বলে বিদ্রুপাত্মকভাবে গ্লাসটা উঁচিয়ে ধরলো আলেক্সান্দ্রা।
বোতল খুলে গ্লাসে ড্রিংক ঢাললেন এভেরি। এক ঢোকে পুরোটা গিলে নিয়ে আরেকবার গ্লাসে ঢালতে ঢালতে বললেন, ওটা আমার পারিবারিক সম্পত্তি। এটায় তোমার কোনো অধিকার নেই।
পারিবারিক সম্পত্তি? বলে বইয়ের মলাট উল্টালো আলেক্সান্দ্রা। পৃষ্ঠাগুলো দেখতে দেখতে বলল, আমার যতদূর মনে পড়ে, তোমার আগ্রহের এই ম্যাপ বা কোডটা খুব সম্ভবত তোমার পূর্বপুরুষেরাই কয়েকশো বছর আগে আসল মালিকের থেকে চুরি করেছিলো। তুমিই তো আমাকে বলেছিলে এটা, তাই না? এককালে তো আমরা দুজনেই দুজনের সাথে মন খুলে কথা বলতাম। বলে বইয়ের পাতা থেকে চোখ সরিয়ে নিলো। তার নীল চোখগুলোতে প্রচুর ঘৃণা লেগে আছে এখন। জলদস্যু। তারা তো জলদস্যু ছিলো? তোমার পূর্বপুরুষেরা? দেখা যাচ্ছে, গাছ থেকে আপেল খুব বেশি দূরে পড়েনি। তুমিও তো তাইই।
আলেক্সান্দ্রার হাত থেকে বইটা ছিনিয়ে নিয়ে এভেরি বললেন, এটা আমার পরিবারের কাছ থেকে চুরি করে নিয়ে গিয়েছিলো?
চুরি করে নিয়ে গিয়েছিলো নাকি উদ্ধার করে নিয়ে গিয়েছিলো? হাজার হোক, চুরির এই ধারাটা তো প্রথমে তোমার পূর্বপুরুষেরাই শুরু করেছিলো। নাকি আমিই গল্পটা বলতে ভুল করছি?
তুমি কি আসলেই কোনো কারণে এসেছো? নাকি আমাকে জ্বালাতে এসেছো শুধু?
বাহ! আমার দক্ষতা দেখি দিন দিন ভালোই উন্নতি করছে। আগে তো শুধু বিরক্ত করতাম। বলে গ্লাসটা টেবিলে রেখে দিলো আলেক্সান্দ্রা। তারপর কাউচ থেকে পার্সটা তুলে নিয়ে বলল, আমি শুধু আমার অ্যাকাউন্ট থেকে সরিয়ে নেওয়া টাকাগুলোর কথা ভাবছি। ওগুলো কখন পুনরায় ফিরিয়ে দেওয়া হবে, এটাই মূল চিন্তা এখন। আমারো খরচপাতি আছে। আর এটার জন্য কাউকে কোর্ট পর্যন্তও টেনে নিয়ে যেতে চাচ্ছি না।
আচ্ছা, আচ্ছা। সকালের মধ্যেই ওটা জায়গামতো পৌঁছে যাবে।
সেটাই ভালো। বলে দরজা খুলে বাইরে তাকিয়ে দেখলো আলেক্সান্দ্রা। মনে হচ্ছে তোমার ক্লায়েন্ট চলে গেছে। ঢোকার সময় কিছু কথা বলেছিলাম মানুষটাকে। আশা করছি সে হয়তো আমার কথায় রাগ করে চলে যায়নি।
কোনো রকমে রাগ দমিয়ে রাখার চেষ্টা করেছেন এভেরি। ইচ্ছা করছে স্কচ ভর্তি গ্লাসটা আলেক্সান্দ্রার দিকে ছুঁড়ে মারতে। আলেক্সান্দ্রাও এটাই চাচ্ছিলো, গ্লাসটা ছুঁড়ে মারলেই খুশি হতো ও। তবে তাকে খুশি হওয়ার সুযোগ দেওয়ারও কোনো ইচ্ছা নেই এভেরির।
আলেক্সান্দ্রার এখন যা আছে, এর সবই হয়েছে এভেরির কল্যাণে। এক সময় মানুষটাকে ভালোবাসতেন তিনি। আর এখন? এখন ঐ মহিলা তার কাছে সমাজের অভিজাত শ্রেণিতে উঠতে চাওয়া একজন মহিলা ছাড়া আর কিছুই নয়। আলেক্সান্দ্রা সবই করছে লোক দেখানোর জন্য। নিজের নাম বাড়ানোর জন্য। এমনকি, লোক দেখানোর জন্য ইদানিং দাঁতব্য কাজও করা। শুরু করেছে।
একদম ঐ ফার্গো মহিলাটার মতোই, মনে মনে বললেন। রেমি ফার্গোর সাথে দেখা না হওয়ায় খুব একটা আফসোস নেই তার। তিনি জানেন ঐ মহিলাও তার স্ত্রীর মতোই।
ফার্গোদের কথা মনে পড়তেই আবারো রাগ চড়ে গেছে এভেরি। যতো যাই ঘটুক না কেন, তাকে এটাই দেখাতে হবে যে গুপ্তধনটা তিনিই খুঁজে বের করেছেন। ঐ সম্পদগুলো তার নিজের। তাঁর স্ত্রীর বা অন্য কারোর না। শুধুই তার নিজের।
আর এটার জন্য কাউকে খুন করতেও কোনো দ্বিধা নেই তার।
.
২০.
ভালোটা দিয়েই শুরু করো, রেমির পাশে বসতে বসতে লাযলোকে জিজ্ঞেস করলো স্যাম।
আপনাদের পানির নিচে তোলা ছবিগুলো খুবই উন্নতমানের, লাল বলছে। আমরা ওগুলো ভালোভাবে জুম করে দেখতে পেরেছি-অবশ্য এটার জন্য পিট ও ওয়েন্ডিকেই কৃতিত্ব দিতে হবে, সে আসলে সেলমা রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট পিট জেফকোট এবং ওয়েন্ডি করডেনের কথা বলছে। ফটোশপ বা কিছু দিয়ে কাজ করেছে বোধহয়। যাই হোক, আপনাদের তুলে আনা ছবিগুলো দিয়ে ওগুলোর নির্মাণকারী দেশগুলোর নাম বের করতে পেরেছি।
এটা তো চমৎকার সংবাদ।
হ্যাঁ। তবে আমি কিন্তু দেশগুলো বলেছি। বহুবচনে।
দীর্ঘশ্বাস ফেলল রেমি। সবসময়ই কাজগুলো এমন কঠিন হয়ে যায়। কী আর করা!
হ্যাঁ, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এমন হয়, লাযলো বলল। তবে এটার কিন্তু একটা উপকারী দিকও আছে। ঐ সীসার সিলটা এক ইংরেজ টেক্সটাইল কোম্পানির। ১৬৯১ থেকে ১৬৯৬ পর্যন্ত ব্যবসায় টিকে ছিলো ওরা। আর ধ্বংসস্তূপে খুঁজে পাওয়া ঐ হলুদ পাথরগুলো ডাচদের।
আর খারাপ সংবাদটা কী তাহলে? রেমি জানতে চাইলো।
এটাই যে তথ্যগুলো কোথা থেকে ফাস হচ্ছে সেটা বের করার মতো কোনো ভালো প্ল্যান তৈরি করতে পারিনি আমরা।
আসলে, স্যাম বলে উঠলো, আমার মনে হয় আমি একটা আইডিয়া পেয়েছি। কাজে লাগতে পারে এটা। আমরা এমন ভান ধরবো যে আমরা আগে ভুল শিপরেকে খুঁজতে গিয়েছিলাম, তবে এখন সঠিকটা জায়গাটা খুঁজে পেয়েছি। আর এরপর অপেক্ষা করবো ফলাফলের। এরপর পুরো প্ল্যানটাই সবাইকে ভেঙ্গে বলল স্যাম।
লাযলো বলল, এটায় কাজ হবে বলে মনে হচ্ছে আপনার?
যদি তথ্যগুলো ব্রির থেকে ফাঁস হয়ে থাকে, তাহলে এটা কাজে না লাগার কোনো কারণ দেখতে পাচ্ছি না। যে লোক গলফিনহো ছিনতাই করেছিলো সে সাইফার হুইলটাই চায়। জাহাজের পরিচয় দিতে পারবে এমন কোনো বস্তুতে তার কোনো আগ্রহ থাকার কথা না। আমরা বলবো আমরা সাইফার হুইলের আসল জায়গাটা খুঁজে পেয়েছি, অথবা সাইফার হুইলটা তুলে আনতে যাচ্ছি। তাদেরকে লোভ দেখানোর জন্য তো নিশ্চয় এর থেকে ভালো কোনো টোপ ফেলা সম্ভব না। যদি এতে কারো আপত্তি থেকে না থাকে, তাহলে আমার মনে হয় আমাদের এখন রুবেন হেওয়ার্ডের সাথে যোগাযোগ করা উচিৎ।
