ফোনে লাযলো ও সেলমাকে জানানোর পর লাযলো অবশ্য তাদের সিদ্ধান্ত টা পছন্দ করতে পারেনি। গুপ্ত সংকেতের অর্থ পুরোপুরি বের না করা পর্যন্ত কোথাও খুঁজতে যাওয়াটা খুবই তড়িৎ সিদ্ধান্ত বলে মনে হচ্ছে তার কাছে। নিন্ম মানের ছবি আর সাইফার হুইলের ঝাপসা চিহ্ন থেকে অর্থ বের করার কাজটা খুব একটা সহজ না।
যাই হোক, আমরা তো সারাজীবন অপেক্ষা করতে পারবো না, বলল স্যাম।
আর, তাছাড়া, রেমি যোগ করলো সাথে, চার্লস এভেরির থেকেও এগিয়ে থাকতে হবে আমাদেরকে।
ওদেরকে ভুলে যান, বলল লাযলো। আপনারা কি জানেন গ্রেট ব্রিটেনে কতগুলো দুর্গের ধ্বংসস্তূপ আছে? খোঁজা শেষ করতে করতে বুড়ো হয়ে যাবেন আপনারা।
রেমি ঠিকই বলেছে, স্যাম বলল। এভেরি আর ফিস্ক নাইজেলের অনুবাদ করা নোটবইটা ছিনিয়ে নিয়ে গেছে। এরমানে তারাও আমাদের মতো একই পথে আছে।
গুপ্তধনগুলোও সর্বশেষ এই এরিয়াতেই দেখা গিয়েছিলো, বলল রেমি। আর তাছাড়া ম্যাপের সংকেতেও দুর্গের কথা বলা আছে। তো সম্ভাবনাকে বাদ দিবো কেন? কে জানে হয়তো সঠিক পথে এগুনোর মতো কোনো গুরুতুপূর্ণ তথ্যও পেয়ে যেতে পারি।
তা ঠিক। হালকা ঘুরে দেখলে হয়তো তেমন সমস্যা হওয়ার কথা না, বলল লাযলো। তো, ঘুরে দেখুন একবার। আমি এদিকের কাজ সামলাচ্ছি। কিছু বের করতে পারলে আপনাদের জানাবো।
বলে ফোনটা সেলমার কাছে ফিরিয়ে দিয়ে কাজে ফিরে গেলো লাযলো। ওদিকে স্যামও স্পিকার অফ করে ফোনটা তুলে দিলো রেমির হাতে। ব্রির ব্যাপারে সেলমার সাথে কিছুক্ষণ কথা বলে ফোন রাখার পর অবশ্য বেশ খুশিই দেখাচ্ছে তাকে।
ভালো সংবাদ? স্যাম জানতে চাইলো।
মনে হয়। ব্রি এখন মোটামুটি ভালোই আছে শুনলাম। আগের মতো ঝামেলা নেই। সেলমা ভাবছে মিশন শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত ব্রিকে আমাদের ওখানেই রেখে দিবে।
ভালো একটা আইডিয়া। আমিও চাই না আবারো এভেরির খপ্পরে পড়ুক ও।
তখনই তাদের দরজায় টোকা দিলো কেউ। নাইজেল এসে গেছে। গতরাতের ঘটনার পর নাইজেলকে আর কোনো বিপদে ফেলার ইচ্ছা ছিল না। তাদের। সেজন্যেই লোকটাকে তাদের সাথে আসতে মানা করেছিলো। তারপরও নাইজেল নিজে থেকেই জোর করে এসে তাদের সাথে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বলেছে যে আসন্ন বিপদ সম্পর্কে ভালোভাবেই ধারণা আছে তার।
****
নাইজেলের দিক নির্দেশনায় গাড়ি চালাচ্ছে স্যাম। আর রেমি বসে আছে গাড়ির পিছনের সিটে। গতরাতের ঘন কুয়াশা এখন কিছুটা পাতলা হয়েছে, তারপরও চারপাশ ঠিকই ঝাপসা হয়ে আছে। তাই ওয়াইপারগুলো চালু করে নিলো স্যাম।
জায়গাটায় পৌঁছে দেখলো কার পার্কে ডজনখানেকের মতো গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে মাত্র। এখনো খুব বেশি ট্যুরিস্ট এসে জমায়েত হয়নি এখানে। গাড়ি পার্ক করে ট্রাঙ্ক থেকে ব্যাকপ্যাক বের করে নিলো স্যাম।
চমৎকার, দুর্গের দিকে হেঁটে এগিয়ে যেতে যেতে বলে উঠলো রেমি। কুয়াশা জমে থাকায় দুর্গের রুক্ষ প্রান্তগুলোকে সূর্যের আলোতে রুপালি দেখাচ্ছে। ফোন বের করে দুর্গার কয়েকটা ছবি তুলে নিলো রেমি। আহ, সাথে যদি এখন একটা সত্যিকারের ক্যামেরা থাকতো।
কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে পুরো দৃশ্যটা একবার দেখে নিলো ওরা। পাথরের কাঠামোটার প্রশংসা না করে পারছে না। তারপর আবার পা বাড়ালো দুর্গের দিকে। গ্রন্থ অনুসারে, দুৰ্গটা নির্মাণ করা হয়েছিলো দ্বাদশ শতাব্দীর দিকে। বারো একর জায়গার ওপর বিস্তৃত পাথরের বিশাল কাঠামোটাকে দেখে মধ্যযুগীয় দুর্গ মনে হলেও, এটা সত্যিকার অর্থে নির্মাণ করা হয়েছিলো হান্টিং লজ হিসেবে।
তবে দুঃখের বিষয় হলো তাদের আকাঙ্ক্ষিত কিছুই নেই এখানে। প্রায় একঘণ্টা ধরে দুর্গের প্রতিটি কোনায় কোনায় খুঁজেও কিছু না পাওয়ার স্যাম ধরেই নিলো যে লাযলো ঠিকই বলেছিলো। অন্তত এই দুৰ্গটা ক্ষেত্রে লায়লোর কথাই ঠিক। তারা আসলেই তাদের সময় নষ্ট করছে এখানে। অন্য কোথাও কি খোঁজ করা দরকার আমাদের? খোঁজাখুঁজি শেষে পাথরের সিঁড়ি দিয়ে দুর্গের মাটিতে নামতে নামতে নাইজেলকে জিজ্ঞেস করলো স্যাম।
মাথায় এখন একটা জায়গার নামই ঘুরছে শুধু। কিং জনের সমাধি। আর ওটা খুঁজে পাওয়া খুব একটা সহজ কাজ না।
কেন না? জানতে চাইলে স্যাম। আমাদের হাতে তো সময় আছে।
শত শত বছর ধরে জমা কাদামাটি সরানোর সময় আছে? আর তাছাড়া সমাধিটা কোথায় সেটাও সঠিকভাবে জানে না কেউ। একটা সাধারণ ধারণা আছে শুধু। বিশ্বাস করুন, অনেকেই খুঁজে দেখেছে, কিন্তু কেউই খুঁজে পায়নি জায়গাটা।
সত্যি বলতে নাইজেল এখনই ক্যাসল রাইজিং-এর ওপর থেকে আশা সরাতে চাচ্ছে না। রানি ইসাবেলের ব্যবহার করা কথিত গুপ্তসুড়ঙ্গটা এখনো খুঁজে পায়নি ওরা। পাশ দিয়ে তার পরিচিত টুর গাইডকে এগিয়ে যেতে দেখেই স্যামদেরকে বলল, লোকটা আমাদের হিস্টোরিক্যাল সোসাইটিতে ছিলো… তার হয়তো কিছু জানা থাকতে পারে। এখনই ফিরে আসছি আমি।
****
কারপার্কে যাওয়ার রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে নাইজেলের জন্য অপেক্ষা করছে স্যাম ও রেমি। যদিও নাইজেল কোনো অজানা নতুন তথ্য বের করে আনতে পারবে বলেও আশা করছে না ওরা। স্যামের যতটা ধারণা এই ধ্বংসস্তূপের আড়ালে তেমন কোনো গুপ্ত ইতিহাস লুকিয়ে নেই।
অযথাই সময় নষ্ট ভেবে, কারপার্কের দিকে তাকাতেই চমকে গেলো স্যাম। কারপার্কটা এখন প্রচুর গাড়ি ও স্কুলবাসে ভরে গেছে। এর ভিতর দিয়েই এগিয়ে আসতে থাকা একটা নীল বিএমডব্লিউ চোখে পড়লো তার। সত্যি বলতে নজরটা পড়েছে গাড়ির পিছনের সিটে থাকা কালো রঙের বিশালাকৃতির কুকুরটার ওপর। গাড়িটা পরের সারির দিকে এগিয়ে যেতেই ড্রাইভারকেও চোখে পড়লো তার। ড্রাইভারকে সে ভালোভাবেই চিনে। ড্রাইভারের কপালে থাকা ব্যান্ডেজটাও তাদের পরিচিতির প্রমাণ। কয়েকরাত আগে মিউজিয়ামে ইভানের কপালের এই জায়গাতেই আঘাত করেছিলো ও। ওটা ইভান। বিএমডব্লিউর ড্রাইভিং সিটে।
