‘ওগুলো…? মাঝপথে রেমি থেমে গেল।
“হুম, ওগুলো প্লাস্টিকের গোলাপি স্যাঞ্চেল। সাধারণত বাচ্চা মেয়েরা পরে। বলল স্যাম।
‘এই জিনিস তাহলে এখানে কেন?’ ল্যাজলো ফিসফিস করে বলল।
কাঁধ ঝাঁকাল স্যাম। তা বলা যাচ্ছে না। তবে এগুলো এখানে আছে বেশ কয়েকদিন হলো। জানোয়াররা এসে না হয় মাংস খুবলে খেয়েছে, পচনে পরনের পোশাকও গায়েব কিন্তু এদেরকে দেখে তো মনে হচ্ছে না, এরা আহত হয়েছিল। কোথাও কোনো হাড় ভাঙ্গা নেই। মাথার খুলিও ঠিকঠাক আছে। হয়তো প্রাকৃতিক কোনো কারণে এদের মৃত্যু হয়েছে।
আপত্তিসূচক মাথা নাড়ল রেমি। আমার তা মনে হয় না। ওদের কব্জি দেখো।
কী ওটা? জানতে চাইল লিও।
সবাই ঝুঁকে দেখল জিনিসটা। নরম গলায় ল্যাজলো বলল, প্লাস্টিকের হাতকড়া। জিনিসটা প্লাস্টিকের হলেও একবার বাধলে বন্দির আর ছোটার উপায় থাকে না। মৃত্যুর সময় ওদের হাত এটা দিয়ে বাধা ছিল।’
৪১. জেফরি গ্রিমস
৪১.
সিডনি, অস্ট্রেলিয়া
জেফরি গ্রিমস এইমাত্র তার একান্ত সেক্রেটারি সিনথিয়া’র সাথে রোমান্টিক মুহূর্ত সেরে আরাম করে বসল এক্সিকিউটিভ চেয়ারে। ওর শার্টের উপরের দুটো বোম খোলা। জেফরির অনেক বয়স হলেও এখনও বিয়ে করেনি। প্রচুর অর্থের অধিকারী, হ্যান্ডসাম ব্যাচেলর হয়েই দিন পার করে দিচ্ছে। বিয়ে করে একজন নারীর কাছে বন্দি হয়ে থাকবে আর্থিকভাবে দুর্বল পুরুষেরা। জেফরি’র মতো বিত্তশালীরা কেন একজন নারীর কাছে দিনের পর দিন বছরের পর বছর নিজের যৌবন অপচয় করবে?
হঠাৎ জেফরি’র সেল ফোন একটা বিশেষ রিংটোনে বেজে উঠল। চমকে উঠল জেফরি গ্রিমস। এই রিংটোন শুনলেই ওর রক্ত ঠাণ্ডা হয়ে আসে। অবশ্য এটা জেফরি ইচ্ছে করেই সেট করেছে। ফোনটাকে কানের কাছে নিল ও।
হ্যালো,
‘আগামীকাল দ্বীপে আরেকটা ঘটনা ঘটানো হবে। দ্বীপের ভাগ্য লেখা হয়ে যাবে কাল। বরাবরের মতো যান্ত্রিক কণ্ঠস্বর ভেসে এলো ওপাশ থেকে।
অনেক সময় লাগছে। আমি ভেবেছিলাম শেষ যে ঘটনা ঘটিয়েছিলেন তাতেই কাজ হয়ে যাবে। আপত্তি তুলল জেফরি।
‘এত সহজ নয়। অনেক বাধা ঠেলে এগোতে হচ্ছে।
‘এদিকে আমার অবস্থা শোচনীয়। ব্যাংকের লোকজন বারবার টাকা চেয়ে তাগাদা দিচ্ছে। জরুরী ভিত্তিতে টাকা দরকার। নইলে সর্বনাশ হয়ে যাবে। জানেন তো আমার যাবতীয় অর্থ আপনি আপনার কথামতো খরচ করেছি।’
হুম। আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে সব হয়ে যাবে। তারপর আপনি দ্বীপ থেকে আপনার খরচ হওয়া অর্থের চেয়ে অনেক গুণ বেশি অর্থ তুলে নিতে পারবেন। তৈরি থাকুন, খুব শীঘ্রই আপনাকে যাত্রা শুরু করতে হবে।’
‘গত এক সপ্তাহ ধরে তৈরি হয়ে বসে আছি।
“ঠিক আছে। আপনাকে আর অপেক্ষা করতে হবে না। ওপাশ থেকে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল।
আজকের ফোন কলটা পেয়ে জেফরি বেশ খুশি। কাজ গুছিয়ে আনা হয়েছে তাহলে। খুশিতে পিংপং বল নিয়ে রুমের এমাথা থেকে ওমাথা পর্যন্ত খেলতে শুরু করল সে।
একবার দ্বীপের যাবতীয় খনিজ পদার্থের স্বত্ত্ব তার হাতে চলে এলেই কেল্লাফতে! রাতারাতি ওর কোম্পানীর শেয়ারের দাম রকেটগতিতে বেড়ে যাবে। দ্বীপের জঙ্গল-টঙ্গলে কত খনিজ পদার্থ আছে কে জানে। গ্রিমসের সামনে অঢেল অর্থ লাভের হাতছানি।
সিডনি হারবারে রাখা নিজের ইয়টের ক্যাপ্টেনকে ফোন করল গ্রিমস। জানাল, সবধরনের রসদ নিয়ে তৈরি থাকতে। জরুরী কাজে সমুদ্রে নামতে হতে পারে।
শার্টের বোম লাগিয়ে গায়ে স্যুট চড়াল জেফরি। একটু পর কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সাথে ওর মিটিং আছে। তারাও ওর লাভের ভাগীদার। কারণ জেফরি তাদের কাছ থেকে অর্থসংগ্রহ করেছে।
দ্বীপে বিদ্রোহীদের জয় হয়েছে এই বিষয়টা তাদেরকে জেফরি এখুনি জানাতে চায় না। খুশির খবর একটু দেরিতে দিলে ক্ষতি নেই।
***
গোয়াডালক্যানেল, সলোমন আইল্যান্ড
‘তাহলে এদেরকে বন্দি করা হয়েছে? কঙ্কালগুলোর হাতে থাকা প্লাস্টিকের বাঁধনগুলোর দিকে তাকিয়ে বলল লিও।
‘হুম, তাই তো মনে হচ্ছে। স্যাম কঙ্কালগুলোর দিকে ঝুঁকে নিচুগলায় বলল।
‘কিন্তু বন্দি করেছিল কারা?’ প্রশ্ন করল রেমি
‘বিদ্রোহীরা… নাকি?’ লিও বলল।
হতে পারে। ল্যাজলো সায় দিল। “বিদ্রোহীরা এখানে কতদিন ধরে কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে?
‘জানি না।’ বলল স্যাম। তবে যতদূর বুঝেছি অল্প কিছুদিন হলো তাদের উদয় হয়েছে।
‘ঠিক। এদের সম্পর্কে ২০০০ সাল থেকে এপর্যন্ত সেরকম কোনো খবর চাউর হয়নি। রেমি বলল।
গুহার দূরবর্তী অংশের দেয়ালের দিকে ফ্ল্যাশলাইট তাক করল ল্যাজলো। ‘এখন ওসব বাদ দিয়ে আমাদের মূল কাজে মনোযোগ দিলে ভাল হয়। গুপ্তধন খুঁজতে এগোই আমরা? নাকি?”
কঙ্কালগুলোর দিকে তাকাল লিও। ল্যাজলো সাহেবের সাথে আমি একমত। চলো, গুপ্তধন খুঁজতে যাই। এগুলো পরেও দেখা যাবে। পালিয়ে তো যাচ্ছে না।
‘চলুন, ল্যাজলল, আমাদেরকে পথ দেখিয়ে নিয়ে চলুন। বলল রেমি।
‘দাঁড়াও!’ স্যাম থামাল ওদের। ওর দৃষ্টি সেই জলাশয়ের দিকে। আমি দেখতে চাই এটার গভীরতা কতটুকু।’
কী দরকার?’ লিও প্রশ্ন করল।
‘এমনও হতে পারে, জাপানিরা এই পানির নিচে গুপ্তধন লুকিয়ে রেখেছে। হাঁটু গেড়ে বসে হাতের ম্যাচেটি পানিতে চুবালো স্যাম। পাথরের সাথে বাড়ি লাগল সেটার। আস্তে আস্তে স্যাম জলাশয়ের মাঝখানে হাজির হলো। গভীরতা মাত্র ৩ ইঞ্চি। যাক, এখানে গুপ্তধন রাখেনি নিশ্চিত হলাম।’
