হ্যাঁ, বলে লাফ দিলো রেমি।
রেমির কোমড়ে ধরে তাকে নিচে নামিয়ে আনলো স্যাম। তারপর একইভাবে লাফিয়ে লাফিয়ে নেমে গেলো আরো কিছুটা পথ। লাফিয়ে নামার ফলে তাদের নেমে যাওয়ার ছাপটা আর এখন দেখা যাচ্ছে না। রাস্তা থেকে পাঁচফুট ওপরে থাকতেই হুট করে থেমে গেলো স্যাম। এসইউভির ইঞ্জিনের গর্জন ভেসে আসছে ওপর থেকে।
তারা আসছে, বলল রেমি।
তাড়াতাড়ি করে নিচের রাস্তায় লাফিয়ে নামলো স্যাম ও রেমি। রাস্তার ওপর দিয়ে কিছুটা দৌড়ে গিয়ে নিচের পর্বতটার দিকে তাকালো স্যাম। একটু আগে তারা যে ঢাল বেয়ে নেমে এসেছে ওটার মতোই খাড়া এই পর্বতটাও। নামার সময় ছাপ না রেখে যাওয়ার ব্যাপারেও সতর্কভাবে থাকতে হবে ওদের। দশ ফুট নিচে ফার্নের একটা ঝোঁপ দেখতে পেলো স্যাম। আপাতত ওখানে লুকিয়ে থাকতে পারবে ওরা। এক গাছের গুঁড়ি থেকে আরেক গাছে লাফিয়ে লাফিয়ে নিচে নেমে গেলো। গিয়ে ঝোঁপের আড়ালে লুকিয়েছে মাত্র, ঠিক ওইসময়ই ওপর থেকে এসইউভির থেমে যাওয়ার শব্দ ভেসে আসতে শুনলো স্যাম।
দরজা খুলে গাড়ি থেকে দুই ডাকাতের বেরিয়ে আসার শব্দ শুনতে পাচ্ছে এখন। রাস্তার ধার পর্যন্ত এগিয়ে এসেছে ওরা।
তাদেরকে দেখতে পাচ্ছো? ইভান জিজ্ঞেস করলো।
ঐ যে ওখানে, জ্যাক বলল।
আমি কিছুই দেখতে পাচ্ছি না।
রাস্তার পাশের পাহাড়ের গায়ে দেখো। পিছলে পড়ার দাগ দেখা যাচ্ছে। ওখান দিয়েই পড়েছে ওরা।
ওহ, হ্যাঁ, এখন দেখতে পাচ্ছি আমি। তবে দাগটা তো একটু গিয়ে আর নেই। তোমার কি মনে হয় তারা ওখানে কোথাও লুকিয়ে আছে?
মরেও যেতে পারে। হয়তো আমার গুলিগুলো তাদের শরীরে আঘাত করতে পেরেছে কোনোভাবে।
ফার্নের পত্রবহ ফাঁক করে ওপরের দিকে তাকাতেই রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা লোকদুটোকে দেখতে পেলো স্যাম। দুজনের হাতেই বন্দুক রয়েছে। অবশ্য তারা তাদের থেকে উলটো দিকে ফিরে আছে। এসইউভিটা দাঁড়িয়ে আছে রাস্তার ওপর, গাড়ির সম্মুখ দরজাটা হাঁ হয়ে আছে একদম।
দৃশ্যটা দেখে লোভ লাগছে স্যামের।
অবশ্য পরিস্থিতি তাদের অনুকূলে নেই। হয়তো কোনোরূপ শব্দ না করেই রাস্তা পর্যন্ত উঠে যেতে পারবে, কিন্তু কভার নেওয়ার মতো কোনো উপায় নেই তাদের। ডাকাতগুলো সশস্ত্র না থাকলে স্যাম হয়তো সুযোগটা কাজে লাগাতো। ভাবনাটা মাথায় আসার সাথে সাথেই জ্যাক তার পিস্তল নিয়ে তাদের দিকে ঘুরে দেখলো স্যাম। লোকটা এখন তাদের লুকানো জায়গাটার দিকেই পিস্তল তাক করে রেখেছে।
রেমিকে জমে যেতে দেখে ওদিকে ফিরে তাকালো স্যাম। রেমির পায়ের ফাঁক দিয়ে একটা মোটা অজগর সাপ গড়িয়ে যাচ্ছে। নড়ো না, একদম নড়বে না, সাপটাকে গড়িয়ে যেতে দেখে ফিসফিসিয়ে বলল স্যাম।
নেই এখানে, ঘুরে ওপরের দিকে তাকাতেই জ্যাক বলতে শুনলো স্যাম। নিচের দিকেই তাকিয়ে আছে লোকটা। তারপর হঠাৎ করেই আবার গুলি করতে শুরু করলো জ্যাক। স্যামের ঠিক পাশ কেটে গেলো যেন বুলেটগুলো। কিছু একটা আছে নিচে। চোখে পড়েছে আমার।
কী দেখেছো? বলল ইভান। কিছু একটার শব্দ শুনতে পাচ্ছি আমি।
স্যামও শুনতে পাচ্ছে শব্দটা। টুপ-টুপ একটা শব্দ। প্রথমে শব্দটা আসছিলো তার পিছন থেকে, এখন চতুর্দিক থেকেই আসছে। একমুহূর্ত পর বুঝতে পারলো যে এটা বৃষ্টি পড়ার শব্দ। অঝোর ধারায় বৃষ্টি পড়তে শুরু করেছে।
কিছুই দেখতে পাচ্ছি না আমি, কয়েক মুহূর্ত চুপ থাকার পর জবাব দিলো জ্যাক। চলো, এখন ভাগি এই জায়গা থেকে।
ফার্গোদের ব্যাপারে কী করবো?
তারা যদি এখনো বেঁচে থাকে, তাহলেও তাদের ফিরে আসতে বেশ কয়েকদিন লাগবে। এই রাস্তা দিয়ে খুব একটা গাড়ি চলাচল করে না।
স্যাম এখনো রেমিকে হাত দিয়ে আটকে রেখেছে। ওপর থেকে এসইউভির ইঞ্জিনের গর্জনের শব্দ শুনতে পাচ্ছে এখন। কিছুক্ষণ পর ইঞ্জিনের শব্দটা দূরে মিলিয়ে যেতেই রেমি স্যামের পাশে সরে এসে বলল, তোমাকে কি আগে বলেছিলাম যে আমি সাপ ঘৃণা করি?
শোকর থাকো যে ওটা ক্ষুধার্ত ছিলো না। বলে নিচের পর্বতের দিকে তাকালো স্যাম। পর্বতটা একদম খাড়াভাবে নেমে গেছে নিচের দিকে। এসইউভিটার পুরোপুরি চলে না যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিলো স্যাম। এভেরির লোকেরা চলে যাওয়ার আগ পর্যন্ত আশ্রয় থেকে বেরুনোর কোনো ইচ্ছা নেই তার।
গাছের পাতা থেকে বৃষ্টির পানির ছিটা আসছে তার মুখে। পানির ছিটা উপভোগ করতে করতে রেমিকে বলল, আমি ভাবিনি যে আমরা এবার বাঁচতে পারবো।
পাহাড়ের গায়ে ঠেস দিয়ে দাঁড়িয়ে রেমি বলল, অবশ্যই ভাবছিলাম। আমার কখনো বেঁচে যাওয়া নিয়ে সন্দেহ ছিলো না।
যখন ঐ সাপটা দেখা দিলো তখনও না?
ঝট করে চোখ বড়ো বড়ো করে তাকালো রেমি। ভয় পাচ্ছে যেন আরো সাপের সাথে দেখা হবে তাদের। এটা নিয়ে মজা করবে না।
কাঁপতে শুরু করেছে রেমি। বৃষ্টির পানির ঠাণ্ডায় না, খুব সম্ভবত উত্তেজনার তীব্রতায় কাঁপছে। স্যাম জানে এখন তাদেরকে শরীর চালু রাখতে হবে। এভাবে এক জায়গায় আটকে থাকলে কোনো উপকার হবে না। আমাদের যাওয়া দরকার এখন, বলে রেমিকে সোজা হয়ে উঠে দাঁড়াতে সাহায্য করলো স্যাম।
এরপর আস্তে আস্তে আবারো রাস্তায় উঠে এলো ওরা। ওপরে উঠেই পকেট থেকে সেলফোনটা বের করে আনলো স্যাম। এখানে সিগন্যাল পাওয়ার আশা করাটা হয়তো বোকামি হবে, তাই না?
