জে-জের থেকে সব বুঝে নিয়ে রেমির অতি-উচ্চমূল্যের পার্সটার দিকে তাকালো স্যাম। তাদের উপস্থিতি ফাঁস করে দেওয়ার জন্য ঐ একটা জিনিসই যথেষ্ট। অবশ্য সমস্যাটা দূর করতে বেশি সময় লাগলো না জে-জের। একটা ব্যাক-প্যাক দিয়ে দিয়েছে যাতে ওটাতে পার্সটা লুকিয়ে রাখতে পারে রেমি। ঠিক তখনই সামনের দরজায় দাঁড়ানো বাইকার দুজন জানালো যে এভেরির লোকেরা অন্য দোকানগুলো থেকে বেরিয়ে এসেছে, এবং এখন এই বারের দিকেই তাকিয়ে আছে।
শুনে মাথা ঝাঁকালো জে-জে। তারপর জোরালো কণ্ঠে বলল, কে কে বাইক রাইডে যেতে চাও?
তার কথাটা শুনে উঠে দাঁড়ালো বারের সবাই। হই-হুল্লোড়ের রব উঠে গেছে যেন ভিতরে।
দেখেছেন? জে-জে বলল স্যামকে। কোনো সমস্যা হবে না। আমার বন্ধুরাই এখন আপনাদেরও বন্ধু।
একটা সমস্যা আছে তবুও, স্যাম বলে উঠলো। ঐ লোকগুলোর সাথে অস্ত্র আছে।
তাতে দুঃশ্চিন্তা করবেন না, জে-জে জানালো। আপনাদের নিরাপত্তার ভার বিলির ওপরে। ও ই নিরাপদে পৌঁছে দিবে আপনাদেরকে।
সাথে সাথেই সুউচ্চ লম্বা একজন বাইকার এসে যুক্ত হলো তাদের সাথে। এসে ভেস্টের দুই পাশ প্রসারিত করে দেখালো স্যামকে। স্যাম দেখতে পেলো, ভেস্টের বামপাশের শোল্ডার হোলস্টারে একটা হ্যান্ডগান রয়েছে এবং ডানপাশে রয়েছে হাতলওয়ালা একটা ট্রেঞ্চ নাইফ, যেটাকে টেনে বড়ো করে ধাতব নাকলস হিসেবেও ব্যবহার করা যাবে। ধারণা করলো রুমে বিলিই হয়তো একমাত্র অস্ত্রধারী না, অন্যদের কাছেও হয়তো কিছু না কিছু আছে। রুমের প্রতিটা মানুষই তাদের পক্ষে আছে ভেবেও বেশ স্বস্তি পাচ্ছে ও।
বারটেন্ডারের দিকে ফিরে শেষবারের মতো হাত মিলিয়ে নিলো স্যাম। সবাইকেই তাদের প্রাপ্যটা দিয়ে দিবো আমরা।
খুবই প্রশংসনীয় ভাবনা। তবে এটার দরকার পড়বে না। আপনারা নিরাপদে থাকলেই চলবে।
এরপর আর কোনো কথা না বলে হেলমেটগুলো মাথায় লাগিয়ে নিলো ওরা। সাথে সাথে বাইরে বেরিয়ে থাকা চুলগুলোও হেলমেটের আড়ালে লুকিয়ে নিলো রেমি। তারপর অন্য বাইকারদের সাথে করে বেরিয়ে এলো রাস্তায়। এগিয়ে গেলো তাদের মোটরসাইকেলগুলোর দিকে। জে-জের বাইকটা খুঁজে বের করে ওটাতে চড়ে বসলো স্যাম। রেমি বসেছে তার পিছনে। স্যামের কোমড়ে হাত পেঁচিয়ে ধরে রেখেছে ও।
বাইকে চাবি ঘুরাতেই গর্জন করে উঠলো হার্লের ইঞ্জিনটা। বাইকটা চালু করেই রিয়ারভিউ মিরর দিয়ে পিছনের দিকে তাকালো স্যাম। এভেরির লোকেরা এখন রাস্তা ক্রস করে বারের দিকেই এগিয়ে আসছে। এদের একজন আবার তাকিয়ে আছে স্যামদের দিকে। কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে হঠাৎ করেই আবার পিছনের দিকে দৌড় লাগালো এভেরির লোকেরা।
তারা ঠিকই স্যামদেরকে চিনে ফেলেছে। ছদ্মবেশ নিয়েও ধোকা দেওয়া গেলো না। এভেরির লোকেরা গাড়িতে চড়ে বসতে পারলে সুবিধাটাও তাদেরই বেশি থাকবে। মোটর সাইকেলে করে তাদেরকে খসানোটা স্যামের পরিকল্পনারও অংশ ছিলো না।
তাই লোকগুলো পৌঁছানোর আগেই বাইক নিয়ে সাদা এসইউভিটার পাশে গিয়ে দাঁড়ালো স্যাম। বিলিও এসে দাঁড়িয়েছে তার পাশে! বিলি আসতে স্যাম তাকে বলল, আপনার ট্রেঞ্চ নাইফটা কি একটু ধার দেওয়া যাবে?
ভেস্টের আড়াল থেকে চাকুটা বের করে স্যামের দিকে বাড়িয়ে দিলো বিলি। স্যাম যেমনটা ভেবেছিলো, ঠিক তেমনই। দুই-ফলা বিশিষ্ট চাকুটা আসলেই প্রচণ্ড ধারালো।
ওদিকে রেমি উদ্বিগ্ন হয়ে স্যামের কোমড় চেপে ধরে বলল, তারা কিন্তু এদিকেই এগিয়ে আসছে। চাকুর জায়গায় পিস্তল ভালো হতো না?
ওটা নিয়ে দুঃশ্চিন্তা করো না তুমি, বলে নিচে ঝুঁকে গাড়ির সামনের ডান চাকায় চাকুটা গেঁথে দিলো স্যাম। বের করে আরো বেশ কয়েকবার একই কাজ করলো।
হাওয়া বেরিয়ে যেতেই রাস্তার সাথে মিশে গেলো টায়ারটা।
এতে করে কিছুটা সময় পাবো আমরা, বলে চাকুটা আবার বিলির কাছে ফিরিয়ে দিলো স্যাম।
আবারো চলতে শুরু করেছে তারা।
রাস্তার কোনার দিকে গিয়েই পিছনের দিকে ফিরে তাকালো স্যাম। দেখলো যে এভেরির লোকের থমকে দাঁড়িয়ে আছে এসইউভিটার পাশে। এদের একজন আবার রাগে গজ গজ করে সমানে লাথি দিচ্ছে গাড়ির নষ্ট চাকাটায়।
দৃশ্যটা দেখে হেসে উঠলো স্যাম। অবশেষে কিছু একটা তাদের পক্ষে এসেছে। এভেরির লোকেরা পিছ থেকে খসে যাওয়ায় বেশ স্বস্তিও পাচ্ছে ও।
****
আমাদেরকে প্রায় ধরেই ফেলেছিলো, বাইকারদের বিদায় জানিয়ে ভাড়া করা গাড়ির সিটে বসতে বসতে বলল রেমি।
গাড়ি চালু করে রাস্তায় বেরিয়ে এলো স্যাম। ঘটনাপ্রবাহে প্রচণ্ড রেগে আছে ও। অনেক বেশি কাছে চলে এসেছিলো। জানি না কী ভেবে তোমাকে এখানে নিয়ে এসেছিলাম।
ফোন বের করে মাত্রই হোটেলে যাওয়ার রুটটা দেখতে শুরু করেছিলো রেমি। স্যামের কথাটা শুনে তার দিকে চোখ ফিরিয়ে বলল, কথাটা দিয়ে কী বুঝালে তুমি?
আমরা জানতাম যে তারা এখানে আছে। তারপরও এখানে লাঞ্চ করতে আসাটা বোকামি ছিলো।
এটার সমান দোষ কিন্তু আমারও। আমিও কিন্তু মানা করিনি।
হ্যাঁ। তবে আমার আর ভালোভাবে বুঝা উচিৎ ছিলো।
তোমার ধারণা, আমার উচিৎ ছিলো না? দীর্ঘশ্বাস ফেললো রেমি। প্রথমত, তারা যে প্রতি দরজায় দরজায় গিয়ে খুঁজবে তা ভাবার মতো কোনো কারণ ছিলো না আমাদের। গোপনে থেকে গাড়ির ওপর নজর রাখাটাই ছিলো সবচেয়ে কার্যকর ও উপযুক্ত কাজ। আমরা হলেও এটাই করতাম। আর দ্বিতীয়ত, এতে কিন্তু খুব একটা অসুবিধা হয়নি আমাদের। তো নিজের ওপর দোষারোপ করা বন্ধ করো।
