বাড়ি থেকে বেরিয়ে পার্ক করে রাখা গাড়ির দিকে যেতে যেতে স্যাম রেমিকে ফিসফিসিয়ে বলল, তোমরা এগুও, আমি আসছি। বলে প্রফেসর অলড্রিজের সাথে কথা বলার জন্য পিছনে রয়ে গেলো স্যাম। রেমি ও পার্সিরা যথেষ্ট পরিমাণ দূরে সরে যেতেই স্যাম প্রফেসর অলড্রিজকে বলল, উনার যেহেতু স্মৃতিশক্তির ব্যাপারটা আছে, তাহলে এখন হয়তো আমাদের ঐ অন্য বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলা উচিৎ।
স্বাভাবিকভাবেই হা বলা উচিৎ আমার, অলড্রিজ বললেন। পার্সির ভুলে যাওয়ার ব্যাপারটা অস্বাভাবিক কিছু না। তবে সে বেশি এলেমেলো হয়ে যায় নিজের ধারা থেকে ছিটকে গেলে। এমন কিছু ঘটলেই অস্বাভাবিক আচরণ করে বসে। যেমন আজকের আগুনের কথাটাই ধরুন।
কিন্তু যদি ঐ অন্য বিশেষজ্ঞ লোকটা সাহায্য করতে রাজি…
আমাদের হয়তো পার্সিকে আরেকটা সুযোগ দেওয়া উচিৎ। এসব নিয়েই জীবন-যাপন ওর। আর আমি আগাথার সাথেও এটা নিয়ে কথা বলেছি। সেও রাজি আছে। বলতে গেলে সে ই জোর করেছে। সে তার ধারায় ফিরে এলেই আবার খুশি হয়ে উঠবে। নটিংহ্যামের নিচের সুড়ঙ্গগুলোই তার ধারার আসল উপকরণ।
উনাকে শুধু গুহার প্রবেশমুখটা দেখিয়ে দিলেই হবে। এটা কি উনি করতে পারবেন?
পারবে বলেই ধারণা আমার। যদিও সে নিজে ওসবের ভিতর দিয়ে ঘুরতে পছন্দ করে। তবে, আমি নিশ্চিত এতে কোনো সমস্যা হবে না। সত্যি বলতে, এই সুড়ঙ্গগুলোর অনেকগুলোই সে ম্যাপ করে রেখেছে। ওটা হয়তো কাজে আসতে পারে।
ভালো ভাবেই কাজে আসবে ওটা, বলে পার্সির দিকে তাকালো স্যাম। লোকটা এখন বেড়ার প্রান্তে বসে থাকা পাখিগুলোকে দেখে হাসতে হাসতে রেমিকে কিছু একটা বলছে। স্যাম আশা করছে সে হয়তো কোনো ভুল করছে না। চলুন তাহলে, ম্যাপটা খুঁজে বের করি।
.
৫০.
স্যাম আশা করছিলো পার্সি ও অলড্রিজ হয়তো এখন আবার পার্সির বাড়িতে ফিরতে চাইবেন। কিন্তু এর বদলে পার্সি তাদেরকে শহরের কেনাকাটার দোকানের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন।
জায়গাটায় পৌঁছেই স্যামকে পার্ক করার জায়গাটা দেখিয়ে দিলেন পার্সি। প্রবেশমুখটা এখান থেকে পাঁচমিনিটের দূরত্বে আছে, বলে বেশ কয়েকটা দোকানের সামনে থাকা খোয়াবিছানো পথটা দেখালেন পার্সি। তারপর গিয়ে থামলেন এক দর্জির দোকানের সামনে। ম্যাপটা এখানে আছে।
দোকানের নামটার দিকে চোখ তুলে তাকালো রেমি। আপনি মজা করছেন?
দোকানের দরজাটা খুলতেই মুখ উজ্জ্বল হয়ে গেলো পার্সির। অনেকটা অবিশ্বাস্য, তাই না?
আমি আসলে… ভিন্ন কিছুর আশা করেছিলাম।
এই পুরো শহরটাই গড়ে উঠেছে সুড়ঙ্গ ও গুহার ওপর। অনেক কিছুই দেখার আছে।
দর্জি দোকানের মালিক আসলে পার্সির এক আত্মীয়। তার মামাতো ভাইয়ের দোকান। পার্সির এরকম অপ্রত্যাশিত ভ্রমণের সাথে অভ্যস্ত হয়ে গেছে লোকটা। তারা ঢুকতেই তাদেরকে দোকানে পিছনে নিয়ে গিয়ে একটা দরজা খুলে দিলো লোকটা। একটা পাথরের সিঁড়ি নেমে গেছে দরজার ওপাশের অন্ধকারের দিকে। দরজাটার সামনে এক মুহূর্তের জন্য চুপ করে দাঁড়ালেন পার্সি। অন্ধকার সিঁড়িটা দেখছেন। নামার সময় ইলেক্ট্রিক টর্চগুলো নিয়ে নামতে ভুলো না কেউ।
কাছেই থাকা একটা ক্যাবিনেট খুলে তাক থেকে বেশ কয়েকটা ফ্ল্যাশলাইট বের করে আনলেন অলড্রিজ। প্রত্যেকের হাতেই একটা একটা করে ফ্ল্যাশলাইট তুলে দিলেন তিনি।
লাইট হাতে নিয়েই পাথরের সিঁড়ি দিয়ে আস্তে আস্তে নামতে শুরু করলো ওরা। যতোই নিচে নামছে তাপমাত্রাও ততোই কমছে। এটা আমার প্রিয় জায়গা, পার্সি বলছেন। আমি সর্বপ্রথম এই গুহাতেই নেমেছিলাম। ঐ তখনই বুঝে গিয়েছিলাম যে আমি প্রতিটা গুহা-সুড়ঙ্গই ঘুরে দেখতে চাই।
স্যাম তার পিছনে পিছনে আসছে। হাঁটতে হাঁটতে পার্সি ওয়েন্ড ম্যাপটা কোথায় রেখেছেন সেটা নিয়েই ভাবছে শুধু। এখানে কতগুলো গুহা আছে? জিজ্ঞেস করলো ও।
পঁচাত্তরটার বেশি। তবে এগুলোর বেশির ভাগই দালানকোঠা বানাতে গিয়ে নষ্ট করে ফেলা হয়েছে। আর অন্য গুলোও আটশো বছরের চাপ সহ্য করতে না পরে ধীরে ধীরে ক্ষয়ে পড়ছে। দুঃখের বিষয়, জাকজমকভাবে সাজানোগুলো ছাড়া সাধারণ মানুষদের অনেকেই এগুলোর কথা জানে না।
আর এই গুহাটা? গুহার মসৃণ দেয়াল, দেয়ালে খোদাই করে কাটা তাকগুলোর দিকে আলো ফেলে বলল স্যাম। এটা কিসের জন্য ব্যবহার করা হতো?
আগের মালিক এটাকে ওয়াইন সেলার হিসাবে ব্যবহার করতো, বলতে বলতে গুহা থেকে সুড়ঙ্গ দিয়ে বের হয়ে আরেকটা গুহার দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন পার্সি। হাতে খোদাই করা হয়েছে এটা। পাথুরে বালি দিয়ে। এখানে মানুষ এসে বাস করারও আরো কয়েকশো বছর আগে তৈরি হয়েছে এটা। সত্যি বলতে শহরের সব গুহাই ঐসময়ের তৈরি। মাটির ওপরে প্রবেশমুখগুলো তৈরি করা হয়েছে নদীর পানিতে গুহাগুলোর ভেসে যাওয়া থেকে বাধা দেওয়ার জন্য। খুবই চমৎকার জায়গা এটা।
একটা প্রশ্ন, গুহাগুলোতে তারা উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরছে বুঝতে পেরে বলল স্যাম। এটার সাথে রবিন হুড আর আপনার ম্যাপের কী সম্পর্ক আছে?
রবিন হুড বলে দ্বিধান্বিত দৃষ্টিতে অলড্রিজের দিকে তাকালেন পার্সি। আমি তো ভেবেছিলাম তারা এই গুহাটা দেখতে এসেছে। আমি কি তাদেরকে বলেছি যে আমি সর্বপ্রথম এই গুহাটাতেই নেমেছিলাম?
হ্যাঁ, বলেছো তুমি, অলড্রিজ বললেন।
