রেমি?
আমি ঠিক আছি।
রেমির চোখের দিকে তাকালো স্যাম। বিশ্বাসই করতে পারছে না যেন। কিভাবে? আমি তো দেখলাম…।
পানিতে গুলি করেছিলো ও। আমাকে ভরকে দেওয়ার জন্য।
কেন?
আমার মনে হয়, আমাদেরকে না মেরেই ওদেরকে বুঝাতে চাচ্ছে যে আমরা মরে গেছি। যদি…
আর কিছু বলতে না দিয়ে রেমিকে ধরে চুমু খেলো স্যাম। তারপর ফিরে তাকালো গলফিনহোর দিকে। কুয়াশার কারণে অতোটা পরিষ্কারভাবে দেখতে পাচ্ছে না ওরা। যদি তাদের কপাল ভালো হয়ে থাকে, তাহলে গলফিনহো থেকেও হয়তো ওদেরজে কেউ দেখতে পাচ্ছে না। যোডিয়াকটা প্রায় অর্ধেক দূরত্ব পেরিয়ে গেছে। স্যাম আশা করছে নুনোর ধোকাটা যেন কাজে আসে। যদি কাজে না আসে, তাহলে… যাক অন্ততপক্ষে একটা সতর্কচিহ্ন তো তারা পাওয়া গেছে। যদি কেউ তাদেরকে মারার জন্য ফিরে আসতে চায়, তাহলে যোডিয়াকে করেই আসতে হবে। আর যযাডিয়াকটা দেখলে কিছুটা সতর্ক হতে পারবে ওরা।
বাঁচতে হলে এখন তাদেরকে পাথরটার কাছাকাছিই থাকতে হবে। গলফিনহো এখানে আসতে পারবে না কখনো।
অনন্তকাল ধরে চলার পর অবশেষে গলফিনহোর কাছে গিয়ে পৌঁছালো যোডিয়াক। নোঙ্গর ফেলে বোটটাকে ওপরে উঠাতে দেখছে স্যাম ও রেমি। তারপর, জাহাজের ধার থেকে একজনকে অ্যাসল্ট রাইফেল নিয়ে নিচের দিকে ঝুঁকতে দেখা গেলো। দৃষ্টি সরিয়ে নিলো স্যাম ও রেমি। দৃশ্যটা তারা জানে। রাইফেলের গুলিতে যোডিয়াককে ঝাঁঝরা করে দেওয়া হয়েছে।
কাজ শেষে আবারো যাত্রা শুরু করলো গলফিনহো। আস্তে আস্তে তাদের চোখের সামনে থেকে।
ভালো দিকটা হলো, বাতাস ও উত্তাল সমুদ্রের গর্জন ছাপিয়ে চেঁচিয়ে বলল রেমি, আমরা তো বেঁচে আছি।
হ্যাঁ, এটাই আসল ব্যাপার! পানিতে ভেসে রেমির দিকে এগিয়ে আসতে আসতে বলল স্যাম। পানিতে ভেসে থাকতে হলে শক্তি বাঁচিয়ে রাখতে হবে তাদেরকে অক্সিজেনের খালি ট্যাঙ্কগুলো আর বহন করার প্রয়োজন করছে না ওরা। তাই ট্যাঙ্কটা খুলে পানিতে ফেলে দিলো স্যাম। রেমিকেও একই কাজ করতে বলল।
তারপর তাকালো চারপাশের পানির দিকে। ডাইভিংর অবস্থানটা থেকে অনেকটা দূরে সরে এসেছে ওরা। দ্বীপটাও আস্তে আস্তে তাদের দিকে এগিয়ে আসতে শুরু করেছে। সমুদ্রের উত্তাল ঢেউগুলো গিয়ে আছড়ে পড়ছে অভিশপ্ত পাথরটার গায়ে। সাথে সাথে তীব্র স্রোতের অক্লান্ত টান তো আছেই। এর মধ্যেই সাঁতার কেটে বিপদ থেকে দূরে থাকতে হবে ওদেরকে।
আকাশের দিকে তাকালো স্যাম। আকাশের গাঢ়মেঘগুলো ভারী বর্ষণের হুমকি দিচ্ছে যেন। আমাদের হাতে এখন আসলে দুটো উপায় আছে। এক, মেইনল্যান্ডের দিকে সাঁতরে যাওয়া, নয়তো দুই, এখানেই অপেক্ষা করা।
এই পানিতে?
হয় পানিতে, নয়তো ঐ দ্বীপে, বলল স্যাম। শার্ক নাকি ভাইপার কোনটা বেছে নিবে?
দ্বীপটার দিকে তাকালো রেমি। চোখ আটকালো পাথুরে তীরে আছড়ে পড়া ঢেউগুলোর দিকে। যদি বলি দুটোর একটাও পছন্দ না আমার?
স্যরি রেমি, বলল স্যাম। এছাড়া কোনো উপায় তো আর নেই। যদি না। তুমি কোনো প্ল্যান বি বের করে থাকো?
সেলমার সাহায্য পাঠানোর অপেক্ষা করবো আমরা?
কুয়াশার পরিমাণ আগের থেকে আরো বেড়েছে এখন। বাতাসের গর্জনও বাড়ছে। ঝড় খুব সন্নিকটে এসে গেছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই বৃষ্টি ফোঁটা পড়তে শুরু করলো পানিতে। এই ঝড়-বাদলের ভিতরে মেইনল্যান্ডের দিকে সাতরে এখন প্রায় অসম্ভব। এমনকি, বিশ্বসেরা সাঁতারুদের পক্ষেও সম্ভব না এটা। শুধু ঝড়-বাদলই না, এগুলোর সাথে পানির স্রোতের তীব্র টানের ব্যাপারও আছে। সাতরে এগুতে গেলে পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি।
দ্বীপেই চলো, বলল স্যাম। পানিতে ডুবে মরার চেয়ে ওখানে গিয়ে সাহায্যের অপেক্ষা করাই ভালো। সেলমা অবশ্যই সাহায্য পাঠাবে। আর স্যাম আশা করছে সাপগুলোও হয়তো বৃষ্টির পানি অতোটা পছন্দ করে না। তাই দ্বীপটাই আপাতত নিরাপদ হবে তাদের জন্য।
রেমিও মাথা ঝাঁকালো। বুঝতে পারছে এই পরিস্থিতিতে দ্বীপটাই তাদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা। এই ভেবে দ্বীপের দিকে সাঁতার কাটতে শুরু করলো ওরা। তবে কপাল খারাপ। স্রোতটা চলছে তাদের বিপরীত দিকে। কয়েক মিনিট সাঁতরানোর পর স্যাম বুঝতে পারলো যে এভাবেও কোনো লাভ হবে না। বেশি দূর এগুতে পারবে না।
নতুন কোনো পরিকল্পনা করতে হবে তাদেরকে।
ঠিক তখনই রেমি তার পাশে ভেসে এসে বলল, স্যাম…
এক মিনিট ভাবতে দাও আমাকে, বলল স্যাম।
ওদিকে দেখো! বলে দক্ষিণ দিকে নির্দেশ করলো রেমি।
মাথা ঘুরালো স্যাম। ভাবছে গলফিনহোই তাদেরকে খোঁজার জন্য ফিরে আসছে আবার। কী?
ঐ যে দেখো। প্ল্যান বি।
কিন্তু ধূসর ও উত্তাল পানির ফেনা ছাড়া স্যাম আর কিছুই দেখতে পাচ্ছে না।
ডানের কোনার দিকে দেখ। আমার মনে হয় ওটা যোডিয়াক।
এবার দেখতে পেয়েছে স্যাম! ঢেউয়ের তালে উজ্জ্বল লাল কিছু একটা ভাসছে পানির ওপর। একবার ওপরে উঠছে, আরেকবার নিচে নামছে। এটা যোডিয়াক না হলেও, উজ্জ্বল রঙের কিছু একটা হবে। তবে যেটাই হয়ে থাকুক না কেন, এই মুহূর্তে তাদের আর হারানোর কিছু নেই। তাই স্যাম বলল, চলো।
সুবিধা এটাই যে তারা এখন স্রোতের সাথে সাথে এগিয়ে যেতে পারছে। তাই কষ্টটা কম হচ্ছে। তবে অসুবিধাও এটাই যে উজ্জ্বল রঙের বস্তুটাও ভেসে যাচ্ছে স্রোতের সাথে সাথে। তবে তারপরও দ্রুতই ওটার দিকে এগিয়ে যেতে পারছে ওরা।
