এবং?
উত্তরটা দেওয়ার আগে কিছুক্ষণ থেমে রইলো ফিস্ক, তারপর বলল, সাইফার হুইল পাওয়ার একটা সূত্র পাওয়া গেছে।
অবশেষে, বিজয়ের উল্লাসে ভরে উঠেছে তার মন। গর্বিত দৃষ্টিতে তাকালেন ডেস্কের ওপরে রাখা পাইরেটস অ্যান্ড প্রাইভেটিয়ার্স বইটার দিকে। কয়েক শতাব্দী ধরেই তাঁর পরিবার তাদের থেকে চুরি যাওয়া বস্তুটা উদ্ধারের চেষ্টা করে আসছে। কিন্তু কেউই উদ্ধার করতে পারেনি। অবশেষে তিনি উদ্ধারের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন। আর শুধু অল্প কিছুটা মুহূর্ত…
কই আছে ওটা?।
ব্রাজিলের সাও পাওলোর কাছাকাছি কোথাও। আমি এখন এয়ারপোর্টের দিকেই যাচ্ছি।
এভেরির নিজেরও ইচ্ছা করছে সাও পাওলো উড়ে যাওয়ার। তবে এমনটা করতে গেলে সবাই তার দুর্বলতা দেখে ফেলবে, অথবা সাইফার হুইলের আসল গুরুটা বুঝে যাবে। তিনি কাউকেই এটার ব্যাপারে সত্যটা বলেননি। এমনকি ফিস্ককেও না। ফিস্ক শুধু জানে– এটা এভেরিদের পারিবারিক সম্পদ, অনেককাল আগে হারিয়ে গিয়েছিলো। এটার আসল গুরুত্বটা জানে না ও। সঠিক সময়ের আগ পর্যন্ত এটার ব্যাপারে তিনি কাউকে বলবেনও না কিছু।
আর ফার্গোরা? তাদের কি অবস্থা?
যতোটা মনে হচ্ছে তারা হয় ঝড়ে ডুবে গেছে নয়তো সাঁতরে দ্বীপে গিয়ে সাপের কামড় খেয়ে মরেছে। যেটাই হোক, এটা নিশ্চিত যে-ফার্গোরা আর পথে বাধা দিতে পারবে না।
অবশেষে, ভেবে আরামে চেয়ারে হেলান দিলেন এভেরি। সপ্তাহে এই প্রথমবারের শান্তি অনুভব করতে পারছেন তিনি। ফার্গোদের জন্য বেশ যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়েছে। ফার্গোরা সান্তোস বন্দরে যাচ্ছে শুনে ওখানকার সবগুলো নৌযানই ভাড়া করতে হয়েছিলো তাকে। কাজটা মোটেও সহজ ছিলো না। এছাড়া কোনো উপায়ও ছিলো না তার হাতে। সাইফার হুইলের খুব কাছে পৌঁছে গিয়েছিলো ফার্গোরা। তবে যতো কাছেই যাক, এখন আর ওতে কিছু যায়-আসে না। তবে, ঝুঁকি এখনো একটা আছে। ঝুঁকিটা মাথায় আসতেই বললেন, ট্রেস করে কি আমার কাছে পৌঁছার মতো কোনো সম্ভাবনা আছে?
একদমই না। ক্রুদের সাথে ভালোভাবেই হিসাব নিকাশ চুকানো হয়েছে। কোনো দলিল নেই। ভাড়া করা সবাইকেই গুপ্ত অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা পাঠানো হয়েছে। ফার্গোদের মত নিয়ে তদন্ত করলে কেউই কিছু খুঁজে পাবে না। অন্তত এখন পর্যন্ত আপনাকে সন্দেহ করার মতো কোনো সূত্রই নেই।
গুড। নজর রাখো যেন পরিস্থিতিটা এরকমই থাকে।
ফিস্কের থেকে ইতিবাচক জবাব শুনে ফোন নামিয়ে রাখলেন এভেরি। নিরবে বসে বইটার দিকে তাকিয়ে আছেন শুধু। মনে মনে বলছেন, দ্রুতই এই টাকা খরচ এবং ঝামেলা পোহানোর পুরষ্কারটা পাবেন। খুব শীঘ্রই! ভাবতে ভাবতে প্রায় অন্যমনস্ক হয়ে পড়ছিলেন, ঠিক তখনই অফিসের দরজা খুলে ভিতরে ঢুকলো কেউ।
চোখ তুলে আগন্তুকের দিকে তাকালেন এভেরি। হঠাৎ তার স্ত্রী আলেক্সান্দ্রাকে অফিসে আসতে দেখে বেশ চমকে গেছেন।
আলেক্সান্দ্রার বয়স প্রায় পঞ্চাশের কাছাকাছি। এই বয়সেও মহিলার সৌন্দর্য হারিয়ে যায়নি। অফিসে ঢুকেই পার্সটা কাউচের ওপর ছুঁড়ে ফেললো মহিলা। তারপর বসে বলল, লবিতে থাকা ঐ তরুণীটা কে?
ক্লায়েন্ট।
ওহ, ওদেরকে তাহলে এখন তুমি এই নামে ডাকো? ক্লায়েন্ট? কে কার সার্ভিসের জন্য টাকা দিচ্ছে এখানে?
কী চাও তুমি?
আমার অ্যাকাউন্টে দেখলাম বেশ কিছু পরিমাণ টাকা নেই। ওগুলো আমি কখন খরচ করেছি তা নিয়েই আলাপ করতে এসেছি।
ওটা নিয়ে তোমাকে ভাবতে হবে না।
টাকাগুলোর সাথে কি ঐ ম্যাপটার কোনো সম্পর্ক আছে? যেটাকে তুমি হন্যে হয়ে খুঁজছে, ঐ ম্যাপটা? যদি তাই হয়, তাহলে তো টাকাগুলো তোমার অ্যাকাউন্ট থেকে খরচ করা উচিৎ। তাই না?
বলে কাউচ থেকে উঠে লিকার ক্যাবিনেটের দিকে এগিয়ে গেলো আলেক্সান্দ্রা। ক্যাবিনেটে বোতলগুলো লেবেল চেক করে দেখছে। তারপর নিজের জন্য রেখে দেওয়া ব্র্যান্ডির বোতলটা বের করে এনে এক চুমুক গিলে এগিয়ে গেলো এভেরি ডেস্কের দিকে। ডেস্কে রাখা প্রাইভেট অ্যাণ্ড প্রাইভেটিয়ার্স বইটার ওপর কিছুক্ষণ হাত বুলানোর পর বলল, যে লোক কিনা আমাদের আসন্ন ডিভোর্সের কারণে নিজের সম্পদ লুকিয়ে রাখায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছে, আমার তো মনে হয় টাকা খরচের ব্যাপারেও তাকে আরো সতর্ক হওয়া উচিৎ ছিলো।
চেয়ার থেকে উঠে লিকার ক্যাবিনেটের দিকে পা বাড়ালেন এভেরি। স্ত্রীর ফাঁদে পা দিতে চাচ্ছেন না। আলেক্সান্দ্রার অ্যাকাউন্ট থেকে নেওয়া টাকা সম্পূর্ণ ভিন্ন একটা খাতে ব্যায় করেছেন তিনি। অন্য কিছু প্রজেক্টের জন্য নগদ টাকার প্রয়োজন পড়েছিলো, তাই নিয়েছিলেন। কারণ তাঁর নিজের অ্যাকাউন্টের টাকাগুলো ফিস্ক তার মিশনের পিছনে ব্যয় করছে। তোমার কথাবার্তার কিছুই বুঝতে পারছি না আমি।
আমার সাথে বোকার অভিনয় করো না, চার্লস। তুমি হয়তো ভাবছো তোমার এই মোহের ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না? ভুল ভাবছো। যাই হোক দুটো কথা শুনে নাও। এক, আমি একজন ফরেন্সিক অ্যাকাউন্টেন্ট নিয়োগ করেছি। তো তুমি যদি তোমার টাকা কোথাও লুকিয়েও রাখো, তাহলে সেটা বের করতে কোনো সমস্যা হবে না আমার। আবার ভেবে বসো না যে ডিভোর্সে তোমাকে লুট করে নিতে চাইছি আমি। আর দুই, তোমার এই গুপ্তধনের যদি আসলেও কোনো অস্তিত্ব থেকে থাকে এবং যেহেতু তুমি আমাদের টাকা ব্যবহার করে এটা খুঁজছো, তাই যা পাবে তার অর্ধেক আমাকে দিতে হবে। আমরা যে ক্যালিফোর্নিয়ায় বিয়ে করেছিলাম, তা কি তুমি ভুলে গেছো? একদম ফিফটি-ফিফটি হবে কিন্তু, ডার্লিং। ঠিক অর্ধেক অংশ।
