অদ্ভুত।
‘সবচেয়ে অদ্ভুত বিষয় হলো, মিত্রবাহিনি তাকে মিয়েজি কর্পোরেশন-এর একজন সদস্য হিসেবে তালিকাভুক্ত করে রেখেছে।
‘এই কর্পোরেশনের নাম আমি এরআগে কখনও শুনিনি।
‘কেউই শোনেনি। এমনকি আমি এটার কোনো তথ্যও খুঁজে পাইনি এখনও।
‘আমি যে সেলমাকে চিনি সে তো এরকম ব্যর্থ হওয়ার পাত্রী নয়। একটু চুপ থেকে তারপর বলল স্যাম। ফোনের অপরপ্রান্তে থেকেও স্যাম টের পেল সেলমা হাসছে।
হুম। তাই আমি আরও গভীরে অনুসন্ধান চালালাম। প্রশাসনের ভেতরে আমার লোক আছে কাজে লাগালাম তাদের।
ভণিতা হজম করতে কষ্ট হচ্ছে, সেলমা।
‘দ্য মিয়েজি কর্পস, একটা স্পেশাল প্রজেক্টের নাম। যে প্রজেক্ট থেকে প্রাপ্ত জিনিসগুলোকে পরোক্ষযুদ্ধে ব্যবহার করা হতো। বিগত ২০০ বছরের মধ্যে বিখ্যাত কর্পোরেশনের মধ্যে একটা হলো এই মিয়েজি কর্পস,
‘পরোক্ষযুদ্ধ?’ পুনরাবৃত্তি করল স্যাম। ১৯৪২ সালের সাথে এটার কোনো সম্পর্ক আছে? মনে হয় না।’
‘ঠিক। তবে আমি জাস্ট শূন্যস্থানগুলো পূরণ করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু শেষমেশ সব গিয়ে এসপিওনাজ… আর বায়োলজিক্যাল ওয়্যারফেয়ারে গিয়ে ঠেকেছে।
বেশ কিছুক্ষণ দু’জনই চুপ করে রইল।
‘তাহলে বায়োওয়েপনের ব্যাপারে যে গুজব শোনা যায় সেটার হয়তো এবার কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যাবে। নিচুস্বরে বলল স্যাম।
‘আসল সমস্যার কথা তো তোমাকে এখনও বলিইনি। সেলমা বলল।
কী সেটা?
‘আমি আবিষ্কার করেছি ৭০ বছরেরও বেশি সময় পার হয়ে যাওয়ার পর এখনও মিয়েজি কর্পস, ও কর্নেল কুমাসাকা’র-এর ফাইলগুলো ক্লাসিফায়েড। সম্পূর্ণ গোপনীয়। টপ সিক্রেট। তাই, উল্লেখযোগ্য কোনো তথ্যই আমি যোগাড় করতে পারিনি। আমার যে লোক তথ্যগুলো দেয়… বরাবরই বেশ বন্ধুত্বপূর্ণ আচারণ করে আমার সাথে। কিন্তু এবার তার কণ্ঠে আমি শীতল আগুন টের পেয়েছি।
‘এখনও টপ সিক্রেট? কেন? এতবছর গরও গোপন করে রাখার কী মানে?
‘আমি জানি না। তবে এতটুকু বলতে পারি, তোমার কর্নেল শুধু একজন সাধারণ কর্নেল ছিল না।’
‘একটা ডেস্ট্রয়ার পাঠিয়ে তাকে সোজা টোকিও নেয়াও ঘটনাতেই সেটা প্রমাণ হয়ে যায়। সেলমা, আমি জানি তুমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করছ। তারপরও বলছি, তুমি যেভাবে পারো আমাকে এই কর্নেলের ব্যাপারে আরও তথ্য যোগাড় করে দাও।
‘আমার সাথে পিটার আর ওয়েণ্ডিও বিষয়টা নিয়ে কাজ করছে। বিস্তারিত তথ্য হাতে এলে তোমাকে ই-মেইল করে দেব।’ একটু ইতস্তত করল সেলমা। ‘আমি কি ঠিক পড়ছি? নিউজে দেখাচ্ছে গোয়ালক্যানেলে দাঙ্গা-হাঙ্গামা চলছে?
‘হ্যাঁ, ঘটনা সত্য। তবে আমরা ভাল আছি।’
আবার নীরবতা। “নিরাপদে থেকো। নইলে আমার এত রিসার্চ সব জলে যাবে।
থাকব সেলমা।
রেমি ইতিমধ্যে কাঁচের টুকরোগুলো পরিষ্কার করে ফেলেছে। গাড়িতে চড়ে বসল ফারগো দম্পতি। গন্তব্য: আইল্যাণ্ড ড্রিমস।
.
৩৪.
ওরা হোটেলে ফিরে দেখল পুরো হোটেল খা খা করছে। সিকিউরিটি গার্ডরা হাতের লাঠি ঘোরাচ্ছে নার্ভাস ভঙ্গিতে। গেটের দারোয়ানের আজ খুব একটা ব্যস্ততা নেই। বারবার গেট খুলতে হচ্ছে না। রাস্তায় যানবাহন নেই বললেই চলে। রুমে ঢুকে রীতিমতো চমকে গেল ফারগো দম্পতি। একটা নতুন ট্যাবলেট ওদের বিছানার উপর শোভা পাচ্ছে। ভ্যানা পাঠিয়েছে নিশ্চয়ই। স্যাম ও রেমি নিজেদেরকে ফ্রেশ করার কাজে দেড় ঘণ্টা কাটিয়ে দিল। তারপর অনলাইনে বসল স্যাম।
কী করব এখন? লাঞ্চ সারব নাকি ঝুঁকি নিয়ে লিওর সাথে দেখা করতে যাব?” স্যামকে প্রশ্ন করল রেমি।
লাঞ্চ করাটাই নিরাপদ হবে। আমি নিশ্চিত, আমাদেরকে ছাড়া লিও অনায়াসে ডাইভ প্রজেক্ট চালিয়ে নিতে পারবে। তোমার কী মনে হয়?
‘ঠিকই বলেছ। রেমি স্যামের কাছে বসে ওর হাতে থাকা ট্যাবলেটের স্ক্রিনের দিকে তাকাল। কী দেখছ?
‘ইন্টারনেটে দেখছি এইড কর্মীদের অপহরণের ঘটনার আগে বিদ্রোহীদের কোনো কার্যকলাপের রিপোর্ট পাওয়া যায় কিনা। কিন্তু নেই।’
তার মানে কী দাঁড়াচ্ছে?
‘তার মানে এই পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে আমরা এখানে আসার পর থেকে। কাকতালীয়ভাবে আমাদের সাথে মিলে গেছে সময়টা।
‘ঠিক। কিন্তু এই বিদ্রোহীদের যদি এতটা জনপ্রিয়তা থাকে স্থানীয়দের কাছে তাহলে এদের ব্যাপারে তো কারও কিছু বলার কথা? তোমার কী মনে হয়? আমার কাছে তো পুরো বিষয়টা ঘোলাটে লাগছে।’ পেছনে হেলান দিল স্যাম, সমুদ্রের দিকে তাকাল। খনিজ পদার্থের সাথে অনেক অর্থের সম্পর্ক জড়িয়ে আছে। সোনা তো বটেই, পেট্রোলিয়ামটাও কিন্তু কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের ব্যাপার। রেমির দিকে ফিরল স্যাম। ভাগ্য ভাল, এসব নিয়ে আমাদের সাথে ওদের কোনো লেনদেন নেই। ডুবে যাওয়া ইমারত আর গুপ্তধন নিয়েই আমাদের কারবার সীমাবদ্ধ।
হুম। দুপুরে গ্রিল করা মাহি মাহি আর আমের চাটনি হলে কেমন হয়? রেমি জানতে চাইল।
‘তুমি যখন বলেছ ভাল না হয়ে পারে?
‘সবসময় এত মেয়ে পটানো কথা পাও কোথায়? বলো তো?’ স্যামকে একটু তো দিয়ে চুমো খেল রেমি।
‘তা তো জানি না। শুধু জানি, আমার ভেতরে থাকা দুষ্টু মানুষটা চায় তুমি যেন আমার কথা শোনো।
ফাজিল!
***
কচ্ছপের গতিতে খাবার সার্ভ করা হলো ওদের রুমে। দুপুর দুটো বেজে গেল লাঞ্চ শেষ হতে হতে। লাঞ্চের পর ম্যানেজারের সাথে কথা বলল ওরা। বরাবরের মতো এবারও দ্বীপের পরিস্থিতির ব্যাপারে সতর্ক করে দিল ম্যানেজার। পার্কিং লটে এসে টয়োটাতে চড়ে বসল ফারগো দম্পতি। রওনা হলো আইল্যাণ্ড ড্রিমস-এর উদ্দেশে।
