তাড়াতাড়ি করে রেমিকে টান দিয়ে লবির একপাশে সরে গেলো স্যাম। ডাকাতের নজর থেকে দূরে সরে থাকতে চাচ্ছে।
কী করবো এখন? রেমি জানতে চাইলো।
অন্য কোনো এক্সিট আছে কিনা খুঁজে দেখা দরকার।
অন্য এক্সিটটা পেতে বেশিক্ষণ খুঁজতে হলো না তাদের। দালানের পাশেই একটা এক্সিট রয়েছে। স্যাম দরজা খুলে বাইরের দৃশ্যটা দেখে জানালো, সবকিছু ঠিকঠাকই মনে হচ্ছে।
দরজা দিয়ে বেরিয়ে পার্কিং লটের উলটো দিকে দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে ওরা। কিন্তু যেখানে বাঘের ভয়, সেখানেই রাত হয়। একটু এগিয়ে কোনা ঘুরতেই ডাকাতটার সাথে সরাসরি দেখা হলো তাদের। জ্যাক স্তানিস্লভ। এই লোকটাই বইয়ের দোকানে ডাকাতি করতে এসেছিলো। চামড়ার কোটের পকেটে হাত রেখে সরাসরি তাদের দিকেই তাকিয়ে আছে জ্যাক। মুখে ফুটে আছে কুৎসিত এক হাসি।
সাথে সাথেই থমকে গেলো স্যাম। রেমিকে তার পিছনে আড়াল করে নিয়ে সরাসরি চোখ তুলে তাকালো জ্যাকের দিকে। হুট করেই দেখি তোমার দেখা পেয়ে গেলাম এখানে।
হুট করে? বলে জ্যাক তার ডান পকেট থেকে একটা পিস্তল বের করে তাক করে ধরলো স্যামের দিকে। দেখা যখন হলোই, তাহলে ভালো মানুষের মতো উলটো ঘুরে গাড়ির দিকে এগিয়ে যাও। আমার বন্ধুরা তোমাদের অপেক্ষা করছে ওখানে।
যদি না যাই?
হাত ওপরে তুলো, নয়তো তোমাদেরকে এখানেই মরতে হবে।
কিছু না বলে ধীরে ধীরে হাত ওপরে উঠিয়ে নিলো স্যাম। তারপর হুট করেই ডান হাত দিয়ে ঘুষি মারলো জ্যাকের মুখে এবং বাম হাত দিয়ে আটকে ফেললো জ্যাকের পিস্তল ধরা হাতটা। মুহূর্তের মধ্যেই জ্যাককে দালানের দেয়ালে আছড়ে ধরে পিস্তলটা কেড়ে নিলো, তারপর নল ঠেকিয়ে ধরলো জ্যাকের মাথায়।
অবশ্য রেমি প্রতিক্রিয়া দেখানোর কোনো সুযোগ পায়নি। কোনো প্রতিক্রিয়া দেখানোর আগেই পিঠে বন্দুকের নলের ছোঁয়া টের পেলো ও। পিছনের দিকে মাথা ঘুরাতেই দেখলো লম্বা এক লোক তার দিকে তাকিয়ে চোখ রাঙাচ্ছে। তোমার স্বামীকে থামতে বলল।
ভালোভাবেই প্রস্তুত হয়ে এসেছে লোকগুলো।
স্যাম…
ডাক শুনে মাথা ঘুরাতেই রেমির পিঠে বন্দুকের নল ঠেকিয়ে রাখা লোকটাকে দেখতে পেলো স্যাম। এখন আর কিছুই করার নেই তার। আস্তে আস্তে অস্ত্রটা নিচে নামিয়ে আবার তা ফেরত দিয়ে দিলো জ্যাককে।
ছাড়া পেয়েই তার ওপর খেঁকিয়ে উঠলো জ্যাক। ভেবেছিলাম তুমি হয়তো আমার দিকটাও দেখবে। যাই হোক, বোকামি করো না, নাহলে ইভানের ট্রিগারের খুশি হতে সময় লাগবে না।
আর কিছু না করে হাত মাথার পিছনে উঁচিয়ে ধরলো স্যাম। কিছুক্ষণের মধ্যেই সাদা এসইউভিটা এসে থামলো তাদের পাশে। জ্যাক গাড়িটার দিকে ইশারা করে বলল, গাড়িতে চড়ে বসো।
জ্যাক তাদের বিপদটা আঁচ করতে পারছে ঠিকই, তবু জায়গা থেকে নড়ছে না।
ইভান বলল, তোমাদেরকে জনসম্মুখে গুলি করে মারতে কোনো সমস্যাই হবে না আমার। তোমার সুন্দরী স্ত্রীকে দিয়েই শুরু করছি তাহলে। রেমির দিকে তাক করা বন্দুকটা দেখিয়ে আস্ফালন ছড়িলো ইভান। তারপর বলল, ফার্গো, বোকামি না করে এখনই ব্যাকসিটে উঠে বসে।
একদম ভিতরের কোনায় গিয়ে বসবে, বলে স্যামকে ধাক্কা দিয়ে গাড়িতে ঢুকালো জ্যাক। তারপর রেমির দিকে বন্দুক তাক করে বলল, এখন তুমি উঠো। মাঝের সিটে বসবে তুমি। | তাই করলো রেমি। জ্যাক উঠে বসলো তার পাশে। তার পেটে বন্দুকের নল ঠেকিয়ে রেখেছে লোকটা। সিট বেল্ট বেঁধে নাও সবাই।
তাই করলো রেমি। স্যামও একই কাজ করতে করতে বলল, আমাদের কিছু হলে তোমাদের ইনস্যুরেন্সের মূল্য বেড়ে যাওয়া নিয়ে চিন্তা করছো?
সামনের প্যাসেঞ্জার সিটে থাকা নতুন লোকটা পিছনে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো, কিসের ইনস্যুরেন্স?
কোথায় নিয়ে যাচেচ্ছা আমাদেরকে? জানতে চাইলো স্যাম।
এইতো ছোট একটা ভ্রমণে।
বলে গাড়ি চালু করলো ড্রাইভার মোড় থেকে বেশ কয়েকটা রাস্তা চলে গেছে সামনের। তারা এগিয়ে যাচ্ছে বামের রাস্তাটা দিয়ে। স্পষ্টতই এই রাস্তায় মানুষের আনাগোনা খুব কম। অবশ্য সরু রাস্তাটা দিয়ে গাড়ি চালাতে গিয়ে বেশ বেগ পোহাতে হচ্ছে ড্রাইভারকে। তাছাড়া সর্পিলাকার রাস্তার মোড়গুলোর জন্য গতিও ঠিকমতো বাড়াতে পারছে না।
এভাবেই বেশ কিছুটা এগিয়ে যাওয়ার পর জ্যাক বলল, যথেষ্ট দূরে এসেছি। এখানেই থামাও।
সরু আরেকটা মোড় পেরিয়ে রাস্তার পাশে নিয়ে গাড়িটা থামালো ড্রাইভার। গাড়ি থেকে নেমে স্যামের দরজা খুলে রেমিকে নিয়ে বেরিয়ে ইশারা করলো লোকটা।
কোনো প্রতিবাদ না করে গাড়ি থেকে নেমে গেলো স্যাম। স্যামের পর রেমিও বেরিয়ে এলো গাড়ি থেকে। বাইরে পা রাখতেই জঙ্গলের আটকে রাখা গরমের উত্তাপটা টের পেলো ও। জঙ্গলের সবুজ পাতাগুলো থেকে এখনো গতরাতের বৃষ্টির পানি টুপটুপ করে পড়ছে। অতিরিক্ত আর্দ্রতায় এতোক্ষণে বাম্পায়িত হয়ে যাওয়ার কথা পানির। তবে এর পরিবর্তে ঝর্নার মতো করে পাহাড়ের পাশ দিয়ে পড়ছে ওগুলো।
জ্যাক তাদের দিকে পিস্তল তাক করে ধরে বলল, রাস্তার পাশে গিয়ে দাঁড়াও, দুজনই।
আরে ভাই, একটু তো অপেক্ষা করো, বলে উঠলো স্যাম। মারবেই যখন, তখন মরার আগে তো বউটাকে বিদায়ী একটা চুমু খেয়ে নিতে দিবে।
আচ্ছা, আচ্ছা, তাড়াতাড়ি করো।
রেমির আরো কাছে গিয়ে দাঁড়ালো স্যাম। রেমির দিকে গভীরভাবে ঝুঁকে ফিশিং ভেস্টে হাত ঢুকিয়ে ফিসফিসিয়ে বলল, মনে হয় আমাদের ছুটিটা
