এতে আমাদের সুবিধাই হবে।
হ্যাঁ, তবে সমস্যা হলো… বলতে বলতে আবারো দেয়ালে কান ঠেকালো রেমি, খাবার আনতে শুধু হোটেলের লবি পর্যন্ত যাবে ওরা। রেস্টুরেন্ট থেকে লবিতে খাবার দিয়ে যাবে।
এরমানে যতোটা আশা করেছিলো তার থেকেও কম সময় পাচ্ছে ওরা। অন্ততপক্ষে তার পরিকল্পনার নকশা অনুযায়ী সময়টা বেশ কম হয়ে গেছে। যাই হোক, তাদেরকে এখন দ্রুত সময়ে কাজ সারতে হবে আর কী।
আলেক্সান্দ্রা আর জ্যাক চলে যেতেই রেমিকে তার পরিকল্পনার ব্যাপারে জানালো স্যাম। পরিকল্পনার অনেক কিছুই নির্ভর করছে ভাগ্যের ওপর। যদিও তার এবং রেমির কাছে দুটো পিস্তল রয়েছে, তবে প্রতিপক্ষের কাছে কী পরিমাণ অস্ত্র তা কিন্তু তারা কেউই জানে না। সত্যি বলতে, জিম্মি উদ্ধার করার মতো কোনো কিছু আগে থেকে পরিকল্পনা করেনি ওরা।
যাই হোক, ওসব নিয়ে এখন দুঃশ্চিন্তা করে কোনো লাভ নেই। দুটো পিস্ত ল থাকলেও ব্যাকপ্যাক থেকে চাকু বের করে রেমির হাতে তুলে দিলো একটা! তাদের এখন মূল লক্ষ্য কোনোরূপ গোলাগুলি ছাড়াই রুমে ঢুকে আবার বেরিয়ে আসা। সংক্ষেপে বললে, স্যামের কাজ হলো ইভানকে ঘায়েল করা আর রেমির কাজ নাইজেলকে মুক্ত করে আনা।
পরিকল্পনা সাজানো হয়ে যেতেই স্যামের নির্দেশে ফোন তুলে ফ্রন্ট ডেস্কে কল করলো রেমি। রুম ১০৩, প্লিজ, বলতেই ১০৩ নম্বর রুমে কলটা ট্রান্সফার করে দিলো ফ্রন্ট ডেস্ক। ১০৩ নম্বর রুমের বাসিন্দা কল রিসিভ করতেই রেমি তার ব্রিটিশসুরে বলে উঠলো, ফ্রন্ট ডেস্ক থেকে বলছি। খুব শীঘ্রই রুম সার্ভিস আপনাদের রুমে শ্যাম্পেইন নিয়ে উপস্থিত হবে,.. না, স্যার। আপনাদের রুমে থাকা ম্যাম খাবার আনতে বেরিয়ে যাওয়ার সময় এই শ্যাম্পেইনের অর্ডার করে গিয়েছে। বলেছে ডিনারের আগেই বোতলটা রুমে পাঠিয়ে দিতে… এটা হোটেলের সৌজন্যতা, স্যার। আপনি পান না করলেও অসুবিধা নেই।
বলে ফোন রেখে শ্রাগ করলো রেমি। ফিসফিসিয়ে বলল, সে মানতেই চাইছিলো না। কোনোভাবে রাজি করিয়েছি।
এটুকই যথেষ্ট। চলো, কাজে নেমে পড়া যাক।
সাথে সাথেই চুলোগুলো ঝুঁটি করে বেঁধে নিলো রেমি। পরিচারিকারা সাধারণত এভাবেই চুল বাধে। তারপর স্যাম তার ব্যাকপ্যাকটা হাতে তুলে নিয়ে দরজা খুলে বলল, প্ল্যানটা আরেকবার শুনে নাও। নাইজেলকে মুক্ত করার সাথে সাথেই জানালা দিয়ে বেরিয়ে যাবে তোমরা। বেরিয়ে চলে যাবে গাড়িতে, তারপর হোটেলের সামনে এসে দেখা করবে আমার সাথে।
মাথা ঝাঁকিয়ে সায় দিয়ে শ্যাম্পেইনের বোতলসমেত আইস বাকেটটা হাতে নিয়ে হলওয়েতে বেরিয়ে এলো রেমি। গিয়ে দাঁড়ালো ইভানদের রুমের দরজার সামনে। স্যাম দরজার পাশে পজিশন নিয়ে দাঁড়াতেই দরজায় টোকা দিলো ও। সাথে সাথে ইভান যেন তার চেহারা দেখতে না পায়, সেজন্য নিজের মাথা নিচু করে রেখেছে।
দরজা খুলে মাথা বের করে ইভান জবাবে বলল, কে?
শ্যাম্পেইন, স্যার। বলে আইসবাকেটটা উঁচিয়ে ধরলো রেমি।
আমি তো বলেছিই… বলতে বলতে দরজাটা আরেকটু ফাঁক করলো ইভান।
সাথে সাথেই ব্যাকপ্যাক কাঁধে নিয়ে সজোরে দরজায় ধাক্কা দিলো স্যাম। ধাক্কা খেয়ে কিছুটা চমকে গেলেও দরজাটা শক্তভাবে ঠেলে ভিতর থেকে আটকে দেওয়ার চেষ্টা করছে ইভান। আর স্যামও বাইরে থেকে ঠেলা দিয়ে রেখেছে দরজাটা। এরই ফাঁকে স্যামকে পাশ কাটিয়ে রুমের ভিতরে ঢুকে গেলো রেমি।
দরজায় প্রায় ঝুঁকে পড়ে স্যামকে বাইরে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে ইভান। স্যামও ওদিকে দরজার ফাঁকে পা ঢুকিয়ে দরজাটা প্রশস্তভাবে ভোলার চেষ্টা করছে। কিন্তু ভারী ওজনের ইভানের শক্তির সাথে ঠিকমতো কুলিয়ে উঠতে পারছে না। তাকে বাইরে ঠেলে দিয়ে ইভান দরজাটা আটকাতে যাবে, ঠিক তখনই দরজায় লাথি দিয়ে ইভানকে কোনায় ঠেলে দিলো স্যাম।
দৌড়ে রুমের ভিতরে এসে ঢুকলো স্যাম। ইভানকে তার দিকে পিস্তল উঁচিয়ে ধরতে দেখেই ব্যাকপ্যাক দিয়ে আঘাত হানলো তার হাতে। সাথে সাথেই বন্দুকটা খসে পড়ে গেলো ইভানের হাত থেকে। পিস্তলটা পড়ে যেতেই ঘুরে স্যামের পেটে ঘুষি হানলো ইভান। তবে স্যাম তৈরিই ছিলো। ইভানকে ঘুষি দিতে দেখে ইচ্ছা করেই পিছিয়ে গিয়ে দেয়ালের দিকে ঝুঁকে পড়েছে ও। দেয়ালের প্লাস্টারে গিয়ে লাগলো ঘুষিটা। হাতের গিট ফেটে রক্ত বেরুতে শুরু করেছে ইভানের। ব্যথায় গালি দিয়ে উঠে আবারো ঘুরে স্যামের দিকে তাকালো ইভান। স্যামকে পাশের দিকে সরে যেতে দেখেই ঝপ লাগালো ওর দিকে।
আবারো ঝুঁকে পাশে সরে গিয়ে আঘাতটা প্রতিহত করলো স্যাম। তবে এতে করে দরজার কোনা ও ইভানের ফাঁকে আটকে গেছে ও। ব্যর্থ আঘাতের রেশটা কাটিয়ে উঠে আবারো তার দিকে পাগলা ষাঁড়ের মতো তেড়ে আসতে শুরু করেছে ইভান।
স্যাম আবারো সরে যেতে যাবে, ঠিক তখনই শ্যাম্পেইন ভর্তি বোতলটা দিয়ে ইভানের মাথার পিছন দিকে আঘাত করলো রেমি। আঘাতের তীব্রতায় এক মুহূর্তের জন্য জমে গেলো ইভান। চমকটা কাটিয়ে উঠে রেমির দিকে ঘুরতে যাবে ঠিক তখনই স্যাম ঘুষি হানলো তার মুখে। আঘাতের তীব্রতা আর সামলাতে না পেরে ঝট করে মেঝেতে থুবড়ে পড়লো ইভান।
শ্যাম্পেইনের বোতলটা হাতে নিয়ে স্যামের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলো রেমি। মনে হচ্ছিলো তোমার সাহায্য দরকার।
