তারপরও রেমির কাছে এখানে বসে অপেক্ষা করাটাকে বেশ কঠিনই লাগছে।
জে-জে তার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলো একবার। তারপর বলল, কার থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন, সুন্দরী রমনী?
টুলটা ঘুরিয়ে বারটেন্ডারের দিকে তাকালো রেমি। হার্লে-ডেভিডসনের লোগোওয়ালা একটা কালো টিশার্ট পরে রেখেছে লোকটা। জটলা চুলগুলো পনিটেইল করে বাধা, তবে তার গাঢ় চোখগুলোয় কোনো আক্রোশ বা অনিষ্টকারী কোনো ছাপ নেই। খুব সম্ভবত স্যাম এই কারণেই লোকটাকে বিশ্বাস করেছে। কয়েকজন ডাকাত। তারা আমাদেরকে মেরে ফেলার পণ করে পিছু লেগেছে।
নিশ্চয়ই ঐ সাদা চামড়ার মানুষগুলো? কিছুক্ষণ আগে দুই লোক এসেছিলো এক লাল-চুলো মহিলা ও এক আমেরিকানের খোঁজ করতে।
কথাটা শুনেই নিজের দুর্বলতাটা বুঝতে পারলো রেমি। চুলে স্কার্ফ পরার ফ্যাশনটা এখন নেই বলে আক্ষেপ হচ্ছে তার। কোনো রকমে নিজেকে সামলে নিয়ে বলল, তারা এখানে এসেছিলো?
হ্যাঁ। মিনিট বিশেক আগে এসেছিলো। তবে আপনি কোনো দুঃশ্চিন্তা করবেন না। আপনি এখানে নিরাপদই থাকবেন। ড্রিংকসের জন্য কিছু দিবো আপনাকে?
শুধু পানি দিন, প্লিজ, বলল রেমি। এখনই কড়া অ্যালকোহল খাওয়ার সময় হয়নি।
এরপর আর কিছু না বলে গ্লাসে পানি ঢেলে রেমির দিকে বাড়িয়ে দিলো জে-জে। তারপর নিজের কাজ করতে শুরু করলো। একটা ছোটো কাপড় নিয়ে বারের টেবিলটা মুছছে এখন।
পানিতে চুমুক দিলো রেমি। চুমুক দিতে দিতে বারবারই ফিরে তাকাচ্ছে দরজার দিকে। বেশ কয়েক মিনিট পেরিয়ে গেছে, তবু স্যাম এখনো ফিরে আসেনি। আর কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে দরজার দিকেই এগিয়ে গেলো ও। দরজা দিয়ে মাথা বের করতেই বাইরে পার্ক করে রাখা অনেকগুলো মোটরসাইকেল দেখতে পেলেও স্যামের কোনো চিহ্ন দেখতে পাচ্ছে না।
কিছুক্ষণের মধ্যেই জে-জেও যুক্ত হলো তার সাথে। আপনার বদলে আমি উঁকি দিয়ে দেখলেই ভালো হবে। আমাকে এখানে কেউ আলাদাভাবে খেয়াল করতে আসবে না। কিন্তু আপনার ব্যাপার আলাদা। বলে তোয়ালে দিয়ে হাত মুছতে মুছতে দরজা দিয়ে বেরিয়ে গেলো জে-জে। ভাবটা এমন যেন কাজ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে ব্রেক নিতে বেরিয়েছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই আবার ফিরে এলো। এসে রেমিকে তার আসনে ফিরিয়ে নিয়ে গিয়ে বলল, আপনার স্বামী ফিরে আসবে কিছুক্ষণের মধ্যেই। লোকটা লুকানোয় দক্ষ, তবে আমি আবার খুঁজে বের করায় দক্ষ।
সত্যিই মিনিট খানেকের ভিতরেই ফিরে এলো স্যাম। প্রায় দৌড়ে এসেছে বলা যায়। রেমির কাছে এসে হাঁপাতে হাঁপাতে বলল, বড়ো সমস্যায় পড়ে গেছি।
জে-জে স্যামের দিকে এক গ্লাস পানি বাড়িয়ে দিয়ে বলল, কী সমস্যা, বন্ধু?
স্যাম এক ঢোকে পানি গিলে দরজার দিকে ইশারা করে বলল, এভেরির লোকেরা… রাস্তার মধ্যেই গাড়ি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে দেখলাম… তাদের একজন অন্য প্রান্তের রেস্টুরেন্টগুলোতে আমাদের খোঁজ করছে।
স্যামের কথা শুনে পাশের টেবিলেই থাকা বাইকারদের দিকে তাকিয়ে ইশারা করলো জে-জে। ইশারা পেয়েই উঠে দাঁড়ালো তারা। দুইজন এগিয়ে গেলো সামনের দরজার দিকে, আর দুইজন গেলো পিছনের হলওয়ের দিকে। দ্বিতীয়বারের মতো এই রাস্তায় দেখা দিয়েছে ওরা, জে-জে বলল। এটা এখন আমারও মাথাব্যথা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কাউন্টারের ওপর থেকে রেমি তার ব্যাগটা খাবলে নিয়ে বলল, আমরাও কি পিছনের পথটা দিয়ে বেরিয়ে যাবো?
মাথা নাড়লো স্যাম। তাদের নজরে না পড়ে গাড়ি পর্যন্ত যাওয়ার কোনো উপায় নেই। বলে বারে অবশিষ্ট থাকা মানুষগুলোর দিকে একবার তাকিয়ে দেখলো একবার। যদিও সত্যি বলতে একটা উপায় কিন্তু এখনো আছে… বলে বারটেন্ডারের দিকে ঝুঁকে উপায়টার ব্যাপারে জানালো স্যাম। এতো নিচু স্বরে বলছে যে জোরালো মিউজিকের শব্দ ছাপিয়ে স্যামের কোনো কথাই শুনতে পাচ্ছে না রেমি।
.
২৪.
স্যামের কাছ থেকে পরিকল্পনাটা শুনে মাথা ঝাঁকালো জে-জে। সাথে সাথে কয়েকটা প্রশ্নও জিজ্ঞেস করলো। সবশেষে গভীর স্বরে হেসে স্যামের দিকে তাকিয়ে বলল, প্ল্যানটা খুবই ভালো, বন্ধু। চোখের সামনে থেকেও লুকিয়ে থাকার মতো। অবশ্য এই কাজের জন্য কিছু ভলান্টিয়ার লাগবে আমাদের। বলে তাকালো মিউজিক বক্সের পাশে বসে থাকা এক কাপলের দিকে। অ্যান্টোয়ান, তোমরা দুইজন এদিকে আসো।
দম্পতি বারের কাছে এসে পৌঁছাতেই জে-জে জিজ্ঞেস করলো, তোমার কি এক সপ্তাহের জন্য ফ্রিতে ড্রিংকস করতে চাও?
কিসের বিনিময়ে? অ্যান্টোয়ান জানতে চাইলো।
স্যাম বলল, বিনিময়ে শুধু কয়েক মিনিটের জন্য আপনাদের বাইকিং গিয়ারগুলো ধার দিতে আমাদেরকে।
দ্রুতই তাদের সাথে চুক্তি করে নিয়ে তাদের থেকে চামড়ার ভেস্ট এবং হেলমেটগুলো নিয়ে নিলো ওরা। সাথে সাথে জে-জেও তার বাইকের চাবিটা বাড়িয়ে দিয়েছে স্যামের দিকে। আশা করছি, বাইকটার প্রতি যত্ন রাখবেন আপনি।
ওটাকে একদম নিজেরটার মতো করেই ভাববো।
বাইক চালানোর ব্যাপারে নিশ্চিত তো আপনি?
স্যাম চাবিটা হাতে নিতে নিতে বলল, ওটার যদি কিছু হয়, তাহলে দিন গড়ানোর আগেই নতুন একটা বাইক পেয়ে যাবেন আপনি।
পুরোনোটাই ভালো চলছে। নতুন লাগবে না। এটা কালো হার্লে বাইক। লাইসেন্স প্লেটে আমার বারের অ্যাডভার্টাইজিং ফ্রেমও লাগানো আছে।
