অবশেষে মেইনরোডে পৌঁছুল সবাই। হাঁপ ছেড়ে বাঁচল লিও, বসে পড়ল রাস্তায়। ওর দেখাদেখি রেমি, ল্যাজলোও বসল। স্যাম ফোন করল ডারউইন এ। খবর পেল ডেস ইতিমধ্যে রওনা হয়ে গেছে। এরপর ছেলেটাকে ডলার বুঝিয়ে দিয়ে বিদেয় করল স্যাম। ছেলেটা চোখের আড়াল না হওয়া পর্যন্ত তার গমনপথের দিকে তাকিয়ে রইল।
শুরু হলো অপেক্ষার পালা। ডেস কখন গাড়ি নিয়ে হাজির হবে।
.
৪৩.
রাত ১০ টার দিকে ডেস গাড়ি নিয়ে হাজির হলো মেইনরোডে। স্যাম ডেসকে জানাল ওদেরকে হাসপাতালে যেতে হবে। লিও’র চিকিৎসা প্রয়োজন।
‘আজ রাতে ডারউইনে ফেরার দরকার নেই। বরং আমি এখানেই থাকব। ‘হাসপাতালের পার্কিং লটে গাড়ি রাখতে রাখতে বলল ডেস। তাছাড়া গাড়িটা অফিসে ফেরত দিলে হলেও সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। সকাল ৮ টার আগে তো আর অফিস খুলবে না।’
তাহলে আপনি নিশ্চিন্তে আমাদের হোটেলে থাকতে পারেন। রেমি বলল। হাঙ্গামার কারণে হোটেল প্রায় খালি পড়ে আছে।
‘বেশ। ডেস হাসপাতালের দিকে তাকিয়ে দেখল ইমার্জেন্সি সেকশনে ঢোকার অংশে স্রেফ একটা মাত্র লাইট জ্বলছে। হাসপাতাল চালু আছে তো? নাকি বন্ধ?
‘চালু আছে। এখানকার একমাত্র হাসপাতাল এটা। চালু না থেকে উপায় নেই।’ বলল স্যাম।
লিওকে নিয়ে হাসপাতালে ঢুকল ওরা। রেজিস্ট্রেশনের কাজ সারার পর লিওকে একটা হুইলচেয়ারে বসিয়ে ভেতরে নিয়ে যাওয়া হলো। স্যাম ও রেমি গেল লিও’র সাথে। রিসিপশন এরিয়ায় বসে রইল ল্যাজলো আর ডেস।
হাসপাতালের ভেতরে ডা. বেরি ফারগো দম্পতির সাথে ক্লান্তভঙ্গিতে হাত মেলালেন।
কীভাবে হলো? লিও-কে টেবিলের উপর শোয়ানোর পর বললেন তিনি।
‘পাহাড়ে উঠতে গিয়ে…’ লিও জবাব দিল।
“ঠিক আছে। দেখছি কী করা যায়…’ কাঁচি নিয়ে ব্যাণ্ডেজ কাটার পর জখম পরীক্ষা করলেন ডাক্তার। ওহ… বেশ ব্যথা হচ্ছে নিশ্চয়ই?’
‘তা তো হচ্ছে। আমি অবশ্য এই অবস্থায় হাঁটতে পেরেছি। তাই মনে হচ্ছে, কোনোকিছু ভাঙেনি।’
‘ভাল। কিন্তু তারপরও একটা এক্সরে করাতে হবে। হাড়ের কোনো ক্ষতি হেয়ছে কিনা দেখে রাখা ভাল। স্যাম ও রেমি’র দিকে ঘুরলেন ডাক্তার। ‘ব্যাণ্ডেজটা সুন্দর হয়েছিল।
‘ধন্যবাদ।’ বলল রেমি। আচ্ছা, ডা. ভ্যানা আজকে ডিউটিতে নেই?
না। তাকে চেনেন নাকি?’
‘হ্যাঁ। আমাদের বন্ধু।
‘ও আচ্ছা। উনি ডাক্তার হিসেবেও বেশ ভাল। ডাক্তার লিও’র দিকে মনোযোগ দিলেন। এই জখম দুই-তিন দিনেই সেরে যাবে। এখন জায়গাটা আমি একটু পরিষ্কার করব। লিও সাহেব, আপনার এখন হালকা ব্যথা লাগতে পারে।
‘হাতিকে সূঁচ ফোঁটানোর ভয় দেখাচ্ছেন, ডাক্তার?’ বলল লিও।
দশ মিনিট পর লিও’র জখমে ট্রিটমেন্ট করার পর ওকে এক্স-রে করার জন্য নিয়ে যাওয়া হলো। রিসিপশন এরিয়ার ফিরে গেল ফারগো দম্পতি। দেখে, ডেস আর ল্যাজলো জমিয়ে গল্প করছে।
‘আমাদের রাশিয়ান বন্ধুর কী অবস্থা? ওদেরকে আসতে দেখে ডেস জানতে চাইল।
‘খুব শীঘ্রই নাচতে পারবে না। তবে আঘাত গুরুত্বর নয়। সেরে যাবে। বলল স্যাম।
‘তাহলে তো ভালই। আচ্ছা, আপনাদের গাড়ির টায়ার তো পাংচার। ওটার জন্য কী করবেন ভাবছেন?
‘ওখান থেকে গাড়িটাকে নিয়ে আসার জন্য একটা টো-ট্রাক (দূর্ঘটনায় আক্রান্ত গাড়িকে সরানোর বিশেষ বাহন) পাওয়া মুশকিল হয়ে যাবে।
কাজটা হয়তো বাচ্চারা করেছে। এসব অকর্ম করাটাই ওদের প্রধান কর্ম। ডেস মন্তব্য করল। সারা দুনিয়ায় একই অবস্থা। বিচুগুলোর খেয়েদেয়ে কাজ থাকে না। এসব করে বিনোদন নেয়।
হতে পারে।’
‘তাহলে আপনাদের অভিযান বন্ধ?’ ল্যাজলোকে প্রশ্ন করল ডেস।
‘সেটাই তো প্রশ্ন।
‘আমি ভাবছি, কালকে একজন ডাইভারকে সাথে নিয়ে যাব। আমাদের গাড়ি পাহারা দেয়ার জন্য তাকে বসিয়ে রেখে অভিযানে গেলে আশা করি আর এরকম সমস্যা হবে না। স্যাম জানাল।
‘ঠিক আছে। সমস্যা নেই। ওখানে আমাদের কাজ একটা ছন্দে এগোচ্ছে। একজন সরে গেলেও খুব একটা ক্ষতি হবে না।’
“শুনে খুশি হলাম। একটা নিউজ আপনাকে এখনও জানানো হয়নি। একটা বড় জাহাজ আসছে। খুব শীঘ্রই এখানে আপনাদের বোরিং দিন শেষ হবে।
‘আমি জানি। সেলমা আমাদের হেডঅফিসে জানিয়েছে বিষয়টা। আমরা শনিবার রওনা হচ্ছি। হাসল ডেস। আমরা চলে গেলে লিও সাহেব বোধহয় খুশিই হবেন?
হেসে উঠল সবাই।
হাসি বন্ধ করে স্যাম সিরিয়াস হলো। মিস্টার ডেস, পাহাড়ী অভিযানে আমাদের সাহায্য লাগতে পারে। সাহায্য করতে পারবে এরকম কারও সাথে আপনার যোগাযোগ আছে?’
‘আছে। কালকে এই বিষয়টা নিয়ে সেই অফিসের সাথে কথা বলব।’ ডেস একটা অফিসের নাম বলল। সৌভাগ্যবশত সেই অফিসের সাথে ফারগো দম্পতি এখনও কাজ করেনি।’
‘দ্বীপে আমাদের ভাগ্য এপর্যন্ত খুব একটা ভাল নয়। যে গাড়ি নিয়েছি। সেটাই কোনো না কোনো বিপদে পড়েছে। আশা করি, সামনে আর ওরকম হবে না।’ বলল রেমি।
২০ মিনিট পর লিওকে দেখা গেল। ওর হুইলচেয়ারের পেছনে আছেন ডা. বেরি। আপনাদের বন্ধুর ভাগ্য ভাল। কোথাও হাড় ভাঙেনি। তবে রক্তক্ষরণ হয়েছে। বেশি করে পানি আর ফলের রস খাওয়াতে হবে। বা পা দিয়ে কোনো কাজ করা যাবে না। এক সপ্তাহ পর আবার চেকআপ করাতে আসবেন।
তাহলে আর ডাইভিং করতে হবে না? লিও বেশ খুশি।
রাতে হোটেলে ফিরল সবাই। নতুন অতিথিদের জন্য রুম নেয়া হলো। রেস্টুরেন্ট খোলা ছিল তখনও। ডিনার সেরে যে যার রুমে চলে গেল।
