শহরের পরিবেশ বর্তমানে বেশ স্বাভাবিক। অস্ট্রেলিয়া থেকে নিরাপত্তারক্ষী বাহিনি এসে পৌঁছেছে। দ্বীপের স্থানীয় বাসিন্দারা স্বাগতম জানিয়েছে তাদেরকে। কেউ কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটায়নি।
***
পরদিন সকালে স্যাম ও রেমি একটু আগেভাগে উঠে পড়ল। ল্যাজলো আসছে আজ। দ্রুত রেডি হয়ে হনিয়ারা এয়ারপোর্টের টার্মিনালে দাঁড়াল ওরা। কয়েক মিনিট পর একজন কুলির মাথায় ভারী বোঝা চাপিয়ে তার পেছন পেছন টার্মিনাল থেকে ল্যাজলো বেরিয়ে এলো। ল্যাজলো’র পরনে খাকি শার্ট, হাফপ্যান্ট, পায়ে বুট মাথায় ক্লাসিক হেলমেট। অভিযানে যাওয়ার জন্য বেশ ভাল করে প্রস্তুতি নিয়ে এসেছে।
‘যাক, আপনাদেরকে পাওয়া গেল। কাস্টমসের ব্যাটারা আমাকে এসব নিয়ে আসতে দিতে চাচ্ছিল না। শালারা বলে, কিছু জিনিস রেখে যান। মগের মুলুক নাকি?’ ফারগো দম্পতির দিকে এগোতে এগোতে বলল ল্যাজলো।
স্যাম ওর সাথে হাত মেলাল। রেমি জড়িয়ে ধরল ল্যাজলোকে।
‘আপনার সাথে এত মালপত্র দেখে মনে হচ্ছে আপনি এখানে লরেন্স ও অ্যারাবিয়ার স্থানীয় ভার্সন তৈরি করার জন্য অডিশন নিতে এসেছেন!’ স্যাম বলল।
ল্যাজলো নিজের পোশাকের দিকে তাকাল। বলেন কী? এরআগে কাউকে কোনো অভিযানে এরকম পোশাক পরে বেরোতে দেখেননি? আমার মনে হয়, এরকম পোশাক এখানকার স্থানীয়দের কাছ থেকে ভাল আচরণ পেতে সাহায্য করবে।
যাক গে, যা হওয়ার হয়েছে। সার্কাসের ক্লাউন সেজে আসেননি তাতেই আমরা খুশি। ফোঁড়ন কাটল রেমি।
এরকম খোঁচা খেয়ে ল্যাজলো মুখ শক্ত করে ফেলল। আমি আপনাদের দু’জনকে বেশ ভালই বিনোদন দিচ্ছি মনে হয়!
ল্যাজলো’র কাঁধে হাত রাখল স্যাম। এত সিরিয়াস হচ্ছেন কেন? একটু মজা করছিলাম। বাদ দিন, বলুন, ফ্লাইট কেমন উপভোগ করলেন?
‘২১ ঘণ্টার ফ্লাইট। বোরিং লেগেছে। জঘন্য। আর কী বলব? বলার ভাষা নেই।’
“যাক, এখন আপনি উপভোগ করার মতো জায়গায় চলে এসেছেন। এবার সবাই একসাথে ঘোরা যাবে, কী বলেন?’ বলল রেমি।
‘কোনো নারীর কাছ থেকে শেষ কবে ঘুরতে যাওয়ার প্রস্তাব পেয়েছিলাম মনে করতে পারছি না। অবশ্যই ঘুরব। আমার অনেক এনার্জী আছে। আচ্ছা, আমি যে কোড ভেঙে তথ্যগুলো দিলাম সেটা আপনাদের কতখানি কাজে লেগেছে?
‘এখনও পর্যন্ত যথেষ্ট কাজে এসেছে। আমরা ভাবছি, কুমাসাকা’র সেই গ্রামটা আগে খুঁজে বের করব। কিন্তু পাহাড়ে না ওঠা পর্যন্ত ওই গ্রাম খুঁজে পাওয়া সম্ভব নয়। স্যাম জানাল।
‘আজই পাহাড় চড়তে শুরু করি, কেমন? দিনটা বেশ ভাল। আর্দ্রতা আর তাপমাত্রা দুটোই সন্তোষজনক মনে হচ্ছে। কত ডিগ্রি তাপমাত্রা এখন?
‘আমি ভেবেছিলাম আপনারা সেলসিয়াস দিয়ে তাপমাত্রা পরিমাপ করেন।’ বলল রেমি।
‘সেলসিয়াস আর ডিগ্রি-তে কী আসে যায় বলুন? গরম তো গরমই।’ ল্যাজলো বিষয়টা আমলে নিল না।
‘ভাল কথা, এখানে কিন্তু কুমীর, বিদ্রোহী বাহিনি, জায়ান্ট… ইত্যাদির আগাগোনা আছে। বিষয়টা মাথায় রাখবেন। স্যাম বলল।
‘আমি তো ভেবেছিলাম এসব আপনি মজা করে বলেন।
‘জায়ান্টের বিষয়টাকে মজা বলে ধরে রাখতে পারেন। কিন্তু বাকি সবগুলো একেবারে দিনের আলোর মত সত্যি। এখানকার খবর পড়ে আসেননি?’
সেলমা অবশ্য এগুলোর ব্যাপারে আমাকে বলেছিল। কিন্তু আমি পাত্তা দেইনি। ভেবেছিলাম, আমি যাতে এই অভিযানে যোগ দিতে না পারি সেজন্য বানিয়ে বানিয়ে বলছে। থামল ল্যাজলো। গলার স্বর নিচু করে বলল, ‘সেলমা কিন্তু আমার জন্য পাগল, বুঝলেন? আমি অবশ্য বুঝেও পাত্তা দেইনি। মজা নিচ্ছি। আমি যে আপনাকে এসব বলেছি এটা আবার সেলমা বলবেন না কিন্তু। আমি চাই না বেচারি কোনো বিব্রত পরিস্থিতিতে পড়ুক।
রেমি স্যামের দিকে তাকিয়ে চোখ পাকাল। ইশারা করল কথা বন্ধ করে পার্কিং লটে যাওয়ার জন্য।
গাড়িতে চড়ার পর দেখা গেল ল্যাজলো যে মালপত্রগুলো এনেছে তাতেই ভরে গেছে পেছনের অংশ। ল্যাজলো পেছনের সিটে কোনমতে বসার জায়গা পেয়েছে। বেচারা।
‘আশা করছি, এই সিন্দুকমার্কা গাড়ির এসিটা অন্তত ঠিকঠাক কাজ করবে।’ বলল ল্যাজলো।
“হুম, চমৎকার কাজ করবে। এই দ্বীপে এসে এপর্যন্ত তিনটা গাড়ি বদল করেছি। এটা চার নাম্বার গাড়ি। রেমি জবাব দিল।
“তাই নাকি? ওই তিন গাড়িতে কী হয়েছিল জানতে পারি?
স্যাম ও রেমি একে অন্যের দিকে তাকাল। রেমি রিয়্যার ভিউ মিররের দিকে তাকিয়ে জবাব দিল, সেটা আপনার না জানাই ভাল হবে।
“ঠিক আছে। দরকার নেই। চলুন, যাওয়া যাক।
“আচ্ছা, লিও-কে চেনেন আপনি?
না তো।
‘ওর সাথে দেখা হলে মজা পাবেন। স্বভাবে একদম আপনার বিপরীত।
‘ঠিক আছে। তাহলে তো দেখা করতে হয়।
‘ল্যাজলো, এই অভিযানে কিন্তু আপনার ভূমিকাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আপনি নোটবুকের কোড ভেঙে না দিলে আমাদের পক্ষে আর সামনে এগোনো সম্ভব হতো না। শেষমেশ যদি আমরা গুপ্তধন উদ্ধার করতে পারি তাহলে তার জন্য আপনিও বাহবা পাবেন।’
‘গুপ্তধন পেলে ধনী হয়ে যাব, তাই না? তাহলে নিজেকে তো এখনই ধনী ভেবে বসতে পারি, কী বলেন?’
রেমি নিজের হাসি দমিয়ে রাখতে পারল না। আপনার এই স্বভাবটা আমাদের দারুণ লাগে। সবসময় পজেটিভ চিন্তা করেন।
.
৩৯.
হোটেলে পৌঁছে লিও’র সাথে ল্যাজলো-কে পরিচয় করিয়ে দিল স্যাম। ভাড়া করা পাথফাইণ্ডারে চড়ে বের হলো সবাই। এদিকে আকাশে মেঘ জমে চারদিক অন্ধকার হয়ে গেছে।
