“হ্যাঁ। তাকে বলেছি আমাদের পক্ষ থেকে ফোন করে জানানো হবে। তার নাম্বার দেব?
‘দাও।’
সেলমা নাম্বার দিল।
নাম্বারটা আবার বলে নিশ্চিত করল স্যাম। তারপর জাহাজ প্রসঙ্গ তুলল। ‘তুমি বড় কোনো রিসার্চ জাহাজের ব্যবস্থা করতে পেরেছ? এদিকে জাহাজ জাহাজ করে লিও আমাকে পাগল করে ফেলছে।’
হুম, আমি কাজ করছি। ২৬০ ফুটের জাহাজ পেয়েছি একটা। সবধরনের যন্ত্রপাতি আছে ওতে। এখন দর কষাকষি করছি এখন। আশা করছি, এক সপ্তাহের মধ্যে তোমাদের কাছে পৌঁছে যাবে। সেলমা একটা দাম বলল। এই দাম বলেছি পার্টিকে। চলবে?
‘এত দাম? ওদেরকে ঠিকভাবে বুঝিয়ে বলেছ তো, আমরা কিন্তু জাস্ট ভাড়া নিচ্ছি একেবারে কিনে নিচ্ছি না কিন্তু!’ মশকরা করল স্যাম।
ভালই মজা করতে পারো। আচ্ছা, এখন কি খুব ব্যস্ত তুমি?
স্যাম এই কণ্ঠ চেনে। সেলমা যখন বিশেষ কিছু জানতে পারে তখন ওর কণ্ঠস্বর এরকম হয়ে যায়। স্যামের সাথে শেয়ার করতে ওর যেন আর তখন তর সয় না।
‘না, ফ্রি আছি। বলল।
‘তোমার জাপানিজ কর্নেলের ইতিহাস আরও ঘেঁটে বুঝলাম কেন কেউ মিয়েজি কর্পোরেশন নিয়ে মুখ খুলতে চায় না। তুমি “ইউনিট ৭৩১”-এর নাম শুনেছ?”
না তো।
ইউনিট ৭৩১ হলো জাপানিজ আর্মির একটা দলের নাম যারা কয়েদি ও সাধারণ নাগরিকদের উপর বিভিন্ন এক্সপেরিমেন্ট চালাত। কোনো চেতনানাশক ওষুধ না দিয়ে নিমর্ম গবেষণা চালাত তারা। কখনও জীবন্ত মানুষ পোত আবার কখনও বরফে জমাট বাধাতে। পর্যবেক্ষণ করত জীবন্ত মানুষ এভাবে মরে যেতে কত সময় লাগে। শরীরে বিষ কিংবা তরল রাসায়নিক পদার্থ ঢুকিয়েও পরীক্ষা চালিয়েছিল তারা। এমন কোনো খারাপ কাজ নেই তারা করেনি। ইউনিট ৭৩১ এর নেতৃত্বে ছিল জাপানিজ জেনারেল শিরিও ইষি।’
‘শিরিও ইষি। অদ্ভুত জাপানি নাম শুনে হাসল স্যাম।
‘ইউনিট ৭৩১ চীনে অবস্থান করেছিল প্রায় ১০ বছর। ১৫০ টা ভবন দখলে রেখেছিল তারা। যদিও বাইরে থেকে কিছু বোঝার উপায় ছিল না। পানি শোধনাগারের ছদ্মবেশ দেয়া হয়েছিল ভবনগুলোতে। বিভিন্ন এক্সপেরিমেন্টের পাশাপাশি জীবাণু দিয়ে যুদ্ধ করার ব্যাপারে জড়িত ছিল ইউনিট ৭৩১। তারা জীবাণু ভর্তি বিশেষ বোম ফেলেছিল চীনা জনসাধারণের উপর। মারাত্বক প্লেগ ছড়িয়ে গিয়েছিল তখন। সোজা কথায়, জাপানিরা ইউনিট ৭৩১-কে নাৎসিদের মতো ব্যবহার করলেও বাইরের মুখোশটা ছিল মাদার তেরেসার মতো।’
‘এসব কেন আগে শুনিনি? তুমি যেসব যুদ্ধাপরাধের কথা বলছ এগুলো প্রায় ১০০ বছর আগে ঘটে গেছে। আমার জানা থাকার কথা ছিল এসব।
কাহিনিই তো এখানে। জাপানিরা হেরে যাওয়ার পর মিত্রবাহিনি ইউনিট ৭৩১-এ জড়িত থাকা বিজ্ঞানীদেরকে সাজা এড়িয়ে মুক্তি লাভের ব্যবস্থা করে দিয়েছিল। তার ফলে যুদ্ধ পরবর্তী জাপানে শক্তিশালী ধনী বনে গেল অনেক জঘন্য ব্যক্তিরা।’
এসবের কোনো প্রমাণ আছে?”
‘প্রমাণ বলতে কী বোঝো সেটার উপর নির্ভর করছে প্রমাণ আছে কি না। জাপানিজ সরকার বলছে, ইউনিট ৭৩১-এর ব্যাপারে তাদের কাছে কোনো নথি নেই।’
‘আজব।
‘সেটাই। জাপানিজ আইনে যুদ্ধাপরাধীদের জন্য শাস্তির বিধান আছে। কর্মী থেকে শুরু করে বিভিন্ন ছবি ঘাটলে সেসবের প্রমাণও পাওয়া যাবে কিন্তু সরকার উদাসীন। ইউনিট ৭৩১-এর সাথে যেসব বাঘা বাঘা ওষুধ কোম্পানি জড়িত ছিল তাদের মালিকরা সব শক্তিশালী রাজনৈতিক নেতা ও আইনজীবি। বুঝতেও পারছে, সরকার কেন এব্যাপারে উদাসীন।
মিত্রবাহিনি কোন আক্কেলে ওই শয়তানগুলোকে সাজা এড়িয়ে পার পেতে সাহায্য করল?
‘যুদ্ধের পর আমেরিকানরা চেয়েছিল এক্সপেরিমেন্টের যাবতীয় নথি ও ফমূলা যেন সোভিয়েতদের হাতে না যায়। তাই জাপানিদেরকে সাহায্য করে বছরের পর বছর ধরে জাপানি বিজ্ঞানীদের তৈরি সব রিসার্চের নথি বাগিয়ে নিয়েছে। সোভিয়েত ইউনিট ৭৩১-এ জড়িত সবাইকে ফাঁসি দিতে চেয়েছিল। কিন্তু আমেরিকা সেটা করতে দেয়নি। ১৯৮০ সালের দিকে হয়েছে এসব।
‘তোমার ধারণা সেই একই কাজ মিয়েজি কর্পোরেশনের সাথেও করা হয়েছে?”
‘সবকিছু এত গোপন করে রাখাতে তো সেটাই প্রমাণ হচ্ছে।
‘তুমি নিশ্চিত?
শতভাগ।
সেলমার সাথে কথা শেষ করে ফোন রেখে দিল স্যাম। এতক্ষণ যা যা শুনল সব জানাল রেমিকে। সবশুনে রেমি স্তম্ভিত।
‘আমার বিশ্বাস হচ্ছে না। কিন্তু যেহেতু সেলমা বলেছে…’
‘আমি জানি। হয়তো এসব সত্যি। আমরা এটা নিয়ে আরও একটু রিসার্চ করতে পারি। অন্তত ইউনিট ৭৩১ নিয়ে রিসার্চ করা উচিত। সেলমা বলল, প্রায় ১০০ বছর পাওয়া হওয়ার পর এখন ইউনিট ৭৩১-এর ব্যাপারে অনেক তথ্য পাওয়া সম্ভব হচ্ছে না।’
মাথা নাড়ল রেমি। কুমাসাকা’র মেয়ের সাথে কথা বলা দরকার আমাদের। যত তাড়াতাড়ি বলা যায় তত ভাল।
‘ওকে। তুমি ফোন করবে? নাকি আমি করব?
‘আমি করব। তুমি কথা বললে সে ভয় পেতে পারে। আর আমি সেটা চাই না।’
‘তাহলে আমি কী করব?
‘টোকিও যাওয়ার ফ্লাইট বুক করো।
“ঠিক আছে, আগে ফ্লাইট শিডিউল দেখে নেই।
.
৩৫.
টোকিও, জাপান
সারাদিন ব্যয় করে গোয়াডালক্যানেল থেকে জাপানের নারিটা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছুল ফারগো দম্পতি। সোজা পথে প্লেন এলে এত সময় লাগতো না, কিন্তু প্লেনগুলোকে অস্ট্রেলিয়া হয়ে আসতে হয়, তাই পুরো দিন চলে যায় জাপান পৌঁছুতে।
