তাড়াতাড়ি করে ছাদের ধার থেকে সরে এলো স্যাম। বিপদটা বুঝতে একটুও কষ্ট হচ্ছে না তার। এখান থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কি অন্য কোনো রাস্তা আছে?
হ্যাঁ, ফায়ার এস্কেপ আছে, বলে ছাদের অন্যপ্রান্তের দিকে নির্দেশ করলো মেলিয়া। ওটা থেকে একটা মই নেমে গেছে সরু গলিতে।
এতেই কাজ হয়ে যাবে আমার, স্যাম বলল। রেমি?
হ্যাঁ। আমারও।
রেমির মত পেয়েই স্যাম তার পকেট থেকে বেশ কয়েকটা একশো ডলারের নোট বের করে রাখলো টেবিলের ওপর। মেলিয়া আপত্তি করতে শুরু করেছিলো, তবে স্যাম তাকে থামিয়ে বলল, বেশি দিচ্ছি না, ঠিকই দিচ্ছি। রাখুন।
বলে মইয়ের দিকে পা বাড়ালো স্যাম। রেমি তার ঠিক পিছে পিছেই আসছে। ওপর থেকে গলিটাকে খালি বলেই মনে হচ্ছে তার কাছে। মইয়ের দুই পাশে দুইটা বড়ো বড়ো ময়লার ঝুড়িও আছে। এতে বেশ ভালোই হয়েছে, প্রয়োজনে ওগুলোকে কাজে লাগানো যাবে।
মইয়ের ধাপে পা দিয়ে রেমির জন্য অপেক্ষা করছে ও। রেমিও মইয়ের ধাপে চড়ে বসতেই নামতে শুরু করলো স্যাম। লাঞ্চের জন্য দুঃখিত, নিচে নামতে নামতে বলল স্যাম।
তুমি কি জানো যে ঐ মুরগীটাকে আমাদের জন্যই মারা হয়েছিলো?
মেরে খুব একটা লাভ হয়নি।
আমাদের আবার ফিরে যেতে হবে ওখানে।
আগে পিছন থেকে ঝামেলা খসাই, তারপর নাহয় প্ল্যান সাজাব।
মাটি থেকে চার ফুট উঁচুতেই শেষ হয়ে গেছে মইটা। এইটুক দূরত্ব লাফিয়ে নামা স্যামের জন্য তেমন কোনো বিষয় না। নিচে নেমে রেমির জন্য অপেক্ষা করছে এখন। রেমিকে মই বেয়ে নামতে দেখার দৃশ্যটা উপভোগ করছে।
রেমি দৃশ্যটা দেখে বলল, আমরা দৌড়াচ্ছি আমাদের জীবন নিয়ে, আর তুমি তাকিয়ে আছে আমার দিকে?
মৃদু হেসে রেমির কোমড় ধরে তাকে মই থেকে নামিয়ে স্যাম বলল, অন্ততপক্ষে এতে তো আমি শান্তি নিয়েই মরতে পারবো।
ময়লার ঝুড়ির আড়াল থেকে আস্তে আস্তে বেরিয়ে এলো ওরা। রেমি গলির এদিক-ওদিক তাকিয়ে দেখছে এভেরির লোকেরা আছে কিনা। কোন দিকে যাবো এখন?
ভালো প্রশ্ন। যদি এভেরির লোকেরা তাদের পার্ক করা গাড়িটা থেকে খোঁজ শুরু করে, তাহলে তারা এখন তাদের বাম দিকে আছে। তাই স্যাম বলল, ডানে যাও।
গলির শেষ প্রান্তে পৌঁছে উঁকি দিয়ে রাস্তাটা একবার দেখে আবার মাথা ফিরিয়ে আনলো স্যাম। ঠিক ঐ মুহূর্তেই সাদা গাড়িটা এসে উপস্থিত হলো রাস্তার সামনে দাঁড়িয়ে থাকলে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ধরে পড়ে যাবে ওরা। তাই গলির অন্য প্রান্তের দিকে তাকালো স্যাম। বেশ কয়েকটা দরজা রয়েছে ঐদিকে। এগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় দরজাটা আবার জালিকাময়। নিশ্চিতভাবেই দোকানে বাতাস চলাচলের জন্যই এই ব্যবস্থা করা হয়েছে। এইদিকে আসো, রেমিকে বলেই গলি ধরে দরজাটার দিকে দৌড় লাগালো স্যাম। সাথে আশা করছে জালিকা লাগানো কপাটটা যেন তালা দেওয়া না থাকে।
.
২৩.
স্যামের পিছু পিছু বিল্ডিংটায় ঢুকলো রেমি। তারা ঢুকতেই আবার খুট করে লেগে গেলো দরজাটা। দালানের অনুজ্জ্বল আলোটা চোখে সইতে বেশ কিছুক্ষণ সময় লাগছে। দালানের ছোটো হলওয়ে ধরে দৌড়ে যাচ্ছে তারা। ময়লাটে সাদা দেয়ালগুলোতে অনেক ধরনের গ্রাফিতি এবং পূর্বে ঘুরতে আসা অনেক পর্যটক ও শহরের নাম লেখা রয়েছে। দৌড়ে বাররুমে গিয়ে ঢুকলো ওরা। জোরালো রেগা মিউজিক চলছে রুমটাতে। রুমের রুক্ষ জনমন্ডলি দেখে রেমি ধারণা করলো এটা হয়তো বাইকার বারের জামাইকান সংস্করণ। সাধারণত তারা এরকম কোনো জায়গায় যায় না। কিন্তু এখন পরিস্থিতি ভিন্ন। তারা ঢোকার পর থেকেই রুমের আট-দশজন মানুষ চোখ পিটপিট করে তাকিয়ে আছে তাদের দিকেই। মানুষগুলোর বেশির ভাগই হাফ-হাতা টি শার্টের ওপর চামড়ার ভেস্ট পরে রেখেছে। বেশির ভাগের হাতেই ট্যাটু এঁকে রাখা। যদিও তাদের কালো চামড়ার কারণে ট্যাটুগুলো ঠিকমতো নজরে পড়ছে না। এটাকে সমস্যা বলেই মনে হচ্ছে রেমির কাছে। এই ধরনের মানুষের ভিতর থাকলে তাদেরকে আলাদাভাবে চিহ্নিত করতে কোনো কষ্টই করতে হবে না।
স্যাম তার পকেট থেকে কিছু নোট বের করে বারের ওপর রেখে বলল, আমার তরফ থেকে সবার জন্যই ড্রিংকস, মি. …? বলে প্রশ্ন তাকালো বারটেন্ডারের দিকে।
বন্ধুদের কাছে জে-জে নামে পরিচিত আমি, ছান্দসিক সুরে বলল লোকটা। বন্ধু, আপনি যে পরিমাণ টাকা দিলেন, তাতে আপনাদেরকে নিজেদের লোক করে নিতেও কোনো সমস্যা নেই আমার।
এরপর স্যাম তার পরিচয় দিয়ে হাত বাড়িয়ে দিলো লোকটার দিকে। জে জের সাথে হাত মিলিয়ে বলল, আমার ওয়াইফ নিরাপদে থাকবে এখানে? আমার ফিরতে বেশিক্ষণ লাগবে না।
একদম নিরাপদে থাকবে। কথা দিলাম আমি।
সন্তুষ্ট হয়ে স্যাম রেমির দিকে ফিরে তাকিয়ে বলল, আমি গিয়ে দেখি আমাদের গাড়িটা আনতে পারি কিনা। একমুহূর্তের মধ্যেই ফিরে আসব। বলে সামনের দরজার দিকে এগিয়ে গেলো স্যাম। দরজার ফাঁক দিয়ে একবার উঁকি দিয়ে তারপর বেরিয়ে গেলো বাইরের রাস্তায়
স্যাম বেরিয়ে যেতেই বারটেন্ডারের দিকে তাকালো রেমি। তারপর তাকালো আশেপাশের মানুষগুলোর দিকে। অবশ্য মানুষগুলোর কেউই তাকে উত্যক্ত করছে না। বরং ড্রিংকস খেতে খেতে উলটো আরো কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছে। স্যামের মানুষ যাচাই করায় ভুল হয় না কখনো। জায়গাটাকে নিরাপদ না ভাবলে সে কখনোই রেমিকে এখানে একা রেখে যেতো না।
