ল্যাজলো’র দিকে তাকিয়ে চোখ পাকাল রেমি। এখন তারা থুড়থুড়ে বুড়ো। তাহলে কীভাবে সম্ভব?
‘আইকিউ কম থাকলে যা হয় আরকী।’ সুযোগ পেয়ে লিও খোঁচা মেরে দিল।
সবাই বেরিয়ে এলো গুহার ভেতর থেকে। ঘড়ি দেখল স্যাম। কর্নেলের নোটবুক মতে, এই ধার দিয়ে আর কোনো গুহা নেই।’
মাথা নাড়ল ল্যাজলো। তাহলে আমরা কী করব? চারিদিকে তো লাইমস্টোনে ভরপুর। আচ্ছা, কঙ্কালগুলোর কী হবে? আমাদের উচিত বিষয়টা দ্বীপের কাউকে রিপোর্ট করা।
‘আমরা রিপোর্ট করলেই প্রশাসন এই অংশ চষে ফেলবে। লিও জানাল। “আর সেটার পর গুপ্তধন পাওয়ার আশা করা সম্ভব না।
“কিন্তু এতগুলো মানুষের খুন…’ আমতা আমতা করল ল্যাজলো।
‘তা ঠিক আছে। আমরা রিপোর্ট করব, তবে এখানে আমাদের কাজ শেষ হওয়ার পর। গুপ্তধন পাওয়ার পর পুলিশকে জানাব। বাকিটা তারা করবে। এখন আমাদের কাজ শেষ করতে হবে। স্যাম ব্যাখ্যা করল বিষয়টা। কী? রাজি?’ জিজ্ঞেস করল ল্যাজলোকে।
মাথা নেড়ে সায় দিল ল্যাজলো। দিনের আলো আর কতক্ষণ থাকবে?
‘আরও আধবেলা পড়ে আছে। মাত্র সাড়ে এগারটা বাজে।
‘তাহলে আমরা এক কাজ করি। আরেকটা ঝরনার কাছে গিয়ে দেখি ওখানে কোনো গুহা পাওয়া যায় কিনা।
রওনা হলো সবাই। এবার রেমি আছে সবার আগে। স্যাম পেছনে তাকাল। ওর মনে হচ্ছে, আড়াল থেকে কেউ দেখছে ওদের।
‘আমি জানি, কথাটা বোকার মতো শোনাবে, কিন্তু তারপরও কেন যেন মনে হচ্ছে, আমরা এখানে একা নই। আস্তে করে বলল ও।
ঘাড় ঘুরিয়ে স্বামীর দিকে তাকাল রেমি? কেন? তুমি কি আবার কণ্ঠস্বর শুনতে পাচ্ছ?’
মশকরা কোরো না, রেমি। আমি সিরিয়াস।
“আরে বুদ্বু, শোনো, এখানে আমরা আর জায়ান্ট ছাড়া আর কেউ নেই।’
ইয়ার্কি করে তো উড়িয়ে দিচ্ছ আমার কথা। ঠিক আছে, দেখব।
.
৪২.
আরও আধাঘণ্টা চড়াই এগোনোর পর দেখা গেল জঙ্গল এখানটায় একটু হালকা হয়েছে। ক্রমশ পূর্বদিকে সরে এসেছে ওরা। রেমি থেমে বলল, ‘দেখো, আরেকটা গুহা। একটু দূরে গাছপালার আড়ালে থাকা দিকটায় নির্দেশ করল ও। সেদিকে এগোল সবাই। গুহাটা দেখতে বেশ ছোট। ভেতরে একজন মানুষ ঢোকাই কষ্টসাধ্য।
ঠিক বলেছ। বলল স্যাম। চলো বন্ধুরা, এটাই হবে হয়তো।
গুহার দিকে পা বাড়াল সবাই। জায়গাটা বিভিন্ন পাথরের টুকরোয় ভরা। হঠাৎ একটা টালমাটাল পাথরের উপর পা পড়ল স্যামের। কিন্তু দক্ষতার সাথে নিজের ভারসাম্য রক্ষা করে পতন ঠেকাল ও। পাথরটাকে সরাল সামনে থেকে। সাবধানে পা ফেলো। কিছু কিছু পাথর আলগা হয়ে আছে। সম্প্রতি কোনো পাহাড়ী ধ্বসের ফলে হয়তো এই আলগা পাথরগুলোর ছিটকে এসেছে।
জঙ্গল থেকে গুহাটার অবস্থান একটু উঁচুতে। সবার আগে স্যাম পৌঁছে গেল। ওর পিছে পিছে রেমি আর ল্যাজলোও উঠে গেল। বেচারা ল্যাজলো একটু হাপিয়ে গেছে। স্যাম ওদেরকে কিছু একটা বলতে যাবে এমন সময় নিচের ঢালু জায়গা থেকে লিও’র চিৎকার ভেসে এলো।
‘গেছি রে!
স্যাম আর রেমি ছুটল লিও’র কাছে। দেখল দুটো বড় সাইজের পাথরের মাঝখানে লিও’র বাঁ পা আটকে গেছে। পাথরের কিনারের সাথে ঘষা লেগে ছিলে যাওয়ায় রক্ত ঝরছে। কীভাবে হলো? প্রশ্ন করল রেমি।
‘আমি একটা রামছাগল! নিচের দিকে না তাকিয়ে আশেপাশের দৃশ্য দেখার তালে ছিলাম। দাঁত দাঁত চেপে বলল লিও।
‘অবস্থা কী বেশি খারাপ? স্যাম জানতে চাইল।
‘ব্যথা হচ্ছে। কিন্তু আমার মনে হয়, পা ভাঙেনি। টান দিয়ে পা-টা বের করার চেষ্টা করল লিও। ভাল মতো আটকে গেছে দেখছি।
‘ল্যাজলো, আমরা ম্যাচেটি দিয়ে কিছু পাথর সরিয়ে জায়গা বের করতে পারি। তাহলে লিও’র পা মুক্ত হয়ে যাবে। লিও’র দিকে তাকাল স্যাম। ‘আমরা কাজ শুরু করছি। যখন পায়ে চাপ কম অনুভব করবে তখন টান নিয়ে পা বের করে ফেলবে, ঠিক আছে?
হুম। ব্যথায় বেচারার চোখ দিয়ে পানি বেরোচ্ছে।
কিছুক্ষণের মধ্যে সবাই মিলে হাত লাগিয়ে লিও’র পা মুক্ত করে ফেলল। এখনও রক্ত বেরোচ্ছে পা থেকে। পায়ের উপর শরীরের ভার চাপিয়ে টেস্ট করল লিও। যাক, ভাঙেনি। কিন্তু মনে হচ্ছে যেন আগুন ধরে গেছে।
‘তাড়াতাড়ি ব্যান্ডেজ করে ফেলি। রক্তপড়া বন্ধ করতে হবে।’ বলল রেমি। ওর ব্যাকপ্যাকে থাকা ফাস্টএইড কিটটা বের করে তাড়াতাড়ি কাজে লেগে পড়ল।
লিও’র পায়ে থাকা বুটের রং বদলে রক্তাভ হয়ে গেছে। সাদা মোজা রক্তে ভিজে একাকার। দুই মিনিটের মধ্যে এসব পরিষ্কার করে রেমি একটা স্ট্রিপ দিয়ে ঢেকে দিল ছড়ে যাওয়া অংশটুকু। তারপর জখম হওয়া স্থানে অ্যান্টিসেপটিক লাগানোর পর বাটারফ্লাই ব্যাণ্ডেজ করে দিল। ব্যস, আপাতত এতেই চলবে।
কী অবস্থা?’ লিও-কে ধরে দাঁড় করাল স্যাম।
‘আরও কিছুক্ষণ তোমাদের সাথে থেকে বিরক্ত করতে পারব।
‘হাঁটতে পারবে?’ রেমি জানতে চাইল।
‘কোনমতে।’
গুহামুখের দিকে তাকাল স্যাম। ল্যাজলো, আপনি আর রেমি গুহা দেখে আসুন। আমি লিও’র কাছে থাকি।
মুখ ব্যাদান করল। আমি দুঃখিত। আমার আরও সতর্ক হওয়া দরকার ছিল।
ব্যাপার না। গুপ্তধন হাতে চলে এলে এসব কিছুই মনে থাকবে না। বেশ উৎসাহ নিয়ে বলল ল্যাজলো। রেমি এখন একটু নার্ভাস। তারপরও মুখে হাসি ফুটিয়ে রাখল।
‘তাহলে তুমি এখানেই থাকছো?’
‘যদি দরকার পড়ে অবশ্যই আসব।’
‘আশা করছি, পড়বে না।’ রেমি বলল।
