তবে, আগের কাজ আগে। প্রথমে ফার্গোদেরকে সরাতে হবে।
এক ঘণ্টা পর, আবারো ফিস্ক ফোন করলো তাকে। বলল, ভালো সংবাদ আছে আমার কাছে…
২৬. আর্কাইভস ডিপার্টমেন্টের দিকে
২৬.
পরদিন সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে আর্কাইভস ডিপার্টমেন্টের দিকে যাত্রা করলো স্যাম ও রেমি। ডিপার্টমেন্টে পৌঁছে রেমি ভিতরে ঢুকলেও স্যাম রয়ে গেলো বাইরেই। ভিতরে ঢোকার আগে চারপাশটা একবার ভালো করে দেখে নিতে চাচ্ছে।
বিল্ডিংর ভিতরে ঢুকে ডিরেক্টরি থেকে রেকর্ড ডিপার্টমেন্টটা বের করে নিলো রেমি। হলওয়েতে অনেক কর্মচারীর আনাগোনা দেখা যাচ্ছে। অবশ্য কর্মচারীদের সবাই কাজে এতোই ব্যস্ত যে কেউই তার দিকে তাকাঁচ্ছে না। হলুদ জামা ও ফিরোজা রঙের স্কার্ফ পরা এক মহিলাকে কাউন্টারে ম্যানিলা কাগজের স্তূপ রাখতে দেখে এগিয়ে গেলো তার দিকে। গিয়ে বলল, এক্সকিউজ মি, আপনি রেকর্ড ডিপার্টমেন্টে কাজ করেন?
ডাক শুনে তার দিকে ফিরে তাকালো মহিলা। হ্যাঁ। আপনাকে কি এখনো সাহায্য করা হয়নি?
রেমি মুচকি হেসে বলল, এখনো না।
ক্ষমা করবেন। গত রাতের অপ্রত্যাশিত ঝড়ে একটু এলোমেলো হয়ে গেছে সব। রাতে অ্যালার্মও বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো। দালানের ভিতরেও পানি ঢুকে গেছে। এজন্যই আসলে ব্যস্ত হয়ে আছে সবাই। তবে, যাই হোক, কিভাবে সাহায্য করতে পারি আপনাকে?
আমরা আসলে কিছু পুরোনো জাহাজের ঘোষণাপত্র দেখতে এসেছিলাম।
আমরা?
আমার হাজব্যান্ডও আছে সাথে। একটু বাইরে আছে ও। কিছুক্ষণের মধ্যেই এসে যাবে।
মহিলা কাউন্টার থেকে একটা ফর্ম বের করে রেমির দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলল, আপনারা গবেষক?
আচ্ছা, তাহলে এই ফর্মটা পূরণ করে দিন। আমি ফিরে আসছি এখনই।
ধন্যবাদ।
ফর্ম পূরণ করতে করতে স্যামও এসে গেছে ভিতরে।
এসে রেমিকে বলল, বাইরে সব ঠিকঠাকই আছে বলে মনে হচ্ছে। ভিতরের কী অবস্থা?
অতটা ভালো না। ঝড়ে এলোমেলো হয়ে আছে সব।
অন্ততপক্ষে এয়ার কন্ডিশনারটা তো ঠিক আছে। গতরাতের বৃষ্টির পর দ্বীপটা স্টিম বাথে পরিণত হয়ে গেছে।
মহিলা আবার ফিরে আসতেই ফর্মটা তার দিকে বাড়িয়ে দিলো রেমি। কাগজটা ভালো করে দেখে মহিলা বলল, জাহাজের ঘোষণাপত্রই তো?
হ্যাঁ, জবাব দিল রেমি। একটা প্রশ্ন ছিলো। গত কিছুদিনে কি আমরা ছাড়াও অন্য কেউ এই সময়কালের রেকর্ড দেখার জন্য এসেছিলো এখানে?
না। আপনারাই শুধু, বলে তাদেরকে নিয়ে আর্কাইভের দিকে পা বাড়ালো মহিলা। আর্কাইভে গিয়ে তাদেরকে কোন সারিতে খুঁজতে হবে সেটা দেখিয়ে দিয়ে বলল, এখানের সবকিছু বছরের ক্রমানুযায়ী সাজানো আছে। নির্দিষ্ট জিনিসটা খুঁজতে খুব একটা কষ্ট হওয়ার কথা না। তবে মাঝেমধ্যে কিছু ফাইল উলটপালটও হয়ে যায়। আপনারাই খুঁজে দেখুন। | ধন্যবাদ, বলল রেমি। মহিলার শেষ আশঙ্কাটা সত্য না হওয়ার প্রার্থনাই করছে। শত শত ফাইল আছে এখানে। এরমানে একটা ফাইল উলটপালট হয়ে গেলে, সেটা খুঁজে বের করাও বেশ কষ্টকর হবে।
সারির দুই প্রান্ত থেকে খোঁজা শুরু করলো দুইজন। স্যাম চলে গেছে সারির শেষ প্রান্তে। আর রেমি খুঁজছে শুরুর প্রান্ত থেকে। এক এক করে ফাইলগুলো দেখতে দেখতে কাছাকাছি এগিয়ে আসছে ওরা। দেখতে দেখতেই একটা সময় সারির মাঝ বরাবর দেখা হলো তাদের। সাথে সাথেই স্যাম বলে উঠলো, প্রায়ই আসা হয় এখানে?
কপাল ভালো যে লাইটহাউজে আমাদের প্রথম দেখায় এটা বলোনি তুমি।
তাই? আমার তো মনে হয় আমি এটাই বলেছিলাম।
না। ভালো করেছিলে না বলে। তাহলে আর কখনো সেকেন্ড ডেট হতো না আমাদের। তারপর তাকের সারির দিকে নির্দেশ করে বলল, আমি খুঁজে পাইনি এখনো।
স্যামও তাকের দিকে চোখ ফিরিয়ে নিয়ে বলল, খুব সম্ভবত বইটা আমাদের চোখে পড়েনি এখনো। আমার মনে হয় আমাদের…
আমিও এটাই ভাবছিলাম।
এখন আমি তোমার অংশে খুঁজে দেখি, আর তুমি আমার অংশে দেখো।
তাই করলো তারা। কিন্তু ফলাফল সেই আগেরটাই।
এখন পাশের তাকে খুঁজতে শুরু করেছে স্যাম। যদিও তারা যে বছরেরটা খুঁজছে সেটার সাথে এটার বছরের কোনো মিল নেই। রেমিও আরেকবার সারিগুলো চেক করে দেখছে। একটা একটা করে বই বের করে দেখছে ও। ভাবছে হয়তো ভুল করে কেউ অন্য কোনো সালের সাথে বইগুলো উলট-পালট করে রেখেছে।
কিছুই পাইনি, বলল স্যাম। অবাক ব্যাপার, তাই না?
অবশ্যই। বলে তাক থেকে আরেকটা বই বের করে আনলো রেমি। যদিও সে কয়েক শতাব্দী পরের রেকর্ডও পেয়ে গেছে, কিন্তু কোনোভাবেই কাক্ষিতটা খুঁজে পাচ্ছে না। প্রায় এক ঘন্টা ধরে খোঁজাখুঁজির পর হঠাৎ রেমি বলে উঠলো, স্যাম… এভেরির পোষা কুকুরগুলো এখনো এখানে আসেনি কেন?
আমাদের অপেক্ষা করছে ওরা। আমরা তথ্য পেলে সেটা আমাদের থেকে চুরি করবে। এতেই তো কষ্ট কম।
কিন্তু যদি…
এক মহিলার আগমনের কারণে বলতে গিয়েও থেমে গেলো রেমি। এই মহিলাই তাদেরকে এখানে ঢুকতে সাহায্য করেছিলো। তাদেরকে এখনো এখানে দেখে মহিলা চমকে উঠে বলল, এখনো এখানে?
বইটা এখানে নেই, রেমি জানালো।
অবিশ্বাস্য ব্যাপার। কোন বছরেরটা খুঁজছেন আপনারা?
ষোলশ চুরানব্বই থেকে ষোলশ ছিয়ানব্বইয়েরগুলো।
এগিয়ে গিয়ে তাকের সারিতে খুঁজতে শুরু করলো মহিলা। এই তাকগুলোতেই একটু আগে খুঁজে দেখেছে রেমিরা। আশা করছি বইগুলো হয়তো এলোমেলো করা হয়নি… তারপর কয়েক মুহূর্ত পরেই বলে উঠলো, দাঁড়ান। মনে পড়েছে। রিসার্চ টেবিলে অনেকগুলো বইয়ের একটা স্তূপ দেখেছিলাম। প্রজেক্টের কাজে কিছু বই ব্যবহার করছিলো একজন। খুব সম্ভবত এখনো ওখানেই রয়েছে।
