আপনি ঠিক আছেন? জিজ্ঞেস করলো স্যাম। এতোক্ষণে রেমিও এসে পৌঁছে গেছে তাদের কাছে।
মনে হয়। একটু আগে আপনার সাথেই কথা হয়েছিলো আমার?
হ্যাঁ। আমিই ফোন করেছিলাম।
আচ্ছা।
হাত বাড়িয়ে নাইজেলকে উঠে দাঁড়াতে সাহায্য করলো স্যাম। হাঁটতে পারবেন তো।
হ্যাঁ, বলে সামনের দিকে পা ফেলল নাইজেল। তবে বেশিক্ষণ সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে পারলো না। টলতে টলতে পড়ে যাওয়ার অবস্থা প্রায়।
হাত বাড়িয়ে নাইজেলকে পড়া থেকে আটকে ধরে রেমি বলল, আমাদের মনে হয় অ্যাম্বুলেন্স ডাকা উচিৎ।
না। আমি ঠিক আছি। একটু সময় দিন শুধু।
রেমি ঠিকই বলেছে, স্যাম বলল। আপনার এখন ডাক্তার দেখানো দরকার।
ঠিক আছে বুঝানোর জন্য জোর করে মুখে হাসি ফুটিয়ে তুললো নাইজেল। আরে নাহ। আমার আসলে এখন একটা কড়া ড্রিংক দরকার।
লোকটাকে ধরে ধরে পথ ধরে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে স্যাম। রেমি আছে। নাইজেলের অন্যপাশে। নাইজেলকে অতোটা গুরুতর আহত মনে হচ্ছে না। স্যামের কাছে। কোনো রক্তের ছাপ নেই লোকটার শরীরে, শুধু ধুলো আর কিছু পাতা লেগে আছে লোকটার ধূসর স্যুটে। তবে যেটাই ঘটে থাকুক না কেন, ঘটনাটায় খুব চমকে গেছে লোকটা। এখনো ঐ চমকের মধ্যেই আছে। এভাবেই কোনোরকমে ক্যাবল ব্যারিয়ারটা পার হওয়ার পর রেমি আবারো জিজ্ঞেস করলো, আপনি নিশ্চিত যে আপনি ঠিক আছেন?
হ্যাঁ, তবে হালকা একটু মাথাব্যথা করছে শুধু, জবাবে বলল নাইজেল।
কী হয়েছিলো তা কি বলতে পারবেন? জিজ্ঞেস করলো স্যাম।
নিশ্চিত না। ট্যুর শেষ করে ওয়্যারহাউজ থেকে আপনাদের সাথে দেখা করার জন্যই ফিরে আসছিলাম। তখনই কেউ একজন এগিয়ে এসে বলল দক্ষিণ জেটির দিকে কী যেন নড়াচড়া করছে, তাই আর ওদিকে না গিয়ে অ্যালির শর্টকাট ধরেই পা বাড়ালাম। হালকা কিছুটা এগিয়েছি, তখনই কে যেন পিছন থেকে মাথায় আঘাত করলো আমাকে।
হুম, ছিনতাইয়ের ঘটনার মতোই শোনাচ্ছে, বলল স্যাম।
পকেটে একবার হাত দিয়ে হেসে উঠলো নাইজেল। আমার ওয়ালেটটা নিয়ে গেছে। তবে লাভ নেই, ওয়ালেটে বোধহয় পাঁচ পাউন্ডের মতো ছিলো। হতাশ হতে হবে তাদেরকে।
স্যাম নাইজেলকে পুলিশের কাছে ফোন করার কথা বলতে যাবে তখনই জেটির দিক থেকে মৃদু গর্জন ভেসে আসতে শুনতে পেলো ও। অন্য দুজনও শুনেছে শব্দটা। শব্দ শুনে ঘুরতে যাবে তখনই কুয়াশার ভিতর থেকে কালো রঙের বিশাল বড়ো একটা কুকুর বেরিয়ে এলো তাদের সামনে। তাদের দিকে তাকিয়ে দাঁত বের করে গরগর করছে কুকুরটা।
তাড়াতাড়ি করে রেমিকে তার পিছনে টেনে নিলো স্যাম।
কুকুরটা দেখেই ধীর পায়ে একটু একটু করে পিছিয়ে যেতে শুরু করেছে তিনজন। পিছিয়ে যেতে যেতে স্যাম নজর রাখছে কুকুরটার দিকে। শুধু কুকুরটাই নয়, এর পিছনে উদয় হওয়া চওড়া-কাঁধের মানুষের ছায়ামূর্তিটার দিকেও নজর রাখছে ও।
.
৪০.
রেমি? ফিসফিসিয়ে ডাকলো স্যাম। তোমার কাছে কী…?
প্রশ্নটা শেষ করার আগেই পেপার স্প্রের ছোটো কন্টেইনারটা বের করে স্যামের দিকে বাড়িয়ে দিলো রেমি।
দৌড়াও এখন, বলল স্যাম।
সাথে সাথেই ঘুরে উলটো দিকে দৌড় লাগালো রেমি ও নাইজেল। আর স্যাম কন্টেইনাটার তাক করে ধরে স্প্রে করতে যাবে, তখনই বিপদ বুঝতে পেরে সামনে থেকে সরে গেলো কুকুরটা। তাই কুকুরের বদলে স্প্রেটা ছায়ামূর্তির দিকে ছুঁড়ে দিয়ে ঘুরে অন্যদের দিকে দৌড় লাগালো স্যাম। স্প্রেটা লোকটার মুখে লেগেছে সেটা জানার প্রতিও কোনো আগ্রহ নেই তার। পিছন থেকে কুকুরের ঘেউ ঘেউ শব্দ শুনতে পেলো স্যাম। সেই সাথে অন্য কারো পায়ের শব্দও ভেসে আসছে। এরমানে হয় স্যামের ছুঁড়ে দেওয়া স্প্রেটা লোকটার মুখে লাগেনি, নয়তো লোকটার সাথে কোনো সঙ্গী আছে।
রেমি ও নাইজেল এতক্ষণে অনেকটা এগিয়েছে। ডেভিলস অ্যালির ধনু আকৃতির প্রবেশমুখের নিচ দিয়ে দৌড়ে যাচ্ছে।
একদম সঠিক নামকরণ, ভাবতে ভাবতে দৌড়ে অন্য দুজনের কাছে পৌঁছালো স্যাম। পিছনে ফিরে তাকালো একবার, কিন্তু কুয়াশার জালের কারণে কাউকে দেখা যাচ্ছে না। | এই পথে আসুন, ডান দিকে মোড় নিতে নিতে বলল নাইজেল। পুলিশ স্টেশনটা খুব একটা দূরে না।
পাঁচ মিনিটের ভিতরেই পুলিশ স্টেশনে পৌঁছে আক্রমণের ব্যাপারে রিপোর্ট করলো ওরা। ডিউটিতে থাকা অফিসার ইন্টারভিউ রুমে নাইজেলের সাথে কথা বলছে। আর ঐ ফাঁকে লবিতে অপেক্ষা করছে স্যাম ও রেমি।
লবির চেয়ারে বসতে বসতে রেমি বলল, কপাল ভালো যে ঘটনাটা ঘটার সময় আমরা ওখানেই ছিলাম।
স্যাম ওদিকে রুমের ভিতর পায়চারি করতে করতে বলল, আমরা যে লোকটার সাথে দেখা করার জন্য অপেক্ষা করছিলাম, তার ওপরই আক্রমণ হলো। ব্যাপারটা অদ্ভুত না?
হ্যাঁ, খুব বেশি কাকতালীয় ব্যাপার।
এতোদিন ধরে আমাদের সাথে যা কিছু ঘটছে, তারপর নিশ্চিতভাবেই এটা খুব বড়ো ধরনের কাকতালীয় ঘটনা। তারপর হুট করে পায়চারি থামিয়ে রেমির দিকে তাকিয়ে বলল, ডেভিলস অ্যালির কালো দানোর গল্পটা…।
তোমার কি মনে হয় আক্রমণের ঘটনাটা ঘটানোর জন্য ফিস্ক বা এভেরি ঐ মহিলাকে গল্পটা বলার জন্য আমাদের কাছে পাঠিয়েছিলো? বৃদ্ধার ব্যাপারটা কিন্তু কাকতালীয়ও হতে পারে। তবে আক্রমণের ব্যাপারটা…
নাইজেলকে আক্রমণ করেই বা কার কী লাভ?
হয়তো আমাদের সাথে কথা বলে থেকে বিরত রাখার জন্যই আক্রমনটা করেছিলো। বলে ক্লান্ত দীর্ঘশ্বাস ফেললো রেমি। কে জানতো যে আমাদের সাথে কথা বলাটা কারো জন্য এতো বিপজ্জনক হয়ে উঠবে?
