কী বললেন?!
ম্যানচেস্টারকে সব খুলে বললেন রোলিন্স। একটা ফোনকলের মাধ্যমে তথ্যগুলো পেয়েছেন তিনি। কথা শেষে দুজনই চুপ হয়ে গেল। কথাগুলো চুপচাপ হজম করল ম্যানচেস্টার। ওর চেহারা থেকে রক্ত সরে গেছে।
‘আপনি এসবের সাথে কোনভাবেই জড়িত নন? আবার প্রশ্ন করল ম্যানচেস্টার।
‘অরউন, কী বলতে চান?
ওদের দুজনের কথাবার্তা আর সামনে এগোল না। ফোন রেখে অনেক্ষণ অফিসের দরজার দিকে তাকিয়ে রইল ম্যানচেস্টার। ভাবছে। রোলিন্স লোকটা একেবার সাধু না হলেও খুনোখুনির মতো ব্যাপারে জড়াবেন বলে মনে হয় না। আর কথা শুনে মনে হলো, তিনি সত্যিকার অর্থেই ধাক্কা খেয়েছেন… খুব উদ্বিগ্নও বটে।
সবকিছু নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে যাচ্ছে। অরউন ভাবতে পারেনি বিদ্রোহীরা এতটা ভয়ঙ্কর হয়ে উঠবে। এদিকে ফোনে কথা বলে এটা প্রমাণ হয়ে গেছে গভর্নর ও অরউন কেউ-ই কাউকে বিশ্বাস করে না।
পরিস্থিতি দিনকে দিন ঘোলাটে হয়ে উঠছে।
***
কাঁচের দরজার ভেতর দিয়ে সমুদ্র দেখছে স্যাম। সাগরের ঢেউয়ের উপর সুর্যের তীব্র আলো পড়ায় মনে হচ্ছে ঢেউ যেন আগুনে ঝলসে যাচ্ছে।
‘তুমি রেডি? স্যামের পেছন থেকে প্রশ্ন করল রেমি।
‘আমি সবসময়ই রেডি। আরেকবার পানিতে ডুব দিয়ে দেখতে চাই মন্দিরে নতুন কোনোকিছুর দেখা পাই কিনা। চাইলে তুমিও নামতে পারো আমার সাথে।
‘প্রথমে দেখতে হবে জাহাজের কী অবস্থা। খুব জরুরী না হলে আমি পানিতে নামছি না।’
‘তুমি না অ্যাডভেঞ্চার পছন্দ করো? তোমার মুখে এমন কথা মানায়? অ্যাডভেঞ্চারের জোশটা কোথায়?
ট্যাবলেটে। আজ নতুন একটা কেনার কথা। মনে আছে?
‘আছে। এখন খেয়ে নিই। তারপর ট্যাব কিনতে যাব। কী বলে?
‘আমি কফি খাব।
রুমের দরজা বন্ধ করে নিচের লবিতে গেল ফারগো দম্পতি। ওরা ভেবেছিল হোটেলে আর কোনো অতিথি নেই কিন্তু এখন অল্পকিছু পর্যটককে ফ্রন্ট ডেস্কের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে। দিনের বেলা যে ম্যানেজারের ডিউটি সে এগিয়ে এলো পর্যটকদের সামনে। তার মুখ পাংশুবর্ণ হয়ে আছে।
‘শুভ সকাল। রেডিওতে বলল ম্যানেজার। স্যাম ও রেমি গিয়ে শ্রোতাদের সাথে যোগ দিল।
খবর পাওয়া যাচ্ছে, এমপি বয়েড সেভেরিনকে তার বাড়ির পাশে আজ সকাল সোয়া আটটার দিকে খুন করা হয়েছে। তাকে হনিয়ারা হাসপাতালে নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান ম্যাচেটি দিয়ে খুন করা হয়েছে তাকে। সেভেরিনের কাছে কোনো অস্ত্র ছিল না।
‘বিদ্রোহী মিলিশিয়ারা ঘটনার দায় স্বীকার করে হুমকি দিয়েছে তাদের দাবি মেনে না নেয়া হলে সামনে এরকম ঘটনা আরও ঘটতে থাকবে। আপনার ইতিমধ্যে তাদের দাবি সম্পর্কে জানেন। সলোমন আইল্যাণ্ডের যাবতীয় সম্পদ স্থানীয় দ্বীপবাসীদের নিয়ন্ত্রনে হস্তান্তর করতে হবে। কোনো বিদেশি ব্যক্তি বা কোম্পানী এখানে ব্যবসা চালাতে পারবে না। সবাইকে খুব শীঘ্রই ব্যবসা গুটিয়ে নিতে হবে।
‘প্রশাসন অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। পরবর্তী ঘোষণা না দেয়া পর্যন্ত হনিয়ারার রাস্তাঘাটে মার্শাল ল জারি থাকবে। এমপি সাহেবের খুনের ঘটনাকে পুঁজি করে কেউ যাতে দাঙ্গা-হাঙ্গামা বা লুটপাট চালাতে না পারে সেদিকেও কঠোর দৃষ্টি রাখা হবে বলে সরকার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
‘অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড শান্তিরক্ষী বাহিনি পাঠানোর প্রস্তাব দিলেও তাদেরকে দ্বীপে আসার অনুমতি দেয়া হবে কিনা সেটা নিয়ে ভাবছে কর্তৃপক্ষ। তবে আজকের দিনটি এক কালো দিন হিসেবে সলোমন আইল্যান্ডের ইতিহাসে লেখা থাকবে সলোমন আইল্যাণ্ডের ইতিহাসে। এক জঘন্য ঘটনার মধ্য দিয়ে দ্বীপ আজকে তার একজন যোগ্য সন্তান হারিয়েছে। বিষয়টা অত্যন্ত লজ্জাজনক।’
রেমির হাতটা নিজের হাতে নিয়ে আলতো করে চাপ দিল স্যাম। ম্যানেজার গলা পরিষ্কার করে আবার বলতে শুরু করল।
সুধীমণ্ডলী, আজ থেকে আপনাদের জন্য এখানে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হবে। তারপরও, আমি বলব কোনোকিছুই অসম্ভব নয়। আমরা কারও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে পারছি না।’
লবি জুড়ে পিনপতন নীরবতা। হঠাৎ এক অস্ট্রেলিয়ান মহিলা ফুঁসে উঠলেন।
‘নিশ্চয়তা দিতে পারছেন না মানে? তাহলে আমরা এয়ারপোর্ট পর্যন্ত জান নিয়ে যাব কীভাবে?
ম্যানেজার বেশ বিপাকে পড়েছে। কণ্ঠস্বর যতটুকু সম্ভব মোলায়েম রেখে বলল, ‘ম্যাডাম, আমি বলতে চাচ্ছি, দ্বীপের অবস্থা ভাল নয়। এমতাবস্থায় এই হোটেলেও যেকোন অঘটন ঘটে যেতে পারে। আমরা আপনাদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে পারছি না। এরমানে এই না, আমরা আপনাদের ব্যাপারে উদাসীন। বিষয়টা বোঝার চেষ্টা করুন। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি তবে কোনো নিশ্চয়তা দিচ্ছি না।’
তারমানে আপনার আমাদেরকে দাঙ্গার মধ্যে ঠেলে দেবেন?
“দাঙ্গা নেই তো। তবে আপনারা যদি এখানে নিরাপদবোধ না করেন তাহলে অন্য কোথাও চলে যেতে পারেন। সেক্ষেত্রে যাতায়াতের জন্য আমরা বাড়তি সিকিউরিটির ব্যবস্থা করে দিতে পারি। চাইলে এয়ারপোর্টেও যেতে পারেন। তবে আবারও বলছি, নিরাপত্তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। এমনকি আমাদের এখানে যারা স্টাফ আছে তাদেরও নয়।
মহিলা জোরদার কিছু শুনতে চেয়েছিল কিন্তু ম্যানেজারের বক্তব্য তাকে হতাশ করেছে। পর্যটকদেরকে উদ্বিগ্ন রেখে ম্যানেজার হোটেলের পেছনের অফিসে চলে গেল। সবাই এগিয়ে গেল রিসিপশন ডেস্কে থাকা তরুণীর দিকে। তার বয়স ২৫-এর বেশি হবে না। কিন্তু তরুণী যা জবাব দিল সেটা ম্যানেজারের চেয়েও তিক্ত।
