মুখে বলে ঠিক বোঝানো যাবে না। আপনাকে সব ইমেইল করে দিয়েছি। চেক করে জানাবেন আপনি কিছু বুঝতে পারলেন কিনা। এদিকে আমি আরও মাথা ঘামাতে থাকি। তবে মাথাকে বোধহয় এখন বিশ্রাম দেয়াই ভাল। হয়তো নতুন করে কিছু বের করা যাবে না।
“আচ্ছা, ইমেইল দেখব। এখন মুখেই সংক্ষেপে বলুন, শুনি।
‘এখানে একটা গ্রাম, ঝরণাধারাসহ বেশ কিছু জিনিসের কথা বলা আছে। মনে হচ্ছে, কোনো দিক নির্দেশনা টাইপের কিছু আরকী। তবে দ্রাঘিমাংশ আর অক্ষাংশ দেয়া থাকলে সুবিধে হতো।’
‘তা কী করে সম্ভব? কর্নেল যখন নোটবুক লিখেছেন তখন তার কাছে কোনো জিপিএস ছিল না। তাই নিখুঁত করে কিছু লিখেও যেতে পারেননি।
‘এটা অবশ্য ঠিক বলেছেন। কর্নেল সাহেব কিন্তু মনে মনে ঠিকই চেয়েছে কেউ যাতে তার কোডটা ভাঙতে পারে। কোড যদি ভাঙা সম্ভব না হয় তাহলে লেখার কী অর্থ থাকে বলুন? তবে হ্যাঁ, আমি তো প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে কোড ভেঙেছি। তখনকার সময়ে এরকম প্রযুক্তি ছিল না। কর্নেল ব্যাটার বুদ্ধি আছে বলতে হবে। তবে আমার সাথে পারেনি, বুঝলেন?
‘জি, ল্যাজলো, আপনার মতো মেধাবী ব্যক্তিকে টিমে পেয়ে আমরা গর্বিত।
‘এখন সেলমা’র সাথে কথা বলুন। দেখুন সে কী বলে…’
‘অসংখ্য ধন্যবাদ, ল্যাজলো। দারুণ কাজ করেছেন।’
‘আশা করি, আমার দেয়া তথ্যগুলো আপনাদের ওখানে কাজে আসবে। সেলমা অবশ্য মুখে কুলুপ এঁটে বসে আছে। ওকে বারবার জিজ্ঞাস করলাম, কাহিনি কী? কিছুই বলছে না।’
‘আসলে আমরা একটা ডুবে যাওয়া শহর খুঁজে পেয়েছি, সমুদ্রের তলায়। মনে হচ্ছে, ওখানে গুপ্তধন ছিল। কিন্তু ধারণা করা হচ্ছে, জাপানিরা দ্বীপ থেকে চলে যাওয়ার সময় গুপ্তধনগুলো ওখান থেকে সরিয়ে অন্য কোথাও লুকিয়ে রেখে গেছে। আর আপনি সেই গুপ্তধন খোঁজার ব্যাপারেই আমাদেরকে সাহায্য করছেন।’ রেমি’র দিকে তাকিয়ে হাসল ল্যাজলো। আচ্ছা, ল্যাজলো, এখন কি আপনি ওখানে কোনো কাজে ব্যস্ত আছেন?’
‘আমেরিকার কোন উপন্যাস সবচেয়ে সাহিত্যমান সম্পন্ন সেটা নিয়ে একটা প্রবন্ধ লিখতে বসেছিলাম তারপর হঠাৎ খেয়াল হলো… আরে! আমি তো ব্রিটিশ! আমেরিকানদের সাহিত্য দিয়ে আমার কাজ কী?! তাই সাহিত্য ছেড়ে টিভি দেখতে শুরু করেছি।
‘তাহলে এক কাজ করুন, ফ্লাইট ধরে চলে আসুন সলোমন আইল্যাণ্ড। আমাদের সাথে গুপ্তধন খুঁজবেন।’
স্যামের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলল রেমি। ও খুব ভাল করেই জানে ওপাশ থেকে কী জবাব আসবে। আমি পরের ফ্লাইট ধরেই আসছি!”
তাহলে আপনার এখানে আসতে আসতে দু’দিন লেগে যাবে।
‘আমাকে ছেড়ে গুপ্তধন খুঁজতে নামবেন না কিন্তু!
“ঠিক আছে। কিন্তু এখানে আসার আগে সেলমার কাছ থেকে কুমীর আর জায়ান্ট হতে বাঁচার জন্য স্প্রে নিয়ে আসবেন। সাথে বুকে বুলেট প্রুফ ভেস্ট পরতে ভুলবেন না। এখানে দাঙ্গা চলছে কিনা।
কী বললেন?
‘শুনতে পাননি? তাহলে বাদ দিন। রেডি হয়ে রওনা হোন। এখানে ঠিক কয়টার দিকে পৌঁছুবেন আমাদেরকে আগেভাগে জানিয়ে দেবেন। আমরা আপনাকে বরণ করে নেব!’
‘আচ্ছা, জানাব।’
কথা শেষ হওয়ার পর রেমি মুখ খুলল। এখানে কি ল্যাজলোকে টেনে আনার খুব দরকার ছিল?
‘উনি ওখানে বেকার বসে আছেন। তাছাড়া নোটবুকের কোডভাঙার কাজটাও করে দিচ্ছেন খুশিমনে। সমস্যা কী?’ স্যাম রেমিকে কোডভাঙার বিষয়টা খুলে বলল।
‘তাহলে আমাদের সন্দেহ-ই সত্যি? কুমাসাকা এখানে গুপ্তধন লুকিয়ে রেখেছিল যাতে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর কোনো একসময় এখানে এসে সেটাকে নিজের দখলে নিতে পারে।
হুম।’
কিন্তু তার পরিকল্পনা বানচাল হয়ে গেছে। কিন্তু এই পর্যায়ে এসে ল্যাজলো কেন ডাকলে? আমরা তো প্রায় গুপ্তধনের কাছে চলেই গিয়েছি বলা যায়।
‘গুপ্তধন উদ্ধার অভিযানে যোগ দিলে তার মনটা ফ্রেশ হবে। উদ্দীপনা বাড়বে। তাই ডাকলাম।
‘আমি এসব কিছু জানি না। এখানকার বিদ্রোহীরা যাকে ইচ্ছে হচ্ছে মেরে ফেলছে। এরমধ্যে…’
‘সমস্যা কী? পরিস্থিতি বেশি খারাপ হলে একটা ফ্লাইট ধরে চলে যাবে। কিংবা জাহাজে চড়ে বসবে।
“ঠিক আছে, দেখা যাবে। আচ্ছা, আমরা কি আজকে জাহাজে যাচ্ছি?
‘যাওয়াটাই ভাল হবে। বেচারা লিও কী করছে কে জানে।
বারান্দা থেকে রুমে ফিরে ল্যাজলোর পাঠানো ইমেইল দেখল রেমি। মাথা নেড়ে বলল, একবার শুধু ঠিকঠাকভাবে দিকের হদিসটা বের করতে পারি, শুধু একবার। তাহলেই কাজ শেষ!
‘হুম। কিন্তু একটু খাটুনি করে গুপ্তধন খুঁজে বের না করলে আসলে মজা থাকে না।
হয়তো। কিন্তু অনেক তো হলো। আর কত? আর এই ইমেইলে যা দেখছি, কর্নেল সাহেব তো ঠিক করে লিখেও রাখেনি ঠিক কোন গ্রাম থেকে দিক ধরে এগোতে হবে।
ল্যাজলো হয়তো কিছু মিস করে গেছে। সমস্যা নেই, সে আরও একবার কোডের উপর চোখ বুলিয়ে চেক করে নেবে। তবে আমাদের একটা সূত্র আছে। কোডে বলা আছে, ঝরণাধারার পাশের এক গুহা…’
‘গুহাটা এক না হয়ে অনেকগুলোও হতে পারে। কবিতায় ছন্দ মেলানোর জন্য কবিরা কত কী-ই তো লেখে।
‘তা ঠিক। কিন্তু অনুসরণ করে এগোনোর মতো কিছু তো হাতে আছে?
হুম। ঘড়ি দেখল রেমি। পাহাড়ে অভিযানে বের হওয়ার জন্য এই দ্বীপে প্রয়োজনীয় গিয়ার পাওয়া যাবে বলে মনে হয়?
‘সাধারণ পর্যায়েরগুলো পাওয়া যেতে পারে। আমি সেলমাকে একটা লিস্ট পাঠিয়ে দেব। ল্যাজলো যখন আসবে। লিস্টের সব জিনিস সাথে নিয়ে আসবে। ব্যাস, হয়ে গেল।
