রেমি চোখ তুলে তাকালো তার দিকে। স্যামের দিকে তাকিয়ে দুর্বলভাবে হেসে বলল, এটা ব্রির কাজ, তাই না?
এছাড়া তো আর কোনোভাবেই আমরা কোথায় আছি সেটা কারো জানার কথা না। যদি না এভেরির লোকেরাও হুট করেই আমাদের মতো করে ভেবে একই সিদ্ধান্তে এসে উপনীত হয়। কিন্তু খুবই কাকতালীয় ব্যাপার এটা। আর আমরা যে বোট ভাড়া করেছিলাম, সেই বোটের ক্রুদের কিডন্যাপ হওয়া, আমাদেরকে দিয়ে ধ্বংসস্তূপ খুঁজে বের করানো, আর এরপর আমাদেরকে মারতে চাওয়া। এগুলোকে তো কাকতালীয় বলা যায় না।
আমি এখনো ব্যাপারটা মানতে পারছি না। তাকে বিশ্বাস করি আমি। আমি- বলতে গিয়ে হতাশার দীর্ঘশ্বাস ফেলল রেমি। আমার মনে হয় সেলমার সাথে কথা বলা উচিৎ আমাদের। যাত্রার পরবর্তী প্ল্যান সাজানো দরকার।
ঘড়ির দিকে তাকালো স্যাম। সেলমা খুব সম্ভবত ঘুম থেকে উঠে পড়েছে এতোক্ষণে। অবশ্যই।
তাকে কী বলবো আমরা?
ফোনটা হাতে নিয়ে মেসেজ অপশনটা ওপেন করলো স্যাম। একান্ত নিরিবিলি সময়ে আমাদেরকে কল করতে বলবো। ও বুদ্ধিমতি। মেসেজ দেখলেই ও ব্যাপারটা বুঝে যাবে।
চেয়ারে গা এলিয়ে দিয়ে চোখ বন্ধ করলো রেমি। দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলছে, ওহ, স্যাম…
আমরা এই রহস্যের সমাধান বের করেই ছাড়বো।
হুম। তবে আমার মনে হয় পুলিশের সাথে কথা বলা উচিৎ আমাদের।
যৌক্তিক প্রমাণ ছাড়া কথা বলে লাভ হবে না। বলে মেসেজটা পাঠালো স্যাম।
পাঁচ মিনিট পরেই কলব্যাক করলো সেলমা।
স্যাম কল রিসিভ করে বলল, দাঁড়াও, স্পিকারফোনটা চালু করে নিই। রেমিও আছে আমার সাথে।
শুভ সকাল, সেলমা বলল, গতকালের ব্যাপারটা নিয়ে আলাপ করবেন নিশ্চয়?
তুমি কি একা আছে এখন?
হ্যাঁ, অফিসে আছি। ব্রি আর লাযলো ওপরতলায় নাস্তা করছে।
বেশ, বলল স্যাম। তাহলে ব্যাপারটা নিয়ে তুমিও ভাবছো?
হ্যাঁ, মিস্টার ফার্গো। হতভম্ব হয়ে গেছি বলা যায়। আমি তাকে বাইরের কারো সাথেই কথা বলতে দেখিনি। আর সেও কিন্তু সত্যিই সত্যিই উদ্বিগ্ন হয়ে আছে আপনাদের জন্য।
স্যাম বুঝতে পারছে যে রেমি তাকিয়ে আছে তার দিকে। এছাড়া আর কোনো ভাবেই তাদের অবস্থান ফাস হওয়ার উপায় নেই, যদি না সেলমা বা লাযলো কারো কাছে তথ্য ফাঁস করে থাকে। এবং তারা দুজনই ভালো করে জানে যে এটা কখনোই সম্ভব না। জানার একটা উপায়ই আছে, স্যাম বলছে। আমাদেরকে ভুল কিছু তথ্য ছড়াতে হবে। এতেই বুঝা যাবে ফাসটা কোথা থেকে হচ্ছে। বলে রেমির দিকে তাকালো স্যাম।
টেবিলের মাঝখানে রাখা স্যামের ফোনের দিকে তাকিয়ে রেমি বলল, আমার মনে হয় এটাই সবচেয়ে ভালো উপায়।
যদি না তোমার কাছে কোনো ভালো আইডিয়া থেকে থাকে? স্যাম বলল সেলমাকে।
ভাবার মতো কিছুক্ষণ সময় দিন আমাকে। লাযলো আপনাদের ভোলা ছবিগুলো আগে ভালো করে পরীক্ষা করে দেখুক। এরপর দুজনে মিলে যৌক্তিক কোনো একটা উপায় বের করার চেষ্টা করবো। উপায় পাওয়ার সাথে সাথেই আপনাদেরকে কল করবো আমি।
আচ্ছা। তোমার কলের অপেক্ষায় রইলাম।
ফোন কেটে দিলো স্যাম। যদিও সেলমাই সব কাজ করবে, তারপরও নিজেরা অলস বসে রইলো না। টুকিটাকি তথ্যগুলো খতিয়ে দেখেছে ওরা। অবশ্য দরকারে আসার মতো কিছুই বের করতে পারেনি। সারাদিন ধরে আলোচনার পর সন্ধ্যায় ডিনার খেতে বেরুলো রেমি ও স্যাম। একটু আগেভাগেই ডিনার করতে বেরিয়েছে আজ। এস্কুইনা মোকোতোতে ডিনার করবে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ব্রাজিলিয়ান খাবারের জন্য বিখ্যাত এই রেস্টুরেন্টটা। ভারী খাবারের বদলে হালকা খাবারই খেলো অবশ্য। খাওয়া শেষে ওয়াইনের বদলে পান করলে আর্টিসান বিয়ার।
খাবার-দাবার পর্ব শেষে রেস্টুরেন্ট থেকে বেরুনোর সময়ই সেলমা ফোন করলো তাদেরকে।
বলল, জাহাজের ধ্বংসস্তূপ থেকে আপনাদের পাওয়া বস্তুগুলোর ব্যাপারে কিছু তথ্য বের করতে পেরেছি আমরা। লায়লো আছে আমার সাথে। ওই সব বলবে আপনাদের।
লাযলো ফোন লাইনে আসার পর স্যাম বলল, হোটেলে ফিরার সাথে সাথেই তোমাদেরকে কলব্যাক করবো আমি। এখন বাইরে আছি। কথা বলার মতো অবস্থা নেই।
আচ্ছা, ঠিক আছে, লাযলো বলল। তবে খবর কিন্তু খুব ভালো বা খারাপ কোনোটাই না। ভালো-খারাপ দুটো মিলিয়েই বলা যায়।
.
১৯.
ওয়াশিংটন ডিসি
চার্লস এভেরি অফিসের দরজা দিয়ে বেরুতে যাবেন, ঠিক তখনই সেক্রেটারি তাকে ডেকে থামিয়ে বলল, তাঁর জন্য একটা কল এসেছে। বিরক্ত হয়ে এভেরি বললেন, বাদ দেওয়ার উপায় নেই? এখন একটা ডিনার মিটিং-এ যাওয়ার কথা আমার।
ইতিমধ্যেই সদস্যদের অনেকে চলে এসেছে মিটিং-এ যোগ দেওয়ার জন্য। বাইরের লবিতে বসে তার জন্যই অপেক্ষা করছে সবাই।
তবে তার বিশ বছর বয়স্কা সুন্দরী সেক্রেটারী সুযেট তার দিকে তাকিয়ে কামুকে ভাবে হেসে বলল, মি. ফিস্কের ফোন এটা।
শুনে সুযেটের দিকে তাকালেন এভেরি। ফিস্কের কল হলেও ধরার এতোটা শখ নেই তার। তবে ফার্গোরা এখন সমুদ্রের নিচে মাছের খাবারে পরিণত হয়েছে কিনা সেটার ব্যাপারে জানার ইচ্ছা আছে তার। আমার ফোনে কল ট্রান্সফার করে দাও, বলে আবার অফিসের ভিতরে পা দিলেন এভেরি। ডেস্কে বসে ফোনের রিসিভারটা তুলে বললেন, ডিনারে যাচ্ছিলাম আমি। গুরুত্বপূর্ণ কিছু বলবে?
মাত্রই সাও পাওলোর ক্রুদের সাথে দেখা হয়েছে আমার।
