উল্টেপাল্টে সীলমোহরটার ছবি তুলে নিলো স্যাম। এরপর রেখে দিলো রেমির ডাইভিং ব্যাগে। সাথে সাথে ডাইভিং ঘড়িটাও দেখে নিলো রেমি। না, খোঁজাখুঁজি করতে করতে সময়ের খেই হারিয়ে ফেলেনি ওরা। কমপক্ষে হলেও আরো বিশ মিনিটের মতো সময় আছে তাদের হাতে। তাই সময় নষ্ট না করে খোঁজাখুঁজিতেই আবার মন দিলো ওরা। হঠাৎ করেই রেমিকে তাদের ভাইভ জোনের বাইরে দেখার ইশারা করলো স্যাম। তাকিয়ে দেখে একটা শার্ক ঘুরাঘুরি করছে তাদের ডাইভ জোনের ঠিক বাইরেই। সমতল শরীর, ভোতা শুড় আর ডোরাকাটা দাগগুলো দেখে রেমি বুঝতে পারলো যে ওটা অল্পবয়সী একটা টাইগার শার্ক। প্রায় সাতফুটের মতো লম্বা প্রাণীটা। কিছুক্ষণ প্রাণীটার দিকে তাকিয়ে থেকে স্যামকে ইশারা করে জানালো যে সে দেখতে পেয়েছে প্রাণীটাকে। তবে শার্কটার খুব সম্ভবত তাদের ওপর কোনো আগ্রহ নেই। শান্ত ভাবে সাঁতার কাটছে। খুব সম্ভবত অন্য কোনো জায়গা থেকে পেট ভরে এসেছে প্রাণীটা।
স্যাম ওদিকে মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে পাথরের স্তূপের রিডিং নিচ্ছে। ভ্রুপের ভিতর দিকে সিগন্যাল আসায় তূপের চূড়ার দিকে সাঁতরে গেলো ও। ভেবেছিলো হয়তো ভালো কিছু পাবে, কিন্তু পাওয়া গেলো একটা মাছ ধরার বঁড়শি। হতাশ হয়ে দিক পরিবর্তন করলো স্যাম। পাথরের ধারগুলো বরাবর সাঁতার কাটছে এখন।
ওদিকে রেমির এখনো পাথরের ফাপা গর্তটা পরীক্ষা করা শেষ হয়নি। ইলটাও এখনো ফিরে আসেনি। সিদ্ধান্ত নিলো ইলটা না থাকার সুবিধাটা কাজে লাগাবে। তাই আবার মেটাল ডিটেক্টরটা দিয়ে রিডিং নেওয়া শুরু করলো। গর্তটার বামপ্রান্ত থেকে একটা সিগন্যাল আসছে ডিটেক্টরে। পিছনের দিক থেকে। সাঁতরে ওদিকে গেলো রেমি। বালিতে হাতড়ে দেখলো কিছুক্ষণ, কিন্তু কিছুই পেলো না। তবে নিশ্চিতভাবেই বালির নিচে কিছু একটা আছে। হয়তো একটু গভীরে, তবে খুব বেশিও না। তাহলে ডিটেক্টরে সিগন্যাল আসতো না।
কিছুক্ষণ পর স্যাম ইশারা করে জানালো যে তাদের ডাইভিং শেষ করার সময় হয়ে গেছে। ইশারায় জানাচ্ছে, ওটাও হয়তো কোনো বঁড়শিরই সিগন্যাল, রেমি যেন ওটা নিয়ে আর মাথা না ঘামায়। তবে রেমি সরে এলো না ওখান থেকে। আলো ফেলে গর্তের মুখের বালিতে হাতড়ে হাতড়ে দেখছে। বালির আড়ালে থাকা বস্তুটা হাতে ঠেকলো তার। বস্তুটার পৃষ্ঠ কিছুটা মসৃণ লাগছে ওর কাছে।
স্যামের দিকে তাকিয়ে পাথরের স্তূপের নিচ দিকে ইশারা করলো রেমি। ওদিকে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
কিন্তু স্যাম থামিয়ে দিলো তাকে। স্তূপের দিকে নির্দেশ করে বুঝালো যে তারা যদি সতর্ক না থাকে তাহলে হয়তো নাড়াচাড়ায় তারাও ছোটোখাটো পাথর ধ্বসের নিচে আটকা পড়তে পারে। স্যামের শঙ্কাটা বুঝতে পেরে মাথা ঝাঁকালো রেমি। ও সতর্কই থাকবে। কয়েকটা পাথর সরাতে পারলেই বস্তুটা তার হাতে চলে আসবে। আস্তে আস্তে একটা পাথর সরিয়ে পাশে রাখলো রেমি। তারপর আরেকটা। এভাবে বেশ কয়েকটা সরানোর পর সৃষ্ট ফাঁকটার দিকে আলো ফেললো রেমি। সাথে নিশ্চিত থাকছে যেন ওপরের পাথরগুলো খসে না পড়ে যায়। আলো ধরে কিছুক্ষণ থাকার পর জিনিসটা দেখতে পেলো ও। একটা কামানের গোলা। দেখে হতাশ হলো কিছুটা। হাত বাড়িয়ে দিলো গোলাটা বের করে আনার জন্য।
ঠিক তখনই পায়ের পিছন থেকে হালকা খোঁচা টের পেলো রেমি। সে ভাবছে, হয়তো স্যাম তার বিখ্যাত আবিষ্কার নিয়ে ক্ষেপানোর জন্য খোঁচা দিয়েছে। ঝট করে মাথা ঘুরালো রেমি।
না, ওটা স্যাম না।
একটা বড়ো টাইগার শার্ক ঘুরছে তাকে ঘিরে। এটার দৈর্ঘ্য প্রায় আট ফুটের মতো। এতক্ষণ শান্তভাবে সমুদ্রের তলদেশে সাঁতার কাটছিলো প্রাণীটা। আর এখন আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে ছুটে আসছে রেমির দিকে।
ঝট করে পাথরের দিকে পিঠ ফিরিয়ে ঘুরে গেলো রেমি। দ্রুততার সাথে পায়ের পাখনা নাড়ছে শুধু। সাথে সাথে মেটাল ডিটেক্টরটা দিয়ে আঘাত করছে। শার্কের ভেঁতা শুড়ে। বাড়ি খেয়ে কিছুটা পিছিয়ে গেলো শার্কটা, পরমুহূর্তেই আবার তেড়ে এলো তার দিকে। কামানের গোলাটা হাতে তুলে নিলো রেমি। তারপর ছুঁড়ে মারলো প্রাণীটার মুখের দিকে। তবে খুব একটা লাভ হলো না এতে। উপায় না পেয়ে পাথরের স্তূপটায় লাথি দিতে শুরু করেছে রেমি। লাথি খেয়েই হুড়মুড় করে খসে পড়তে শুরু করেছে পাথরগুলো। মুহূর্তের মধ্যেই ঘোলাটে হয়ে গেছে পরিষ্কার পানিটা।
কাদামাটির ঘোলাটে মেঘের ভিতরে পুরোপুরি হারিয়ে গেছে রেমি। কোনো রকমে সাঁতার কেটে ঘোলাটে জায়গাটা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে শুধু।
আতঙ্কে আত্মা ধুকপুক করছে তার। হাতের মেটাল ডিটেক্টরটা নিয়ে ঘুরতে যাবে ঠিক তখনই দেখলো একটা কালো মূর্তি সতরে আসছে তার দিকে। মেটাল ডিটেক্টরটা উঠিয়ে মূর্তিটাকে মারতে যাবে ঠিক তখনই স্যাম বেরিয়ে এলো কাদার ঘোলাটে মেঘের ভিতর থেকে।
স্যাম ইশারা করে কিছু একটা দেখাচ্ছে তাকে। ওদিকে তাকালো রেমি। দৃশ্যটা দেখে আবারো তার আত্মায় পানি ফিরে এসেছে যেন। শার্কটা এখন গতিপথ পরিবর্তন করে অন্য দিকে ছুটে যাচ্ছে। সহজ কোনো শিকার খুঁজতে যাচ্ছে খুব সম্ভবত। আজকের দিনের জন্য তাদেরকেও মিশন এখানেই শেষ করতে হচ্ছে। আগামীকাল ফিরে এসে আবারো চেষ্টা করতে হবে তাদের।
