পুলিশের প্রথম রোডব্লক পার করার পর মুখ খুলল লিও, তোমরা কীভাবে শুরু করবে? ঠিক কোথা থেকে শুরু করতে হবে, জানবে কী করে?
‘আমরা ইতিমধ্যে জেনেছি জাপানিরা সাগর থেকে গুপ্তধন তুলে সরিয়ে রেখেছে। এবং সেটা কোথায় সরিয়ে রেখেছে সে-ব্যাপারে আমরা সেই ঘটনার সময়কার একজন বৃদ্ধ ব্যক্তির সাথে কথা বলেছি। এসবের ভিত্তিকে আশা করছি, আমরা সেই পুরানো জনশূন্য গ্রামটাকে খুঁজে বের করতে পারব। রেমি বলল।
“আর যদি না পারো?
‘তাহলে বিষয়টা একটু কঠিন হয়ে যাবে।’ বলল স্যাম।
‘আর ভাষাগত সমস্যার কী হবে? লিও প্রশ্ন ছুড়ল। আমার যতদূর মনে পড়ে, তোমরা বলেছিলে এখানকার গ্রামের লোকজন ইংরেজি বা পিজিন কোনটাতেই কথা বলতে পারে না।’
‘তবে বয়স্ক ব্যক্তিরা ইংরেজি জানে। শুধরে দিল রেমি। বহির্বিশ্বের সাথে তাদের আহামরি কোনো লেনদেন না থাকলে এখানে পর্যটন ব্যবসা বেশ চাঙ্গা। তাই ব্যবসার খাতিরে হলেও বিদেশি ভাষা তাদের শিখতেই হয়। হয়তো পিজিন ভাষাটা ওরা শিখেছে। আমরা পিজিন না জানলেও আমাদের ল্যাজলো সাহেব কিন্তু পিজিন ভাষায় ওস্তাদ।
‘আচ্ছা, বুঝলাম। মিস্টার ল্যাজলো ঠিক কীরকম দিক নির্দেশনা নোটবুক থেকে বের করেছেন জানতে ইচ্ছে করছে।
স্যাম রিয়্যারভিউ মিরর দিয়ে ল্যাজলো’র দিকে তাকাল। আপনার সলিড স্মৃতিশক্তির একটু নমুনা দেখাবেন, প্লিজ?
‘এহেম, এহেম। ইয়ে মানে, নোটবুক থেকে যা উদ্ধার করেছি সেটা হলো… শেষ কুঁড়েঘর থেকে সূর্য উদয়ের দিক, তারপর ছাগলের মাথা হয়ে যেতে হবে শত্রু এলাকায়। ওখানে ঝরনাধারা আছে। ঝরনার ওপাশেই পথ।
‘সিরিয়াসলি? এই জিনিসের উপর ভর করে এগোচ্ছি আমরা?
কর্নেল কুমাসাকা এসব লিখেছিলেন যাতে নিজেকে জায়গাটা সম্পর্কে মনে করিয়ে দিতে পারেন। তাই তিনি বিস্তারিত লেখেননি। স্রেফ কিছু সংকেত লিখেছেন। কিন্তু আমার মনে হয়, এটাই যথেষ্ট।
হুম, খুবই যথেষ্ট। ব্যঙ্গ করল লিও। এমন একটা গ্রাম আমরা খুঁজতে যাচ্ছি যার এখন কোনো অস্তিত্বই নেই। কেউ ওখানে থাকে না। তারপর আবার খুঁজতে হবে ছাগলের মাথা! তারপর ঝরনা। এরপর পথ পাওয়া যাবে। আচ্ছা, ধরে নিলাম গ্রাম, ছাগলের মাথা, ঝরনা সব পাওয়া গেল। কিন্তু তারপর যে পথটা পাওয়া যাবে সেটা ধরে কতদূর যেতে হবে? তার উত্তর জানা আছে? হতে পারে সেটা ১০ মিটার… আবার সেটা ১০ কিলোমিটারও হতে পারে। অত রাস্তা আমাদের পক্ষে যাওয়া সম্ভব? তার উপর আছে বিদ্রোহীদের হামলার ভয়। কখন কোথায় কাকে মেরে দেবে কোনো ঠিক নেই। বুঝেছ? কী বলতে চাচ্ছি?
মেঘ গর্জন করে উঠল। একটু পর শুরু হয়ে গেল ঝুম বৃষ্টি। প্রচণ্ড বৃষ্টিপাতের ফলে দৃষ্টিসীমা নেমে এলো ২০ ফুটে।
‘এত চিন্তার কিছু নেই। তুমি হয়তো আমাদের সাথে এসেছে এক রাত কাটানোর প্রস্তুতি নিয়ে। কিন্তু আমাদেরকে প্রয়োজনে কয়েক রাতও থাকতে হতে পারে। সেজন্য প্রয়োজনীয় রসদ আছে আমাদের সাথে। একাধিক তাবুও নিয়ে যাচ্ছি। কোনো সমস্যা হবে না। স্যাম আশ্বস্ত করল।
‘পোকামাকড় তাড়ানোর জন্য স্প্রে-ও আছে। ভয় নেই।’ যোগ করল রেমি।
‘এই যে, এখন বৃষ্টিটা শুরু হলো। সবকিছু কাদায় একেবারে ঝোল ঝোল হয়ে যাবে। লিও ঘোঁতঘোত করল।
‘পাহাড়ে উঠব আমরা। কাঁদায় খুব একটা সমস্যা হবে না। আর পাহাড়ের গায়ে পানি জমেও না। অতএব, দুশ্চিন্তার কিছু নেই।… বলতে বলতে আমরা জায়গামতো চলে এসেছি। গাড়ির গতি কমাল স্যাম। রেমি, এটাই সেই রাস্তা না? এই রাস্তা ধরেই তো আমরা রুবো-কে নিয়ে এখানকার একটা গ্রামে গিয়েছিলাম?
তুমুল বৃষ্টির মধ্যে গাড়ির কাঁচের ভেতর দিয়ে বাইরের দৃশ্য দেখার চেষ্টা করল রেমি। জঙ্গলের মধ্যে একটা ফাঁক দেখা যাচ্ছে। হতে পারে। নিশ্চিত করে বলা কঠিন।
‘বেশ। চলো, দেখা যাক আমাদের ধারণা সত্যি কিনা। এটুকু বলে স্যাম গাড়ি ঘোরাল সেদিকে। গাড়ির ছাদে গল্ফ বল সাইজের পানির ফোঁটা এসে আছড়ে পড়ছে। কাঁচা রাস্তায় ওদের নিশান পাথফাইণ্ডার নামার পর টায়ারগুলো বেশ কয়েকবার পিছলে গেল। কিন্তু মাটি আকড়ে ধরল কয়েক সেকেণ্ড পরেই।
ওরা গাড়ি নিয়ে জলধারার কাছে পৌঁছে গেল। ইতিমধ্যে বৃষ্টি থেমেছে। আগেরবার এই জলধারার সামনে এসেই রুবো দ্বিধাদ্বন্দে ভুগেছিল।
এবার আমরা কি জলধারাটুকু পার হব নাকি পাহাড় বাইতে শুরু করব?
বলো কী? অবাক হলো লিও।
‘আমার মনে হয় এবার জলধারা পার হলেই কাজ হবে।’ বলেই স্যাম গ্যাস প্যাডেলে চাপ দিল। গাড়িতে প্রচুর মালপত্র থাকায় একদম ভারি হয়ে গেছে। পানি ছিটিয়ে অগভীর জলধারাটুকু পার হয়ে গেল নিশান পাথফাইণ্ডার।
সামনে একটা গ্রাম উদয় হলো। হাঁপ ছেড়ে বাঁচল রেমি। যাক, ওরা ঠিক পথেই এগোচ্ছে। অবশ্যই এই গ্রামে মানুষজন বসবাস করে। গাড়ি থেকে নামল সবাই। কৌতূহলী গ্রামবাসীদের কেউ কেউ ওদের দিকে চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছে। ওদেরকে নিয়ে পাহাড়ের উঁচু অংশের দিকে এগোল স্যাম। আগেরবার যে কবিরাজকে দেখে গিয়েছিল তাকে এবার প্রথম দেখাতেই চিনে ফেলল। কবিরাজ স্যামের দিকে তাকিয়ে মাথা নাড়ল। হাত দিয়ে দেখাল পাহাড়ের উপরের দিকে একটা কুঁড়েঘর। আগেরবার ওরা ওখানে গিয়ে নাউরুর সাথে কথা বলেছি। স্যামও পাল্টা মাথা নাড়ল। ৫০ ডলার ধরিয়ে দিল বৃদ্ধ কবিরাজের হাতে।
