রেস্টুরেন্টে গেল স্যাম ও রেমি। একজন ওয়েটার অর্ডার নিচ্ছে। ওদের কাছ থেকে অর্ডার নিয়ে ওয়েটার খাবার আনতে চলে গেল।
মাথা নাড়ল স্যাম।
এসবের কোনো মানে হয়? উপযুক্ত কারণ ছাড়া মানুষজন খুন হচ্ছে। এসব করে কোনো ফায়দা হবে না। মধ্যে থেকে দ্বীপটার বদনাম হয়ে বাকি পৃথিবী থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে।’
হতে পারে।
সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আন্দোলনকারীদেরকে কেউ পাত্তা দেয় না। তাই এরকম ঘটনা ঘটিয়ে সবার দৃষ্টিআকর্ষণ করছে তারা।
তার মানে তুমি বলতে চাচ্ছো এগুলো তেমন গুরুত্বর ঘটনা নয়?
‘আরে না। আমি জাস্ট বলতে চাচ্ছি খুনোখুনির ঘটনা ছাড়া দ্বীপে কিন্তু আর কিছুই হয়নি।
‘আমাদের জাহাজের উপর নজর রাখা হচ্ছিল, ভুলে গেছ?’
না, মনে আছে। কিন্তু হতে পারে সেটা স্রেফ এক কৌতূহলী দ্বীপবাসিন্দার কাজ। আমাদের গাড়িতে কিন্তু কোনো আঁচড় দেয়নি সে। কোনো ক্ষতিও করেনি।
‘আচ্ছা। লবির সেই লোকটা? তার ব্যাপারে কী বলবে?
‘সে একটু বাঁকা চোখে তাকিয়েছে বলে এতটা খারাপ ভাবছ?’
দীর্ঘশ্বাস ফেলল রেমি। আমাদের হোটেল রুমের তালা ভেঙ্গে ঢুকল। এটায় কী সাফাই দেবে, শুনি?
না, সাফাই দেব না। আমাদের রুমে ওভাবে ঢোকার অবশ্যই কোনো উদ্দেশ্য ছিল। খেয়াল করে দেখো, দ্বীপের বাসিন্দাদের আর্থিক অবস্থা খুবই শোচনীয়। তাই দারিদ্রতা ঘোচাতে হয়তো চুরি করতে ঢুকেছিল।
খাবার আসার পর চুপচাপ খেল ওরা। বিশাল ডাইনিং রুমে গোরস্থানের নীরবতা। খাওয়া শেষে বিল চুকিয়ে হোটেলে ফিরল ফারগো দম্পতি। হোটলের গেটে ম্যানেজার ওদের জন্য অপেক্ষা করছিল।
‘আপনাদেরকে একটা দুঃসংবাদ দেয়ার জন্য অপেক্ষা করছি। কী বলব, কোত্থেকে কী হয়ে গেল। শহরে দাঙ্গা বেধেছে। হনিয়ারার অর্ধেক ইতিমধ্যে পুড়ছে আগুনে। আমি ব্যক্তিগতভাবে চাচ্ছি, এখানকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আপনারা অন্য কোথাও ঘুরে আসুন।
স্যামের হাত ধরল রেমি। আপনার পরামর্শের জন্য ধন্যবাদ। সকালে আমরা এটা নিয়ে আলোচনা করব। আচ্ছা, বলুন তো এখানে কোনো কম্পিউটারের দোকান আছে?
‘আছে। হাসপাতাল থেকে দেড় ব্লক দূরে। ডান পাশে। এক বিদেশি কোম্পানীর দোকান। সেজউইক। গলাকাটা দাম রাখে তবে স্টক ভাল।
‘বিদেশি কোম্পানী? তাহলেই হয়েছে। বলল স্যাম। ধন্যবাদ।’
ম্যানেজারকে হতভম্ব করে দিয়ে গাড়ি নিয়ে বেরোল ফারগো দম্পতি। ওদের গাড়ির আওয়াজ শুনে পাকিং লটে থাকা ঘুমন্ত গার্ডের ঘুম ছুটে গেল।
কিছুদূর যাওয়ার পর একটা দোতলা ভবন দেখাল রেমি। ওই যে, সেজউইক।
‘দোকানের সামনে তো অনেক লোক।
‘গাড়ি চালাতে থাকো। মনে হচ্ছে, গণ্ডগোল আছে। রেমি জনতার জটলা খেয়াল করে বলল।
সেজউইকের গেটে কয়েকজন ষণ্ডামার্কা স্থানীয় লোক ভাঙচুর করছে। ওখানে কয়েকজনের হাতে ম্যাচেটি, কারও হাতে কাউবার। পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে লুট করতে এসেছে এরা।
‘ম্যানেজার বাড়িয়ে বলেনি দেখছি।’ বলল রেমি। সাইড মিররে সর্তক দৃষ্টি রেখেছে। সবাই লুট করতে এসেছে, তাই না?
হুম। আমি ভাবছি, পুলিশ কোথায়? এখান থেকে পুলিশ স্টেশনের দূরত্ব মাত্র ৬ ব্লক।
‘হয়তো তারা সকালের নাস্তা সেরে নিচ্ছে। কিংবা আরও বড় কোনো সমস্যার সমাধানে ব্যস্ত।
ব্রেক চাপল স্যাম। অবস্থা খারাপ, রেমি।’
ওদের থেকে প্রায় ৬০ ফুট সামনে কয়েকশ স্থানীয় লোক একসাথে দাঁড়িয়ে মানব ব্যরিকেড তৈরি করেছে। দুটো সেডানকে ভাঙ্গচুর করে ফেলে রেখেছে রাস্তার পাশে। ওগুলোর কাঁচ ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে রাস্তায়।
গতি কমাতে বাধ্য হলো ওরা। হঠাৎ রেমি চিৎকার করে উঠল। এই সেরেছে!
একটা পাথর ছুটে এসে ওদের গাড়ির উইনশিল্ডে আঘাত করে মাকড়সার জাল তৈরি করে দিল।
.
৩২.
পা দিয়ে গ্যাস প্যাডেল ঠেসে ধরল স্যাম। ইতিমধ্যে আরেকটা পাথর এসে গাড়ির ছাদে পড়েছে। স্যাম দ্রুত গাড়িকে সম্পূর্ণ বিপরীত দিকে ঘোরাল। আর একটু হলেই উল্টে যেত গাড়িটা।
‘তুমি ঠিক আছে তো?’ রেমির দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল স্যাম।
‘হ্যাঁ, ঠিক আছি। কাঁচ ছিটকে এসে গায়ে পড়লেও কোথায় কেটে-ছিড়ে যায়নি।’ রেমি জবাব দিল। এখন আমরা কী করব?
রাস্তা থেকে সরে নিরাপদ কোথাও আশ্রয় নিতে হবে।’
কাছেই হাসপাতাল। ওখানে নিশ্চয়ই গার্ড আছে?’
গাড়িকে কষে বামে ঘোরাল স্যাম। ওদের গাড়ির পিছু পিছু স্থানীয় লোকজন ছুটে আসছে। আমরা বরং শহরের একদম শেষ প্রান্তে চলে যাই। কিন্তু ওখানে যে এরকম গণ্ডগোল হচ্ছে না তারই বা নিশ্চয়তা কী?
“ঠিক। ওটা করা পাগলামি হবে।’
স্যাম মাথা নাড়ল। তাহলে হাসপাতালেই যাওয়া যাক। যতক্ষণ কোনো ব্যবস্থা না নিচ্ছে আমরা ততক্ষণ পর্যন্ত ওখানেই অপেক্ষা করব। পুলিশ এলে সব ঠাণ্ডা হয়ে যাবে, আশা করি।
‘কিন্তু যদি পুলিশ না আসে?
‘সেটা এক নতুন সমস্যা। এখন ওটা নিয়ে মাথা ঘামিয়ে লাভ নেই। এই দাঙ্গাকে স্রেফ একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে ধরে নেয়াই ভাল। আমার মনে হচ্ছে, স্থানীয় গরীব বাসিন্দারা এমপি খুন হওয়ার ঘটনাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে ইলেকট্রনিক্স পণ্য আর কম্পিউটার হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে। আর কিছু নয়।’
‘তোমার কথাই যেন সত্যি হয়।
হাসপাতালের গেটে পৌঁছে গেছে পারগো দম্পতি। সিকিউরিটি গার্ড ওদের গাড়িকে ভেতরে ঢুকতে দিল। তারপর তার চোখে পড়ল পেছন গাড়ির পেছন পেছন স্থানীয় বাসিন্দারা মোটর বাইক ও দৌড়ে আক্রমণাত্বক ভঙ্গিতে ছুটে আসছে, তাড়াতাড়ি গেট বন্ধ করে দিল গার্ড। স্যাম ও রেমি গাড়ি থেকে নেমে ছুটে গেল হাসপাতালের ভেতরে, তাড়াহুড়োয় গাড়ির দরজাটাও লাগায়নি।
