বলতে পারছি না। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসলেই রাস্তা খুলে দিবে ওরা।
বলার আর কিছু না পেয়ে প্রফেসরের দিকে ফিরে তাকালো স্যাম। স্যরি, এর থেকে বেশি কিছু করতে পারছি না আমি।
সমস্যা নেই। পার্কের ভিতর দিয়ে একটা পায়ে হাটা রাস্তা চলে গেছে। ওটা ধরে আরেকটু কাছে যেতে পারবো আমরা। মনে হয় না ওরা ঐ পথটা আটকে রেখেছে। আর যদি আটকেও রাখে, তাহলেও ওখান থেকে কী ঘটছে তা দেখতে পারবো আমরা। বলে পাহাড়ের ওপর দিয়ে চলে পাশের রাস্তাটার দিকে নির্দেশ করলেন প্রফেসর। দুটো কটেজের ফাঁকা দিয়ে একটা পায়ে হাঁটা রাস্তা চলে গেছে এলাকাটার ভিতরে। পার্সির বাসাটা রাস্তার ঠিক উল্টো দিকেই। আগুনটাও ঐ বাড়িতেই লেগেছে। এলাকার বাসিন্দাদের অনেকেই রাস্তায় জড়ো হয়ে দমকলকর্মীদের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজটা দেখছে। হেঁটে তারা তিনজনও গিয়ে জড়ো হলো ওদের সাথে। ইটের গাঁথুনিতে তৈরি দোতলা দালানটাকে বাইরে থেকে দেখতে একদম অক্ষতই মনে হচ্ছে। তাছাড়া ধোয়ার কুণ্ডলিও ধীরে ধীরে পাতলা হয়ে আসছে। দমকলকর্মীরা খুব সম্ভবত আগুনটা দমিয়ে ফেলতে সমর্থ হয়েছে।
রাস্তা থেকে একটু দূরে একা দাঁড়িয়ে লম্বা টেকো মাথার এক লোকও চোখে ওয়্যার-রিমড় চশমা লাগিয়ে দমকলকর্মীদের কাজ করা দেখছে। প্রফেসর অলড্রিজ লোকটার দিকে ইঙ্গিত করে বললেন, ওটাই পার্সি।
.
৪৯.
রাস্তা পেরুনোর আগে ফিস্ক এবং তার লোকদের খোঁজে একবার আশেপাশে তাকিয়ে দেখলো স্যাম। কাউকে দেখা যাচ্ছে না দেখা সন্তুষ্ট হওয়ার পরই অন্যদের রাস্তা পেরুতে দিলো। দমকলকর্মীরা এখন ক্লান্ত পায়ে ভারী হোসপাইপগুলো আবার ফায়ারট্রাকে ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। পার্সি ওয়েন্ড হতভম্ব হয়ে তাদের কাজ করা দেখছেন। আমার প্যানজিগুলো…
প্রফেসর অলড্রিজ এগিয়ে হাত রাখলেন পার্সির কাঁধে। ফুল সব আবার বেড়ে উঠবে। অন্তত তোমার বাড়িটা তো এখনও টিকে আছে।
তাই মনে হচ্ছে, বলে তাদের দিকে ফিরে তাকালেন পার্সি ওয়েন্ডর্ফ। স্যাম ও রেমিকে দেখছেন।
প্রফেসর অলড্রিজ তাদের সাথে প্রফেসরের পরিচয় করিয়ে দিতেই স্যাম তাঁর সাথে হাত মিলিয়ে বলল, আরেকটু ভালো পরিস্থিতে দেখা হতে পারত আমাদের।
সহমত, বলে ক্লান্ত ভঙ্গীতে শ্বাস ফেললেন পার্সি। অবশ্য তারা আমাকে বলছে আগুনটা শুধু রান্নাঘর এবং সামনের বৈঠকখানাতেই লেগেছিলো।
হোসপাইপ গুটিয়ে নিতে থাকা দমকলকর্মীদের দিকে একবার তাকালো স্যাম। আগুনের সূত্রপাত কিভাবে হয়েছিল, সেই ব্যাপারে কিছু বলেছে ওরা?
বলেছে ফুলকি ছিটকে যাওয়ায় আগুন লেগে গেছে। কপাল ভালো যে আমি তখন কাছাকাছি কোথাও ছিলাম না।
কয়েকমিনিট পর দমকলকর্মীদের একজন এগিয়ে এলো তাদের দিকে। মি. ওয়েন্ড?
হ্যাঁ।
কিছুক্ষণের ভিতরেই কাজ শেষ হয়ে যাবে আমাদের। তবে বাড়ির ভিতরটা পানি-কাদায় প্রচুর নোংরা হয়ে আছে। আপনার কি বাড়ির ইনস্যুরেন্স করানো আছে?
হ্যাঁ, অবশ্যই।
তাদেরকে ব্যাপারটা জানান। কাকে দিয়ে পরিষ্কার করালে ভালো হয় সেটা তারাই ভালো বলতে পারবে।
আচ্ছা, বলে আবারো বাড়িটার দিকে তাকালেন প্রফেসর ওয়েন্ড। স্পষ্টতই চমকটা এখনও সামলে উঠতে পারছেন না তিনি।
স্যাম বুঝতে পারছে পার্সি এখন কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর দেয়ার মতো মানসিক অবস্থায় নেই। তাই দমকলকর্মীর দিকে এগিয়ে গিয়ে বলল, বিরক্ত করার জন্য দুঃখিত। তবে আগুনটা কিভাবে লেগেছিল সেই ব্যাপারে কোনো ধারণা করতে পারছেন?
আমরা এখানে আসার পর উনি যা বলেছেন, তাতে এটাকে চিমনির আগুন বলেই মনে হচ্ছে। তেল জাতীয় কিছুর বিস্ফোরণ হতে পারে।
আপনি নিশ্চিত?
হেলমেট খুলে ঘামে ভেজা চুলগুলোতে হাত বুলাতে বুলাতে লোকটা বলল, মোটামুটি।
বাড়ির পুড়ে যাওয়ার ব্যাপারটা বাদ দিলে, অবশ্যই এটা ভালো একটা খবর। তবে এরপরও নিজের চোখে প্রমাণ না দেখা পর্যন্ত, অগ্নিকান্দ্রে সাথে এভেরি বা তার লোকদের সম্পৃক্ততার ব্যাপারটা উড়িয়ে দিতে পারছে না স্যাম।
আরো বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষার পর অবশেষে বাড়ির ভেতরে ঢোকার অনুমতি মিললো তাদের। বৈঠকখানায় পা দিয়েই বাকশূন্য হয়ে গেছেন পার্সি ওয়েন্ডর্ফ। শূন্য দৃষ্টিতে বৈঠকখানার অবশিষ্টাংশ দেখছেন শুধু। ধোঁয়ায় বাতাস। ভারী হয়ে আছে বলে এগিয়ে গিয়ে জানালাগুলো খুলে দিলেন প্রফেসর অলড্রিজ। আর স্যাম এগিয়ে গেলো ফায়ারপ্লেসের মেঝেটা দেখতে। পানির কারণে পায়ের জুতো ভারী হয়ে গেছে। হাঁটতে হাঁটতে গেলে থপথপ শব্দ করছে এখন। উনুনের বাইরে থাকা প্রাথমিকভাবে পোড়া দাগটা চোখে পড়লো তার। পাথরগুলোও কালোকয়লার মতো হয়ে গেছে। মেঝের কাঠের কিছু অংশও কয়লায় পরিণত হয়ে গেছে। এমনকি উনুনের কেন্দ্র থেকে কয়েক ফুট দূরে থাকা মেঝের ওরিয়েন্টাল কার্পেটটাও এখন পুড়ে কালো ও ভিজে চুপচুপে হয়ে গেছে।
দমকলকর্মীর ধারণাই ঠিক, ভাবলো স্যাম। আগুনের সূচনা হয়েছিল এই ফায়ারপ্লেস থেকেই, তারপর আস্তে আস্তে ছড়িয়ে পড়েছে পুরো রুমে। পুরোপুরিই দুর্ঘটনা। যদিও ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন লাগিয়েও সেটাকে দুর্ঘটনার মাত্রা দেওয়া সম্ভব, তারপরও তার মনে হচ্ছে না যে এভেরির লোকেরা এতো যত্নসহকারে এই কাজটা করেছে।
