পিছনের লোকগুলোকে খসাতে পেরেছো? রেমি জানতে চাইলো।
দেখে তো তাই মনে হচ্ছে। তবে তারপরও রেস্টুরেন্ট থেকে কিছুটা দূরে গাড়ি পার্ক করবো আমরা। এখানে পার্ক করে সহজ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হওয়ার কোনো মানেই হয় না।
বলে গাড়িটা নিয়ে কোনার দিকে সরে গেলো স্যাম। এই এলাকাটায় প্রায় ডজন খানেকের মতো রেস্টুরেন্ট আছে। কেউ যদি প্রতিটাতেই গিয়ে গিয়ে তাদের ব্যাপারে খোঁজ নিতে যায়, তাহলেও যথেষ্ট পরিমাণ সময় ব্যয় হবে। এতে করে আর কিছু না হলেও অন্ততপক্ষে শান্তিতে খাবার খাওয়ার মতো সময় পাবে ওরা।
.
হেঁটে রেস্টুরেন্ট পর্যন্ত পৌঁছাতে প্রায় তিন মিনিটের মতো লাগলো ওদের। ভাড়া করা গাড়ি থেকে বেরুতেই মনে হচ্ছে যেন জ্বলন্ত কড়াইয়ে এসে নেমেছে। অতিরিক্ত আর্দ্রতাটা সহ্য করতে পারছে না।
একটু পরপরই কপালের ওপর জমা ঘাম মুছছে রেমি। চুলে আঙুল ঢুকিয়ে চুলগুলোকেও পনিটেইল করে নিয়েছে। রেস্টুরেন্টে এয়ার-কন্ডিশনার থাকার সম্ভাবনা আছে?
শহরের এই অংশে এয়ার-কন্ডিশন খুঁজছো? ভালো একটা সিলিং ফ্যান থাকলেই সন্তুষ্ট আমি। তবে উজ্জ্বল বেগুনি রঙের দালানটায় ঢুকে হতাশই হতে হলো তাদের। একটা সিলিং ফ্যানই রয়েছে পুরো রেস্টুরেন্টে, তবে ওটা থেকে খুব একটা বাতাস আসছে না।
হোটেলে ঢুকতেই একজন মহিলা স্বাগত জানালো ওদের। মহিলা দেখতে বেশ লম্বা, চুলগুলো কোঁকড়া, ছোটো ছোটো করে ছাঁটা, প্রায় মাথার খুলির সাথে লেগে রয়েছে যেন। তাদেরকে দেখে সাথে করে কাউন্টার থেকে দুটো মেন্যু কার্ডও তুলে নিয়ে এসেছে মহিলা।
কেমারের কথামতোই মেলিয়ার খোঁজ করলো স্যাম।
আমিই মেলিয়া, জবাবে জানালো মহিলা।
এরপর স্যাম কেমারের কথা জানাতেই প্রশস্ত হাসি ফুটে উঠলো মহিলার মুখে।
কেমার? কেমারের মতোই মহিলার কণ্ঠস্বরেও ছান্দসিক টান মিশে আছে। খুবই ভালো একজন মানুষ এখানে পাঠিয়ে আপনাদের। প্লিজ, এইদিকে আসুন। আপনারা আমাদের বিশেষ অতিথি। আর আমাদের বিশেষ অতিথিরা বাইরের প্রাঙ্গণে বসে। ওখানকার জায়গাটা বেশ ঠাণ্ডা। সমুদ্র অভিমুখী হওয়ায় বাতাসের প্রবাহও পাওয়া যায়।
বলে ডাইনিং রুমের ভিতর দিয়ে তাদেরকে একটা দরজার দিকে নিয়ে গেলো মেলিয়া। তারপর দরজা খুলে ক্যাচক্যাচ করতে থাকা এক সরু সিঁড়ি বেয়ে উঠে গেলো ছাদের ওপরে থাকা বহিঃপ্রাঙ্গণে। ছাদটা থেকে নিচের রাস্তাও দেখা যাচ্ছে। সাথে সাথে মেলিয়ার কথামতোই বাতাসের ঝাঁপটাও ভেসে আসছে দক্ষিণ দিক থেকে।
মেন্যু দুটো টেবিলে রেখে তাদেরকে বসতে বলল মেলিয়া। তাদের টেবিলটা পাশের দালানের ছাদের দিকে মুখ করে স্থাপন করা হয়েছে। ওপরে রয়েছে একটা বড়ো ছাতা। ছাতার নিচে ঠাণ্ডাটা একটু বেশি থাকে।
চমৎকার, বলে চেয়ার টেনে টেবিলে বসলো রেমি।
বসার আগে ছাদের ধারে গিয়ে নিচের দৃশ্যটা একবার দেখে নিলো স্যাম। দোতলা-দালানের ছাদ থেকে তাদের গাড়িটা দেখতে পাচ্ছে। তবে সাদা এসইউভি বা কোনো সন্দেহজনক পথচারী চোখে না পড়ায় বেশ সন্তুষ্টই হলো ও। এরমানে তাদেরকে কেউ অনুসরণ করেনি। সন্তুষ্ট হয়ে টেবিলে ফিরে এলো আবার। টেবিলের অবস্থানটা ছাদের একেবারে মাঝের দিকে খুশিই হলো স্যাম। এতে করে নিচ থেকে কেউ তাদেরকে দেখতে পারবে না।
অবশ্য তারপরও এভেরির লোকেরা থেমে থাকবে না। নিচে রাখা ভাড়া করা গাড়িটা তাদের চোখে পড়লেই এলাকার প্রতিটা রেস্টুরেন্টেই খুঁজে দেখবে ওরা। এটা ভেবেই পকেট থেকে একশো ডলারের একটা নোট বের করে মেলিয়ার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলল, মেলিয়া, কেউ এখানে এসে আমাদের খোঁজ করলে কি আপনি আমাদেরকে এসে একটু সতর্ক করে দিতে পারবেন?
ঝট করে হাত পিছিয়ে নিলো মেলিয়া। এই ছোটো কাজের জন্য এই টাকাটা অনেক বেশি হয়ে যায়। টাকা রেখে দিন, কেউ এসে খোঁজ করলে আমি এমনিতেই এসে জানিয়ে যাব আপনাদের। এখন বলুন, কী খেতে চান আপনারা?
স্যাম মেনুটা হাতে তুলে নিয়ে বলল, আপনিই রিকমেন্ড করুন।
মেলিয়া মুচকি হেসে বলল, মেনু থেকে বলবো নাকি মেনুর বাইরের কিছু? আপনারাই বলুন কী খেতে চান, যেটা বলবেন সেটারই ব্যবস্থা করে দেওয়া যাবে।
সত্যি বলতে তারা এই ধরনের রেস্টুরেন্টই বেশি পছন্দ করে। সংক্ষেপে বললে, স্কচ বনেট পেপার মেরিয়ান্ডে সস দিয়ে ঝলসানো মুরগি অর্ডার করলো ওরা।
তাদের খাওয়া শেষ হওয়ার আগেই আবার ফিরে এলো মেলিয়া। তার কালো মুখটায় কিছুটা দুঃশ্চিন্তার ছাপ মিশে রয়েছে এখন। কেউ এসে আপনাদের খোঁজ করলে আপনাদেরকে সতর্ক করে দেওয়ার কথাই তো বলেছিলেন আমাকে?
হ্যাঁ, বলে দরজার মুখের দিকে তাকালো স্যাম। কী হয়েছে?
আপনি যেটা বলেছিলেন সেটাই। একজন শ্বেতাঙ্গ এসে জিজ্ঞেস করলো আমরা কি একজন পুরুষের সাথে লালচুলো এক সুন্দরী মহিলাকে কোথাও দেখেছি কিনা। বলে রেমির দিকে তাকিয়ে ক্ষমাসুলভভাবে হাসলো মেলিয়া। আমরা তাদেরকে মানা করে দিয়েছি। লোকটাকে দেখতে চাইলে দেখতে পারেন। বলে স্যামকে ছাদের ধারের দিকে যাওয়ার নির্দেশ করলো মেলিয়া। ধারের কাছে যেতেই বলল, ঐ যে, কোনায় দাঁড়িয়ে থাকা ঐ লোকটাই এসেছিলো।
সামনের দিকে তাকাতেই ছোটোখাটো দৈর্ঘ্য ও গাট্টাগোট্টা শরীরের একটা লোককে দেখতে পেলো স্যাম। তাদের দিকে থেকে উলটো দিকে ঘুরে ফোনে কথা বলছে লোকটার চেহারটা দেখতে পাচ্ছে না যদিও। এলাকার অন্যরা যেখানে খাকি বা শর্ট প্যান্ট এবং হাফ-হাতা শার্ট পরে রেখেছে, সেখানে এই লোকটা কালো লেদার কোট এবং গাঢ় রঙের স্ন্যাকস পরে আছে। চেহারা না দেখলেও লোকটাকে চিনতে কোনো ভুল হলো না স্যামের। এটা জ্যাক পিকারিংর দোকানে ডাকাতির সময়ও এই পোশাকেই ছিলো লোকটা। ঠিক তখনই রাস্তার অন্যপাশের একটা রেস্টুরেন্ট বেরিয়ে এলো দ্বিতীয় আরেকজন। বেরিয়ে রাস্তার এপাশ-ওপাশে একবার দেখে তাকালো জ্যাকের দিকে।
