শুনে নাক দিয়ে বিদ্রুপাত্মক শব্দ করলো রেমি। পুরুষেরা খুব সহজেই নারীদেরকে হুমকির তালিকা থেকে বাদ দিয়ে দেয়।
এই কথাটা একমাত্র সত্য হবে তখনই, যখন তোমাকে কেউ হুমকির তালিকা থেকে বাদ দিয়ে দিবে।
হ্যাঁ। এই মহিলার ক্ষেত্রেও খাটে এটা। মহিলার সামনে পড়লে কথাটা মাথায় রেখো।
মহিলার সামনে পড়ার কোনো ইচ্ছা নেই আমার। এজন্যেই তো অন্ধকার নামার অপেক্ষা করছি।
****
ঘন্টাখানেক পর সরাইখানার আলোটা মৃদু হয়ে যেতে দেখে বেশ খুশি হলো স্যাম। এখন খুব সহজেই কারো নজরে না পড়ে হোটেলে ঢোকা যাবে। এখানেই অপেক্ষা করো, রেমির দিকে তাকিয়ে বলল, আমি একটু চেক করে দেখে আসছি।
বলে গাড়ি থেকে বেরিয়ে এলো স্যাম। প্রধান দরজাটা ছাড়াও সরাইখানায় ঢোকার জন্য উত্তর ও দক্ষিণ দিকে আরো দুটো প্রবেশদ্বার আছে। জ্যাক ও ইভানরাও এই দক্ষিণ দরজা ব্যবহার করেই ভিতরে ঢুকেছে।
দক্ষিণের দরজা ধরে ভিতরে ঢুকলো স্যাম। দুটো রুম ছাড়া নিচতলার বাকি সবগুলো রুমই অন্ধকার হয়ে আছে এখন। ইভানরা এই দুই রুমের কোনো একটাতে আছে বলেই ধারণা ওর।
তবে ঝুঁকি না নিয়ে এখন পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া দরকার স্যামের। তাই বাইরে বেরিয়ে এলো আবার। তারপর বাইরের দক্ষিণ কোনা পেরিয়ে আলো জুলতে থাকা প্রথম জানালাটার দিকে এগিয়ে গেলো স্যাম। জানালাটায় যদিও পর্দা দেওয়া, তবে পর্দার হালকা ফাঁক দিয়ে ভিতরের দৃশ্যটা দেখতে কোনো সমস্যা হচ্ছে না তার। রুমটায় এখন কেউ নেই। তবে চেয়ারের মাথায় আলেক্সান্দ্রার পার্কাটা দেখে রুমটা কার সেটা বুঝতে কোনো সমস্যাই হলো না তার।
পরের রুমটার দিকে পা বাড়ালো এরপর। এই রুমের পর্দাও হালকা ফাঁকা হয়ে আছে। তবে সে গিয়ে দাঁড়ানোর সাথে সাথেই পর্দাটা টেনে পুরোপুরি আটকে দিলো ভিতরের কেউ। তবে এর আগেই যা দেখার দেখে নিয়েছে স্যাম। রুমের ভিতরে এক চেয়ারে হাত বেঁধে বসিয়ে রাখা হয়েছে নাইজেলকে।
নাইজেলের বিপদের মাত্রাটা নিয়ে ভাবতে যাবে, তখনই তৃতীয় আরেকটা জানালায় আলো জ্বলে উঠতে দেখলো স্যাম। আলোটা আসছে ইভান ও জ্যাকদের রুমের অন্য পাশে থাকা রুমটা থেকে। নবদম্পতিদের রুম ওটা।
আর দাঁড়িয়ে না থেকে তাড়াতাড়ি করে গাড়িতে ফিরে এলো স্যাম। রেমিকে বলল, রেডি তুমি?
হ্যাঁ। তো, কী মহা পরিকল্পনা করলে তুমি?
এই মুহূর্তের জন্য তেমন কোনো বড় কোনো মহা পরিকল্পনা নেই। শুধু ছোটো একটা পরিকল্পনা আছে। আর এই পরিকল্পনাটা সফল করতে হবে আমাদেরকান দিয়ে।
.
৪৪.
রাতে মনে হয় কাজের চাপ কম? চেক ইন করার সময় ডেস্কে থাকা ক্লার্ক মহিলাকে বলল স্যাম। পিঠে একটা ব্যাকপ্যাক ঝুলিয়ে রেখেছে। রেমির ভাষ্যমতে এটা স্যামের ইমার্জেন্সি ব্যাগ। ছোটোখাটো কিছু যন্ত্রপাতি ও কয়েকটা ছুরি-চাকু রয়েছে ব্যাগটাতে। সাথে খুবই হালকা ওজনের শক্ত একগোছা রশিও আছে। এই ব্যাকপ্যাকটা ছাড়া এখন আর কোনো ব্যাগ বা লাগেজ নেই তাদের সাথে। পার্কিং লটে তো মাত্র দুটো গাড়িই দেখলাম।
আমাদের জন্য এটাই অনেক ব্যস্ততা।
বেশ শান্তশিষ্ট এলাকা তাহলে। আমাদের এমনটাই পছন্দ। তারপর কাউন্টারের দিকে নিচুস্বরে বলল, কিছু মনে করবেন না, আপনাদের হোটেলে কোনো পোষা প্রাণী নেই তো? আমার স্ত্রীর আবার একটু অ্যালার্জির সমস্যা আছে।
মেহমানদের কারো সাথে পোষা কোনো প্রাণী নেই। অবশ্য মালিকের একটা কুকুর আছে।
ওটা নিশ্চয় ঐ বড়ো কালো কুকুরটা না?
হ্যাঁ। টেডিকে তাহলে দেখেছেন আপনারা? খুবই ভালো একটা কুকুর। অবশ্য গত দুইদিন অন্য একজনের কাছে ছিলো টেডি! তারাও এই হোটেলেই আছে। তবে চিন্তা করবেন না। আপনারা চাইলে আপনাদেরকে ওপরতলার রুমও দেওয়া যাবে।
তার দরকার নেই, বলে মুচকি হেসে মহিলার হাতে একটা বিশ পাউন্ডের নোট বাড়িয়ে দিলো স্যাম। নিচ তলার রুমই পছন্দ আমাদের। পূর্ব দিকে হলে ভালো হয়। সূৰ্য্যোদয় দেখার ইচ্ছা আছে আমাদের।
নোটটা হাতে নিয়ে মহিলা তার কম্পিউটার মনিটরের দিকে তাকিয়ে বলল, নিচ তলার পূর্বদিকে একটা রুমই খালি আছে আমাদের। নববিবাহিত এক দম্পতির পাশের রুম। বলে রুমের চাবিটা স্যামের দিকে বাড়িয়ে দিলো মহিলা। ১০১ নম্বর রুম। কোনা ঘুরে পাম গাছের টবটা পেরুলেই পাবেন রুমটা।
মহিলাকে ধন্যবাদ জানিয়ে চাবিটা নিয়ে পামের টবটার দিকে পা বাড়ালো স্যাম ও রেমি। কোনা ঘুরে হল ধরে এগুতে যাবেই তখনই পরিকল্পনার বড়ো একটা ক্রটি পড়লো স্যামের কাছে। তার পরিকল্পনা ছিলো কারো নজরে না পড়ে রুমে চলে যাওয়া, কিন্তু এই মুহূর্তে ইভান বা জ্যাকের কেউ হুট করে হলে বেরিয়ে এলে তো আর সেটা সম্ভব হবে না।
যাই হোক অন্ততপক্ষে কুকুরটা তো আর তাদের সাথে নেই, ভেবে ইভান ও জ্যাকদের রুমটা পেরিয়ে গেলো ওরা। তাদের রুমটা রয়েছে হলের একদম শেষ মাথায়। চাবি দিয়ে তালা খুলে রুমে ঢুকলো রেমি। রুমটা খুব বেশি বড়ো না। তবে একটা ডাবল বেড, নাইটস্ট্যান্ড, ছোটোখাটো ড্রেসার, টেলিভিশনসহ রুমটাকে খুব একটা খারাপও বলা যাচ্ছে না। এগুলোর সাথে নাইটস্ট্যান্ডের ওপর একটা আইসবাকেট ও দুটো গ্লাসও রয়েছে। রুমে ঢুকেই প্রথমে জানালার কাছে এগিয়ে গিয়ে পর্দাটা টেনে দিলো স্যাম। তারপর বলল, ইভানদের রুমে কান পেতে শোনার মতো একটা উপায় থাকলে ভালো হতো। আমার ফোনকে লিসেনিং ডিভাইসে রূপান্তরিত করার মতো কোনো অ্যাপ কি আছে আমাদের কাছে?
