‘তাহলে আমাদের আশংকাই সত্য হয়ে যাবে।’ বাক্যটা পূর্ণ করে দিল রেমি।’
‘কিন্তু তারপরও কথা থেকে যায়। সুযোগের স্বপ্ন দেখা আর সেটাকে বাস্তবে কাজে লাগানোর মধ্যে অনেক ফারাক আছে। দ্বীপে এরকম বিদ্রোহ সষ্টি করে স্বার্থ উদ্ধার করা কম কথা নয়। আর ম্যানচেস্টারকে আমি যতদূর দেখেছি, খুনীদের সাথে তার গভীর সখ্যতা আছে বলে মনে হয় না। তোমার কী মনে হয়?
কিছুক্ষণ চুপ করে থাকল রেমি। বাইরে থেকে দেখে মানুষ চেনা মুশকিল। তাছাড়া যখন টাকার স্বার্থ চলে আসে তখন চেনা মানুষও অচেনার মতো আচরণ করে।’
শাটারে আরেকবার আঘাতের শব্দ পাওয়া গেল। রোগী দেখতে দেখতে শাটারের দিকে তাকাল ভ্যানা। ফারগো দম্পতি এগোল তার দিকে।
‘আমরা এখন কী করতে পারি?’ রেমি প্রশ্ন করল। হাসপাতালের ভেতরে আর কোনো নিরাপদ জায়গা আছে যেখানে আমরা লুকোতে পারব?’
মাথা নাড়ল ভ্যানা। না। হাসপাতালটা বেশ ছোট। তাছাড়া সব রুমে রোগী আছে। ঝড় থেকে বাঁচার জন্য শাটারের ব্যবস্থা আছে এই-ই বেশি। ভ্যানা সামনের দরজার দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলল। এখন প্রার্থনা করা ছাড়া আর কিছু করার নেই।
.
৩৩.
গরমে দরদর করে ঘামছে স্যাম। ওষুধের লিটারেচার নিয়ে রেমি নিজেকে বাতাস করছে। ভ্যানা পুলিশকে ফোন করার পর পেরিয়ে গেছে আধাঘন্টা। শাটারে শেষ আঘাত হয়েছে ১০ মিনিট আগে, তারপর আর কোনো সাড়াশব্দ যাচ্ছে না।
স্যামের দিকে ঝুঁকল রেমি। মনে হয়, হাসপাতালের সামনে থেকে ওরা সরে গেছে।
‘আমি ভাবছি, আমাদের গাড়িটা আস্ত আছে তো? স্যাম বলল। ‘ম্যানচেস্টারের কথাটা বারবার ধোচাচ্ছে। দ্বীপের বর্তমান সরকারকে সরানোর জন্যই কি এরকম দাঙ্গার সৃষ্টি করা হয়েছে? যাতে প্রমাণিত হয় বর্তমান সরকার এই দ্বীপ পরিচালনা করতে ব্যর্থ। তারপর নির্বাচন করে নতুন সরকারকে বসানো হবে হয়তো।
স্যামের সাথে রেমি যোগ করল। এবং সেই নতুন সরকার এই দ্বীপকে একদম জাতীয়করণ করে ফেলবে। ঠিক যেমনটা বিদ্রোহীরা চাচ্ছে।
হাসপাতালের পেছনের অংশ থেকে ভ্যানা এগিয়ে এলো। তার হাতে সেলফোন। ভাল খবর। পুলিশ এসে গেছে। দাঙ্গার লোকজনকে সরিয়েও দিয়েছে হাসপাতালের সামনে থেকে। আমরা এখন নিরাপদ।’ সিকিউরিটি গেটের দিকে তাকাল ভ্যানা। দাঙ্গা এরআগে অনেক হয়েছে কিন্তু হাসপাতাল কখনও আক্রমণের শিকার হয়নি। এবারই প্রথম এমন হলো।
এরজন্য বোধহয় আমরা দায়ী। আমাদেরকে ধাওয়া করেই তো ওরা এখানে এসেছিল।’
বাজে কথা। এখানে না এসে আপনাদের আর কোনো উপায় ছিল না। বাদ দিন…’হঠাৎ ভ্যানার ফোন বেজে উঠল। ফোন নিয়ে একপাশে সরে গেল ডাক্তার। কথা শেষ করে স্যামের দিকে ফিরে বলল, “শাটার তুলতে আমাকে সাহায্য করবেন, প্লিজ?
‘অবশ্যই। চলুন।
কয়েক হাজার পাউন্ড ওজনের শাটারকে বেয়ারিং মেকানিজমের সাহায্যে তুলল ওরা। শাটার তোলার পর দেখা গেল দাঙ্গার লোকজন কেউ নেই। তবে কয়েক ডজন পুলিশ কার দাঁড়িয়ে আছে। লাল-নীল আলো বিচ্ছুরিত হচ্ছে। সেগুলো থেকে। হাসপাতালের দরজা খুলে দেয়ায় ঠাণ্ডা তাজা বাতাস এসে ঢুকল ভেতরে।
একজন অফিসার এগিয়ে এলো সামনে। উচ্চতায় বেঁটে হলেও দশাসই স্বাস্থ্য তার। এগিয়ে এসে ভ্যানাকে ছোট করে স্যালুট দিল সে।
‘সবাই ঠিক আছেন তো?’
‘হ্যাঁ। আমরা ঠিক আছি। দাঙ্গার কী হলো? জানতে চাইল ভ্যানা।
‘আমাদের গাড়ির লাইট দেখেই ওরা পালিয়েছে। তবে আপনাদেরকে একটা ভাল খবর দিতে চাই, যা দেখলাম, বিগত দিনের দাঙ্গার চেয়ে এবার দাঙ্গায় অনেক কম লোকজন অনেক জড়িত হয়েছে। অতএব, দুশ্চিন্তার কিছু নেই।
স্যামের দিকে ফিরল রেমি। স্বস্তির কথা।
স্যাম ভ্যানাকে বলল, “আমাদেরকে ভেতরে আশ্রয় দেয়ার জন্য ধন্যবাদ। নইলে কী যে হতো…’।
ব্যাপার না। তবে এখানকার পরিস্থিতি বিবেচনায় রাখবেন। আমি আপনাদের দূর্ঘটনার সংবাদ পত্রিকায় দেখতে চাই না।’
‘অবশ্যই বিবেচনায় রাখব। রেমি জবাব দিল। তারপর ঘুরল অফিসারের দিকে। আমাদের কার রেন্টাল এজেন্সি যাওয়াটা এখন নিরাপদ হবে তো?
‘এজেন্সির নাম?’
‘আইল্যাণ্ড ড্রিমস।
‘ওটা তো ছয় ব্লক পর, তাই না? আমরা ওখানকার কোনো গণ্ডগোলের রিপোর্ট এখনও পাইনি। তবে তারপরও বলব, না যাওয়াই ভাল। আপনারা ভাগ্যের জোরে একবার বেঁচে গেছেন। বারবার সেটা নাও হতে পারে।’
রেমি’র হাত ধরল স্যাম। এসো, গাড়িটা পরিষ্কার করি।
পাথরের আঘাতে ওদের টয়োটার উইন্ডশিল্ড ভেঙ্গে গেছে। কাঁচের টুকরোতে ভরে গেছে প্যাসেঞ্জার সিট আর ড্যাশবোর্ড। এসব পরিষ্কার করার জন্য ঝড় আনতে রেমি হাসপাতালে ফিরে গেল। এইফাঁকে ব্যাকপ্যাক থেকে স্যাট ফোন বের করে সেলমাকে ফোন করল স্যাম।
‘সেলমা, কী অবস্থা? ওপাশে ফোন রিসিভ হওয়ার পর স্যাম বলল।
তোমার কর্নেল কুমাসাকা’র চরিত্র তো বেশ রঙিন। মাইক্রোবায়োলজি নিয়ে গ্রাজুয়েশন শেষ করে মিলিটারিতে যোগ দিয়েছিল সে।
‘তাই নাকি? একজন বিজ্ঞানীর জন্য বিষয়টা রীতিমতো বিস্ময়ের ব্যাপার।
‘হ্যাঁ, তা তো অবশ্যই। কাহিনি আরও আছে। কুমাসাকার ব্যাপারে অনুসন্ধান করে পরস্পর বিপরীতমুখী তথ্য পাচ্ছি আমি। কোনো রেকর্ড বলছে সে পদাতিক বাহিনিতে কর্মরত ছিল আবার কোনোটা বলছে সে কমিউনিকেশন স্পেশালিস্ট ছিল। আবার কোথাও বলা আছে সেনাবাহিনিতে পরামর্শক হিসেবে ছিল সে।’
