‘তুমিও যেতে পারো।’ স্যামকে বলল লিও। আমি এখানে চুপচাপ বসে থাকব। সমস্যা হবে না।’
“শিওর? জিজ্ঞেস করল স্যাম।
হুম। তবে তোমরা যদি কয়েকদিন পরে ফেরো তাহলে ভিন্ন কথা।’
‘উল্টাপাল্টা কথা! ল্যাজলো আর স্যামকে নিয়ে এগোল রেমি। শেষবারের মতো তাকাল রাশিয়ানের দিকে।
গুহার কাছে পৌঁছুনোর পর ফ্ল্যাশলাইট জ্বালালো সবাই। নাক কুঁচকাল রেমি। গন্ধ আসছে। সালফার মনে হয়।’
‘এই জঙ্গলে কি ভালুক আছে নাকি?’ ল্যাজলো বলল ফিসফিস করে।
মনে হয় না। কিন্তু নিশ্চিত করে কিছু বলাও যাচ্ছে না। জাপানিরা এখানে কী কী করে গেছে কে জানে।
হুম। এমনও হতে পারে জাপানিরা ভালুক পুষেছিল যাতে শত্রুদেরকে আক্রমণ করতে পারে।’
‘ইন্টারেস্টিং ব্যাপার।’ বলল ল্যাজলো।
এবারও সামনে যাবে নাকি রেমি? স্ত্রীকে বলল স্যাম।
না। এবার তুমি যাও।’
স্যাম মাথা নিচু করে গুহার ভেতরে ঢুকল। গুহার ভেতরে উচ্চতা মাত্র ৪ ফুট। বুড়ো মানুষের মতো ঝুঁকে এগোচ্ছে ওরা। তবে প্রস্থে বেশ জায়গা আছে। আগের গুহার মতো এই গুহাটা বড় নয়। মাত্র একটা অংশ আছে এতে। ব্যস।
একটা ভাল খবর দিচ্ছি। এখানে কোনো কঙ্কাল নেই।’ বলল স্যাম।
ল্যাজলো বলল, ‘গুপ্তধনও নেই।
হুম। আমরা তাহলে এখান থেকে বেরোতে পারি।’ বলল রেমি।
গুহার ভেতরে আরেকটু চোখ বুলিয়ে বেরিয়ে এলো সবাই। দিনের আলো ওদের চোখে বেশ সজোরে আঘাত হানল। চোখ ছোট করে ফেলল সবাই।
এবার? ল্যাজলো প্রশ্ন করল।
চারদিকে তাকিয়ে দেখল স্যাম। তারপর তাকাল লিও’র দিকে। একটু দূরে বেচারা আহত পা নিয়ে বসে আছে। স্যাম ঘড়িতে সময় দেখে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল। আমার ইচ্ছা ছিল আরও কিছুক্ষণ ঘুরে দেখার। কিন্তু ৫ ঘণ্টা পর সন্ধ্যা নামবে। এদিকে লিও আহত। ওকে নিয়ে টানাটানি করলে পায়ে ইনফেকশন দেখা দিতে পারে। ঝুঁকি নেয়া ঠিক হবে না। তারচে বরং আমরা ফিরে যাই। গাড়িতে করে ওকে হাসপাতালে রেখে আসি। তারপর আবার অভিযান শুরু করা যাবে। জিপিএস-এ পথের মার্কিং করে রেখেছি। এই জায়গা খুঁজে পেতে সমস্যা হবে না।’
‘তার মানে দাঁড়াচ্ছে আমরা এখন ফিরে গেলেও এই খুনের বিষয়গুলো কাউকে রিপোর্ট করছি না, তাই তো?’ বলল ল্যাজলো।
‘ঠিক ধরেছেন। স্যাম সায় দিল। কিন্তু কাজ শেষ হওয়ার পর আমরা অবশ্যই রিপোর্ট করব। এবার চলুন, আগের কাজ আগে সেরে ফেলি।
লিও-কে নিয়ে ফিরতি পথ ধরল ওরা। ধীরে ধীরে সময় নিয়ে এগোলো। লিও-র পায়ের অবস্থা বেশ নাজুক। অবশেষে যেখানে গাড়িটা পার্ক করে রেখে গিয়েছিল সেখানে এসে দেখল গাড়ির চারটা টায়ার পাংচার হয়ে আছে।
‘গাড়িটা গেল।’ বলল স্যাম। একটা টায়ারের কাছে গিয়ে বসল ও। কেউ এসে ভাল্ব খুলে দিয়ে গেছে। খুব খারাপ কথা।’
কার খেয়ে দেয়ে কাজ নেই, এই কুকাজটা করল? কে বা কারা করল এটা?’ রেমি বেশ রেগে গেছে।
‘আমাদেরকে যারা পছন্দ করছে না তারাই করেছে। বলল ল্যাজলো। ‘অবশ্য দুষ্টুমি করে বাচ্চারাও এটা করতে পারে।’
‘তাহলে এবার আমরা কী করব? গাড়ির চাকা পাংচার হওয়াতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে লিও।
‘চিন্তার কিছু নেই। স্যাম আশ্বস্ত করল। আমি ডেস-কে ফোন করছি। সে একটা গাড়ি ভাড়া করে এখানে হাজির হয়ে যাবে। লিও, তোমাকে জাস্ট একটু কষ্ট করে আর মাইলখানেক হেঁটে মেইন রোড পর্যন্ত যেতে হবে। পারবে তো?’
‘আরও আগে ফোন করা উচিত ছিল।’
‘আরে বাবা, আমরা কি জানতাম এখানে এসে গাড়ির এই অবস্থা দেখব? রেমি বুঝিয়ে বলল। এখন সামনে একটা কঠিন কাজ আছে। ডেস-কে এখানকার মেইনরোডটা কোথায় সেটার দিক-নির্দেশনা দিতে হবে। ডেস এরআগে কখনও এখানে আসেনি। বিষয়টা অতটা সহজ হবে না।’
লিও মাথা নাড়ল। তা পারব। আমাদের তো এখন তো কোনো তাড়াহুড়ো নেই। সময় নিতে পারব তো?
গাড়ি নিয়ে এখানে আসতে আসতে ডেস-এর রাত হয়ে যাবে। জাহাজ থেকে বন্দরে আসবে। সেখান থেকে গাড়ি ভাড়া নিয়ে আসবে এখানে। অনেক সময় লাগবে। কিন্তু রাতে জঙ্গলের ভেতর দিয়ে এগোনো নিয়ে ভাবছি। স্যাম বলল।
সমস্যা কী? আমাদের কাছে ফ্ল্যাশলাইট আছে। মনে করিয়ে দিল ল্যাজলো।
‘সেটাই তো সমস্যা। যেকোন জন্তু-জানোয়ারের কাছে আমরা সহজ টার্গেটে পরিণত হব। আর বিদ্রোহীদের কথা তো বাদই দিলাম।’
‘আর কিছু বলার নেই। চুপ মেরে গেল ল্যাজলো।
স্যাটেলাইট ফোন অন করে স্যাম ডেস-কে ফোন করল। জানাল সবকিছু। তারপর তাকাল দলের দিকে। আমরা এখন মেইনরোডের উদ্দেশে রওনা হব। একদম চুপচাপ এগোতে হবে। এমনও হতে পারে আমাদের জন্য কেউ ওঁত পেতে বসে আছে।
‘এক কাজ করলে কেমন হয়? গ্রামের ওই ছেলেটাকে আরও ২০ ডলার ধরিয়ে দিয়ে ওকে বলি বিকল্প কোন রাস্তা দিয়ে যেন আমাদেরকে মেইনরোডে পৌঁছে দেয়। বিষয়টা নিরাপদ হতে পারে।’ পরামর্শ দিল রেমি।
স্যাম হাসল। আইডিয়াটা চমৎকার। গ্রামের ভেতরে কয়েক পা এগোলো স্যাম। কয়েকজন বাসিন্দা বসে আছে সাথে সেই ছেলেটাও আছে। হাত দিয়ে ইশারা করে তাকে ডাকল স্যাম। বুলেটের গতি ছুটে এলো ছেলেটা। স্যামের একবার সন্দেহ হলো গাড়ির চাকার এই হালের পেছনে এই ছেলেটার হাল আছে কিনা, টাকার লোভে কাজটা করে থাকতে পারে। কিন্তু সন্দেহটা ঝেড়ে ফেলে দিল।
ডলারের লোভে রাজি হলো ছেলেটা। জঙ্গলের ভেতর দিয়ে অপরিচিত এক রাস্তা দেখিয়ে নিয়ে চলল দলকে। আধাঘণ্টা যেতেই মেঘ ডেকে বৃষ্টি নামতে শুরু করল। ওরা এখন ঢালু অংশ বেয়ে নামছে। সব পিচ্ছিল হয়ে গেছে বৃষ্টির পানিতে। চলার গতি কমে গেল। কয়েকবার বেকায়দায় পা পড়ল লিও-র। গুঙিয়ে উঠল বেচারা। বিড়বিড় করে অভিশাপ দিল। কিন্তু কাকে দিল সেটা বোঝা গেল না।
