জবাবটা দিলো রেমি, এটাকে আসলে ভাগ্যই বলা যায়। আমাদেরও জলদি দরকার ছিলো এটা, আর আপনিই ছিলেন সবচেয়ে কাছাকাছি। বলে এরপর পার্স থেকে কাগজ-কলম বের করে আনলো।
জবাবে সন্তুষ্ট হয়ে আবারো মেসেজ ঘাটা শুরু করলো নাইজেল। মেসেজটা পেতে বেশি দেরি হলো না। আপনাদেরকে আগেই একটা কথা বলে দিচ্ছি, কাগজটা হাতে নিয়ে লিখতে লিখতে বলছে নাইজেল, অনুবাদে কিন্তু প্রচুর ভুল থাকার সম্ভাবনাও আছে। পুরোনো ও মধ্যযুগীয় দুটো ইংরেজি নিয়েই কাজ করেছি আমি। সময়ের ব্যবধানে শব্দগুলোর বানান বদলেছে অনেক, সেই সাথে অনেক শব্দের অর্থ এবং লেখার ধারাও বদলেছে প্রচুর। আমি এটাই বলতে চাচ্ছি যে, আপনারা যদি এই লেখাটা অন্য কোনো বিশেষজ্ঞকে দেখান, সে হয়তো পারলে পুরোপুরি ভিন্ন অনুবাদও করতে পারে! বলে কাগজটা স্যামের দিকে বাড়িয়ে দিলো নাইজেল। লাযলো আমাকে এই শব্দগুলোই পাঠিয়েছে। প্রথম তিনটা শব্দ একদম সহজ। ইন্টারনেটে ঢুকলে যে কেউই এই শব্দগুলোর অর্থ বের করে ফেলতে পারবে।
কাগজটা হাতে নিয়ে শব্দের তালিকাটা দেখলো স্যাম। প্রথম তিনটা শব্দের অর্থগুলো হচ্ছে, গর্ত অথবা কূপ, দুর্গ, পাথর অথবা পাহাড়। কোনো ধারণাই নেই বাকিগুলোর ব্যাপারে? জিজ্ঞেস করলো স্যাম। সে নিজেও কোনো অর্থ বের করতে পারছে না এগুলোর। শব্দগুলো হলো, wul hol আর wul eshea od…
এই অংশটাই বেশি কঠিন লাগছে আমার। দুঃখিত, কোনো ধারণাই নেই এগুলোর ব্যাপারে।
রেমিও স্যামের হাত থেকে তালিকাটা নিয়ে দেখলো একবার। তো, প্রথম কয়েকটা শব্দই শুধু জানতে পেরেছি আমরা। এরপর কী?
বাক্যের প্রসঙ্গটাই সব কিছু, বলল নাইজেল। এটা থেকেই আসলে বাক্যের উৎপত্তি এবং কোথায় লেখা হয়েছিলো সেটা জানা যায়। বিশেষ করে কোনো শব্দের দ্বৈত অর্থ আছে কিনা তা বুঝা যায়। এই যেমন শেষ শব্দটাই দেখুন। এর অর্থ কিন্তু পাথর বা পাহাড় দুটোই হয়। বাক্যের প্রসঙ্গ জানা থাকলে সঠিক অর্থটা ধরা যেতত।
কাগজটা আবারো রেমির হাত থেকে নিয়ে স্যাম বলল, একটা পুরোনো ম্যাপে লেখাগুলো খুঁজে পেয়েছি আমরা। খুব সম্ভবত ১৬৯৬ সালের ম্যাপ ওটা। তবে শব্দগুলো খুব সম্ভবত লেখা হয়েছিল কিং জনের মৃত্যুর সময়কালের দিকে।
শুনে ভ্রু কুঁচকে গেলো নাইজেলের। আপনি বলছেন এই শব্দগুলো কিং জনের হারানো সম্পদগুলো কোথায় আছে তা নির্দেশ করছে? মানে সম্পদগুলো এই কিংস লিনে আছে?
এই ব্যাপারে আসলে কিছু জানি না। এই শব্দগুলো আমরা পেয়েছি এক সাংকেতিক গুপ্তবার্তা থেকে। ওটার অর্থও এখনো পুরোপুরি উদ্ধার করা যায়নি।
শব্দগুলো কি আবার দেখতে পারি আমি? বলে কাগজটার দিকে হাত বাড়িয়ে দিলো নাইজেল।
স্যামের হাত থেকে কাগজটা নিয়ে আরো কিছুক্ষণ ভেবে নিলো নাইজেল। তারপর বলল, ধরে নিচ্ছি যে সাংকেতিক বার্তা থেকে বের করা এই অর্থটাই সঠিক। তো যদি এটাই সূত্র হয়ে থাকে, তাহলে খুব সম্ভবত রাজসম্পদগুলো এই শব্দগুলো লুকানোর জায়গার অবস্থানটা নির্দেশ করছে। তবে জায়গাটা নির্ণয় করাটাই সবচেয়ে বড়ো সমস্যা।
এখানের কোনো কিছুর সাথে কি শব্দগুলো ম্যাচ করছে? জিজ্ঞেস করলো রেমি।
হ্যাঁ, করছে। কিন্তু এখানের সব জায়গাতেই তো কোটি কোটিবার খুঁজে দেখা হয়েছে। সম্পদগুলো তো কখনোই পাওয়া যায়নি।
হয়তো খুঁজেছে, বলল স্যাম। তবে তারা তো আমাদের মতো গবেষণা করে দেখেনি। তো, কোন জায়গায় আছে বলে ধারণা আপনার?
এখানের গর্ত বা কুপটা সম্ভবত কিং জনের সমাধিকে নির্দেশ করছে। এখান থেকে লং সাটনে যাওয়ার মাঝামাঝি অবস্থানে পড়ে ওটা। আর এটা যদি সত্যি হয়ে থাকে, তাহলে কাদামাটির ত্রিশ ফুট নিচে রয়েছে সম্পদগুলো। তবে
তবে কী? নাইজেলকে থেমে যেতে দেখে জিজ্ঞেস করলো স্যাম।
তবে এর সাথে থাকা অন্যান্য শব্দগুলোর কোনো মানে বুঝতে পারছি না আমি। দুর্গ আর পাহাড়র? কোনো মানেই বুঝতে পারছি না। অথবা, দুর্গের ভিতরে থাকা কূপ বা পাহাড়ের ওপর থাকা দুর্গর কথাই ভাবুন একবার। এখানে তো এরকম অনেক দুর্গই আছে।
কিং জনের সময়কালে ছিলো এরকম কোনো দুর্গও কি আছে?
হ্যাঁ, ক্যাসল রাইজিং।
তাহলে মনে হচ্ছে আগামিকাল সকালে এক্সপ্লোরিং-এ নামতে হচ্ছে আমাদের।
সাথে রেমিও তার গ্লাস উঁচিয়ে ধরে টোস্ট করে বলল, সফল গুপ্তধন শিকারের প্রতি!
৪১. ক্যাসল রাইজিংর দিকে যাত্রা
৪১.
পরদিন সকালে ক্যাসল রাইজিংর দিকে যাত্রা করার সিদ্ধান্ত নিলো স্যাম ও রেমি। এখন পর্যন্ত তিনটা সাইট খুঁজে পেয়েছে ওরা। এর মধ্যে ক্যাসল একরও আছে। তবে এটার সাথে কিং জন বা গুপ্তসম্পদের কোনো সম্পর্কে নেই বলে এটাতে যাওয়ারও কোনো ইচ্ছা নেই তাদের। তাছাড়া নাইজেলও ক্যাসল রাইজিং যাওয়ারই পরামর্শ দিয়েছে তাদেরকে। এর সাথে রানি ইসাবেলারও সম্পৃক্ততা আছে। সেখানেই থাকতে রানি ইসাবেলা, বা বলা যায় সেখানেই নির্বাসনে পাঠানো হয়েছিলো তাকে। সিংহাসন দখলের পর ইসাবেলার ছেলে তৃতীয় এডওয়ার্ড তাকে এবং তাঁর প্রেমিক রজার মর্টিমারকে সেখানেই নির্বাসিত করেছিলো। গুজব আছে ইসাবেলা নাকি সবার অলক্ষ্যে দুর্গ থেকে আসা যাওয়া করার জন্য একটা গুপ্ত সুড়ঙ্গ ব্যবহার করতেন। এজন্যেই ক্যাসল রাইজিং-এ যাওয়ার প্রতিই তাদের আগ্রহ বেশি।
