না, না। আপনাকে কষ্ট করতে হবে না, ম্যাম। আমিই পরিষ্কার করে নিচ্ছি।
কিছু না বলে পাম গাছটার আরো কাছে এগিয়ে গেলো আলেক্সান্দ্রা। শ্যাম্পেইনের বোতল তোলার ভান করে উবু হয়ে সাইফার হুইলটা টবের মাটিতে ঢুকিয়ে বালি দিয়ে আড়াল করে দিলো। তারপর বোতলটা তুলে বাড়িয়ে দিলো মেয়েটার দিকে।
ধন্যবাদ, আলেক্সান্দ্রার হাত থেকে বোতলটা নিতে নিতে বলল মেয়েটা। ঠিক তখনই ফিস্ক এসে উদয় হলো আবার। আলেক্সান্দ্রা ও মেয়েটাকে এখনো হলওয়েতে দাঁড়িয়ে থেকে কিছুটা চমকে গেছে ও।
আবার ফিরে এলে যে? ফিস্ককে দেখে জিজ্ঞেস করলো আলেক্সান্দ্রা।
একটা জিনিস ফেলে গিয়েছি, তাদের দিকে এগিয়ে আসতে আসতে বলল ফিস্ক। তবে তার নজর আটকে আছে মেঝের দিকে। বিশেষ করে পাম গাছের টবটার দিকে। পাম গাছের পাতাগুলো কিছুক্ষণ উল্টেপাল্টে দেখে আলেক্সান্দ্রাকে জিজ্ঞেস করলো, আপনি এখানে কিছু পাননি তো?
ফিস্ককে পাম গাছে হাত দিতে দেখেই ভড়কে গেছে আলেক্সান্দ্রা। কোনোরকমে নিজেকে শান্ত রেখে জবাবে বলল, না। কী খুঁজছো তুমি?
তাহলে মনে হয় রুমে ফেলে এসেছি, বলে রুমে চলে গেলো ফিস্ক।
ফিস্ক চলে যেতেই পরিচারিকা মেয়েটার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলো আলেক্সান্দ্রা। তবে মেয়েটার নিরাপত্তা নিয়ে এখনো দুঃশ্চিন্তায় আছে। এই ভুল মুহূর্তে এখানে থাকলে মেয়েটার ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। যে এই বোতলটা খুলবে সে নিশ্চিতভাবেই চমকে যাবে। ঝাঁকি খাওয়া শ্যাম্পেইনের বোতল খুললে কী অবস্থা হয়, তা জানো না?
এটা মাথায়ই ছিলো না আমার। এখনই বদলে আনছি, আবারো উল্টোদিকে চলে গেলো মেয়েটা।
মেয়েটা চলে যেতেই রুমে এসে ঢুকলো আলেক্সান্দ্রা। ঢুকেই ফিস্ককে বিছানার নিচে খুঁজতে দেখে বলল, তুমি কী খুঁজছে সেটা বললে ভালো হতো। তাহলে আমরাও সাহায্য করতে পারতাম।
কিছু না বলে বিছানার ম্যাট্রেসটা রেখে দিয়ে তার দিকে তাকালো ফিস্ক। সত্যি বলতে তার পাতলা জ্যাকেটের পকেটগুলোর দিকে তাকিয়ে আছে ফিস্ক। কপাল ভালো যে জিনিসটা সে টবের ওখানেই রেখে এসেছিলো।
এভাবেই কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকার পর অবশেষে ফিস্ক বলল, হয়তো গাড়িতেই ফেলে এসেছি।
কী জিনিস ওটা? আর ওটা খুঁজে না পেলে কী হবে?
তেমন কিছুই হবে না, বলে শেষবারের মতো আরেকবার রুমটায় চোখ বুলিয়ে দেখলো ফিস্ক। এমনিতেও ছবি ভোলা আছে আমার কাছে।
চোখ ঘুরিয়ে নাইজেলের দিকে তাকালো আলেক্সান্দ্রা। বেচারা লোকটা তার হাতের বাধন খোলার আপ্রাণ চেষ্টা করছে। লোকটাকে থামতে বলার ইচ্ছা করছে আলেক্সান্দ্রার। তাকে দড়ি ছুটানোর প্রচেষ্টা করছে দেখলে এখনই তাকে মেরে ফেলার নির্দেশ দিবে ফিস্ক। কথাটা মাথায় আসতেই ফিস্কের সাথে বলতে চাওয়া কথাটাও মনে পড়ে গেলো তার। তাই আবারো ফিস্ককে অনুসরণ করে আবারো রুম থেকে হলওয়েতে বেরিয়ে এলো।
আগেই বলেছি, এখন না, আলেক্সান্দ্রাকে পিছু পিছু আসতে দেখেই বলে উঠলো ফিস্ক।
হ্যাঁ, ওটা তখনই বুঝেছি আমি, বলল আলেক্সান্দ্রা। আমি ফ্রন্ট ডেস্কে যাচ্ছি রাস্তার ওপাশে থাকা পাবের মেনু দেখতে। অনিমন্ত্রিত অতিথির সুবাদে তো এখন আমাদেরকে খাবার রুমে আনিয়েই খেতে হবে।
কোনা ঘুরে আবারো পাম গাছের টবের কাছে আসতেই হাঁটার গতি কমিয়ে দিলো ফিস্ক। সন্দেহাতীতভাবেই হারিয়ে যাওয়া যাওয়া হুইলটা খুঁজছে। তাকে আবারো পাম গাছের পাতাগুলোর দিকে এগিয়ে যেতেই ভয়ে জমে গেলো আলেক্সান্দ্রা। টবের এলোমেলো মাটির দিকেই চোখ আটকে আছে তার।
তবে ফিস্কের নজর পড়েনি ওদিকে। পামের পাতাগুলো একবার উল্টেপাল্টে দেখেই নিচুস্বরে গালি দিয়ে আবারো লবির দিকে পা বাড়ালো ফিস্ক।
আলেক্সান্দ্রাও ফ্রন্ট ডেস্ক পর্যন্ত এগিয়ে গেলো তার সাথে। ফ্রন্ট থেকে পাবের মেন্যুটা দেখতে দেখতে ফিরে চলে যাওয়ার অপেক্ষা করছে। ফিস্ক চলে যেতেই মেনুটা রেখে আবারো ফিরে এলো হলওয়েতে। এরপর টবের মাটি থেকে হুইলটা বের করেই ছুট লাগালো তার নিজের রুমের দিকে। লুকিয়ে রাখলো তার স্যুটকেসের লাইনিংয়ের আড়ালে।
এটা দিয়ে সে কী করবে সেই ব্যাপারে তার কোনো ধারণাই নেই। সে শুধু এটাই জানে যে এই জিনিসটা ফিস্কের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ কিছু। তাই জিনিসটা যেভাবেই হোক সে তার নিজের কাছে রাখতে চায়।
.
৪৭.
পর্দার ফাঁক দিয়ে কালো মার্সিডিজটাকে চলে যেতে দেখলো স্যাম। ফিস্ক চলে গেছে। যাক, শসংখ্যা একজন কমলো, ভেবে পর্দা টেনে দিয়ে রেমির কাছে ফিরে আসলো আবার। রেমি এখনো দেয়ালের পাশে বসে কানে গ্লাস ঠেকিয়ে রেখেছে।
ঠিক তখনই দরজায় টোকা দিলো কেউ। টোকার শব্দ শুনে দুইজনেই চমকে গেছে। স্যাম এগিয়ে গিয়ে দরজা খুলতে দেখলো হোটেল চারিকাদের একজন নববিবাহিত দম্পতির অর্ডার করা শ্যাম্পেইনের বোতলটা নিয়ে এসেছে। বখশিস দিয়ে বোতলটা হাতে নিয়ে আবারো দরজা লাগিয়ে দিলো স্যাম। কপাল ভালো যে মেয়েটা রুমের অধিবাসীদের পরিবর্তনটা বুঝতে পারেনি।
ড্রেসারের ওপর বোতলটা রাখতে রাখতে স্যাম ফিসফিসিয়ে বলল, কিছু শুনতে পারলে?
জবাবে শুধু আঙুল উঁচিয়ে ধরলো রেমি। তারপর ফিসফিসিয়ে বলল, শুনে মনে হচ্ছে রাস্তার ওপার থেকে খাবার কে আনবে সেটা নিয়ে আলোচনা করছে ওরা… আলেক্সান্দ্রা আর জ্যাক যাচ্ছে খাবার আনতে। ইভান রুমে থাকবে।
