মিস্টার ও মিসেস ফারগো-কে আবারও আমাদের হোটেলে স্বাগতম। বলল ম্যানেজার।
ধন্যবাদ। এখানকার পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়েছে? স্যাম প্রশ্ন করল।
‘উন্নতি বলতে সব এখন চুপচাপ। নতুন করে আর কোনো হট্টগোল বাধেনি।
ভাল লক্ষণ। তাই না?’ বলল রেমি।
‘আশা করছি, পরিস্থিতি যেন বিগড়ে না যায়। এরকম শান্ত-শিষ্ট থাকলেই আমরা খুশি।’ ম্যানেজার বলল।
কথা শেষ করে রুমে চলে গেল ওরা। স্যাট ফোন চালু করে সেলমাকে আবার স্যাম ফোন করল।
‘আমরা গোয়াডালক্যানেলে চলে এসেছি। ওদিকে কী অবস্থা?
‘একদম ভাল সময়ে ফোন দিয়েছ। ল্যাজলো আমার কাছে আছে। কথা বলবে?
‘দাও।’
ল্যাজলো’র বিট্রিশ উচ্চারণ ভেসে এলো ওপাশ থেকে। মিস্টার স্যাম! পুরো পৃথিবী চষে বেড়াচ্ছেন! কী অবস্থা?
‘আর অবস্থা! এখন এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় ব্যাঙের মতো লাফিয়ে বেড়াচ্ছি! আপনার অনুবাদের খবর বলুন।
‘অর্ধেক করেছি। বেশ গোলমেলে জিনিস, বুঝেছেন? যা সব কঠিন কাব্য আছে এখানে। দীর্ঘ সব প্যাসেজ। অনুবাদ করতে গিয়ে একটু ভুগতে হচ্ছে।
ইন্টারেস্টিং কিছু চোখে পড়েছে?
‘পড়েছে। কেন যেন মনে হচ্ছে কবি এখানে কবিতার আড়ালে অন্য কিছু বোঝাতে চেয়েছেন। কেমন যেন একটা প্যাটার্ন পাচ্ছি।’
‘প্যাটার্ন?’
আসলে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে আমি এব্যাপারে খুব সতর্ক আছি।’
‘তাহলে আপনি মনে করছেন কবিতাগুলোর ভেতরে কোনো কোড লুকোনো আছে?
হ্যাঁ, সন্দেহ করছি আরকী। কিন্তু আমার সন্দেহ ভুলও হতে পারে। পুরোটা অনুবাদ করে শেষ করি। তারপর বুঝতে পারব। আশা করছি আজ শেষরাতের দিকে পুরোটা অনুবাদ হয়ে যাবে।
‘জানাবেন।
অবশ্যই। আর আপনারা শুধু দুঃশ্চিন্তা না করে একটু দ্বীপের আলো বাতাসও উপভোগ করুন।
‘পরামর্শের জন্য ধন্যবাদ। চেষ্টা করব।’
কথা শেষ হওয়ার পর স্যামের দিকে তাকাল রেমি। কী অবস্থা?
ল্যাজলো বেশ কোমর বেঁধে কাজে নেমে পড়েছে। নোটবুকে কবিতার আড়ালে কোড লেখা আছে বলে তার ধারণা। আবার ধারণাটা ভুলও হতে পারে।’
‘দেখা যাক কী হয়।’
হাসল স্যাম। আগেই হতাশ হয়ে পড়ো না। কাজটা খুব সহজ নয়। যদি সহজ হতো তাহলে যে-কাউকে দিয়েই অনুবাদ করিয়ে নেয়া যেত। এক ভাষা থেকে আরেক ভাষায় অনুবাদ করতে অনেক ঝক্কি আছে।’ স্যাম সময় দেখল। ‘চলো একটু ঘুরতে বের হই।
মতলব কী তোমার?
‘আরেকবার রুবো’র সাথে দেখা করতে চাচ্ছিলাম। দেখি তার কাছ থেকে আবার ওসব কাহিনি শুনতে চাইব। দেখব এবারও সে একই কাহিনি বলে কিনা। এমনও হতে পারে, এবার তার কাছ থেকে আমরা নতুন কিছু জানতে পারব।’
***
গাড়ি নিয়ে রুবো’র বাড়ির সামনে এসে দেখল একটা পুলিশ কার আর একটা অ্যাম্বুলেন্স রাস্তা ব্লক করে দাঁড়িয়ে আছে। স্যাম ও রেমি দুঃশ্চিন্তায় পড়ে গেল। তাকাল একে অপরের দিকে। গাড়ি থেকে নেমে এগিয়ে গেল পুলিশ কারের দিকে। একজন পুলিশ অফিসার কোমরে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। চোখে সানগ্লাস।
কী হয়েছে? রুবো ঠিক আছেন তো?’ সামনে এগিয়ে বলল রেমি।
‘আমরা রুবো’র সাথে দেখা করতে এসেছি। কী হয়েছে, অফিসার?” স্যাম জানতে চাইল।
‘দূর্ঘটনা হয়েছে। মনে হচ্ছে, বেচারা পা পিছলে পড়ে গিয়ে আঘাত পেয়েছে মাথায়।
দু’জন মেডিক্যাল কর্মী বাড়ির ভেতরে ঢুকে রুবো’র পলকা দেহকে সাদা কাপড় দিয়ে ঢেকে বাইরে আনল। সবাই বুঝল, যা হওয়ার হয়ে গেছে। এখন আর কিছু করার নেই। স্যাম ও রেমির দিকে তাকাল অফিসার। এখানে কী আর কেউ থাকতো?’
না। উনি বয়স্ক মানুষ, একাই থাকতেন। আশা করি, খুব বেশি কষ্ট পেয়ে মারা যাননি।’ রেমি বলল।
‘নিশ্চিত করে এখন কিছুই বলা যাচ্ছে না। তবে মেডিক্যালের লোকজন প্রাথমিক চেকআপ সেরে জানিয়েছে, কষ্ট পায়নি।
ধীরে ধীরে ভাড়া করা পাথফাইণ্ডারের দিকে এগোল ফারগো দম্পতি। স্যাম ড্রাইভিং সিটে বসে ইঞ্জিন চালু করতে করতে বলল, প্রায় ১০০ বছর সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার পর রুবো হঠাৎ করে মারা গেল। এতগুলো বছর তার কিছুই হলো না। অথচ আমরা জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করতেই… সব শেষ! এটা কী স্রেফ দূর্ঘটনা নাকি সন্দেহজনক কিছু আছে এর পেছনে?
‘আমাদেরকে ধাক্কা মেরে নদী ফেলে দেয়ার পর গুলি করে মেরে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল। মনে আছে? আশা করি, উত্তরটা পেয়েছ।
শুকনো হাসি দিল স্যাম। হুম, পেয়েছি।
.
৩৭.
পরদিন সকালে সেলমা স্যামকে ফোন করল। রেমি ও স্যাম তখন হোটেলের বারান্দায় বসে কফি খাচ্ছে।
‘হ্যালো, সেলমা! ভাল খবর দাও, প্লিজ। মন খারাপ।
‘কেন? কী হয়েছে?
রুবো’র মারা যাওয়ার ঘটনা বলল স্যাম।
‘শুনে খারাপ লাগছে। অবশ্য তার অনেক বয়সও হয়েছিল। তোমরা দু’জন ভাল আছো তো?’ শান্ত স্বরে সেলমা বলল।
হুম, আছি। বলল, কেন ফোন করেছ?
‘আমার পাশে ল্যাজলো বসে আছেন। কথা বলবে।
“ঠিক আছে, দাও।
ল্যাজলো ফোন ধরেই উৎসাহী কণ্ঠে বলতে শুরু করল। হ্যাল্লো! স্যাম ব্রাদার! জাপানির নোটবুক থেকে তো জব্বর জিনিস জানতে পেরেছি!
‘তাই?”
‘কবিতাগুলো বেশ কাঁচা হাতে লেখা হলেও কোডগুলো জটিল ছিল, বুঝলেন?’
‘কোড?
“ইয়েস, ব্রাদার! আমি প্রোগ্রামের সাহায্যে কোডটা ভেঙেছি। কিন্তু তারপরও পুরোটার অর্থ ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না।’
‘কোড থেকে কী পেয়েছেন, সেটা বলে ফেলুন।
