চমকে গিয়ে ওপরের দিকে তাকাতেই গাছের উপড়ে যাওয়ার গুঁড়িটা এসে আঘাত করলো তার শরীরে। মিনিট খানেকের ভিতরেই ব্যথায় ভরে উঠলো তার শরীর। তবে কপাল ভালো যে পঁচে যাওয়ার কারণে গুঁড়ির আঘাতের তীব্রতা অতোটা বেশি ছিলো না। নাহলে শরীরের হাড়গোড় ভেঙে যেতো এতক্ষণে।
গর্ধভ! ইভানের গলার স্বর ভেসে আসছে ওপর থেকে। তাদেরকে এভাবে পালিয়ে যেতে দিলে?
যতটুক ওপর থেকে পড়েছে, এরপর আর কোনোভাবেই বাঁচার কথা না তাদের, জ্যাক বলল। আর যদি পতন থেকে বেঁচেও যায়, তবু এটা থেকে বাঁচতে পারবে না।
বলেই ধুপ ধুপ করে গুলি করতে শুরু করলো দুজনে। গুলির শব্দ শুনেই আত্মা কেঁপে উঠলো স্যামের।
রেমি…
বুলেট শেষ হয়ে যাওয়ায় অবশেষে গুলি থামালো ওরা।
কিছু দেখছো তুমি? ইভান জিজ্ঞেস করলো।
না। নিচে নামো। নেমে দেখো ওরা আসলেই মরেছে কিনা।
হ্যাঁ, নেমে ঘাড়টা ভাঙ্গি আর কী! খেঁকিয়ে উঠে বলল ইভান। এরচেয়ে গাড়ি নিয়ে ঢালু পথ ধরে নেমে যাওয়াই ভালো। পাহাড়ের নিচের রাস্তাটায় গিয়ে চেক করলেই হবে।
লরেঞ্জোর কী করবো? জ্যাক বলল। এখানেই ফেলে যাবো ওকে?
পাহাড়ের ধার দিয়ে ফেলে দাও। ফার্গোদের সাথে পঁচুক।
বলে রাস্তার পাশ দিয়ে লাশটা ফেলে দিলো ওরা। ঝোঁপঝাড় ভেঙ্গে লাশ গড়িয়ে পড়ার শব্দ শুনতে পেলো স্যাম। কিছুক্ষণ পর এসইউভির ইঞ্জিনের গর্জনও শুনতে পেলো। গাড়িটা পাহাড়ের ওপরের দিকে রাস্তা বরাবর এগিয়ে যাচ্ছে, নিচের দিকে না। প্রশস্ত জায়গা না থাকায় গাড়ির মোড় ঘুরানোর জন্য কিছুটা পথ পিছিয়েই যেতে হচ্ছে তাদেরকে।
রেমি? ডাকাতগুলো চলে যাওয়ার পর মৃদুস্বরে ডাকলো স্যাম।
আমি নিচে আছি।
তার প্রায় পনেরো ফুটের মতো নিচ থেকে এসেছে শব্দটা! রেমির সাড়া পেয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়লো স্যাম। তখনই বুঝতে পারলো যে এতোক্ষণ ধরে উৎকণ্ঠায় শ্বাস আটকে রেখেছিল ও। ঠিক আছো তুমি?
চামড়া ছিলে গেছে, তবে হাড়গোড় ভাঙেনি।
ডাকাতগুলো মোড় ঘুরানোর মতো জায়গা খুঁজছে। নিচের দিকে যাওয়ার প্ল্যান তাদের।
নিচের রাস্তাটা দেখতে পাচ্ছি আমি। আমার থেকে দূরত্বটা খুব বেশি না।
আমি আসছি তোমার কাছে। তারা পৌঁছার আগেই নিচে নেমে যাওয়া দরকার আমাদের। তারা ওখানে থেকে ওপরের দিকে খুঁজবে, নিচের দিকে না।
বলে আস্তে আস্তে তাকে আটকে রাখা গাছের গুঁড়ির কাছ থেকে সরে আসতে শুরু করলো স্যাম। আশেপাশে তাকিয়ে নিজের বন্দুকটা খুঁজছে ও। তার থেকে আটফুট ওপরে পাহাড়ের কর্দমাক্ত দেয়ালে গেঁথে আছে বন্দুকটা। বন্দুকটা হাতে নেওয়ার জন্য আবারো ওপরের দিকে উঠতে শুরু করলো। পিচ্ছিল মাটির কারণে আরোহণটা আরো কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাহাড়ের গায়ে পা ঢুকিয়ে সিঁড়ির মতো ধাপ করে ওপরের দিকে উঠতে হচ্ছে তাকে। বন্দুকটা তুলে নিয়ে নিচে নামতে শুরু করলো স্যাম। নিচে নামাটা ওপরে উঠার থেকেও বেশি কষ্টকর লাগছে। তবু আস্তে আস্তে একটু একটু করে রেমির দিকে নেমে যাচ্ছে। পুরো শরীর কাঁদা এবং গাছগাছাড়ির পাতায় ভরে গেছে তার। রেমির পাশে পৌঁছে দেখলো, রেমির অবস্থাও তার মতোই হয়ে আছে।
তারপর আরো কিছুটা নেমে ওপরের দিকে তাকালো স্যাম। লম্বা একটা দাগের ধারা দেখা যাচ্ছে পাহাড়ের গায়ে। তাদের নেমে আসার চিহ্ন নির্দেশ করছে দাগটা। কেউ দাগটা দেখলেই তাদের গতিপথ বুঝে যাবে। আমাদের সাবধানে নামতে হবে। ছাপ রেখে যাওয়া যাবে না।
শুনেই স্যামের দিকে তাকালো রেমি। কোনো প্ল্যান?
অন্ততপক্ষে রাস্তার বিশফুট নিচে নেমে যেতে হবে তাদেরকে। আমি আগে আগে নামছি। আমাকে অনুসরণ করো। আমি যেখানে যেখানে পা ফেলবো তুমি সেখানে সেখানেই ফেলবে।
পাঁচ ফুট নিচে থাকা গাছের গুঁড়িটার দিকে তাকালো স্যাম। নিচের দিকের ঢালটা ওপরেরটার মতো অতোটা খাড়া না। লাফ দিয়ে খুঁড়ির ওপর নেমে দাঁড়ালো স্যাম। তারপর রেমির দিকে তাকিয়ে বলল, রেডি?
