স্যাম? ডাইনিং রুমে যাওয়ার দরজার সামনে থেকে বলল রেমি। টেবিলের ওপর দেখো, একটা টু-ডু কাজের লিস্ট আছে। তালিকার প্রথম কাজটাই হচ্ছে চিমনি পরিষ্কারককে ডাকা।
এটাই তো পরিষ্কার করে দিচ্ছে পুরো ব্যাপারটা। এটা আসলেই দুর্ঘটনা ছিলো।
হ্যাঁ, সবকিছুই তাহলে স্বাভাবিক আছে এখন।
শুধুমাত্র নাইজেলের এখনও নিখোঁজ হয়ে থাকার ব্যাপারটা ছাড়া।
পার্সির দিকে তাকালো রেমি। লোকটা এখনো আগুনে পুড়ে যাওয়া ক্ষয়ক্ষতির দিকে তাকিয়ে আছেন। এমনকি প্রফেসর অলড্রিজও তাকে ঘর থেকে বের করে আনতে পারছেন না। প্রফেসরের থেকে সাহায্য পেতে চাইলে, তাকে কোনোভাবেই এখানে বেশিক্ষণ রাখা যাবে না, রেমি বলল।
না, জবাবে বলল স্যাম। আমরা তাকে এবং তার স্ত্রীকে আমাদের হোটেলে রাখতে পারি। অন্তত এই জায়গাটা পরিষ্কার হওয়ার আগ পর্যন্ত।
অবশ্য প্রস্তাবটা সাথে সাথেই প্রত্যাখ্যান করে দিলেন প্রফেসর অলড্রিজ। এটা অবশ্যই আপনাদের উদারতার নিদর্শন, তারপরও আমি নিশ্চিত না এটা
তার জন্য ভালো কিছু হবে কিনা। ব্যাপারটা তাদেরকে ভালোভাবে বুঝিয়ে বলার সুযোগ পাওয়ার আগেই, ষাটোর্ধ্ব এক মহিলা এসে হাজির হলেন বাড়ির ভিতরে। ভিতরে ঢুকে চারপাশের দৃশ্য দেখে মুখে হাতচাপা দিয়ে বলে উঠলেন, ওহ, খোদা। পার্সি, তুমি নিশ্চয় কোনো আগুন জ্বালাওনি? খুব সম্ভবত তিনিই পার্সির স্ত্রী, আগাথা।
অবশ্যই আমি জ্বালিয়েছি। কেন জ্বালাবো না?
চিমনি পরিষ্কারককে ডাকার জন্য আমি একটা নোট রেখে গিয়েছিলাম। আমি বলেছিলাম… বলতে গিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেললেন মহিলা। বাদ দাও। বলতেই রেমি, স্যাম ও প্রফেসর অলড্রিজের ওপর চোখ পড়লো তার। বাসায় দেখছি মেহমানও এসেছে তোমার জন্য। বলে এগিয়ে গিয়ে পার্সির বাহুতে হাত রাখলেন আগাথা। স্যাম নিশ্চিত যে মহিলার চোখ অশ্রুতে টলটল করছে। চলো তাহলে, রান্নাঘরে যাই। ওখানে সবকিছু পরিষ্কার আছে।
হ্যাঁ, পার্সি বললেন। ভালো বলেছো।
তারপর অলড্রিজের দিকে একবার তাকিয়ে পার্সিকে নিয়ে রান্নাঘরে চলে গেলেন তিনি। তাদের দৃষ্টিবিনিময়টাই স্যামকে বলে দিলো যে, আজকের আগুন লাগার ব্যাপারটা পুরোপুরি অপ্রত্যাশিত ছিলো না। আগাথা চলে যেতেই প্রফেসর অলড্রিজ ভেজা মেঝের দিকে তাকিয়ে বললেন, আমি গিয়ে দেখি কোনো ঝাড়ু আর মোছনি পাই কিনা। পানি মুছে ফেলতে হবে।
এরপর তাকে অনুসরণ করে রান্নাঘরে গিয়ে পা রাখলো স্যাম ও রেমি। পার্সি টেবিলের সামনে একটা চেয়ারে বসে আছে। আগাথা তাদেরকে ঢুকতে দেখেই মুচকি হেসে বললেন, ওহ, ক্ষমা করবেন। আপনাদেরকে ওভাবেই ওখানে দাঁড় করিয়ে রেখেছে চলে এসেছি বলে। আপনারা মেহমান। আর আমি? সাধারণত আমি এমনটা কখনো করি না।
বাদ দাও তো, আগাথা, অলড্রিজ বললেন। তারপর স্যাম এবং রেমির দিকে ফিরে তাকিয়ে বললেন, ও হচ্ছে পার্সির স্ত্রী, আগাথা। আর আগাথা, ইনারা হলেন স্যাম ও রেমি ফার্গো। তাদের হাত মেলানো শেষে আবার বললেন, ইনারা এখানে কিছু প্রত্নতাত্ত্বিক আর্টিফ্যাক্টের ব্যাপারে তথ্য জানতে এসেছেন। আর পার্সিরও আমাদের সাথে যোগ দেওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু সে যেতে পারেনি।
বুঝেছি, স্বামীর দিকে একবার চোখ বুলিয়ে বললেন তিনি। সাধারণত তালিকার কাজে পার্সির অতটা ভুল হয় না। সম্ভবত আমারই লেখা উচিৎ ছিলো আগুন জ্বালিও না; চিমনি পরিষ্কারককেও আমার নিজেরই ডেকে আনা উচিৎ ছিলো।
আমি স্রেফ ভুলে গিয়েছিলাম, পার্সি বললেন।
তার দিকে তাকিয়ে ক্লান্ত হাসি হাসলেন আগাথা। আমি জানি।
যা হওয়ার হয়ে গেছে, শান্ত কণ্ঠে বললেন অলড্রিজ। এখন তোমার থাকার ব্যবস্থাটা নিয়ে কথা বলা উচিৎ?
চোখ ছলছল করে উঠলো আগাথার। অন্যদিকে ঘুরে গিয়ে সিংকে জমা বাসন ধোয়ায় ব্যস্ত করলেন নিজেকে। তারপর টেবিলে এসে বসে আবারো ক্লান্তভাবে হেসে বললেন, ক্যাম্পফায়ারের মতো পরিবেশে বসে থাকাটাই পছন্দ করব আমি। ধোয়াটে গন্ধটা তো এটারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
আগাথার দিকে চোখ তুলে তাকালেন পার্সি। চিমনি পরিষ্কারককে ডাকতে ভুলে গিয়েছিলাম আমি।
বুঝেছি আমি, বলে মৃদু হেসে স্বামীর হাতে আলতো চাপড় দিলেন আগাথা। তা কী ধরনের আর্টিফ্যাক্ট নিয়ে কথা বলছিলে তুমি, পার্সি?
আর্টিফ্যাক্ট? বলে স্যাম এবং রেমির দিকে চোখ তুলে তাকালেন পার্সি। আ… অলড্রিজ? এরাই কি ওরা?
হ্যাঁ। আমি এদের কথাই বলেছিলাম তোমাকে।
আচ্ছা… আমাদের তো দেখা করার কথা ছিলো। ভুলেই গিয়েছিলাম একদম। কারো বাড়ি পুড়ে গেলে এমনটাই হয়।
আসলেই, অলড্রিজ জবাব দিলেন। তবে এখন তো তারাই এখানে চলে এসেছে।
হ্যাঁ, স্যাম এবং রেমির দিকে তাকিয়ে বললেন পার্সি। আশা করছি তোমরা নিজেদের চোখে গিয়েই দেখতে চাইবে।
পায়ে রেমির টোকা টের পেলো স্যাম। অবশ্যই বলল ও। তবে আমার মনে হয় আমাদের রিশিডিউল করা উচিৎ।
পার্সির দিকে তাকিয়ে সহানুভূতির হাসি দিলো রেমি। খুব সম্ভবত, এই মুহূর্তে আপনার নিজের ঘাড়েই যথেষ্ট ঝামেলা জমে আছে।
আসলে, আগাথা বললেন, এই পরিবেশ থেকে দূরে রাখলেই খুব সম্ভবত ভালো হবে তার জন্য। আপনাদের কাজের বিরতির ফাঁকে ফাঁকে আমাকে অনেকগুলো কল করতে হবে আর কী।
খুব ভালো, অলড্রিজ বললেন। তাহলে তো হয়েই গেলো সব।
