‘আর্মিতে কর্নেল কুমাসাকা’র কাজ কী ছিল? জানেন?
ফুপি বলতেন, তিনি যোগাযোগ সেকশনে ছিলেন। সত্যি বলতে, এর বাইরে আমি আর কিছু জানি না।’
স্যাম বক্সে চোখ বোলাচ্ছিল। আচ্ছা, এটা কী? একটা চামড়ার নোটবুক দেখিয়ে প্রশ্ন করল ও। নোটবুকটা অবস্থা বেশ খারাপ। আর একটু হলেই চোখ এড়িয়ে যাচ্ছিল।
‘ওহ। এটার কথাই বলতে চাচ্ছিলাম এখন। জেলে থাকা অবস্থায় আমার বাবা জার্নাল লিখতেন। আমি বেশ কয়েকবার পড়েছি। তেমন কিছু পাইনি। কারাভোগ সম্পর্কিত কয়েকটা কবিতা আছে, এইতো। যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর তার সাথে থাকা এক কয়েদি এটা আমাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছিল। তার মুখে শুনেছি, জেলখানায় ডায়েরি রাখার অনুমতি ছিল তখন তবে সেটা নিয়মিত তদারকি করা হতো উল্টাপাল্টা কিছু লেখা হচ্ছে কিনা। তাই এই নোটবুকে তথ্য পাওয়ার মতো তেমন কিছু নেই।’
‘আমি কি নোটবুকটা দেখতে পারি? রেমি অনুমতি চাইল।
‘অবশ্যই। তবে পুরোটা কিন্তু কানজি ভাষায় লেখা।
চিয়োকো নোটবুকটা রেমির হাতে দিলেন। পৃষ্ঠাগুলো হলুদ হয়ে গেছে। বিজাতীয় অক্ষর লেখা সব পৃষ্ঠায়। রেমি বলল, আমরা কি এটার একটা কপি করতে পারি? নিশ্চয়তা দিচ্ছি, এটাকে অক্ষত অবস্থায় ফেরত দেব।
‘এখানে আসলে কিছু নেই। তারপরও যখন কপি করতে চাচ্ছেন, করুন। আমার আপত্তি নেই।’
আর আধঘণ্টা আলাপ করল ওরা! চিয়োকো যথেষ্ট মিশুক মহিলা। কিন্তু তার কাছে তথ্য না থাকায় ফারগো দম্পতি নতুন কিছু জানতে পারল না। কথা শেষে বের হলো ওরা।
‘চিয়োকো, আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ’ বলল রেমি। আপনি আপনার মূল্যবান সময় আমাদের দিয়েছেন এবং দুঃখের স্মৃতিগুলো শেয়ার করেছেন। আপনার কাছে আমরা কৃতজ্ঞ।
চিয়োকো তার পায়ের দিকে তাকিয়ে জবাব দিলেন, “আমারও ভাল লেগেছে। আমি দুঃখিত, আপনাদেরকে তেমন কোনো তথ্য দিয়ে উপকার করতে পারলাম না।’
‘আপনি যথেষ্ট করেছেন। আবারও ধন্যবাদ। আসি। ট্যাক্সি বাইরে অপেক্ষা করছিল ওদের জন্য। তাতে চড়ে বসল ফারগো দম্পতি। রেমি ড্রাইভারের দিকে ঝুঁকে বলল, এখানে কোনো স্ক্যান ফটোকপির দোকান আছে?
৩৬. ফারগো দম্পতি
৩৬.
তিন ঘণ্টা পর চিয়োকো’র কাছে নোটবুকটা ফেরত দিয়ে এলো ফারগো দম্পতি। নারিটা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে ফিরতি ফ্লাইটের জন্য অপেক্ষা করছে ওরা। এই ফাঁকে সেলমাকে নোটবুকের স্ক্যানকপি ইমেইল করে পাঠিয়ে দিয়েছে। বলেছে, যদ্রুত সম্ভব একজন অনুবাদক যোগাড় করে পুরো নোটবুক অনুবাদ করে দিতে।
রেমি’র মনে এখনও চিয়োকো’র কষ্টের কাহিনি ঘুরপাক খাচ্ছে। মন খারাপ করে ট্যাব চালাচ্ছে ও। স্যাম স্ত্রীর চেহারা দেখে বলল, “ঠিক আছে তো?
মনে হয়।
‘খুব চিন্তা করছ, তাই না?
‘হম। আসলে বোমা পড়ার গল্পটাকে মাথা থেকে বের করতে পারছি না। চিন্তা করে দেখো, বোমা হামলার ফলে অত অল্পবয়সে মাকে হারানো। তারপর হাতে-মুখে ক্ষত…’
‘ঠিকই বলেছ। দুঃখজনক। সেল রিসার্চ করে দেখেছে, চিয়োকো নাকি কখনও বিয়ে করেননি। এমনও হতে পারে এর পেছনে ওই ক্ষতগুলোর কোনো ভূমিকা আছে। ওরকম দাগ নিয়ে বেড়ে ওঠা খুব ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা।
‘আমারও তা-ই মনে হয়।’
রেমি একটু চেপে বসল স্যামের দিকে।
ইন্টারনেটে ইন্টারেস্টিং কিছু পেলে?’ স্যাম প্রশ্ন করল।
না, যা পাচ্ছি সবই ভয়াবহ কাহিনি। এক ইতিহাস বিশারদ দাবী করেছেন, যুদ্ধের সময় জাপানিরা প্রায় ৩ কোটি মানুষকে খুন করেছিল। কী নিষ্ঠুর!’
‘বিশ্বাস করতেই কষ্ট হচ্ছে। বলল স্যাম। ঘড়ি দেখল। আচ্ছা, জানালার কাছে বসলে হয়তো স্যাট ফোনের জন্য ক্লিয়ার নেটওয়ার্ক পাব? কী বলে?
‘দেখো পাও কিনা।
ব্যাগ থেকে ফোন বের করে এগোল স্যাম। আধমিনিট লাগল স্যাটেলাইটের সংযোগ পেতে। তারপর ডায়াল করল সেলমা’র নাম্বারে। চতুর্থবার রিং হওয়ার সময় ফোন রিসিভ হলো।
‘গুড মর্নিং!’ বলল স্যাম।
‘তোমাকেও গুড মর্নিং!’
‘একটা ফাইল ইমেইল করেছি। পেয়েছ?
হ্যাঁ, পেয়েছি এবং কাজ শুরু করে দিয়েছি ওটা নিয়ে।
‘অনুবাদক পেয়েছ?
ল্যাজলো সাহেব ঘুরঘুর করছিল এখানে। তাকে কাজটা ধরিয়ে দিয়েছি। কানজি ভাষা বলা ও লেখা দুটোতেই তার দক্ষতা আছে। অবশ্য এই তথ্য আমি আজই জানতে পারলাম। এই মানুষটা যে আরও কত কিছু জানে! কে বলতে পারে?
“আচ্ছা, বেশ ভাল কথা। ল্যাজলো কি নোটবুক থেকে পেয়েছে কিছু?
বলল, কাজ করছে। বেচারা বোধহয় কাজের অভাবে বোর হচ্ছিল। ফাইলটা প্রিন্ট করেই নিজের অফিসে ছুট দিয়েছে। সেলমা একটু থামল। খুশির খবর আছে। বড় জাহাজ যাচ্ছে তোমাদের জন্য।
চমৎকার! কতদিন লাগবে পৌঁছুতে?
চার দিন।’
‘লিওনিড খুব খুশি হবে এবার।
‘ভাল কথা, তোমার এই বন্ধু কি সবসময় মনমরা হয়ে থাকে নাকি?”
সত্যি বলতে, ওর রসবোধ অনেক ভাল। তবে সবসময় দেখা যায় না।
বিমানবন্দরের স্পিকার থেকে ফ্লাইট সম্পর্কিত তথ্য তিনটি ভিন্ন ভাষায় দেয়া ঘোষণা ভেসে এলো। দ্রুত কথা শেষ করে ফোন রাখল স্যাম। কয়েক মিনিটের মধ্যে ফারগো দম্পতি প্লেনে চড়ে বসল।
মাঝ বিকেলে হনিয়ারায় এসে পৌঁছুল ওরা। ফ্লাইট প্রায় খালি-ই ছিল বলা যায়। দ্বীপে গণ্ডগোল শুরু হওয়ায় পর্যটকরা আর ঘুরতে আসার সাহস করেনি। হোটেলও জনমানব শূন্য। ওরা হোটেলে ফিরতেই ক্লার্ক আর ম্যানেজার ওদেরকে রিসিভ করল।
