বলে তাদেরকে টেবিলের কাছে নিয়ে গেলো মহিলা। আসলেই টেবিলের ওপর বেশ কতগুলো মোটা মোটা বই রয়েছে। তবে এগুলোর মধ্যে একটা বই অন্যগুলোর থেকে একটু দূরে পড়ে আছে।
স্যাম এগিয়ে গিয়ে বইটা তুলে নিলো হাতে। ভালো করে মলাট এবং বাইন্ডিংর লেখাটা পরীক্ষা করে জানালো, দেখে মনে হচ্ছে এটাই খুঁজছিলাম আমরা।
অবশেষে পাওয়া গেলো তাহলে। বলে স্যামের দিকে এগিয়ে গেলো রেমি। বইটা কেন অন্যগুলোর থেকে আলাদা করে সরিয়ে রাখা হয়েছে সেটা ভাবার মতো সাহসও করতে পারছে না। স্যাম ওদিকে মলাট উল্টিয়ে বইয়ের পাতাগুলো দেখছে। কয়েক পাতা উল্টাতেই কাঙ্ক্ষিত জিনিসটা পেয়ে গেলো।
একটা তদন্ত জারি করা হয়েছিলো তখন।
কিসের তদন্ত?
১৬৯৬ সালের জুনে মিরাবেল চুরি গিয়েছে বলে দাবি উঠেছিলো। ওটার ব্যাপারেই তদন্ত জারি করা হয়েছিল।
বেশ। তাহলে তো এর মাধ্যমে আসল মালিকের নাম জানা যাবে।
যদি সাক্ষ্যগুলো পড়তে পারি আর কী! বলে রেমির দিকে বইটা কাত করে ধরলো স্যাম।
রেমি তাকিয়ে দেখলো ফুলেল স্ক্রিপ্টের লেখাটা পড়া আসলেও বেশ কঠিন একটা কাজ। টাইপিংর আধুনিকতার প্রশংসা করাই লাগছে এখন।
যাই হোক, এখানে দেখো, বলে পাতার নিচের দিকের একটা অনুচ্ছেদের দিকে নির্দেশ করলো স্যাম। এক ক্রু মেম্বার সাক্ষ্য শুনো, তাকে মাদাগাস্কারে আটক করে ক্যাপ্টেন হেনরি ব্রিজম্যানের ফ্যান্সিতে করে বাইরে পাঠিয়ে দিয়েছিলো। ওটাতে করে প্রথমে জামাইকাতেই এসেছিলো ওরা। তারপর যাত্রা করেছিলো নিউ প্রভিডেন্সের দিকে। এরপর নাসাউতে পৌঁছে তারা নিজেদেরকে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ধাওয়াকৃত ইন্টারলুপার বলে দাবি করে বন্দরে নেমেছিলো।
ইন্টারলুপার?
আমার জানা ইতিহাস যদি সঠিক হয়ে থাকে, লাইসেন্সবিহীন দাসব্যবসায়ীদেরকে ইন্টারলুপার বলা হতো। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দাসনীতি এড়িয়ে যাওয়ার একটা উপায় ছিলো এটা।
ব্রিজম্যান দাসব্যবসায়ী ছিলো?
সাথে একজন জলদস্যুও।
তো এই লোকই কি আমাদের আগ্রহের জাহাজের মালিক ছিলো?
না, লেখাগুলো দেখতে দেখতে বলছে স্যাম। নিরাপদে বন্দরে নামতে দেওয়ার জন্য ব্রিজম্যান গভর্নর ট্রটকে ঘুষ হিসেবে ফ্যান্সি উপহার দিয়েছিলো। যদিও ট্রট ঐ জাহাজ এবং ব্রিজম্যানের কথা অস্বীকার করেছিলো, তবে ক্রু মেম্বারদের দাবি ট্রট উপহারটা নিজের করে নেওয়ার আগেই ওটার কার্গোর একটা অংশ চুরি গিয়েছিলো। আর চোর মিরাবেল নিয়ে পালানোর সময় ডুবে গিয়েছিলো স্নেক আইল্যান্ডে। বলতে বলতে হুট করেই থেমে গেলো স্যাম। অনুচ্ছেদের পরের অংশটা পড়তে পড়তে বলল, এটা বেশ ইন্টারেস্টিং…
কী?
রয়েল নেভি ধাওয়া করছিলো ব্রিজম্যানকে… নেভির কমান্ডার… বলে পাতা উল্টালো স্যাম। নেই…, কিছুক্ষণ পাতাটার দিকে তাকিয়ে থাকার পর বলল স্যাম।
নেই মানে? কমান্ডার নেই? নাকি এখানে কমান্ডারের কথা উল্লেখ নেই? তারপর কাছে বইটা ভালো করে দেখার জন্য কাছে ঝুঁকে বলল, এটাই তো সঠিক বইটা?
কয়েকটা পৃষ্ঠা নেই এখানে।
বলে বইয়ের বাধাইয়ের সাথে আটকে থাকা খাজকাটা ছেঁড়া কাগজের কোনাগুলো দেখালো স্যাম। কাগজের কোনাগুলো প্রমাণ করছে যে একসময় কিছু পৃষ্ঠা ছিলো এখানে।
স্যামের দিকে চোখ তুলে তাকালো রেমি। চোখে সন্দেহের দৃষ্টি ফুটে আছে ওর। ঐ মহিলা বলেছিলো গতরাতে অ্যালার্ম নষ্ট হয়ে যাওয়ার কথা বলেছিলো না?
সন্দেহাতীতভাবেই, অ্যালার্ম নষ্টের সাথে ঝড়ের কোনো সম্পর্ক নেই।
অযথাই সময় নষ্ট হলো তাহলে আমাদের।
বইটা নিয়ে কাউন্টারে দেখানো দরকার। দেখি বইয়ের ব্যাপারে কারো কিছু মনে আছে কিনা অথবা কারা কারা আগে এই বইটা পড়েছে।
অফিসে পৌঁছুতেই কাউন্টারের মহিলা তার হাতের কাগজগুলো রেখে তাদের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো, কোনো সমস্যা?
স্যাম বইটা বাড়িয়ে দিলো মহিলার দিকে। আমরা এই বইটাই খুঁজছিলাম। তবে এখানে কিছু পৃষ্ঠা নেই। ওগুলোই দরকার ছিলো আমাদের।
নেই মানে? বইটার দিকে তাকিয়ে বলল মহিলা। আমি বুঝতে পারছি না কিছুই।
কেউ একজন ওগুলো ছিঁড়ে নিয়ে গেছে।
এমন কাজ কেন করবে কেউ? তারা তো চাইলেই এগুলো ফটোকপি করে নিতে পারে।
আপনি নিশ্চিত যে আমাদের আগে কেউ এই বইটার খোঁজ করতে আসেনি?
ইদানিংকালে কেউ আসেনি। রয়েল নেভাল ডকইয়ার্ডের মিউজিয়ামের ঘোষণাপত্রের জন্য এক ইতিহাসবীদ খোঁজ করেছিলো এটার। তবে এটা আরো বেশ কয়েকবছর আগের কথা। আরো কিছু বলতে যাচ্ছিলো, ঠিক তখনই ফোন বেজে উঠলো মহিলার। এক মিনিট, প্লিজ, বলে ফোনের পর্দার দিকে একবার দেখে বলল, আপনাদের কি আরো কোনোভাবে সাহায্য করতে পারি? আমাকে আসলে এই ফোনটা পিক করতে হবে।
না, যতোটা করেছেন, তাই যথেষ্ট। ধন্যবাদ।
বলে অফিস থেকে বেরিয়ে এলো ওরা। তারপর সামনের দরজা দিয়ে বেরিয়ে যাবে, ঠিক তখনই হুট করে থমকে দাঁড়ালো স্যাম। এমনভাবে থেমে গেছে যে রেমি প্রায় হোঁচটই খেতে নিয়েছিলো তার শরীরে।
ফেউ হাজির হয়ে গেছে, বলে পার্কিং লটের দিকে নির্দেশ করলো স্যাম। পার্কিং লটের দিকে তাকাতেই সাদা এসইউভিটা দেখতে পেলো রেমি। গাড়িটার সাথে ওয়্যারহাউজের ডাকাতদের একজনও দাঁড়িয়ে আছে। যদিও লোকটা তাদেরকে দেখতে পায়নি। ফোনের পর্দায় কী যেন একটা দেখছে লোকটা।
