আর আমাদের পরিকল্পনাটা?
পুরোপুরি সফল ওটা।
স্যামও বাম দিকে মোড় নিয়ে বলল, দেখো তো সেল সিগন্যাল পাওয়া যায় কিনা!
সিগন্যাল এখনো দুর্বল, ফোন বের করে মাই আইফোন অ্যাপ্লিকেশনটা চালু করতে করতে বলল রেমি। স্যামের ফোনটাকে এখনো অফলাইন দেখাচ্ছে। রেমির আশঙ্কা হচ্ছে ইভানরা হয়তো নাইজেলের পকেটে থাকা ফোনটার খোঁজ পেয়ে গেছে। তাই ফোনটা অফ করে দিয়েছে। তবে দুর্গ থেকে মাইলখানেক দূরে যেতেই সিগন্যালের দেখা মিললো আবার। পেয়েছি সিগন্যাল।
ওকে। তবে তোমার পকেটমারার ভয়ানক দক্ষতার প্রশংসা না করে পারছি না, রেমি। তুমি নিশ্চিত যে আগের জীবনে তুমি সন্ত্রাসচক্রের মূলহোতাদের কেউ ছিলে না?
শুনে হেসে উঠলো রেমি। আরেহ, কারো পকেট থেকে কিছু চুরি করার থেকে পকেটে মোবাইল ঢুকিয়ে দেওয়াটা অনেক সহজ কাজ।
মিউজিয়ামে মহিলার কী-কার্ডের ব্যাপারটা তাহলে কী ছিলো?
ওটা তো মহিলার কাঁধে ঝুলছিলো, আমি শুধু টান দিয়ে নিয়েছি। তেমন কঠিন কাজ না এটা, বলে আবার ফোনের দিকে তাকালো রেমি। যাই হোক, উত্তর-পূর্ব দিকে যাচ্ছে ওরা।
তাহলে আমরাও ওদিকে যাচ্ছি। দেখি নাইজেলকে কোথায় নিয়ে যায় ওরা। আর তুমি রাস্তার দিকে খেয়াল রাখো। ফিস্ক আবারো দেখা দিতে পারে যে কোনো সময়।
****
উত্তরের রাস্তা ধরে প্রায় চল্লিশ মিনিটের মতো ড্রাইভ করার পর অর্ধ-কাঠের তৈরি সাদা বর্ণের এক সরাইখানার সামনে এসে গাড়ি থামালো স্যাম। সরাইখানার সাইনবোর্ডে লেখা পিগ অ্যান্ড ল্যান্টার্ন।
জায়গাটায় বেশ জনশূন্য। তবে তাদের অনুসরণ করা নীল গাড়িটাও দাঁড়িয়ে আছে সরাইখানার সামনে। সত্যি বলতে তাদের থেকে মাত্র কয়েক মিনিট আগেই এসে এখানে থেমেছে গাড়িটা। গাড়ি থেকে নেমে প্রথমে ট্রাংক থেকে নাইজেলকে বের করে আনলো ইভান। লোকটাকে প্রচণ্ড আতঙ্কগ্রস্ত দেখাচ্ছে এখন।
আমাদের মনে হয় পুলিশকে ফোন করা উচিৎ, বলল রেমি।
আমেরিকায় থাকলে ঠিকই ডাকতাম। পারলে হয়তো সোয়াট টিমকেও আনার ব্যবস্থা করতাম। কিন্তু এখানে? পুলিশের আসতে কত সময় লাগবে তাই তো জানি না। আর তাছাড়া, বিএমডব্লিউয়ে থাকা অস্ত্রধারী লোকদুটোর দিকে ইশারা করে স্যাম বলল, তোমার কি মনে হয় ঐ দুই পাগলাটে খুনী নিরস্ত্র পুলিশকে খুন করতে কোনো দ্বিধা করবে? সুস্থ মস্তিষ্কে এমনটা হতে দিতে পারবো না আমি।
কিন্তু আমরা তো নাইজেলকেও তাদের হাতে এভাবে ছেড়ে দিতে পারবো না।
হা, পারবো না। তবে আপাতত নাইজেলের কোনো ক্ষতি করবে না ওরা। নাইজেলকে জীবিত দরকার তাদের। সে মরে গেলে অনুবাদ সম্ভব হবে না।
ইশশ, লোকটাকে তখন যেতে না দিলেই ভালো হতো।
তবে ওটা নিয়ে এখন আর ভেবে কোনো লাভ হবে না। নাইজেলকে অসহায়ভাবে সরাইখানার ভিতরে ঢুকতে দেখা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই তাদের।
অন্যরা সরাইখানার ভিতরে ঢুকে গেলেও কুকুর নিয়ে জ্যাক চলে গেছে অন্যদিকে। অবশ্য কিছুক্ষণের মধ্যেই ফিরে এসে সেও ঢুকে গেলো সরাইখানার ভিতরে। তবে এবার আর সাথে কুকুরটা নেই।
স্যাম?
ভাবছি, সরাইখানার সামনে এসে থামা অন্য একটা গাড়ির দিকে তাকিয়ে বলল স্যাম। গাড়িটার পিছনের কাঁচে সদ্য বিবাহিত লেখা রয়েছে। গাড়িটা থামতেই তরুণ এক যুগল বেরিয়ে এসেছে ট্রাংক থেকে বিশাল বিশাল দুটো ব্যাগ বের করে পা বাড়ালো সরাইখানার প্রধান দরজার দিকে।
দৃশ্যটা দেখেই একটা আইডিয়া মাথায় খেললো ওর…
কনসোল থেকে রেমির ফোনটা হাতে নিয়ে সিগন্যালটা দেখে খুশি হয়ে বলল, তো একদিন গ্রাম্য সরাইখানায় ছুটি কাটানোর ব্যাপারে কী মত তোমার?
এই ছুটির সাথে অপরাধী দমনও অন্তর্ভুক্ত আছে?
আমি নিশ্চিত না ছুটির মেনুতে এটা আছে কিনা, বলতে বলতে সরাইখানার সাইনবোর্ডের দিকে তাকালো স্যাম। তবে কপাল ভালো হলে বিশেষ কিছু করার সুযোগ পেলেও পাওয়া যাতে পারে। বলে সাইনবোর্ডে থাকা নম্বরটাতে ফোন দিলো স্যাম।
একবার রিং বাজতেই অন্য পাশ থেকে এক মহিলা জবাব দিলো, পিগ অ্যান্ড ল্যান্টার্ন থেকে বলছি।
আজ রাতে থাকার মতো কি কোনো রুম আছে আপনাদের ওখানে?
একটু অপেক্ষা করুন…, ফোনে কম্পিউটার কীবোর্ড চাপার শব্দ শুনতে পাচ্ছে ও। জ্বি, আছে। নাম?
রেমির দিকে এক পলক তাকিয়ে স্যাম বলল, লংস্ট্রিট। মি. অ্যান্ড মিসেস লংস্ট্রিট।
লংস্ট্রিট… আবারো কীবোর্ডের খুটখুটে শব্দ ভেসে আসছে অন্য পাশ থেকে। কয় রাতের জন্য?
শুধু এক রাতের জন্য। আমরা অবশ্য দেরিতেই আসবো। সন্ধ্যার পর পর।
ওকে। আপনারা পেমেন্ট কোন ক্রেডিট কার্ড দিয়ে করছেন?
আমেরিকান এক্সপ্রেস, বলে রেমির দিকে ইশারা করলো স্যাম। রেমি এখনো তার কুমারি নামের ক্রেডিট কার্ডটা ব্যবহার করে। কার্ডটা বের করে তার হাতে দিতেই কার্ডের নম্বরটা মহিলাকে জানালো স্যাম।
ধন্যবাদ, মি. লংস্ট্রিট। একরাতের জন্য আপনাদের নামে রুম বুক করে রেখেছি আমরা। চেক আউট আগামিকাল।
মহিলাকে ধন্যবাদ জানিয়ে কলটা কেটে দিলো স্যাম। এখন অপেক্ষার পালা।
ঠিক তখনই একটা মেসেজ এলো রেমির ফোনে। সেলমার মেসেজ… মেসেজটা ওপেন করে বলল রেমি। এটা কখনো ভুলেও কল্পনা করিনি আমি। ইভানদের সাথে থাকা ঐ মহিলার নাম আলেক্সান্দ্রা এভেরি। চার্লস এভেরির স্ত্রী।
আসলেই? ঐ মহিলা না সোশ্যাল প্রোগ্রামের সাথে জড়িত? পার্টি, ফান্ড রেইজার এসব নিয়েই তো ব্যস্ত থাকে সবসময়।
