‘মেইনগেটে নিরাপত্তার জন্য বিশেষ কোনো ব্যারিকেডের ব্যবস্থা আছে? ভীত গার্ডকে জিজ্ঞেস করল স্যাম। কিন্তু গার্ড হয়তো ইংরেজি বোঝেনি। স্যাম রুমের চারপাশে তাকাল। ইমার্জেন্সি রুম এরিয়ায় কয়েকজন রোগী অপেক্ষা করছে। একটু পর ডা. ভ্যানাকে একটা রুম থেকে বেরিয়ে আসতে দেখা গেল। ফারগো দম্পতি ও গার্ডকে দেখে সে হকচকিয়ে গেছে।
স্যাম ভ্যানাকে অল্পকথায় সব বুঝিয়ে বলল। সব শোনার পর কাজে লেগে পড়ল ভ্যানা। গার্ড ও স্টাফদেরকে অর্ডার দিতে শুরু করল। কিছুক্ষণের মধ্যে সবার মিলিত প্রচেষ্টায় হাসপাতালের সামনে একটা ভারি স্টিলের শাটার নামানো হলো। বড় ঝড় থেকে হাসপাতালকে বাঁচানোর জন্য বানানো হয়েছিল এই শাটার।
শাটার ফেলার কয়েক মুহূর্ত পরেই ধুমাধুম আঘাত পড়তে শুরু করল ওখানে। সিকিউরিটি গার্ড, রোগী, স্টাফ সবাই হাসপাতালের পিছনের অংশে চলে গেল। কিছুক্ষণ এভাবে চলার পর ডা. ভ্যানা ঘোষণা করল হাসপাতাল আপাতত নিরাপদ। ফোন তুলে পুলিশকে জানিয়ে দিল হাসপাতাল আক্রমণের শিকার হয়েছে।
আপনারা ভাগ্যবান, হাসপাতাল পর্যন্ত আসতে পেরেছেন। হাসপাতালের শাটারটা বেশ মজবুত। লেভেল ৫-এর হ্যারিকেন এলেও সামাল দিতে পারবে। আপনি যদি একটা গাড়ি নিয়ে ছুটে এসে শাটারে ধাক্কা দেন তবুও ওটাকে টলাতে পারবেন না। তাই বলা যায়, আপাতত আমরা নিরাপদ।
‘পুলিশ কী এসব থামাবে না?’ রেমি জানতে চাইল।
‘আশা করা যায়, থামাবে। কিন্তু সময় লাগবে। ভ্যান জবাব দিল। যা-ই হোক, রোগীরা বসে আছে। আমাকে যেতে হচ্ছে।
আবার ধড়াম করে আঘাত পড়ল শাটারের গায়ে। কিন্তু শাটার অবিচল। স্যাম গলার স্বর নিচু করে ভ্যানাকে বলল, কিছু টেবিল চেয়ার নিয়ে শাটারের কাছে রাখলে বোধহয় মন্দ হয় না। যদি শাটারটাকে ভেঙ্গে ফেলে ওগুলো ব্যারিকেড হিসেবে কাজ করবে।
ভ্যানা মাথা নাড়ল। শাটার যদি ভেঙ্গে ফেলতে পারে তাহলে এসব ছোটখাটো জিনিস দিয়ে আর কী লাভ হবে?
ডা. ভ্যানাকে এগোতে দেখে ওয়েটিং রুমের বেঞ্চে বসা থাকা এক মহিলা উঠে দাঁড়াল। ডাক্তর, আমি ম্যালাক্ষণ ধইরা আপনের লাইগ্যা বইসা আছি। আমার মাইয়াডারে খুঁইজ্জা পাইতাছি না। আমার লিলি… মাইয়াডা হারায়া গ্যাছে। কিছু একড়া করেন।
খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না মানে?’ ভ্যানা জানতে চাইল।
কাইল থিক্কা অরে পাইতাছি না। এই নিয়া এক মাসে গ্রাম থিক্কা তিন মাইয়া হারাইলো। মাইয়াড়ার অসুখ আছিল। আপনে বারবার কইয়া দিছিলেনজানি ঠিকমতো ওইষুধগুলান খায়…’।
মহিলাকে নিয়ে একটু দূরে গেল ভ্যানা। নিচু গলায় কথা বলল তার সাথে। এদিকে শাটারে এখনও আঘাত পড়ছে তবে পরিমাণটা কম। দাঙ্গাপ্রেমীরা হয়তো বুঝতে পেরেছে এখানে শক্তি খরচ করে খুব একটা লাভ হবে না। এটা হাসপাতাল, লুট করলে হয়তো কিছু ওষুধ পাওয়া যাবে। বরং ইলেকট্রনিক্স পণ্যের দোকান লুট করলে বেশি লাভ হবে তারচেয়ে।
দূর থেকেই মহিলাটির কণ্ঠস্বর শোনা গেল। বেশ জোর গলায় কথা বলছে। সে, কিন্তু ডাক্তর, আমার মাইয়াড়ার অসুখ আছিল। অয় কহন ফিরব না ফিরব হেইডার লিগা অপেক্ষা করন ঠিক হইব না। আমি পারমুও না। অরে খুঁজতে হইব। ম্যালা বাচ্চা গায়েব হওয়া শুরু হইছে ইদানীং। আর এইবার আমার সোনা মাইয়া লিলি হারাইলা…’
ভ্যানা মহিলাকে কী জবাব দিল সেটা শোনা গেল না। মহিলাকে নিয়ে ট্রিটমেন্ট এরিয়ায় গেল ডাক্তার।
‘তোমার কী অবস্থা?’ রেমি’র পাশে একটা বেঞ্চে বসে স্যাম প্রশ্ন করল। সব দরজা-জানাল বন্ধ থাকায় রুমের তাপমাত্রা বেড়েই চলেছে।
‘আমি ভাল আছি। কিন্তু এখানে স্বস্তি পাচ্ছি না।’
কপাল ভাল থাকলে এই বন্দিদশা খুব শীঘ্রই কেটে যাবে।
‘আমার মনে হচ্ছে কপাল ভাল নয়।’
৫ মিনিট পর মহিলাটাকে নিয়ে রুমে এলো ভ্যানা। মহিলাকে এখন বেশ শান্ত দেখাচ্ছে। উত্তেজনা প্রশমনকারী ইনজেকশন দেয়া হয়েছে হয়তো। স্যাম ও রেমি’র পাশে এসে বসল ভ্যানা। দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, “আশা করছি, খুব শীঘ্রই পুলিশ চলে আসবে।’
‘দেখা যাক। আচ্ছা, উনি ঠিক আছেন তো? মহিলার দিকে ইঙ্গিত করে প্রশ্ন করল রেমি।
‘হয়তো ঠিক হয়ে যাবে। মেয়েকে নিয়ে খুব দুশ্চিন্তা করছে। মেয়েটার বয়স মাত্র ১৪। আমার মনে হয় ও পালিয়েছে। এখানকার মেয়েদের স্বভাবই এরকম। একটু বড় হলেই মনে রং লাগে। কোনো একটা ছেলের কাছে পটে যায়। স্কুল, পড়ালেখা, বাবা-মা’র শাসন তখন আর তাদের ভাল লাগে না। তারপর পালিয়ে যায় ছেলের হাত ধরে। ভ্যানা জানাল।
‘তাহলে মহিলা নিশ্চয়ই খুব আপসেট?’ বলল স্যাম।
‘তা ঠিক। তবে এই মুহূর্তে তারচেয়েও কঠিন সমস্যা আছে আমাদের সামনে। আমি বরং রেডিও চালু করে দেখি খবরে কী বলছে।’
ভ্যানা কাউন্টারের কাছে গিয়ে বড় রেডিও অন করে ভলিউম বাড়িয়ে দিল যাতে সবাই শুনতে পায়। রেডিও’র স্পিকার থেকে সংবাদ পাঠকের কণ্ঠস্বর ভেসে আসছে।
‘আমরা রিপোর্ট পেয়েছি, ডাউনটাউনে কয়েকটি ব্লক জুড়ে লুটপাট চালাচ্ছে স্থানীয় জনগণ। এ-ব্যাপারে পুলিশ চীফের মন্তব্য চাওয়া হলে তিনি জানান, আইনভঙ্গকারীদেরকে যথাপোযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। সে-লক্ষ্যে সব পুলিশ অফিসারকে ডাকা হয়েছে। ব্রিফিং শেষে মাঠে নামছে তারা। সন্ত্রাসরোধে পুলিশ কাউকে কোনো ছাড় দেবে না।
