নাইজেল কোথায়? রেমির কথার জবাবে জিজ্ঞেস করলো স্যাম।
ভালো প্রশ্ন।
ইভান আর তারা ছাড়া রুমে আর কেউ নেই এখন। রুমের মাঝে থাকা চেয়ারের ওপর থেকে স্যামের সেলফোনটা উঁচিয়ে ধরে রেমি বলল, এই যে, এটাই তোমার প্রশ্নের উত্তর। তারা আমাদের ব্যাপারে জানতো।
তারমানে এখন অবশ্যই রুম থেকে বেরিয়ে যাওয়া উচিৎ আমাদের, বলে ইভানের পিস্তল আর ব্যাকপ্যাকটা নিয়ে জানালার দিকে দৌড় লাগালো স্যাম। রেমিকে জানালা দিয়ে বেরুতে সাহায্য করে নিজে বেরিয়ে এলো এরপর। তারপর দৌড় লাগালে উত্তর কোনা বরবার।
ড্রাইভওয়ে থেকে একটা শব্দ ভেসে আসছে। শব্দটার উদ্দেশ্যে কোনা পেরিয়ে সামনে আসতেই ইভানকে একটা গাড়িতে চড়ে বসতে দেখলো ওরা। ইভান ওঠার সাথে সাথেই চলতে শুরু করেছে গাড়িটা। জ্যাক রয়েছে গাড়ির ড্রাইভিং সিটে।
গাড়ির ভিতরে চারজন মানুষকে দেখতে পেলো স্যাম। তাদের মধ্যে নাইজেলও একজন।
দেরি না করে নিজেদের গাড়ির দিকে দৌড়ে গেলো স্যাম ও রেমি। তবে তারা গাড়িটা বের করে আনতে আনতে বিএমডব্লিউটা ততক্ষণে অনেক দূর চলে গেছে।
যত যাই হোক, উদ্ধার অভিযানটা কিন্তু ভালোই ছিলো। আমাদের প্ল্যান কাজে লেগেছে, রেমি বলল।
হ্যাঁ, তবে কপাল খারাপ যে নাইজেল ছিলো না ওখানে।
আমাদেরই এই লোকটাকে বিপদে টেনে আনাই উচিৎ হয়নি। দুর্গে… এভোগুলো মানুষের ভিতরে… আসলে আমি কখনো ভাবিওনি যে ভরদুপুরে কেউ কিডন্যাপ করবে তাকে।
যা হওয়ার তো হয়েই গেছে।
যাই হোক, মিশনটা একেবারে ব্যর্থও হয়নি।
বুঝলাম না? বলল স্যাম।
এরপর রেমি স্যামের দিকে তাকিয়ে বলল, অনুবাদের ব্যাপারে কিছুটা জানা গেছে। ফিস্ক আসার পর এটা নিয়ে আলাপ করছিলো ওরা। মূল লেখাটায় নাকি কিছু অক্ষর কম আছে।
তারা ঠিক কী নিয়ে কথা বলছিলো তা মনে আছে তোমার?
মাথা ঝাঁকালো রেমি। অন্ততপক্ষে তারা কোথায় যাচ্ছে সেটা জানি আমরা। অর্থটা বুঝতে পারলে ওখানেই যাবে ওরা।
কোথায়?
নটিংহ্যাম।
শুনে রেমির দিকে চোখ কুঁচকে তাকালো স্যাম। এই উপসংহারে আসলে কিভাবে?
নাইজেলকে অনুবাদের জিজ্ঞেস করা শব্দগুলো থেকে, বলল রেমি। উলফস ডেন আর উলফস হেড। মানে এর অর্থ দাঁড়াচ্ছে এক দুর্ধর্ষ সঙ্ঘের পালের গোদা।
এখানে নটিংহ্যাম পেলে কোথায়?
কারণ পালের গোদা বা উলফস হেড শব্দটা আসলে বিখ্যাত রবিন হুডর আরেক নাম। আর এটার ওপর ভিত্তি করলে উলফস ডেন শব্দটার অর্থ দাঁড়ায়। রবিন হুডের বাড়ি।
তাহলে আমাদের পরের গন্তব্য এখন নটিংহ্যাম, অর্থটা বুঝার পর বলল স্যাম।
.
৪৮.
মিসেস ফার্গোর ধারণা একদম সঠিক, পরদিন সকালে স্কাইপ কলে তাদেরকে বলল লায়লা। গতরাতে সরাইখানা থেকে পালিয়ে সরাসরি নটিংহ্যামে চলে এসেছে ওরা। ভিন্ন এক নামে হোটেল সুইট ভাড়া করে কিছুক্ষণ ঘুমানোর পর সকালে উঠেই লাযলোকে কল করেছে। বাইরে প্রচুর বৃষ্টি পড়ছে এখন। জানালায় বৃষ্টির ঝাঁপটার কারণে লাযলোর কথাও ঠিকমতো বুঝা যাচ্ছে না। তাই ট্যাবলেটের ভলিউমটা বাড়িয়ে দিলো রেমি। এককালে রবিন হুড উলফস হেড নামে পরিচিত ছিলো। অন্তত একেবারে প্রথমদিকে কিংবদন্তি গল্পগুলোতে। মিস যাওয়া এফ অক্ষরটাও খাপে খাপ মিলে যাচ্ছে। শুরু থেকেই এটা জানা থাকলে আপনাদের সমস্যা অনেকটা কমিয়ে দিতে পারতাম।
তা তো অবশ্যই, বলে সরাসরি লাযলোর দিকে তাকালো স্যাম। এখন ম্যাপের সাইফারের ব্যাপারে বললো।
হ্যাঁ, হ্যাঁ। উলফস ডেন আর নটিংহ্যাম। খাপে খাপ মিলে যাচ্ছে। ভাবতেই পারছি না যে এটা আমি আগে ধরতে পারেনি।
গলা খাকরে সেলমাও নিজের উপস্থিতির জানান দিলো ওদেরকে। লায়লোর কাঁধের ওপর দিয়ে মাথা বের করে বলল, কিছু কিছু ব্যাপার জানতে পেরেছি আমরা। স্যার এডমুন্ড হারবার্ট এবং নটিংহ্যামের মধ্যে একটা সংযোগ ছিলো। সংযোগটা আসলে ছিলো তার সৎভাই রজার মর্টিমার এবং রানি ইসাবেলার জড়িত ঘটনাগুলোর কারণে। তৃতীয় এডওয়ার্ড সিংহাসনে বসার পর মর্টিমারকে আটক করে রেখেছিল নটিংহ্যাম ক্যাসলে, রানি ইসাবেলাকে নির্বাসিত করেছিলো ক্যাসল রাইজিং-এ।
সেলমার কথা শুনে টেবিলে ছড়ানো ম্যাপটার দিকে তাকালো রেমি। আর স্যাম জিজ্ঞেস করলো, তো এটার সাথে রবিন হুড আর কিং জনের সম্পদের কী সম্পর্ক আছে।
রবিন হুডকে নিয়ে যে পরিমাণ গল্পের অস্তিত্ব আছে, সেই হিসেবে বিবেচনা করলে এটা খুবই ভালো একটা প্রশ্ন, জবাবে বলল লাযলো। নিশ্চিতভাবেই এসব গল্পের কিছু ছিলো কিং জনের সময়কালেও। যদিও রাজার সাথে রবিন হুডকে ঠিক মিলানো যাচ্ছে না। তবে যাই হোক, আমাদের গবেষণার ফলগুলো এখন একত্র হতে শুরু করেছে। আমাদের ম্যাপের চাবিটাও ওখানেই আছে।
কোথায়? একসাথে জিজ্ঞেস করলো স্যাম ও রেমি।
নটিংহ্যামে, অথবা ভালো করে বললে, নটিংহ্যামের ভিতরেই কোথাও, লায়লো জানালো। এখানে চার চেম্বার আর নিচে মৃত্যু নিয়ে কিছু লেখা আছে। এখনো এই অংশটা নিয়ে কাজ করছি। এবং ধরে নিচ্ছি যে আমার অনুবাদের কোনো ভুলও হচ্ছে না। যেহেতু ছবিতে হুইলের একটা অংশ আলোতে ঝলসে গেছে, তাই এখন শুধু আন্দাজই করতে পারবো আমি।
ঠিক তখনই ফোন বেজে উঠলো স্যামের। পর্দার দিকে একবার তাকিয়ে কল রিসিভ করে স্পিকার চালু করে নিলো ও। তার মুখে চমকে যাওয়া একটা ছাপ লেগে আছে। নাইজেল?
