কি-বোর্ডে ক্লিক করার শব্দ শুনতে পেল স্যাম।
হ্যাঁ। আমার ধারণাই ঠিক। কর্নেল। নাম: কুমাসাকা। চারজন নাবিকের সাথে তাকেও উদ্ধার করা হয়েছিল। সেলমা জানাল।
তাকে উদ্ধারের পর সেই জাহাজ সোজা টোকিও-তে চলে গিয়েছিল, ঠিক?
‘একদম। হতে পারে এটা কোনো কাকতালীয় ঘটনা…’
হতে পারে তার কারণেই জাহাজটা ঘুরপথে যাত্রা করেছিল।
কি-বোর্ডে খটাখট কী যেন টাইপ করল সেলাম। না, হলো না।’
কী?’
‘ইতিহাস বলছে, যুদ্ধ শেষ হওয়ার আগে নিউজিল্যান্দ্রে এক ক্যাম্পে মারা গিয়েছিল কুমাসাকা।
স্যাম খবরটাকে হজম করা পর্যন্ত সেলমা চুপ করে রইল। ‘সেলমা, এই লোক সম্পর্কে যত বেশি সম্ভব তথ্য সংগ্রহ করো। সেটা যত গুরুতুহীনই হোক না কেন। সার্ভিস রেকর্ড, পরিবার, শিক্ষা, কাজ.. সব।
“ঠিক আছে, করব। কিন্তু ডেস্ট্রয়ারের ব্যাপারে খোঁজ নিতে গিয়েই তো তথ্যের অভাবে ভুগছি। এই কর্নেলের ব্যাপারে কতদূর কী হবে কে জানে।
নিজের সেরাটা দিয়ে।
‘দেব।’ সেলমা একটু থামল। আচ্ছা, ল্যাজলোকে কাজে লাগাতে পারব এরকম কোনো খবর আছে তোমার কাছে? লোকটা আমাকে খুব জ্বালাচ্ছে। কয়েকদিন পর পর এসে ছোঁক ছোঁক করে। লোকটাকে কাজ দিয়ে ব্যস্ত রাখা দরকার।’
‘তোমার যদি মনে হয় কুমাসাকা’র ব্যাপারে সে সাহায্য করতে পারবে তাহলে তাকেও কাজে লাগিয়ে দাও।
না। তাকে কঠিন কিছু দিতে হবে। কোনো পাজল কিংবা ধাঁধা। জটি কিছু।’
না, সেরকম কিছু নেই। তবে বিষয়টা মাথায় রাখলাম। লাওস থেকে ফিরে আসার পরেই তার এই হাল হয়েছে?
হ্যাঁ। তবে নতুন একটা প্রজেক্টের পেছনে ইতিমধ্যে মাথা খাটাতে শুরু করেছে সে।’
কী সেটা?
‘জলদস্যুদের গুপ্তধন!
মশকরা করলে নাকি, সেলমা?’
‘কেন, আমার কণ্ঠ শুনে তাই মনে হচ্ছে নাকি?
স্যাম একটু থেমে নিরাপদ কথা বেছে নিল। “ঠিক আছে, আমি তাকে ফোন দেব। আর তুমি কর্নেলের ব্যাপারে কী কী জানতে পারলে জানিয়ো।
“ঠিক আছে।
ফোন রাখল স্যাম। এতক্ষণ বারান্দায় দাঁড়িয়ে কথা বলছিল ও। স্লাইড ডোর ঠেলে রেমি বারান্দায় ঢুকল। কে? সেলমা নাকি লিও?”
‘সেলমা। কিন্তু ভাল কোনো খবর নেই।’
‘কেউ যদি আমাদেরকে তথ্যগুলো যোগাড় করে দিতে পারে সেই ব্যক্তি হলো সেলমা। এ ছাড়া আমাদেরকে কেউ এভাবে সাহায্য করতে পারবে। প্রার্থনা করি ও যেন সফল হয়।
স্ত্রীকে চুমো খেল স্যাম। সুন্দর বলেছ।
‘সেলমা কি কাজে নেমে গেছে?
হুম।
সন্ধ্যায় লিও-কে ফোন করল স্যাম। লিও ডারউইনে রয়েছে।
‘বন্ধু, কী অবস্থা তোমাদের?’ স্যাম জানতে চাইল।
এখান থেকে সরতে পারলে বাঁচি। আর ভাল লাগে না।
‘আমার কথামতো ডাইভ দেয়ার চেষ্টা করেছিলে?
‘আমি তোমার খেলার পুতুল হব কেন?”
‘আচ্ছা বাদ দাও। অভিযান কেমন চলছে?
‘ডাইভাররা কাজ করছে। কিন্তু পুরো কমপ্লেক্স পরিষ্কার করতে কয়েক বছর লেগে যাবে। স্রেফ প্রধান ভবন পরিষ্কার করতেই লাগবে কয়েক সপ্তাহ।
কুমীর কিংবা হাঙরের দেখা পেয়েছ?
লিও এই প্রশ্নের উত্তর দিল না। আরও বড় জাহাজ আনলে সেখানে অনেক বেশি যন্ত্রপাতি থাকতো। কাজ করতে সুবিধে হতো তখন।
‘দেখছি বিষয়টা। কিন্তু ডারউইনে কী সমস্যা?
‘সমস্যা নেই। কিন্তু তোক বেশি হলে কাজ দ্রুত হতো। বাকি জীবনে এখানে কাটানোর কোনো ইচ্ছা নেই আমার।
বুঝলাম। আমরা পৃথিবীর অন্যতম বিচ্ছিন্ন জায়গায় আছি এখন। বড় জাহাজের ব্যবস্থা করে হাজির করতে কয়েক সপ্তাহ লেগে যাবে। তবুও দেখছি। স্যাম হাসল। লিও এই আবিষ্কারের ফলে তুমি তো জাতীয় হিরো হয়ে যাবে! হয়তো তোমার নামে এখানকার সৈকতের নামকরণ করে ফেলবে সরকার! কিছু প্ল্যান করে রাখো।’
বাদ দাও। আমার সত্যি সত্যি সি-সিকনেস হচ্ছে।
বলো কী, বন্ধু। তুমি একজন রাশিয়ান নাগরিক। তোমার রক্তে আছে বিখ্যাত যযাদ্ধাদের রক্ত। তুমি কেন এত দূর্বল হবে?
‘আমার পূর্বপুরুষরা সবাই কৃষক ছিল। বরফ ঢাকায় এলাকায় থাকতো তারা। আর জানোই তো বরফ পানির কাছে এলে গলে যায়।
আরও দু’একটা কথা বলে ফোন রাখল স্যাম। চার্জে দিল ফোনটা। রেমি বিছানায় বসে ট্যাবে ইন্টারনেট চালাচ্ছে। স্যামের দিকে তাকাল রেমি।
কী অবস্থা লিও’র?’
বলল এই জাহাজ পছন্দ হচ্ছে না। আরও বড় জাহাজ চায়।
‘ওর মুড কি বরাবরের মতো তিক্ত ছিল?
না, এখন একটু ভাল।
হাসল রেমি। আরও বড় জাহাজ আনার আইডিয়াটা কিন্তু মন্দ নয়।
‘আমি জানি সেটা। তুমি তো ইন্টারনেটে ঢুকেছ। দেখো তো, বড় জাহাজ চেয়ে সেলমাকে একটা ই-মেইল পাঠাতে পারে কিনা।
চটপট ই-মেইল করে দিল রেমি। ক্ষুধা লেগেছে?
‘তা আর বলতে।
‘হোটেলের রেস্টুরেন্টে যাওয়া যায়?
আমি ভাবছিলাম, গতরাতে যেখানে ডিনার করেছিলাম সেখানে যাব।’
‘নিরাপদ হবে?’
নিরাপদ না হওয়ার তো কোনো কারণ দেখছি না। এখান থেকে মাত্র কয়েক ব্লক দূরে। আর একটু বিপদ হলেই বা কি…?
স্বামী’র দিকে চোখ গরম করে তাকাল রেমি। দেখো, যদি কিছু হয় আমি কিন্তু জোরে চিৎকার করব।
‘এটা তো ভাবিনি!”
রাস্তায় কিছু কুকুর ছাড়া আর কেউ নেই। রেস্টুরেন্টের পার্কিং লটে ঢুকল ফারগো দম্পতি। ওখানে মাত্র ৩ টা গাড়ি পার্ক করা আছে।
কী করছ জানো বোধহয়?’ ভ্রূ কুঁচকে বলল রেমি।
‘এত দুঃচিন্তা করে যদি থেমে যাই তাহলে তো জীবনে আর কোথাও কোনোদিন যাওয়াই হবে না।’
ভেতরে ঢোকার পর ওয়েটার ওদের দিকে এমনভাবে তাকাল ওরা যেন স্পেসশীপ থেকে নেমে আসা এলিয়েন! অবশ্য পরক্ষণেই সামলে নিল নিজেকে।
