‘পারবে। যা হওয়ার হয়ে গেছে। সামনে আরও হবে… প্রস্তুত থাকুন। আপনার তো এসব তিতা লাগছে মনে হয়।
‘আচ্ছা, এসব করা খুবই জরুরী?’
‘জরুরী না হলে আমি কোনো কাজ করি না। আশা করছি, আপনি আমাকে বরাবরের মতো সাহায্য-সহযোগিতা করবেন?
পানিতে ভাসা ইয়টগুলোর দিকে তাকাল গ্রিমস। একেকটা দাম মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার। সব বিলাসিতা। মানুষ শুধু উপরে উঠতে চায়। সবার চেয়ে উপরে সেরা জায়গাটায় থাকতে চায়। এসব বিলাসিতার মাধ্যমে অহমিকা, অহংকার আর অর্থের প্রতাপ দেখাতে চায় মানুষ। গ্রিমস কোনো কাজে পিছ পা হওয়ার লোক নয়। তবে এই প্রজেক্টের ঘটনাগুলো ওর আশানুরূপ হচ্ছে না। দীর্ঘশ্বাস ফেলল সে, হ্যাঁ। যা প্রয়োজন মনে হয় করুন। কিন্তু খোদার দোহাই লাগে, তাড়াতাড়ি করুন।
‘কাজ চলছে। এতটা অগ্রগতি এরআগে কখনও হয়নি। দ্বীপে লোকজন নেই বললেই চলে। এখন একটু ধাক্কা দরকার।
‘ধাক্কার ব্যাপারে জানতে চাইব?’
‘আপনি যতটুকু জানেন এরচেয়ে বেশি না জানাই ভাল।
ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল।
একটু পর ফিরল ক্যাপ্টেন। গ্রিমসের এখন ইয়টের পালিশের খুঁত ধরার মতো মানসিক অবস্থা নেই। হাত নেড়ে ক্যাপ্টেনকে সরিয়ে দিল সে। ডকে নেমে এলো। হাজার মাইল গতিতে ওর মনে চিন্তার ঝড় বইছে।
***
গোয়াডালক্যানেল, সলোমন আইল্যাণ্ড
কাদায় ভরা রাস্তা মাড়িয়ে পাহাড়ী রাস্তায় চলছে টয়োটা ল্যাণ্ড ক্রুজার। ২৫ মিনিট আগে মেইন রোড ছেড়ে এই কাঁচা রাস্তায় ঢুকেছে ওরা। রুবো আছে ওদের সাথে।
আর কতদূর?’ পেছনের সিটে বসা রুবোকে জিজ্ঞাস করল রেমি।
বুড়ো কাঁধ ঝাঁকাল। এইহানে বহুত দিনে আগে আইছিলাম।
‘তা হোক, কিন্তু দূরত্ব তো একই আছে।
‘সমস্যা নাই, তাড়াতাড়ি পৌঁছায়া যামু। রেমিকে আশ্বস্ত করল রুবো।
রেমি ইতিমধ্যে জেনেছে এই দ্বীপে “তাড়তাড়ি”র মানে আক্ষরিক অর্থে “তাড়াতাড়ি” নয়। ওটার মানে “আগামীকাল থেকে শুরু করে “অসীম” পর্যন্ত হতে পারে।
স্যাম রেমি’র দিকে তাকাল। ধৈৰ্য্য একটা মহৎ গুণ।
‘ওসব আমাকে শুনিয়ো না।’
একটা ছোট জলপ্রবাহের সামনে এসে থামল ওরা। সামনের রাস্তা দু’দিকে ভাগ হয়ে গেছে। একটা বামদিকে আরেকটা ডানদিকে।
‘কোনদিকে যাব?’ পেছন ফিরে রুবোকে প্রশ্ন করল স্যাম।
প্রশ্নটা রুবো ভেবে দেখল। মাথা নেড়ে বলল, ‘গিয়ে দেখতে হবে।’
গাড়ি থেকে নামল স্যাম ও রুবো। স্যাম বৃদ্ধকে গাড়ি থেকে নামতে সাহায্য করল। পানির ধারার সামনে গিয়ে চোখ বন্ধ করল রুবো। মাথা নাড়ল আরেকবার। স্যাম ধৈর্যসহকারে অপেক্ষা করছে। কিছুক্ষণ রুবো চোখ খুলল।
আরেকবার যহন এইহানে আইছিলাম তহন পানি আছিল না।
‘আর?
‘আমার মনে হইতাছে গ্রামডা ওই দিকে। বামদিক দেখিয়ে বলল রুবো।
কীভাবে বুঝলেন?
‘আমি কিন্তু কই নাই “আমি জানি আমি কইছি “আমার মনে হইতাছে” বুঝছেন?
তারমানে আপনি নিশ্চিত নন…’
‘ওইদিকে না পাইলে অন্যদিকে যামু, সমস্যা কী? বামে না থাকলে ডাইনে থাকব।
‘ভাল বুদ্ধি। কিন্তু আমি ভেবেছিলাম আপনি জানেন গ্রামটা কোথায়।
‘জানি তো।’
কিন্তু প্রথমবারেই সরাসরি সেখানে নিয়ে যাবেন, অতটা ভালভাবে নয়।’
‘আপনেরা আমারে আনছেন কথা বুঝায়া দেয়ার লাইগ্যা। আমি তো আপনাগো গাইড না।’
বুড়োর কথার বহর দেখে শ্বাস ফেলল স্যাম। টয়োটায় ফিরে গেল।
কী খবর?’ জানতে চাইল রেমি।
কাছাকাছি চলে এসেছি। রুবো বললেন, বামদিকে যেতে হবে।’ বলল স্যাম।
৫ মিনিট চলার পর ওরা এমন এক রাস্তার সামনে এসে পৌঁছুল যেখানে কোনমতে একটা সাইকেল চলার মতো জায়গা আছে। চেহারায় বিরক্তি প্রকাশ পাওয়া সত্ত্বেও স্যাম বিনয়ের সাথে রুবোকে বলল, ‘গ্রামটা কী এখনও সামনে আছে?’
‘যাইতে থাকেন। পাহাড়ের উপরে আছে।’
সরু রাস্তার দু’পাশে থাকা গাছের ডালপালা গাড়ির গায়ে আঁচড় কাটতে শুরু করল। রেমি’র পাশের জানালায় একটা ডাল এসে জোরে গুতো দিতেই দাঁতে দাঁত চাপল রেমি। ফিসফিস করে স্যামকে বলল, এই হলো তোমার ভাল আইডিয়া, না?’
স্যাম পাল্টা জবাব দিতে যাবে ঠিক সেইসময় কিছু কুঁড়েঘর উদয় হলো ওদের সামনে।
‘দেখেছ? রুবো ঠিকই বলেছেন।’ বলল স্যাম। আমরা তাহলে এখানেই থামব? স্যাম পেছন ফিরে রুবোকে প্রশ্ন করল।
মাথা নাড়ল রুবো। তার চোখে মুখে সন্ন্যাসীদের মতো প্রশান্তি দেখা যাচ্ছে। আমরা হাঁটমু এহন।’
পায়ে হেঁটে এগোতে শুরু করল ওরা ৩ জন। কুঁড়েঘরগুলোর ভেতর থেকে কৌতূহলী দৃষ্টিতে স্থানীয়রা তাকাচ্ছে।
প্রাচীন আমলের শর্টস আর রং উঠে যাওয়া টি-শার্ট পরিহিত এক বয়স্ক ভদ্রলোক তার কুঁড়েঘর থেকে বেরিয়ে এলো। রুবোকে দেখে হাসল সে। লোকটার বয়স প্রায় ৬০। চোখের ইশারায় দূরবর্তী কুঁড়েঘরে যেতে বলল রুবো তার সাথে কিছু কথা বলে জানাল, ‘ওর খুব ব্যারাম হইছে। চলেন ওইদিকে।
‘অসুখ? কথা বলা যাবে তো?”
কাঁধ ঝাঁকাল রুবো। চেষ্টা কইরা দেহি।’
সরু পথ দিয়ে পাহাড়ের উঁচু অংশে থাকা কুঁড়েঘরের দিকে এগোল ওরা। নিচের দিকের কুঁড়েঘরে থাকা লোকজন তাদের বাচ্চাদেরকে সাথে নিয়ে স্যাম ও রেমিকে অবাক দৃষ্টিতে দেখছে। এই গ্রামে অযাচিত উত্তেজনা তৈরি হয়েছে ওরা আসাতে।
এখানকার লোকজনদেরকে বেশ বন্ধুত্বপরায়ণ বলে মনে হচ্ছে। বিদ্রোহীরা যদি এদেরকে দলে টানার কথা ভেবে থাকে খুব একটা কাজ হবে না , তাই না?’ রেমিকে বলল স্যাম।
