হ্যাঁ, আছে। এটার নাম ফোন কল। আর এখন তোমার ফোন কল করলে চমকে দেওয়ার সমস্ত উপকরণই ভেস্তে যাবে, বলে একটা গ্লাস দেয়ালে ঠেকিয়ে কান পাতলে রেমি। অবশ্য, একটা পুরোনো কায়দা কিন্তু আছে।
এটা কাজও করবে। কিন্তু ভুলে যেও না যে, তাদের ও আমাদের রুমের মাঝখানে আরো একটা রুমও আছে।
নববিবাহিতদের সাথে রুম অদল-বদল করে নিতে পারি আমরা।
আমিও এটার কথা ভাবছি। তবে, সত্যি বলতে তারা এই মুহূর্তে হোটেলে না থাকলেই বেশি খুশি হতাম আমি। কখন কী অঘটন ঘটে যায় তার তো কোনো ঠিক নেই, তাই না?
কিছু না বলে বিছানার পাশে নাইটস্ট্যান্ডে থাকা ঘড়ির দিকে তাকালো রেমি। প্রায় ছয়টার মতো বাজে। এখান থেকে লন্ডনের দূরত্ব কতটুকু?
গাড়িতে করে গেলে প্রায় তিন ঘন্টার মতো।
স্যাভয়ে আমাদের ভাড়া করা রুমটা কিন্তু এখন খালিই পড়ে আছে।
ভালো বলেছে, রেমি। এটার কথা ভাবিনি।
শুনে মৃদু হাসলো রেমি। আশা করছি তারা এটা মেনে নিবে।
জানার একটা উপায়ই আছে। চলো, পরীক্ষা করে দেখি।
বলে রুম থেকে বেরিয়ে নববিবাহিত দম্পতিদের দরজায় গিয়ে টোকা দিলো স্যাম। এক তরুণ যুবক এসে দরজা খুলে সাড়া দিলো তাদেরকে।
আমরা পাশের রুমে উঠেছি, স্যাম বলল। অভিনন্দন জানাতে এলাম।
তরুণের স্ত্রীও এসে দাঁড়ালো তার পিছনে। মেয়েটার মুখে কৌতূহল ও উত্তেজনার ছাপ মিশে আছে। কে এসেছে?
আমাদের পাশের রুমের দম্পতি।
এগিয়ে এসে দরজাটা পুরোপুরি খুলে তাদেরকে স্বাগত জানালো মেয়েটা। হাই।
সুযোগ পেয়ে দেরি না করে দ্রুত রুমে ঢুকে গেলো স্যাম ও রেমি। তারপর দরজাটা চাপিয়ে দিয়ে রেমি বলল, অভিনন্দন। শুনেছি সদ্যই বিয়ে হয়েছে আপনাদের?
হ্যাঁ, কয়েকদিন হয়েছে মাত্র।
হানিমুনে এসেছেন, তাহলে? জিজ্ঞেস করলো স্যাম।
এইতো কয়েকদিনের জন্য একটু ঘুরতে এসেছি, শ্রাগ করে বলল তরুণ লোকটা।
স্যাভয়ে থেকেছেন কখনো?
বিদ্রুপের স্বরে হেসে উঠলো লোকটা। আপনার কি মনে হয় ওখানে থাকার মতো ক্ষমতা থাকলে আর এখানে উঠতাম?
তাহলে আমার কথা শুনুন, স্যাম বলল, আপনাদের যদি ড্রাইভ করে যেতে কোনো আপত্তি না থাকে, তাহলে স্যাভয়ে চলে যান। ওখানে একটা ফ্রি রুম অপেক্ষা করছে আপনাদের জন্য।
স্যামের কথা শুনে চোখ বড়ো বড়ো হয়ে গেছে নববিবাহিতা মেয়েটার।
অবশ্য তার স্বামী এতটা চমকে যায়নি। চমকে যাওয়ার বদলে লোকটার মুখে সন্দেহের ছাপ ফুটে উঠেছে। আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে স্যামের দিকে এক কদম এগিয়ে কঠোর গলায় বলল, আমার মনে হয় আপনাদের এখন যাওয়া উচিৎ।
আগে আমার কথাটা ভালো করে শুনে দেখুন, পকেট থেকে ওয়ালেটটা বের করতে করতে বলল স্যাম। একটা বিশেষ কারণে এই রুমটা দরকার আমাদের। আর ঐদিকে স্যাভয়ে আমাদের ভাড়া করা সুইটটা এখন খালিই পড়ে আছে। বলে ওয়ালেট থেকে স্যুইটের কী-কার্ড এবং কয়েকশো পাউন্ডের নোট বের করে বিছানায় রাখলো ও। এই টাকায় হয়তো আপনাদের কয়েকবেলা খাবার, গ্যাস এবং এই রুমের দাম মিটে যাবে। আর আপনারা স্যাভয়ে না থাকতে চাইলেও, এই টাকায় অন্য যে কোনো হোটেলেও থাকতে পারবেন।
কী ধরনের ফাঁদে ফেলতে চাচ্ছেন আপনারা?
রেমি তার সেল ফোনে সেলমার পাঠানো হোটেল রিজার্ভেশনের লিঙ্কটা ওপেন করে বলল, কোনো ফাঁদেই ফেলছি না। আপনাদেরকে রিজার্ভেশনে যুক্ত করে দিচ্ছি আমি। এখন আপনারা চাইলে এখানেও থাকতে পারেন, বা টাকাটা নিয়ে স্যাভয়েও চলে যেতে পারেন। রিজার্ভেশনের ইন্টারনেট পেজটা লোড হতেই মোবাইলটা তাদের দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলল, আপনার নাম আর ইমেইলটা টাইপ করে দিন। সাথে সাথেই কনফার্মেশন মেইল পেয়ে যাবেন।
তারপরও দ্বিধা করছে লোকটা। কিন্তু তার স্ত্রী কোনো দ্বিধা না করেই মোবাইলটা খাবলে নিলো রেমির হাত থেকে। পেজটা একবার দেখে বলল, দেখে তো সত্যিই মনে হচ্ছে।
আসলেই সত্য এটা, বলল রেমি।
সাথে সাথেই পেজটাতে তথ্যাদি টাইপ করতে শুরু করলো মেয়েটা।
তুমি কি পাগল হয়ে গেছো? বলে মেয়েটার হাত থেকে মোবাইলটা কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করলো লোকটা।
সাথে সাথেই মোবাইল হাতে নিয়ে একটু দূরে সরে গেলো মেয়েটা। শুধু নাম আর ইমেইলই তো দিচ্ছি, ক্রেডিট কার্ডের ইনফরমেশন তো আর না! আর, আমার স্যাভয়েই হানিমুন কাটানোর ইচ্ছা, বলে সেন্ড বাটনে চেপে মোবাইলটা আবার রেমির হাতে ফিরিয়ে দিলো মেয়েটা। তারপর তার স্বামীকে বলল, ইমেইল চেক করো তোমার।
কিন্তু হোটেল কর্তৃপক্ষ তো আমাদের জন্য শ্যাম্পেইনের বোতল নিয়ে আসছে। ..
তো? খেঁকিয়ে উঠলো মেয়েটা। ওটা তো রুমের সাথে ফ্রি ছিলো। ষাট পাউন্ডের মধ্যে হোটেল রুমসহ ফ্রি শ্যাম্পেইন আর কততটাই বা ভালো হবে? এখন, জলদি তোমার ইমেইল চেক করো।
কিছু না বলে পকেট থেকে মোবাইলটা বের করে আনলো লোকটা। ইমেইলটা দেখে প্রচণ্ড চমকে গেছে সে। এটা কি সত্য?
মাথা ঝাঁকিয়ে সায় দিলো রেমি।
কিন্তু কেন?
ওটা আসলে অতোটা গুরুত্বপূর্ণ না, স্যাম বলল। শুধু এটা জেনে রাখুন যে এতে করে আমাদের অনেক বড়ো উপকার করেছেন আপনারা।
এক মুহূর্তের জন্য পুরোপুরি বাকশূন্য হয়ে তাদের দিকে তাকিয়ে রইলো লোকটা। কী করবে বুঝে উঠতে পারছে না যেন। তারপর বলল, আচ্ছা, ঠিক আছে। বলে বের করা জিনিসগুলো আবারো স্যুটকেসে ভরে নিলো ওরা।
