রেন্ট-এ-কারের এজেন্ট গাড়ির ক্ষয়ক্ষতি বিষয়টা বুঝতে পারল। স্যাম ক্ষতিপূরণ বাবদ কয়েকশ ডলার দিতেই একেবারে গদগদ হয়ে গেল এজেন্ট। এমনভাবে সরি-টরি বলতে শুরু করল যেন গাড়ির এই দশা হওয়ার জন্য সে নিজেই দায়ী! ফারগো দম্পতিকে গাঢ় নীল রঙের নিশান পাথফাইণ্ডারের কাছে নিয়ে গেল সে। নিশানের অবস্থা দেখে মনে হলো এই গাড়ি পুরো পৃথিবী ভ্রমণ করে ফেলেছে। ওতে চড়ে বসল ফারগো দম্পতি।
‘গাড়ির আওয়াজ শুনে মনে হচ্ছে যেন গুলি বেরোচ্ছে!’ স্যাম যখন গাডির গতি বাড়াচ্ছে তখন রেমি মন্তব্য করল।
‘এই দ্বীপের জন্য এই গাড়ি-ই ঠিক আছে। দাঁত বের করে হাসল স্যাম।
হোটেলের পার্কিং লটে গাড়িটা পার্ক করার সময় স্যাট ফোন বেজে উঠল। লবিতে ঢোকার পর ফোনটা রিসিভ করল স্যাম।
‘হ্যালো?’
সেলমা ভণিতা করে কোনো সময় নষ্ট করল না। আমরা কুমাসাকার হদিস পেয়েছি। তার মেয়ে টোকিও’র সাওয়ারা-তে থাকে। মহিলার বয়স এখন ৭০-এর ঘরে। বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত, কোনো সন্তান নেই।
তার সাথে যোগাযোগ করেছ?
না। ভাবলাম হয়তো তুমি নিজেই যোগাযোগ করতে পছন্দ করবে।
‘আচ্ছা। তুমি জাপানিজ ভাষা কীরকম পারো?
বুলগেরিয়ান ভাষা যতটা পারি ততটা।
হুম, বুঝেছি, পারো না। তোমার কোনো বন্ধু আছে যে আমাদেরকে এই বিষয়ে সাহায্য করতে পারবে?
‘হ্যাঁ, আছে। তুমি জাস্ট বলল আমি নিজেকে কী বলে পরিচয় দেব?
তুমি তাকে বলবে, তুমি একজন ইতিহাসবিদের সাথে যুদ্ধের সময়কার জাপানিদের ইতিহাস লিপিবদ্ধ করার কাজ করছ। এখন এমন একজন অফিসারের ব্যাপারে জানতে চাও যে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যাণ্ডে কারাভোগ করেছে। সেটা হলো ওই মহিলার বাবা। তাই এব্যাপারে আমরা তার সাথে কথা বলতে চাচ্ছি।’ থামল স্যাম। তুমি যদি আমাদের জন্য একটা মিটিঙের ব্যবস্থা করে দিতে পারো তাহলে আমি আর রেমি জাপানে হাজির হয়ে যেতে পারি।’
‘ওকে, বস। কিন্তু এই মহিলা বোধহয় যুদ্ধের সময় একদম বাচ্চা ছিল। তার সাথে এত পথ পাড়ি দিয়ে দেখা করে মনে হয় না খুব একটা উপকার হবে।
‘আমি জানি। কিন্তু আমাদের হাতে আর কোনো সূত্র নেই যেটা ধরে সামনে এগোনো সম্ভব। তুমি জাস্ট দেখো, তাকে আমাদের সাথে দেখা করার ব্যাপারে রাজি করাতে পারো কি না।
‘ওকে। ফোন অফ করে রেখো না কিন্তু।’ সেলমা লাইন কেটে দিল।
রুমে ঢুকে বারান্দায় গেল স্যাম। ফোন করল ডারউইনে।
ডেস ফোন রিসিভ করল। বরাবরের মতো তার কণ্ঠ বেশ উৎফুল্ল। স্যাম সাহেব! কী অবস্থা আপনার? রেডিও-তে শুনলাম দ্বীপে বেশ উত্তেজনা বিরাজ করছে?
‘ঠিকই শুনেছেন। আমরা অল্পের জন্য বেঁচে গেছি। তবে এখন সব শান্ত।’
‘সব ঠিক তো?
‘হ্যাঁ সব ঠিক। আচ্ছা, কাজের কী অবস্থা? কাল হয়তো আমাদেরকে দ্বীপ ছেড়ে অন্য কোথাও যেতে হবে।
‘ঘুরে আসুন। নো প্রবলেম। আপনার বন্ধু লিওনিড সবকিছু বেশ সামলে নিচ্ছে। একটু ধীরে-সুস্থে কাজ করে। তবে দক্ষ লোক।
‘ও কি আপনার কাছে আছে?
‘দিচ্ছি, এক সেকেণ্ড ধরুন। কিছুক্ষণ পর লিও’র কণ্ঠ শোনা গেল।
‘লিও, কী অবস্থা?
‘চলছে।’ বরাবরের মতো তিক্ত কণ্ঠে বলল লিও। তুমি কি এরচেয়ে বড় একটা বড় নৌকার ব্যবস্থা করতে পারবে?
‘চেষ্টা করছি, বন্ধু। আচ্ছা, ভাল কথা, ধ্বংসাবশেষের ভেতর থেকে নতুন কিছু পেলে?
না। মূল মন্দিরের শরীর থেকে আগাছা পরিষ্কার করছি। আরও উন্নত যন্ত্রপাতি এলেও অনেকদিন লাগবে সব পরিষ্কার করতে। লিও’র কণ্ঠে কোনো উত্তেজনা নেই।
‘ঠিক আছে। অপেক্ষা করা যাক। সবুরে মেওয়া ফলে, কী বলে?
“হুম” আওয়াজ ভেসে এলো ওপাশ থেকে; দীর্ঘশ্বাস ফেলল লিও। ‘আমাকে আরও একটু বেকায়দায় ফেলতে স্বশরীরে আসবে নাকি এখানে?
না, বন্ধু। আজ পারছি না। তবে খুব শীঘ্রই আসব।’ স্যাম একটু ইতস্তত করল। আজ সকালে এখানে অনেক অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। ডেস কি এখনও পাড়ের দিকে নজর রাখছেন?”
‘হ্যাঁ রাখছে। কিন্তু রিপোর্ট করার মতো কিছু নেই। শুধু জঙ্গল আর জঙ্গল।
ধরে নাও, তোমরা ভাগ্যবান।’ হাসপাতালে অল্পের জন্য কীভাবে ওরা প্রাণে বেঁচেছে সেই ঘটনা লিওকে খুলে বলল স্যাম।
‘তারপরও তুমি মনে করো আমরা এখানে নিরাপদ?’ স্যামের কথা শেষ হওয়ার পর বলল লিও।
হুম। বিপদের দিকে নজর রাখলে তোমাদের কোনো সমস্যা হবে না। একটা বিচ্ছিন্ন জায়গায় আছে তোমরা। সবসময় সজাগ থাকা ভাল।
‘উগ্র লোকদের হাতে মুণ্ড খোয়ানোর আশংকার চেয়ে এখন দেখছে এই সি-সিকনেস অনেক ভাল। অবশ্য এখন আর আগের মতো ভুগছি না।
‘পানিতে ডাইভ দিচ্ছ তাই সি-সিকনেস কেটে যাচ্ছে। আরও ডাইভ দাও। দেখবে একদম ফুরফুরে লাগবে।’
‘ঠিক আছে, দেব। তুমি একটা বিশাল জাহাজের ব্যবস্থা করো।
বন্ধুর আবদার শুনে হেসে ফেলল স্যাম। একটু আগে সেলমার সাথে কথা হয়েছে। আশা করছি, বড় জাহাজের ব্যাপারে খবর পাব। খবর পেয়েই জানাব তোমাকে।
কথা শেষ করে স্যাম ফোনটা রেখেছে একমুহূর্ত না যেতেই রিং হলো আবার।
‘সেলমা! এত তাড়াতাড়ি!
‘আমরা এক বান্ধবী আছে। আধা জাপানিজ। ও আমাদের হয়ে মহিলার সাথে যোগাযোগ করেছিল। বলল, কোনো সমস্যা নেই। মহিলা বেশ ভাল ইংরেজি বলতে পারে। তোমরা জাপানে গেলেই তার সাথে দেখা করতে পারবে। মহিলার কোনো আপত্তি নেই।
‘আমরা টোকিও-তে যাব। ফোন করতে হবে তাকে?
