দুই অফিসারের রিপোর্ট লেখা প্রায় শেষ। তারা দরজা দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে এমনসময় রেমি লম্বা অফিসারকে বলল, এখানকার সিকিউরিটি ক্যামেরায় হয়তো কিছু ধরা পড়েছে?
একজন পর্যটকের মুখ থেকে এরকম বুদ্ধিদীপ্ত পরামর্শ শুনে অফিসার দু’জন একটু আশ্চর্য হলো। মাথা নেড়ে সায় দিল তারা। ম্যানেজারের সাথে আমরা এ-ব্যাপারে কথা বলব।’ শেষবারের মতো রুমের দিকে তাকাল লম্বা অফিসার। মাথা নেড়ে বলল, এখানে যা হয়েছে সেটার জন্য আমরা লজ্জিত। তবে আমরা বিষয়টা খুব গুরুত্বের সাথে নিয়েছি। আশা করি, আপনাদের যা খোয়া গেছে সেগুলো উদ্ধার করতে পারব। সলোমন আইল্যাণ্ডে আপনাদের ভ্রমণ তিক্ত হওয়ায় আমি দুঃখিত।’ অফিসারের বলার ধরন দেখে মনে হলো এই অঘটনের জন্য সে নিজেকেই দায়ী ভাবছে।
‘আপনাদের উপর আমার ভরসা আছে।’ বলল স্যাম।
দুই অফিসারের সাথে ফ্রন্ট ডেকে গেল স্যাম ও রেমি। ক্লার্কের পেছনে মুখ ব্যাদান করে ম্যানেজার বসে আছে। পুলিশ যখন ম্যানেজারকে সিকিউরিটি ক্যামেরার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করল তার নজর তখন নিজের জুতোর দিকে। খুব মনোযোগ দিয়ে দেখছে জুতো জোড়া। তারপর ধীরে ধীরে বলল…
গত সপ্তাহ থেকে সিকিউরিটি ক্যামেরা সিস্টেম অকেজো হয়ে রয়েছে।
কী?’ চড়া গলায় বলল রেমি।
‘কী আর বলব। প্রায় ২০ বছর পুরানো ছিল ওগুলো। নষ্ট হয়ে যাওয়াটাই স্বাভাবিক।
‘এটা কোনো কথা! মশকরা করছেন?
‘আমি দুঃখিত, ম্যাম। কিন্তু বিশ্বাস করুন, যা বলছি সব সত্যি।
স্ত্রীর হাত ধরল স্যাম। কিছুক্ষণ পর রেমি একটু শান্ত হলো।
যা-ই হোক, আমাদের রুমটা পরিষ্কার করার ব্যবস্থা করুন। স্যাম বলল। আশা করছি, আমাদেরকে আপাতত অন্য একটা রুমের বন্দোবস্ত করে দিতে পারবেন।
‘অবশ্যই, স্যার। তৈরি হয়ে আমাকে জানাবেন। আমি আপনাদেরকে নতুন রুমে নিয়ে যাব।’
রুমের একদম কাছাকাছি গিয়ে নিচু স্বরে বলল রেমি, ‘আমি যা ভাবছি, তুমিও কি তা ভাবছ?
কী? এই চুরির ব্যাপারে?
না। এটা কোনো সাধারণ চুরি নয়।’
রুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিল স্যাম। এখানে হয়তো এখন পর্যটক হিসেবে একমাত্র আমরাই আছি এবং সবেচেয় ভাল রুমে আছি। তবে কাজটা হয়তো হোটেলের ভেতরের কেউ করতে পারে। কিন্তু এই চুরিতে বাড়তি কী আছে বুঝলাম না। বুঝিয়ে বললো।
ক্যামেরা কাজ না করাতে চোরের খুব সুবিধে হলো।
‘আমার মনে হচ্ছে, এখানকার ক্যামেরাগুলো কয়েক বছর ধরে অকেজো।’
সেফের দিকে এগোল রেমি। যে-ই কাজটা করে থাকুক, একদম প্রস্তুত হয়ে এসেছিল। দেখো, তালা ভেঙে ফেলেছে।
সায় দিয়ে স্যাম মাথা নাড়ল। ঠিক। কিন্তু খেয়াল করে দেখ এই তালা টিনফয়েল দিয়ে তৈরি। চোরের যদি অন্যান্য হোটেলে যদি চুরি করার অভিজ্ঞতা থেকে থাকে তাহলে এগুলোর এরকম বেহাল দশা সম্পর্কে সে খুব ভাল করেই জানে। আমার তো মনে হচ্ছে পেপসি খোলর ওপেনার দিয়ে আমি এই তালা ভাঙতে পারব।’
ঘড়ি দেখল রেমি। খুব বেশি রাত হয়নি এখনও। চোর জানতে, আমরা ডিনার করতে বাইরে বেরিয়েছি।’ একটু থামল ও। আবার দেখ, গাড়ির টায়ায় পাংচার করে দিয়ে দেরি করিয়ে দেয়া হলো আমাদের। এই বিষয়টাও কি কাকতালীয়?’
‘বোধহয় না। কিন্তু আমি নিশ্চিত করে কিছু বলতেও পারছি না। একটা শার্ট তুলে নিয়ে ভাঁজ করল স্যাম। তোমার ট্যাবলেটে কী ছিল? লিও’র অনুসন্ধান সম্পর্কিত কিছু? পাসওয়ার্ড ব্যাংকের তথ্য?
‘মোটেও না।’
তাহলে চোর ওটাতে থেকে পাবে কী? সেফে অল্প কিছু টাকা রেখে গিয়েছিলাম। মানিব্যাগটা আমার পকেটেই ছিল। তোমার পার্সও ছিল তোমার সাথে। একটা ট্যাবলেটের দাম আর কত? চাইলেই কিনে নেয়া যায়। ক্রেডিট কার্ড নিতে পারেনি, স্পর্শকাতর তথ্যও পেল না, পাসপোর্টটাও রেখে গেছে। কাঁচা চোর। তবে আমার মনে হয়, এরসাথে ওই রাতে বিচের দু’জনের কোনো সম্পর্ক আছে।
‘তাই? তাহলে বলল, চোর ভেতরে ঢুকল কীভাবে?
‘তুমি এই রুমে ঘুমের ঘোরের মাঝেও ঢুকতে পারবে।
‘স্যাম, রুমে কিন্তু কার্ড কি দিয়ে ঢুকতে হয়।”
“হুম, কিন্তু সিস্টেমটা খেয়াল করে দেখেছ? খুব উন্নত মানের সিস্টেম যখন দায়সরাভাবে স্থাপন করা হয় তখন এরকমই হয়। জঘন্য।’
‘তো?’
ভাবছি, এটা যদি চুরির চেয়েও বেশি কিছু হয়ে থাকে তাহলে কী সেটা? চোর কী পেয়েছে এখান থেকে? শুধু তোমার শখের ট্যাবলেটটা ছাড়া তেমন কিছুই নিতে পারেনি। আমরা বরং এসব নিয়ে মাথা ঘামানো বন্ধ করি। চোখ কান খোলা রেখে নিজেদের কাজে মনোযোগ দেই। সবদিক থেকে সেটাই ভাল হবে। তুমি কী বলে?
এক সেকেণ্ডের জন্য চোখ বন্ধ করল রেমি। তা ঠিক আছে। কিন্তু… আমি আর নিরাপদবোধ করছি না।’
‘সেটাই স্বাভাবিক। আমারও একই অনুভূতি হচ্ছে। কিন্তু যা হওয়ার তা তো হয়ে গেছে। এখন আর সেটা নিয়ে ভেবে কাজ নেই।
স্যাম ডেস্কে ডায়াল করে ক্লার্ককে বলল, ওরা তৈরি। একটু পর হাজির হলো ম্যানেজার। ওদেরকে হোটেলের অন্যপাশের একটা রুমে নিয়ে গেল সে। আরেকবার ক্ষমা চেয়ে চুপচাপ বিদেয় নিল। কাপড়-চোপড় গুছিয়ে স্যামের দিকে ফিরল রেমি।
‘চোরের চেহারা দেখতে পেয়েছিলে?’
‘না। তবে যতটুকু দেখতে পেয়েছি ততটুকু জানিয়েছি পুলিশকে। স্থানীয় বাসিন্দা, মাঝারি স্বাস্থ্য, দ্রুত নড়তে জানে। কালো হাফপ্যান্ট আর পোলা’র চেক শার্ট পরা ছিল। সাথে ম্যাসেঞ্জার ব্যাগ। এই তো…’
