অবশ্যই। নিশ্চয়তা দিয়ে বলছি, খুবই কার্যকরী একটা জিপিএস আছে। তারপরও একটা ম্যাপ দিয়ে দিলাম নিরাপত্তার জন্য। তাছাড়া অতিরিক্ত গরমের সময় ম্যাপটাকে হাতপাখা হিসেবেও কাজে লাগাতে পারবেন।
ধন্যবাদ, বলে কাগজগুলো স্বাক্ষর করে দিলো স্যাম।
সব কাজ সম্পন্ন করার পর লোকটা তাদেরকে গাড়ির কাছে নিয়ে গেলো। একটা নীল বিএমডব্লিউ ৫২৮আই সেডান দাঁড়িয়ে আছে এয়ারপোর্টের বাইরে। ফার্গোরা গাড়িটা ভালোভাবে চেক করে দেখার পর লোকটা বলল, এই চমৎকার বিকালে কি আপনাদের আরো কোনো সাহায্য করতে পারি আমি? আর কিছু লাগবে আপনাদের?
হ্যাঁ, একটা ভালো রেস্টুরেন্টের খোঁজ দিলে ভালো হতো, স্যাম জানালো। কিংস্টনের দিকে যাচ্ছি আমরা।
মূল্যের দিক দিয়ে ভালো নাকি মানের দিক দিয়ে?
মানের দিক দিয়ে ভালোটা।
অবশ্যই, এমন একটা জায়গা চিনি আমি। বলে কলম বের করে একটা কাগজে রেস্টুরেন্টের নাম এবং ঠিকানা লিখে দিলোলোকটা। কিংস্টনে অনেক ভয়ঙ্কর কিছু এলাকা আছে। এসব জায়গায় আমি সাধারণত পর্যটকদের পাঠাই না। তবে এই জায়গাটা এতোটা বিপজ্জনক না। এখানের মানুষেরা বেশ ভালো। আপনি ওখানে গিয়ে মেলিয়া নামের একজনের খোঁজ করবেন। তাকে গিয়ে বলবেন আপনাদেরকে কেমার পাঠিয়েছে। জামাইকার সবচেয়ে সেরা খাবারটাই পাবেন ওখানে। শতভাগ নিশ্চয়তা দিয়ে বলছি।
ধন্যবাদ, বলে ঠিকানা লেখা কাগজটা পকেটে পুরে নিলো স্যাম।
ওহ, জিজ্ঞেস করতে ভুলে গিয়েছিলাম। আপনাদের কি এখানে কোনো বন্ধুর সাথে দেখা করার কথা?
না, স্যাম বলল। প্রশ্নটা বেশ অদ্ভুত লাগলো তার কাছে। কেন?
আপনারা আপনাদের গাড়ি রিসিভ করেছেন কিনা সেটার ব্যাপার দুইজন লোক খোঁজ নিতে এসেছিলো।
আর আপনি কী বলেছেন তাদেরকে? স্যাম জানতে চাইলো।
অন্যান্য কাস্টোমারদের যা বলি সেটাই বলেছি। আমরা আমাদের কাস্টোমারদের তথ্য অপরিচিতদের সাথে শেয়ার করি না।
তারা কী গাড়ি ড্রাইভ করছিলো সেটা বলতে পারবেন?
দুঃখিত! ওটা খেয়াল করিনি। তারা সরাসরিই ভিতরে চলে এসেছিলো, আর আমিও তখন অন্য একজনকে নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম।
ধন্যবাদ, বলে লোকটার হাতে মোটা অঙ্কের বখশিস ধরিয়ে দিলো স্যাম। তারপর রেমিকে নিয়ে গিয়ে চড়ে বসলো গাড়িতে।
চমৎকার, সিটবেল্ট বাঁধতে বাঁধতে বলছে রেমি। আমরা এসে নেমেছি মাত্র, আর এখনই পিছে চর লেগে গেলো?
লাগুক, এবার তাদেরকে উষ্ণভাবেই স্বাগত জানাবো, বলে ফিশিং ভেস্টের গোপন পকেটে রাখা স্মিথ অ্যাণ্ড ওয়েসন পিস্তলটার ওপর হাত বুলাযলো স্যাম। তবে এতে বুঝা যাচ্ছে যে আমরা ঠিক পথেই এগুচ্ছি।
দুঃখজনক ব্যাপার হলো, তারাও কিন্তু সঠিক পথেই রয়েছে।
অন্তত পক্ষে এবার আমাদেরকে আগে থেকেই সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে, বলল স্যাম।
ব্রিটিশ রীতি মেনে চলার কারণে এখানের গাড়িগুলোর ড্রাইভিং সিট গাড়ির ডানপাশে। গাড়ি চালাতে হচ্ছে তার রীতি অনুযায়ী রাস্তার বেঠিক পাশ দিয়ে। এভাবে প্রথম কয়েকটা মোড় ঘুরাতে বেশ সমস্যা হলেও ধীরে ধীরে স্বচ্ছন্দ হয়ে গেছে। এয়ারপোর্ট ছেড়ে আসার পর থেকেই রিয়ারভিউ মিররে চোখ রাখছে স্যাম। কয়েক মাইল এগুনোর পর একটা সাদা এসইউভি চোখে পড়লো তার। যেহেতু এয়ারপোর্ট থেকে বেরুনোর রাস্তা একটাই, তাই গাড়িগুলো বেশ কিছুক্ষণ নজরে থাকাই স্বাভাবিক। এসইউভিটা অবশ্য এখন গতি বাড়িয়ে অন্য গাড়িগুলোকে পাশ কাটিয়ে তাদের দিকেই এগিয়ে আসছে। তবে কিছুক্ষণ পরই গাড়িটাকে আবার গতি থামিয়ে পিছনে চলে যেতে দেখলো। স্যাম সামনে তাকিয়ে দেখলো যে রাস্তার বিপরীত লেনটা প্রায় খালিই বলা যায়। চাইলে খুব সহজেই অন্য গাড়িগুলোকে ওভারটেক করে দ্রুতগতিতে চলে যেতে পারতো এসইউভিটা।
স্যামের ধারণা-হয় গাড়িতে থাকা পর্যটকেরা লেন বদল করে এগিয়ে যাওয়ার সাহস পাচ্ছে না, নয়তো গাড়িতে আসলেই সে এবং রেমি আছে কিনা এটা নিশ্চিত হতে চাচ্ছে এভেরির লোকেরা। আর এসইউভিটাও এতো দূরে রয়েছে যে স্যামও ঠিকমতো দেখতে পাচ্ছে না ঐ গাড়িতে আসলে কারা আছে। শুধু রেমিকে বলল, আমাদের পিছে হয়তো ফেউ লেগেছে।
এখনই? গাড়ির সাইড মিরর দিয়ে পিছনের দিকে তাকালো রেমি। কোন গাড়িটা?
সাদা এসইউভি। পিছনের গাড়িগুলো পাশ কাটিয়ে আসছিলো, তবে পরে আবার মতলব পালটে পিছনে চলে গেছে।
আমরা গাড়িতে আছি কিনা নিশ্চিত হতে চাচ্ছে?
সম্ভবত।
এখন কী করব তাহলে?
রেস্টুরেন্টের পথ ধরে এগিয়ে যাব। দেখি তারা আমাদের অনুসরণ করে কিনা।
শহরে পৌঁছেই বামে মোড় নিলো স্যাম। তবে এসইউভিটা চলে গেছে সোজা পথে। দৃশ্যটা দেখে হালকা স্বস্তি পেলো স্যাম। গাড়িটা কে চালাচ্ছিলো দেখেছো? রেমিকে জিজ্ঞেস করলো।
না। টিন্টেড গ্লাস।
আরো একবার বামে বাঁক নিয়ে একটা বড়ো ট্রাকের সামনে গিয়ে গাড়ি থামালো স্যাম। আশা করছে ট্রাকের কারণে তাদেরকে দেখতে পারবে না কেউ। কিছুটা সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর সাইড মিরর দিয়ে রাস্তার মোড়টার দিকে তাকালো। সাদা এসইউভিটাকে আর দেখা যাচ্ছে না এখন। আরো কিছুক্ষণ অপেক্ষার আবারো গাড়ির ইঞ্জিন চালু করলো স্যাম। রাস্তার পাশ ঘেষে রেস্টুরেন্টের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এবার। কেমার যেমনটা বলেছিলো, শহরের এই অংশে পর্যটকদের কোনো ভিড় নেই। ছোটোখাটো খুপড়ি এবং টিনের ঘরের পাশ দিয়ে ধীর গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে ওরা। পর্যটকের সংখ্যা কম থাকলেও পথচারীর সংখ্যার কমতি নেই। খোলা রাস্তার ওপর দিয়েই হেঁটে যাচ্ছে তারা। এমনকি গাড়ি আসলেও সরে যাওয়ার তেমন কোনো লক্ষণ নেই তাদের মধ্যে। তাদের ধারণা গাড়িচালকই একসময় গাড়ির গতি কমিয়ে দিবে বা থামিয়ে দিবে। বেশ কিছুটা এগিয়ে যাওয়ার পর একটা সময় রাস্তার পাশের ছোটোখাটো খুপড়িগুলো হারিয়ে গেলো। ওগুলোর বদলে এখন রাস্তার পাশে বড়ো বড়ো দালান দেখতে পাচ্ছে ওরা। সঠিক ঠিকানায় চলে আসার পর রেস্টুরেন্টের দিকে ছুটলো স্যাম। উজ্জ্বল বেগুনি রঙ করা একটা দালানেই রয়েছে রেস্টুরেন্টটা। এর আশেপাশে আরো অনেকগুলো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও রেস্টুরেন্ট রয়েছে। সবগুলো দালানই রংধনুর ভিন্ন ভিন্ন বর্ণে রঙ করা। জামাইকার আসল প্রতিচ্ছবিই যেন ফুটে উঠেছে।
