‘আপনাগো যেখানে বইতে মন চায় বহেন।’ আঞ্চলিক ভাষায় বলল ওয়েটার।
টাটকা সামুদ্রিক খাবার দিয়ে ডিনার সেরে আবার পার্কিং লটের দিকে এগোলো ওরা। হালকা বাতাস বইছে এখন। গাড়ির কাছে আসতেই দাঁতে দাঁত চেপে স্যাম অভিশাপ দিল।
কী হয়েছে?’ জিজ্ঞেস করল রেমি।
টায়ার পাংচার।
বল কি!?
২০ মিনিট পর ঘেমে নেয়ে উঠল স্যাম। অতিরিক্ত একটা চাকা ছিল সেটা জুড়ে দিয়েছে।
কপাল ভাল গ্রামের রাস্তায় এই কাণ্ড হয়নি। কাদার মধ্যে টায়ার বদলানোর কথা ভাবাও যায় না। রেমি বলল।
‘ঠিক বলেছ। এবার উঠে পড়ো।
গাড়ি উঠতে উঠতে রেমি বলল, ‘তোমাকে গোসল করতে হবে।’
তাই তো মনে হচ্ছে।’
ওদেরকে ঢুকতে দেখে সৌজন্য হাসি দিল সিকিউরিটি গার্ড। ডেস্ক ক্লার্কও মাপা হাসি হাসল।
‘লাইটে সমস্যা হয়েছে বোধহয়। হলওয়ে অন্ধকার দেখে বলল স্যাম।
মনে হয় পুরানো হয়ে গেছে।’
রুমের কাছাকাছি এসে স্যামকে হাত দিয়ে বাধা দিল রেমি। মাথা নেড়ে কান পেতে কী যেন শুনল। তারপর ফিসফিস করে বলল স্বামীকে, যাওয়ার সময় দরজা বন্ধ করে গিয়েছিলে না?
হা, গিয়েছিলাম।’
রেমি কয়েক সেকেণ্ড কিছু বলল না। তাহলে তো ঝামেলা হয়ে গেছে। দেখো, দরজা এখন খোলা।
.
৩০.
দরজার কিনারা ঘেষে এগোল স্যাম। আর এক পা এগোলে রুমে ঢুকতে পারবে এমন সময় একটা অবয়ব উল্কার বেগে রুম থেকে বেরিয়ে গেল।
‘পুলিশকে খবর দাও!’ চোরের পেছনে ছুটতে ছুটতে রেমিকে বলল স্যাম। দৌড়ে করিডর পেরিয়ে হোটেলের বাইরের দরজার কাছে গিয়ে স্যাম গতি কমাল।
পার্কিং লটের উপর চোখ বোলাতে গিয়ে চোরকে দেখতে পেল স্যাম। রাস্তা পেরিয়ে পালাচ্ছে। কয়েক সেকেণ্ডের মধ্যে স্যাম দূরত্বটুকু অতিক্রম করে ফেললেও চোরও কম যায় না। স্যামের সাথে চোরের দূরত্ব কমেনি। চোরের উপর নজর রেখে ও ছুটছে হঠাৎ পাশের গলি থেকে একটা সাইকেল এসে ওর বাঁ পাশে এসে ধাক্কা খেল। ব্যথায় জ্বলে গেল অংশটুকু।
সংঘর্ষের স্যাম রাস্তায় পড়ে গেছে। সাইকেলে কে ছিল সেটা ও দেখতে পেল না। কারণ সাইকেলে কোনো আলোর ব্যবস্থা নেই।
ধাক্কা সামলে নিজেকে দাঁড় করাল স্যাম। সাইকেল আরোহীও উঠে দাঁড়িয়েছে সাইকেল নিয়ে। স্যামের হাঁটু দপদপ করছে। কিন্তু ভাগ্য ভাল বলতে হবে, ওর পা সম্পূর্ণ অক্ষত আছে, কোথাও ভাঙেনি।
তবে দূরে চলে যাচ্ছে চোরটা।
স্যাম ছুটল। ছুটতে ছুটতে খেয়াল করে দেখল এখানে আশেপাশে লুকিয়ে পড়ার মতো কোনো জায়গা বা আড়াল নেই। রাস্তার শেষ মাথায় গিয়ে দেখল একটা সরু গলি, গলিতে ছোট ছোট দোকানও আছে।
একটা ছুটন্ত অবয়ব দেখার জন্য চারপাশে চোখ বুলাল স্যাম। দূরের একটা কোণা থেকে ধাতব শব্দ ভেসে এলো। চোখের পলকে সেখানে পৌঁছে গেল ও।
ময়লার ক্যান নিয়ে হুটোপুঁটি করছে একটা সাদা-কালো বিড়াল। এই বিড়ালটাই ধাতব শব্দটির জন্মদাতা। স্যামের দিকে বিরক্তি নিয়ে তাকাল প্রাণীটা। কাজের সময় অপরিচিত ব্যক্তির উপস্থিতিতে সে অসন্তুষ্ট, বিব্রত।
কোনো ছুটন্ত পায়ের শব্দ শোনার আশায় কান পেতে রইল স্যাম। কিন্তু কিছুই শুনতে পেল না। এই এলাকায় এখন কাউকে দেখা যাচ্ছে না। একদম জনমানবশূন্য মনে হচ্ছে। আরও কিছুক্ষণ রাস্তার এমাথায়-ওমাথায় চাওয়া চাওয়ি করে দীর্ঘশ্বাস ফেলল স্যাম।
চোর পালিয়েছে।
অগত্যা স্যাম হোটেলে ফেরার পথ ধরল। হোটেলের সামনে পুলিশের দুটো গাড়ি দাঁড় করানো আছে। নীল-লাল রঙের লাইট বিচ্ছুরিত হচ্ছে ওগুলো থেকে। শূন্য লবি পার হয়ে রুমের দিকে এগোল স্যাম।
রুমের বাইরে, দরজার পাশে রেমি দাঁড়িয়ে আছে। চেহারায় দুশ্চিন্তার ছাপ। স্যামকে দেখতে পেয়ে একটা প্রু তুলে প্রশ্ন করল…
কী অবস্থা?
‘ভাল না। পালিয়েছে।
মাথা নেড়ে রুমের ভেতরে তাকাল রেমি। দুই অফিসার রুমের ভেতরে হাঁটাহাঁটি করছে। ছবি তোলার পাশাপাশি নোটবুকে কী যেন নোট নিচ্ছে খাটো অফিসার! বাথরুমের দরজা খোলা, কাপড় রাখার ক্লোজেট খোলা, সব কাপড় চোপড় এলোমেলো হয়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে মেঝেতে ও বিছানায়। অসন্তুষ্টি নিয়ে রেমিকে নিয়ে হলের দিকে পা বাড়াল স্যাম! ডেস্ক ক্লার্ক ও রাতের ম্যানেজার একটু ছায়ার ভেতর দাঁড়িয়ে আছে।
ম্যানেজার সামনে এগিয়ে এলো। বিব্রত।
‘আমি খুবই দুঃখিত, স্যার। দয়া করে মাফ করবেন। এরকম ঘটনা এই হোটেলে এরআগে কখনও হয়নি।’
‘সবই আমাদের কপাল, বলল রেমি। এখানে আসার পর থেকে আমাদের সাথে এরকমই হচ্ছে।
প্রায় দেড়ঘণ্টা তদন্ত শেষে দুই পুলিশ অফিসার আবিষ্কার করল রুমে থাকা সেটা ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে, রেমির ট্যাবলেটটাও চুরি গেছে তবে ওদের পাসপোট দুটো আছে এখনও। অতঃপর রুমে ঢোকার অনুমতি পেল ফারগো দম্পতি। স্যাম দেখল ওর স্যাটেলাইট ফোনটা এখনও টেবিলে চার্জ হচ্ছে। রেমিও দেখল বিষয়টা। অফিসারদের দিকে ঘুরল স্যাম।
‘স্যাট ফোর চুরি হয়নি। বিষয়টা অদ্ভুত নয়?’
লম্বা অফিসার বলল, “হয়তো ওদের মনে ভয় ছিল ফোনটাকে হয়তো ট্র্যাক করা সম্ভব।
আর পাসপোর্ট?
‘ওগুলো দিয়ে ওরা এই আইল্যাণ্ডে কী করবে?
‘বিক্রি করতে পারতো না?”
‘আপনাদের পাসপোর্ট কে কিনতে যাবে?
সত্যি বলতে, গোয়াডালক্যানেলে চুরি হয়ে যাওয়া জিনিস কেনাবেচা করার মতো কোনো মার্কেট নেই। তাই স্যামের প্রশ্ন শুনে পুলিশ অফিসার কিছুটা অবাক হয়ে পাল্টা প্রশ্ন ছুঁড়েছে। স্যাম আর কথা বাড়াল না।
