‘এই সময় বাইরে খুব বেশি লোক নেই। ভাগ্য ভাল হলে পুলিশ হয়তো তাকে বের করতে পারবে।’
ছোট্ট করে হাসল স্যাম। সবকিছুই সম্ভব। কিন্তু আমি ভাবছি আগামীকাল সকালে তোমাকে একটা নতুন ট্যাবলেট কিনে দেব।
‘এখানে ট্যাবলেট পাওয়া খুব একটা সহজ হবে না।’
‘গতকাল একটা ইলেকট্রনিক্স শপ দেখেছি। ওখানে হয়তো পেয়ে যাব। গর্জিয়াস কিছু না পেলেও মোটামুটি কাজ চালানোর মতো ট্যাবলেট পাব বলে আশা করছি।’
‘অল্পের উপর দিয়ে বিপদ কেটে গেছে। আরও জঘন্য কিছু ঘটতে পারতো।
‘ঠিক।’ স্ত্রীর দিকে তাকাল স্যাম। আজ রাতে তোমার ঘুম আসবে তো?”
‘অবশ্যই আসবে। আমার দেখভাল করার জন্য একজন শক্ত-সমর্থ পুরুষ আছে। ঘুম আসবে না কেন?
৩১. কফিতে শেষ চুমুক
৩১.
বয়েড সেভেরিন কফিতে শেষ চুমুক দিয়ে তাকালেন স্ত্রীর দিকে। রান্নাঘরে বাসন-কোসন পরিষ্কার করছেন তার স্ত্রী। সকালের নাস্তাটা ভাল হয়েছে, থ্যাঙ্কস। বিয়ের পর থেকে বিগত ১৮ বছর যাবত প্রতিদিন সকালে স্ত্রীকে এই কথাটা তিনি বলে আসছেন।
‘ওয়েলকাম। আরও কফি নেবে?’ গত ১৮ বছরের মতো আজও তার স্ত্রী একই কথা বললেন।
না, অফিসে যেতে হবে। ক্লায়েন্টের মাথায় কাঁঠাল ভেঙে খেতে হবে না? সেভেরিন একজন অ্যাটনী। তবে তার প্রধান পরিচয় হলো সে এখানকার পার্লামেন্টের একজন সম্মানিত সদস্য, এমপি। ২ বছর ধরে অনেক চেষ্টার পর তিনি এখানকার সরকারকে বোঝাতে সমর্থ হয়েছেন, সলোমন আইল্যাণ্ডের উন্নতি করতে হলে পর্যটন খাতের উপর জোর দিতে হবে। পর্যটকদের জন্য সুন্দর পরিবেশ ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করলেই সেটা সম্ভব। পর্যটন শিল্পকে সামনে এগিয়ে নিতে পারলে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পাশাপাশি দেশ বিদেশে সুনামও কুড়ানো যাবে।
এই দ্বীপের অন্যান্য শিক্ষিত বাসিন্দাদের মতো বয়েড সেভেরিনও অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনা শেষ করেছেন। তার জীবনে একটাই লক্ষ্য সলোমন আইল্যাণ্ডকে একটি আন্তর্জাতিক পরিচয় দেয়া।
‘বাসায় ফিরবে কখন? মনে আছে? আজ কিন্তু টবি’র জন্মদিন।’ বয়েডের স্ত্রী মনে করিয়ে দিলেন।
“আজ তো ব্যস্ত থাকব। তুমি ওর পছন্দের গিফটগুলো কিনেছ তো?’
টবি ওদের ছেলে। বয়স ৭ বছর। ২০ মিনিট আগে স্কুলে গেছে।
‘হা কিনেছি। কিন্তু তুমি সময়মতো বাসায় আসার চেষ্টা কোরো। আমি কেক বানাব।
‘আসব।’ কফির কাপ নিয়ে রান্নাঘরে ঢুকলেন এমপি। কিচেন সিঙ্কে সেটা রেখে স্ত্রীকে চুমো খেলেন। বিয়ের পর এতগুলো বছর পেরিয়ে যাবার পর আজও তার অবাক লাগে কী ভেবে তাকে বিয়ে করেছিলেন এই নারী। এরকম একজনকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পেয়ে বয়েড নিজেকে পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী ব্যক্তি ভাবেন। কীরকম কেক?
মচা। টবি খুব পছন্দ করে।’
দীর্ঘশ্বাস ফেললেন বয়েড। ছেলেটা কত দ্রুত বড় হয়ে যাচ্ছে। সময় কত দ্রুত চলে যায়, তাই না?
হুম। আর সেজন্যই তোমার উচিত তাড়াতাড়ি বাসায় ফিরে ওকে সময় দেয়া।’
“ঠিকই বলেছ। আমি ছটার দিকে চলে আসব।’
“ঠিক আছে। এরচেয়ে বেশি দেরি কোরো না কিন্তু। আজ ডিনার আগেভাগে সেরে ফেলব। তারপর সব গিফটের প্যাকেট খোলা হবে।
‘ওকে। মনে থাকবে।
অফিসে যাওয়ার জন্য তৈরি হয়ে আয়নায় নিজেকে দেখছেন বয়েড। মাথার চুলগুলো ধূসর হতে শুরু করেছে, অনেক চুল উঠে গেছে, বাড়তি মেদ জমেছে শরীরে। তবে একেবারে বিশ্রী যে লাগছে তা নয়। আকর্ষণীয় নন ঠিকই কিন্তু গড়পড়তা হিসেবে চলনসই শরীর তার।
দরজা বন্ধ করে গ্যারেজের দিকে বয়েড পা বাড়ালেন। হঠাৎ পায়ের শব্দ শুনতে পেয়ে ঘাড় ফেরালেন তিনি। একটা ম্যাচেটি এসে তার খুলি ফাটিয়ে দিল। মাটিতে আছড়ে পড়ার আগেই মৃত্যু হয়েছে তার। আঘাতটা এত জোরাল ছিল যে বয়েড় কোনো চিৎকার করার ফুসরত পর্যন্ত পাননি। আততায়ী দু’জন লাশের পাশে এসে দাঁড়াল। নিশ্চিত হলো এমপি মরেছে কিনা। তারপর আরেকটা আঘাত করে চলে গেল গাছের নিচে পার্ক করা ভ্যানের দিকে। ওটার লাইসেন্স প্লেটটা কাদা দিয়ে ঢাকা।
***
অরউইন ম্যানচেস্টার সবেমাত্র অফিসে এসে পৌঁছেছে এমন সময় তার সেল ফোন বেজে উঠল। স্ক্রিনে তাকিয়ে দেখল কলারের নাম লেখা নেই। অবশ্য এরকম কল রিসিভ করতে করতে সে অভ্যস্ত হয়ে গেছে।
‘হ্যালো?
কথা বলা যাবে? গভর্নর জেনারেল গর্ডন নোলিলের কণ্ঠস্বরে উদ্বেগ টের পাওয়া যাচ্ছে।
‘হ্যাঁ। বলুন, আপনার জন্য কী করতে পারি?
‘অরউইন, আমরা একে অপরকে চিনি অনেকদিন হলো। আমার কাছে আপনার সত্য কথা বলা উচিত। আপনি কি এই বিদ্রোহীদের সাথে কোনোভাবে সম্পৃক্ত? পরোক্ষ সমর্থন কিংবা তথ্য সরবরাহ… এরকম কিছু?
বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গেল অরউইন। কান থেকে ফোন সরিয়ে যন্ত্রটার দিকে তাকাল একবার তারপর আবার কানে নিল।
‘কিছু মনে করবেন না, আমি আপনার ব্যাপারেও একই কথা ভাবছিলাম।
‘আমি আমার প্রশ্নের উত্তর পাইনি।
দীর্ঘশ্বাস ফেলল অরউন। না, গর্ডন। তাদের সাথে আমার কোনো যোগাযোগ কিংবা সম্পর্ক নেই। কিন্তু আপনি কি আমাকে নিশ্চিত করে বলতে পারবেন আপনিও ওদের সাথে জড়িত নন? একটু থামল ম্যানচেস্টার। ‘আচ্ছা, হঠাৎ এ-প্রশ্ন?”
‘কেন? আপনি শোনেননি?’
‘আমি কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকি। ভণিতা না করে আসল কথাটা জানাবেন, প্লিজ?
‘আজ সকালে বয়েড খুন হয়েছেন। যারা কাজটা করেছে তাদেরকে এরজন্য চরম মূল্য দিতে হবে।
