***
সমুদ্রের দিকে যাওয়ার পথে আজ পুলিশের গাড়ি চোখে পড়ল মাত্র একটা। সাগরের পাড়ে কোনো গাড়ির টায়ারের দাগও নেই। আগের যে দাগটা ছিল সেটা পানিতে ধুয়ে মুছে গেছে। এদিকে নিয়মিত বৃষ্টি হয়। ওরা পৌঁছুনোর ৫ মিনিট পর ডেস ছোট নৌকা নিয়ে হাজির হয়ে গেল। ডারউইন-এর দিকে যেতে যেতে এদিককার হালচাল জানাল ওদের।
জাহাজে ওঠার পর ওদেরকে সরাসরি ব্রিজে নিয়ে গেল ডেস। ওখানে লিও মনিটরের সামনে বসে ডাইভারদের কাজ দেখছে। স্যাম ও রেমি রুমে ঢুকতেই চোখ তুলে তাকাল।
‘গুড মর্নিং! লিও’র কাছে গিয়ে বলল স্যাম।
মর্নিং? এখন তো বিকেল! লিও আপত্তি করল।
‘আছি তো সবাই পানির উপরে। সকাল আর বিকেল গুলিয়ে ফেললে দোষ কী?’ হেসে বলল রেমি। এখানকার কাজের কী অবস্থা?
‘চলছে। এই হারে চলতে থাকলে কয়েক বছর লাগবে। লিও জবাব দিল।
‘তোমার জন্য একটা ভাল খবর আছে।’ বলল স্যাম। বড় জাহাজ আসছে। খুব শীঘ্রই চলে আসবে।’ সেলমা’র পাঠানো রিসার্চশিপের ব্যাপারে স্যাম লিও-কে সব খুলে বলল। জাহাজের কথা শুনে অবশেষে হাসি ফুটল রাশিয়ানের ঠোঁটে।
‘জাহাজটা এক্ষুণি এলে ভাল হতো।’ বলল লিও।
জাহাজ আসতে থাকুক। এই ফাঁকে তোমাকে অন্য একটা কাজে লেগে পড়তে হবে’ স্যাম কোড ও ল্যাজলো’র কথা জানাল লিওকে। আমরা চাই, তুমি জাহাজ থেকে নেমে আমাদের সাথে গুপ্তধন খোঁজায় যোগ দাও। রাজা লক-এর গুপ্তধন খুঁজতে অভিযানে নামব। তুমি সাথে থাকলে দলটা পূর্ণতা পাবে।
‘শুকনো জায়গায় নামতে পারব? কবে নামব? কখন নামব?’
‘খুব জলদি। স্যান ডিয়াগো থেকে প্রয়োজনীয় গিয়ার নিয়ে এক বন্ধু আসছে। সর্বোচ্চ দু’দিন লাগবে।’ স্যাম হাসল। এই সুযোগে আমরা তোমাদের সাথে ডাইভিং করব। রেমি বারবার বলছে, তোমার ডাইভিং স্বচক্ষে দেখতে চায়। আর তুমি জানো, তোমার ভাবীকে আমি কোনোকিছুতে “না” বলতে পারি না।’
মজা পেয়ে রেমি মাথা নাড়ল। হুম। আজ রাতে আমরা এখানেই থাকব। যাতে সকালের ডাইভিংটাও দেখতে পারি। লিও, তুমি তোমার ডাইভিং দক্ষতা আমাকে দেখানোর জন্য প্রস্তুত হয়ে নাও।
চোখ বন্ধ করে মাথা নাড়ল লিও। তোমরা মজা করছ? ওকে সমস্যা নেই। মজা করা ভাল।
রেমি অপেক্ষা করছে কখন লিও চোখ খুলবে। লিও চোখ খুলতেই সুন্দর একটা হাসি দিল রেমি। ডাইভিং নিয়ে আমি কখনও মজা করি না।
স্যাম কাঁধ ঝাঁকাল। বন্ধু, তোমার ভাবী-ই এখন বস। ওর কথা না শুনে উপায় নেই। চলো, পানিতে নামার জন্য প্রস্তুত হই।
.
৩৮.
পরদিন সকালে কুদের সাথে নাস্তা শেষ সেরে লিও-কে নিয়ে দ্বীপে ফিরল ফারগো দম্পতি। ডারউইন থেকে নামতে পেরে বেচারা খুব খুশি। পাড়ে পৌঁছে ওদের নিশান পাথফাইন্ডারের দিকে এমনভাবে দৌড় দিল যেন ফাঁসির দণ্ড থেকে মুক্তি পেয়েছে। বন্ধুর কাণ্ড দেখে স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে হাসল স্যাম।
‘লিও দৌড়াদৌড়ি সাবধানে করো। কুমীরের কথা ভুলে যেয়ো না। স্যাম সতর্ক করল।
গতি কমাল লিও। তাকাল স্যামের দিকে। আবারও মশকরা করলে নাকি?
না। এবার ও সিরিয়াস। বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে কুমীরের শ্রবণশক্তি বেশ ভাল। কুমীরের ভয় না থাকলে আমি গান গেয়ে, হাতে তালি বাজিয়ে হাঁটতাম। স্রেফ জীবনের মায়া করি বলে চুপচাপ আছি।’ বলল রেমি।
‘হুম। বেনজি’র কথা মনে আছে? বেচারা কিন্তু একটা পায়ে হারিয়েছে। স্যাম মনে করিয়ে দিল।
লিও থেমে দাঁড়াল। আমি বুঝতে পারছি। তোমরা বলতে চাইছ, এবার আমার পা-টাও হারাতে পারে।
‘এই তো বুঝেছ। তুমি জানো? একটা পুরুষ কুমীর রেসের ঘোড়ার চেয়ে দ্রুত দৌড়াতে পারে?’ বলল রেমি। এই তথ্যটা কোথায় পড়েছিলাম, ভুলে গেছি। কিন্তু তথ্যটা সঠিক। এখানকার লোকরা পুরুষ কুমীরগুলোকে “ল্যাণ্ড ব্যারাকুড়া” নামে চেনে।’
গাড়ির কাছে পৌঁছুনোর পর বরাবরের মতো সবকিছু চেক করল স্যাম। না, নতুন কোনো টায়ারের দাগ বা পায়ের ছাপ নেই। নিশ্চিত হয়ে সবাই গাড়িতে চড়ে বসল। রওনা হলো হোটেলের দিকে।
লিও-র জন্য একটা রুম যোগাড় করতে কোনো কষ্টই করতে হলো না। দাঙ্গা-হাঙ্গামার কারণে পুরো হোটেল প্রায় ফাঁকা।
‘ল্যাজলো জানিয়েছে ও আগামীকাল সকাল ৮-১০ টার মধ্যে এখানে এসে পৌঁছুবে।’ বলল রেমি।
‘চমৎকার। তাহলে আমরা বিকেলে পাহাড় অভিযানে বেরোতে পারব। গুহা খোঁজার ব্যাপারে আমি খুব উত্তেজনাবোধ করছি।’ স্যাম মন্তব্য করল।
‘বিষয়টা খুব গোপনে করতে হবে। লিও এখানকার সাগরের কী খুঁজে পেয়েছে আর সেটার সূত্র ধরে আমরা কী খুঁজতে যাচ্ছি এসব দ্বীপের লোকজন জানতে পারলে আমাদেরকে সবসময় ঘিরে রাখবে। গুপ্তধনের লোভ কার নেই?
‘ঠিক বলেছ। এখন প্রার্থনা করছি, ল্যাজলো’র তথ্য অনুযায়ী আমরা যেন সঠিক জায়গাটাই খুঁজে বের করতে পারি। আমরা সফল হলে লিও কিন্তু রীতিমতো রকস্টার বনে যাবে। ল্যাজলো’রও ফায়দা হবে, ওর মেধার জোরেই তো এগোচ্ছে এসব।
ফায়দা হলে তো ভাল। আমি তো ভয় পাচ্ছি পরে না সব ফালুদা হয়ে যায়!
‘তা হবে না। গুপ্তধন উদ্ধার বলে কথা।
‘গুপ্তধন আমাকে শেখাতে এসো না। এখন কীভাবে কাজটায় সফল হওয়া যায় সেই চিন্তা করো।’
‘সত্যি কথা বলতে, মুখে বলা সহজ। কিন্তু মাঠে নামলে সবকিছু কেমন যেন কঠিন হয়ে যায়। বলল স্যাম।
পুরো বিকাল জুড়ে দ্বীপে যেসব গিয়ার পাওয়া যায় সেগুলো সংগ্রহ করে কাটাল ওরা তিনজন। রাবার বুট, লেড ফ্ল্যাশলাইট, শক্ত রশি ইত্যাদি টুকটাক জিনিস পাওয়া গেল হাতের কাছেই। বাকিগুলো ল্যাজলো নিয়ে আসবে। তারপর শুরু হবে অভিযান।
